১৯ নভেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
হবিগঞ্জে গ্যাস সংকট : বিপাকে উদ্যোক্তারা; উৎপাদনে যেতে পারছে না অর্ধশতাধিক কারখানা
১৯ জানুয়ারি ২০১৭, বৃহস্পতিবার,
হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন উদ্যোক্তারা। জনবল নিয়োগসহ সবকিছু প্রস্তুত। কিন্তু গ্যাস সংযোগের অভাবে উৎপাদনে যেতে পারছে না এখানকার অর্ধশতাধিক কারখানা। এ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন শিল্প উদ্যোক্তারা। চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন তারা।
 
 
সরকারের গ্যাস সংযোগের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানীর আশপাশের এলাকা ছেড়ে যমুনা গ্রুপসহ দেশের নামিদামি অনেক কোম্পানি মাধবপুরে কারখানা গড়ে তুলেছে। বিদেশ থেকে যন্ত্রপাতি আমদানি করেছে। বেশিরভাগ কারখানা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ব্যাংক ঋণ নিয়ে। কিন্তু সরকারের প্রতিশ্রুত গ্যাস সংযোগ না দেয়ায় চালু করা যাচ্ছে না কারখানা। অথচ ব্যাংক ঋণের কিস্তি ও সুদ ঠিকই পরিশোধ করতে হচ্ছে। ফলে মাধবপুরে শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনে আগ্রহী অনেক উদ্যোক্তা জায়গা দেখে যাচ্ছেন কিন্তু গ্যাস সংযোগ অনিশ্চয়তায় কেউ ঝুঁকি নিতে চাচ্ছেন না।
 
সূত্র জানায়, ৫ বছর আগে মাধবপুর উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে দেশের অনেক বড় বড় কোম্পানি শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন শুরু করে। প্রথম ধাপে এদের অনেকেই গ্যাস সংযোগসহ ক্যাপটিক পাওয়ার পায়। এরপরই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে জায়গা কিনে শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠায় উদ্যোক্তাদের মধ্যে হিড়িক পড়ে। হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে শতাধিক নামিদামি কোম্পানি শিল্প স্থাপন করে। কিন্তু ২০১৫ সালে হঠাৎই সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তে গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়।
 
একটি কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গ্যাস সংযোগের অভাবে উৎপাদনে যেতে না পেরে তারা বেকায়দায় পড়েছেন। ব্যাংক ঋণ নিয়ে তারা কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছেন। মেশিনপত্রও চীন থেকে আমদানি করে বসানো হয়েছে। কিন্তু গ্যাস সংযোগ মিলছে না ছয় মাসেও। এ অবস্থায় ঋণের কিস্তি টানতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। অথচ কারখানা স্থাপনের আগে প্রাথমিক অনুমোদন নেয়া হয়েছিল গ্যাসের জন্য। কিন্তু এখন গ্যাস সংযোগ দেয়া হচ্ছে না। এ অবস্থায় বেশিরভাগ শিল্প উদ্যোক্তা চরম হতাশার মধ্যে রয়েছেন।
 
জালালাবাদ গ্যাস কোম্পানির একজন দায়িত্বশীল কর্মকতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সিলেট অঞ্চলের শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে গ্যাস দেয়ার মতো ব্যবস্থা রয়েছে। প্রচুর মজুদ রয়েছে, লাইনে গ্যাসের চাপও রয়েছে। সরকার আগের পরিপত্রটি বাতিল করে নতুন পরিপত্র জারি করলেই আমরা গ্যাস সংযোগ দিতে পারি।
 
জানা গেছে, মাধবপুরের শাহজিবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি সুবিধা পেয়ে উৎপাদনে রয়েছে এমন কারখানার মধ্যে রয়েছে- সায়হাম, প্রাণ আরএফএল, স্টার ফরচুলিন, আরকে পেইন্টস, তালুকদার সিরামিক্স, কোয়াইট লিমিটেড, কফারটেক, পাইওনিয়ার, স্টার সিরামিক্স, মার লিমিটেড, এসএম স্পিনিং।
 
কিন্তু অর্ধশতাধিক শিল্প কারখানা স্থাপনের শুরুতেই গ্যাস সংযোগের আবেদন করা হলেও এ বিষয়ে এখনও কোনো নিশ্চয়তা মেলেনি। আবেদন জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে জমা পড়লেও গ্যাস সংযোগের বিষয়ে পদক্ষেপ নেই। এমন কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে- নাহিদ ফাইন টেক্সটাইলস, কেকো কেমিক্যাল, হার্ড ল্যান্ড সিরামিক্স, কনিকা কেমিক্যাল, জেআইসি সল্ট, ভারটেক্স পেপার মিলস, শিপিং বাংলাদেশ লিমিটেড, যমুনা গ্রুপের যমুনা স্পিনিং মিলস-২, যমুনা টায়ার, স্কয়ার টেক্সটাইলস লিমিটেড, স্কয়ার ডেনিম, বাদশা গ্রুপ, চারু সিরামিকস, এজি সিরামিক্স, ফারইস্ট ডেনিম, এআইচ খান অ্যান্ড কোম্পানি, ট্রান্সকম, প্যাসিফিক ও জাজ রুটুলেক্স।
 
জাজ রুটুলেক্সের উদ্যোক্তা জাকারিয়া চৌধুরী জানান, ব্যাংক ঋণ নিয়ে সহজে গ্যাস পাওয়ার আশায় কারখানা স্থাপন করে এখন মারাত্মক অসুবিধায় পড়েছি। দিন দিন ব্যাংকের দায়-দেনা বেড়েই চলেছে। বাধ্য হয়ে কয়লা দিয়ে কারখানা চালু করতে হবে। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে আরও লোকসানের মধ্যে পড়ব।
 
যমুনা গ্রুপের জিএম (ইঞ্জি.) আবুল হোসেন জানান, গ্যাস পাওয়ার আশায় আমরা ঢাকা ছেড়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিল্প-কারখানা স্থাপন করেছি। ভারি শিল্পের প্রধান নিয়ামক হচ্ছে গ্যাসচালিত ক্যাপটিক পাওয়ার প্লান্ট। শিল্প স্থাপনের আগে সরকার গ্যাস দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ সরকারের নির্বাহী আদেশে নতুন করে গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দেয়ায় আমরা মারাত্মক অসুবিধায় পড়েছি। খুব শিগগিরই নতুন করে শিল্প-কারখানায় গ্যাস সংযোগ না দিলে বিনিয়োগকারীরা মোটা অংকের লোকসানের মধ্য পড়বে।
 
সিলেট জালালাবাদ গ্যাসের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিজাম শরিফ উদ্দিন জানান, বর্তমানে গ্যাস সংকটের কারণে সরকার নতুন সংযোগ দেয়া বন্ধ রেখেছে। বিদেশ থেকে এলএনজি আমদানি করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করলে গ্যাস সংকট দূর হবে। তখন শিল্প প্রতিষ্ঠানসহ অনেক প্রতিষ্ঠানে গ্যাস সংযোগ দেয়া সম্ভব হবে। রশিদপুরে ৯ নম্বর কূপে নতুন গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে। সেখান থেকে গ্যাস উত্তোলন করতে পারলে গ্যাসের চাহিদা কিছুটা পূরণ করা সম্ভব হবে।
http://www.jugantor.com/first-page/2017/01/19/94371/%E0%A6%89%E0%A7%8E%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A6%A8%E0%A7%87-%E0%A6%AF%E0%A7%87%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%85%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A6%B6%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%A7%E0%A6%BF%E0%A6%95-%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BE