১৫ নভেম্বর ২০১৯, শুক্রবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
টেন্ডার প্রক্রিয়ায় গোয়েন্দা ছাড়পত্র
২০ জানুয়ারি ২০১৭, শুক্রবার,
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সব ধরনের টেন্ডারে এখন থেকে গোয়েন্দা ছাড়পত্র নিতে হবে। টেন্ডার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এ শর্ত মানা বাধ্যতামূলক হচ্ছে। কয়েকটি টেন্ডার নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সংসদীয় কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্তটির কথা জানান তথ্য, যোগাযোগ ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। তিনি বলেন, এখন থেকে আইসিটি বিভাগের প্রত্যেকটি টেন্ডার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার আগে দু’টি গোয়েন্দা সংস্থার ছাড়পত্র নিতে হবে। ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ১৭তম বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ওই বৈঠকের কার্যবিবরণীতে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। বৈঠকটি গাজীপুরের কালিয়াকৈর বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্কে অনুষ্ঠিত হয়। ৪ প্রতিষ্ঠান মিলে ওই পার্কের কাজ করছে। এ তালিকায় আছে হাইটেক পার্ক অথরিটি, বাংলাদেশ টেকনোসিটি (ফাইবার এট হোম) ও সামিট। এ ছাড়া সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান আল রাজিকে দশ একর জমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তারা শিগগিরই কাজ শুরু করবে বলে জানানো হয়েছে। বৈঠকে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে কাজ পাওয়া বাংলাদেশ টেকনোসিটি (ফাইবার এট হোম) ও সামিট এর কাজের অগ্রগতি নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলা হয়। কমিটির সভাপতি ইমরান আহমদ বলেন, প্রায় দেড় বছর আগে এখানে এসেছিলাম। কিছুটা উন্নয়ন যে হচ্ছে না তা নয়। কিন্তু ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কার্যক্রম যেভাবে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে এই পার্কের কার্যক্রম কি সে গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে? পিপিপি এর মাধ্যমে অধিকতর দ্রুততার সঙ্গে কাজ সম্পন্ন করার জন্য যে দুটি প্রতিষ্ঠানকে উন্নয়ন পার্টনার করা হয়েছে তাদের কাজ কি সন্তোষজনকভাবে এগুচ্ছে? তারা কি চুক্তি অনুযায়ী অন শিডিউলে আছেন? যদি থেকে থাকে, তাহলে ভালো। আর যদি না থাকে তবে সে বিষয়ে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে সে ব্যাপারে ব্যবস্থাপনা পরিচালক তার বক্তব্যে পরিষ্কার করেননি। এরপরই হাইটেক পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসনে আরা বেগম জানান, শিডিউল অনুযায়ী বাংলাদেশ টেকনোসিটি (ফাইবার এট হোম) ও সামিট দুটোই পিছিয়ে আছে। বিভিন্ন সময়ে তাদের তাগাদাও দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ টেকনোসিটি এর কাজ কিছুটা দৃশ্যমান হলেও পিছিয়ে থাকা সামিট ইতিমধ্যে মাটির কাজসহ প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করছে। আশা করা যায় সামিট পিছিয়ে থাকলেও তা কাভার করতে সক্ষম হবে। এ সময় প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, প্রত্যেকটি চুক্তি বিশ্লেষণ করা দরকার। বাংলাদেশ টেকনোসিটি (ফাইবার এট হোম) ও সামিট যে চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল তাতে শর্ত কি ছিল, তার কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে। আর সময়মতো বাস্তবায়ন করতে হাইটেক পার্ক অথরিটি কি ব্যবস্থা নিয়েছেন সে ব্যাপারে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাইটেক পার্ক অথরিটিকে একটি রিপোর্ট দেয়ার নির্দেশ দেন। কমিটির সভাপতি বলেন, টিওআর অনুযায়ী কাজ এগুচ্ছে কিনা, হাইটেক পার্ক অথরিটিকে তা মূল্যায়ন করতে হবে। পিছিয়ে পড়লে কি পদক্ষেপ নিতে হবে বা এগিয়ে নিতে কি করা উচিত তা তাদেরই ঠিক করতে হবে। শুধু তা-ই নয় পিপিপি মডেল আর সরাসরি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে কাজের কার্যকারিতার তুলনামূলক