২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শনিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
ধূলিধূসর রাজধানী
২০ জানুয়ারি ২০১৭, শুক্রবার,
কুয়াশাঘন ভোরের দৃশ্য নয়, এ হচ্ছে ধূলিধূসরিত রাজধানীর সারাদিনের চেহারা। বৃহস্পতিবার দুপুরে গাবতলী এলাকার ছবি - মাহবুব হোসেন নবীন
রাজধানীতে শুরু হয়েছে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ। কোথাও সড়ক সংস্কার করা হচ্ছে, আবার কোথাও নর্দমা পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি চলছে সেবা সংস্থার ভূগর্ভস্থ লাইন স্থানান্তর এবং বিভিন্ন অবকাঠামোর নির্মাণকাজ। সব কাজের জন্যই খোঁড়া হচ্ছে রাস্তা। তাতেই রাজধানীর সড়কগুলো হয়ে উঠেছে ধূলিময়। দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায়, এবারের শীতে ধুলায় অতিষ্ঠ রাজধানীবাসী। দেখা দিয়েছে স্বাস্থ্যগত নানা সমস্যা।
 
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৭০ কিলোমিটার সড়ক, ২০৩ কিলোমিটার ফুটপাত, ২৪৬ কিলোমিটার নর্দমা উন্নয়নের কাজ চলছে। দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ৫০ কিলোমিটার সড়ক, ৫৪ কিলোমিটার নর্দমা ও ১৪ কিলোমিটার ফুটপাত উন্নয়ন কাজ চালাচ্ছে। এসব কাজের জন্য রাস্তা ও নর্দমা খোঁড়া হচ্ছে। এতে ধুলোয় ধূসরিত উন্নয়ন কাজ চলা এলাকাগুলো। 
 
মেট্রোরেল নির্মাণে আগারগাঁও থেকে মিরপুর-১০ নম্বর পর্যন্ত ভূগর্ভস্থ বিদ্যুতের তার স্থানান্তরে কাজ চলছে গত ১ নভেম্বর থেকে। মেট্রোরেলের ১৬টি স্টেশন এলাকার ভূগর্ভস্থ গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, টেলিফোন ও ইন্টারনেটের লাইন সরানো হচ্ছে। কাটা হয়েছে রাস্তা। মগবাজারে রাস্তা খোঁড়ার কাজ চলছে বিদ্যুতের লাইন পুনঃস্থাপনে। রামপুরা, মালিবাগ, রাজারবাগ, মৌচাক ও শান্তিনগরে গত চার বছর ধরে রাস্তা খুঁড়ে চলছে ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ। ধূলি ঠেকাতে নির্মাণকাজ চলাকালে পানি ছিটানোর নির্দেশ রয়েছে। তবে সিটি করপোরেশনের এ নির্দেশ কোনো ঠিকাদার মানেন, তেমন নজির পুরো রাজধানীর কোথাও সরেজমিনে দেখা যায়নি। 
 
রাজধানীর ধানমণ্ডির সোবহানবাগ থেকে কল্যাণপুর পর্যন্ত রাস্তার পাশে বিদ্যুতের তার পুনঃস্থাপনের কাজ শুরু হয় গত মাসে। এ জন্য চার ফুট গভীর গর্ত খোঁড়া হয় রাস্তার এক পাশে। সোবহানবাগ থেকে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ পর্যন্ত, তার বসিয়ে গর্ত বন্ধও করা হয়েছে। কিন্তু তার ওপর পিচঢালাই না করায় ধুলায় নাকাল ওই এলাকার বাসিন্দা ও যাত্রীরা। 
 
গাবতলী সেতু থেকে কলেজ গেট পর্যন্ত ওয়াসার লাইন বসানোর কাজ শুরু হয় তিন মাস আগে। রাস্তার মাঝ বরাবর খোঁড়া হয়। প্রায় ছয় ফুট প্রস্থের এবং এক কিলোমিটার দীর্ঘ গর্তটি মাটি দিয়ে বন্ধ করা হয়েছে। এমনিতেই গাবতলীতে ধুলার অত্যাচার অন্য এলাকাগুলোর চেয়ে বেশি। ওয়াসা গর্ত খোঁড়ার পর, গাড়ি চলাচলে তা অসহনীয় পর্যায়ে পেঁৗছেছে। দিনের বেলায় ধুলাবালিতে সৃষ্টি হয় ঘন ধোঁয়াশা। ১০০ ফুট দূরের জিনিসও দেখা যায় না। গাবতলী টার্মিনালে চায়ের দোকানি কামাল হোসেন বলেন, \'ধুলার কথা কী আর কমু। দোকানে কোনো খাওয়ার জিনিস রাখা যায় না। কাস্টমারও আসে না।\' 
 
পরিস্থিতি এতটা খারাপ না হলেও ধুলায় ভুগতে হচ্ছে মিরপুরবাসীকে। মেট্রোরেল নির্মাণে বৈদ্যুতিক লাইন সরানোর কাজ শুরুর থেকেই এ অবস্থা। তবে এখানে, গর্ত খোঁড়া মাটি রাস্তায় রাখা হয় না। তারপরও গাড়ির চলাচলে বাতাসে গর্ত থেকে যে পরিমাণ ধুলা ওড়ে তা মানুষের জন্য অস্বস্তির। 
 
বিজয়নগর, কাকরাইল হয়ে শান্তিনগর সড়কের ফুটপাত ও নর্দমার উন্নয়নে কাজ চলছে। সেখানে বিভিন্ন অংশে মাটি ছড়িয়ে আছে। এতে ধুলার অত্যাচার বেড়েছে বলে জানান কাকরাইলে জাতীয় পার্টি কার্যালয়ের বিপরীতের দোকান মালিকরা। 
 
রাজধানীর পোস্তগোলা, শ্যামপুর, বুড়িগঙ্গার তীর ঘেঁষে বেড়িবাঁধ এলাকায় সারা বছরই থাকে ধুলার অত্যাচার। এবারের শুষ্ক মৌসুমে তা আরও বেড়েছে। উন্নয়ন কাজের বালু আসছে হাজারীবাগ এলাকার ঘাট থেকে। রোজ রাতে শত শত ট্রাকে বালু আসে রাজধানীর অভ্যন্তরে। খোলা ট্রাকে তা বহন করায় সারাদিন কুয়াশার মতো ধুলা থাকে বলে জানালেন হাজারীবাগের কালুনগরের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ উল্লাহ পলাশ।
- See more at: http://bangla.samakal.net/2017/01/20/264258#sthash.ajybhLoS.dpuf