১৭ নভেম্বর ২০১৯, রবিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
জাতীয় কিডনি রোগ ও ইউরোলজি প্রতিষ্ঠান: নতুন ডায়ালাইসিস কেন্দ্রে একই ডায়ালাইজার বারবার ব্যবহার
২০ জানুয়ারি ২০১৭, শুক্রবার,
|| রোগীর অসুস্থতা বাড়ার অভিযোগ 
|| পরিচালককে রোগীদের চিঠি
ডিসপোজেবল (ব্যবহারের পর ফেলে দেওয়া হয়) ডায়ালাইজার কিডনি রোগীদের চিকিৎসায় বারবার ব্যবহার করা হচ্ছে জাতীয় কিডনি রোগ ও ইউরোলজি প্রতিষ্ঠানের নতুন চালু হওয়া ডায়ালাইসিস কেন্দ্রে। অভিযোগ রয়েছে, এমন ডায়ালাইজার ব্যবহারের পর রোগীর অসুস্থতা বাড়ছে।
বেশ কয়েকজন রোগী বিষয়টি জানিয়ে প্রতিষ্ঠানের পরিচালককে চিঠিও দিয়েছেন। তবে পরিচালক বলেছেন, নতুন ওই কেন্দ্রে তাঁর কোনো কর্তৃত্ব নেই। আর কেন্দ্রটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেছেন, তাঁরা চুক্তি মেনেই কাজ করছেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেছেন, সঠিক নজরদারির অভাবে এমন হচ্ছে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় কিডনি রোগ ও ইউরোলজি প্রতিষ্ঠানে (ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি-নিকডু)। এটি কিডনি রোগ চিকিৎসায় দেশের সবচেয়ে বড় হাসপাতাল। সেখানে নতুন ডায়ালাইসিস কেন্দ্রটি গত বছরের ২৮ নভেম্বর থেকে চলছে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) প্রকল্পের আওতায়। এখানে গরিব রোগীদের ডায়ালাইসিসের জন্য নেওয়া হয় ৪০০ টাকা।
হাসপাতালের চিকিৎসকেরা বলেছেন, শরীর থেকে বর্জ্য বের করে দেওয়ার জন্য ছাঁকনি হিসেবে কিডনি কাজ করে। কিডনি নষ্ট হলে কৃত্রিম ছাঁকনি হিসেবে ব্যবহার করা হয় ডায়ালাইজার। কিডনি প্রতিস্থাপন করেও চিকিৎসা হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার ওই হাসপাতালে বেশ কয়েকজন রোগী ও তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। মোহাম্মদপুরের মো. শাহনেওয়াজের মা নূর বানু তাঁর হাত ও পা দেখিয়ে বলেন, পানি জমেছে। দুই মাসে ওজন বেড়েছে ১০ কেজির ওপর। দুই বছর আগে থেকে এই প্রতিষ্ঠানে ডায়ালাইসিস করাচ্ছেন। ভালোই ছিলেন। সমস্যা দেখা দিয়েছে নতুন ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্র চালু হওয়ার পর। শাহনেওয়াজ বলেন, ‘একই ডায়ালাইজার ১৫ থেকে ২০ বার ব্যবহার করা হচ্ছে।’
মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, স্ত্রী নিলুফার ইয়াসমিনকে ৫ ডিসেম্বর থেকে সপ্তাহে দুই দিন ডায়ালাইসিস করাচ্ছেন। এরপর থেকে স্ত্রীর শরীরে পানি জমছে, ওজন বেড়ে গেছে। এ রকম অভিযোগ করেছেন আরও বেশ কয়েকজন রোগী, রোগীর ছেলে বা স্বামী।
গতকাল বেশ কয়েকজন রোগী প্রতিষ্ঠানের পরিচালকের কাছে বিষয়গুলো জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন। তাঁরা চিঠিতে অভিযোগ করেছেন, পিপিপি প্রকল্পের আওতায় ডায়ালাইসিস নেওয়ার পর থেকে অসুস্থতা বেড়েছে, একটি ডায়ালাইজার ১৫ থেকে ২০ বার ব্যবহার করা হচ্ছে। চিকিৎসায় নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে।
পরিচালক অধ্যাপক মো. নুরুল হুদা বলেন, তিনি রোগীদের চিঠি পেয়েছেন। ডায়ালাইসিস কেন্দ্রটি প্রকল্পের আওতায় চলে যাওয়ায় এখানে তাঁর বিশেষ কিছু করার নেই।
পরিচালকের কক্ষে তাঁর উপস্থিতিতেই কথা হয় নিকডুর জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক আইয়ুব আলী চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ডায়ালাইজারের প্যাকেটে ‘ডিসপোজেবল’ লেখা আছে। কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, সেগুলো পুনর্ব্যবহার (রিইউজ) করা হচ্ছে। উপস্থিত আরেক চিকিৎসক শাহনূর বলেন, রোগীদের অভিযোগ সঠিক।
ভারতের বেসরকারি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান সেন্ডরের সঙ্গে সরকারের অংশীদারত্বে ডায়ালাইসি কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কেন্দ্রে ১৪টি যন্ত্র চালু আছে। প্রতিটি যন্ত্রে দিনে চারজন রোগীকে ডায়ালাইসিস করা যায়। প্রতিবার ডায়ালাইসিসের জন্য ওই কোম্পানিকে দিতে হয় ২ হাজার ১৯০ টাকা। এর মধ্যে রোগী দেয় ৪০০ টাকা। আর সরকার দেয় বাকি ১ হাজার ৭৯০ টাকা।
‘রোগীরা অভিযোগ করতেই পারে’—এমন মন্তব্য করে সেন্ডর বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম এস আবদুল সালাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘সরকারের সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছে তাতে ডায়ালাইজার পুনর্ব্যবহার করা যাবে এমন কথা বলা আছে।’
পিপিপি প্রকল্পের আওতায় ডায়ালাইসিস কেন্দ্রটি ঠিকমতো চলছে কি না, তা দেখার কথা ইনভেসকো গ্লোবাল নামের একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠানের (ইনডিপেনডেন্ট প্যানেল)। যোগাযোগ করলে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান হায়দার প্রথম আলোকে বলেন, ‘রোগীদের সমস্যার কথা প্রথম আপনার (এই প্রতিবেদক) কাছেই শুনলাম।’ তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে এটাই প্রথম পিপিপি প্রকল্প। কিডনি ইনস্টিটিউট ও সেন্ডরের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতিসহ বেশ কিছু সমস্যা আছে। খুব দ্রুত সভা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পিপিপির আওতায় নিকডুতে ৫৯ শয্যার এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩০ শয্যার ডায়ালাইসিস কেন্দ্র খোলার পরিকল্পনা আছে। সব যন্ত্রপাতি এসে গেছে।
http://www.prothom-alo.com/bangladesh/article/1063285/%E0%A6%A8%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%A8-%E0%A6%A1%E0%A6%BE%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%B8-%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%8F%E0%A6%95%E0%A6%87-%E0%A6%A1%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0