আলোচনা দরকার। কারণ কালিয়াকৈর ও যশোর হাইটেক পার্কের কাজ কাছাকাছি সময়ে শুরু হলেও কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করলে কোনটি আমাদের জন্য অধিকতর কার্যকর তা চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বক্তব্য অনুযায়ী যশোর শেখ হাসিনা টেকনোলজি পার্কের কাজ যদি কালিয়াকৈরের চেয়ে বেশি দ্রুত সম্পন্ন হয়ে থাকে তাহলে সরাসরি কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে কাজ করা অধিক কার্যকর ধরে নিতে হবে। সভাপতির বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যদি সরাসরি কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে কাজ হয় তবে অনেক সহজে কাজ সম্পাদন করা সম্ভব হবে এবং সম্ভাব্য বিলম্ব বা ব্যর্থতার অপবাদ থেকে অনেকাংশে রক্ষা পাওয়া যাবে। ইমরান আহমদ বলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ প্রক্রিয়াটি একেবারেই নতুন। তাছাড়া বাংলাদেশে আর কোথাও সফলতার সঙ্গে এ ধরনের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে বলে তার জানা নেই। তাই যে দুটি প্রতিষ্ঠানকে পার্টনারশিপের মাধ্যমে কার্যক্রম সম্পন্ন করার চুক্তি করা হয়েছে তাদের ফলাফল অত্যন্ত স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত তৃতীয় কোনো পদক্ষেপ নেয়া সমীচীন হবে বলে তিনি মনে করেন না। এদিকে বৈঠকে বিগত সভার সিদ্ধান্তের অগ্রগতি পর্যালোচনার একপর্যায়ে সিলেট হাইটেক পার্ক (সিলেট ইলেক্ট্রনিক সিটি)-এর পিপিপির মাধ্যমে প্রক্রিয়াধীন উন্নয়নকারী প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা রিপোর্টের ব্যাপারে সভাপতি বলেন, যে সক্ষমতার রিপোর্ট দেয়া হয়েছে তা টেন্ডার প্রক্রিয়া করার সময়ে তাদের প্রদত্ত যোগ্যতার প্রমাণপত্র। কিন্তু যোগ্য বিবেচিত হয়ে শুধু কাজ বাগিয়ে নেয়া যদি উদ্দেশ্য হয় তবে তাতে প্রকল্প বাস্তবায়নের ভবিষ্যৎ কি হবে তা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করতে হবে। এ ব্যাপারে ইতিমধ্যে প্রতিমন্ত্রীকে লিখিত আকারে আমার মতামত জানিয়েছিলাম। কিন্তু হাইটেক পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওই ব্যাপারে কিছুই উল্লেখ করেননি। যদিও ওই সময় তিনি নিজেও উপস্থিত ছিলেন। তাছাড়া উক্ত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় জড়িত এমন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পর্ক রয়েছে বলে আমার নিকট অনেকে অভিযোগ করেছেন। অভিযোগসমূহের সত্যতা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখতে হবে। এ ব্যাপারে আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, যদি ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা বা বঙ্গবন্ধু বা দেশের জন্য হুমকি এ ধরনের ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় তবে আমি তা কোনোভাবেই মেনে নেব না। আমি আশা করি এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীসহ কমিটির সদস্যরা একমত হবেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী সভাপতির বক্তব্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত পোষণ করে বলেন, এ ব্যাপারে কোনো সমঝোতার প্রশ্নই আসে না। এখন থেকে আইসিটি বিভাগের প্রত্যেকটি টেন্ডার প্রক্রিয়া চূড়ান্তকরণের পূর্বে ডিজিএফআই ও এনএসআই এর ক্লিয়ারেন্স নিতে হবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, কালিয়াকৈর বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্ক, যশোর শেখ হাসিনা টেকনোলজি পার্ক ও সিলেট হাইটেক পার্ক (সিলেট ইলেকট্রনিক সিটি) ছাড়াও সারা দেশে আরো ২৮টি নতুন হাইটেক পার্ক তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
http://www.mzamin.com/article.php?mzamin=49889&cat=2/%E0%A6%9F%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A1%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%97%E0%A7%8B%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%BE-%E0%A6%9B%E0%A6%BE%E0%A7%9C%E0%A6%AA%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0