১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
গার্মেন্ট শিল্পে নিয়োজিত ৪০ লাখ শ্রমিকের সংসারে টানাপোড়েন
১৯ জানুয়ারি ২০১৭, বৃহস্পতিবার,
রাজধানীর রায়েরবাগ এলাকায় ২ছেলে আর স্ত্রী নিয়ে ভাড়াবাসায় বসবাস করে ফরিদ হোসেন। একটু ভালো থাকার অনুপ্রেরণা নিয়ে নেত্রকোনা থেকে সপরিবার ঢাকায় আসেন তিনি। কাজ নেন একটি তৈরী পোশাক কারখানায়। শ্রমিকের মজুরি (গ্রেড-৪) অনুযায়ী বেতন পান ৬ হাজার ৪২০ টাকা। প্রতিমাসে খাওয়া, বাসা ভাড়া, ছেলেদের পড়াশুনার খরচ চালাতে গিয়ে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছেন। নিত্যপণ্যের আকাশচুম্বি দামের এই সময়ে ফরিদের সংসার চলছে টানাপোড়েনে। তিনি জানান, মাস শেষ যে বেতন পাই তাতে সংসার আর চলে না। কোনমতে কষ্টে দিন পার করছি। ফরিদের মতো গর্মেন্টস শিল্পে ৪০ লাখ শ্রমিকের সংসার চলছে নানা কষ্টে। পোশাক শ্রমিকের মজুরি ঢাকার মধ্যে দারিদ্র্যসীমার নিচে।
সূত্র জানায়, দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের ৮০ ভাগেরও বেশি কারখানা ঢাকা শহর ও ঢাকার উপকণ্ঠ শহরগুলোয় স্থাপিত। সবচেয়ে শ্রমঘন এ খাতে কাজ করেন প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক, যাদের প্রায় সবাই ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় গ্রাম থেকে শহরে এসেছেন। কিন্তু সেখানে দিন-রাত কাজ করেও দারিদ্র্য তাদের পিছু ছাড়ছে না।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিবেদন বলছে, পোশাক শ্রমিকের মজুরি ঢাকার দারিদ্র্যসীমার নিচে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকা শহরে দারিদ্র্যসীমা মজুরি ধরা হয়েছে মাসিক ৭ হাজার ১৭২ টাকা। অর্থাৎ কারো মাসিক মজুরি ৭ হাজার ১৭২ টাকার কম হলে তাকে দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করতে হবে। অথচ পোশাক খাতে একজন শ্রমিকের মজুরি (গ্রেড-৪) ৬ হাজার ৪২০ টাকা। সে হিসাবে মজুরির দিক থেকে ঢাকার দারিদ্র্যসীমার নিচেই আছেন পোশাক শ্রমিকরা।
আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল সোস্যাল এন্ড এনভায়রণমেন্টাল এক্রেডিটেশন এন্ড লেবেলিং (আইএসইএএল) উদ্যোগে এ প্রতিবেদন তৈরী করা হয়। এতে ঢাকা ও ঢাকার উপকণ্ঠে বসবাসরত শ্রমিকদের লিভিং ওয়েজ হিসাব করতে মিরপুর, ঢাকার পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর,আশুলিয়ার শ্রমিকদের দৈনন্দিন খরচের মাঠপর্যায়ে তথ্যউপাত্ত বিশ্লে¬ষণ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। মানসম্পন্ন ও সুন্দর জীবনযাপনের জন্য খাদ্য, পানি, আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন, পোশাক, অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা মোকাবেলা এবং অন্যান্য অপরিহার্য প্রয়োজনকেও বিবেচনায় আনা হয়েছে এ প্রতিবেদনে।
সূত্র জানায়, দেশের পোশাক শিল্পের মজুরি কাঠামোয় শিক্ষানবিশ ছাড়াই শ্রমিকদের মোট গ্রেড আছে সাতটি। সপ্তম গ্রেডের একজন শ্রমিক খাদ্য, যাতায়াত, চিকিৎসা, বাড়ি ভাড়া ও মূল বেতনসহ মোট ৫ হাজার ৩০০ টাকা মজুরি পান। আর গ্রেড ৪ ও ৩-এর শ্রমিকরা পান যথাক্রমে ৬ হাজার ৪২০ এবং ৬ হাজার ৮৫০ টাকা। পোশাক শ্রমিকদের এ মজুরি প্রতিবেদনে উল্লিখিত ঢাকার দারিদ্র্যসীমা মজুরির চেয়ে কম।
সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার বলেন, শ্রমিকের মজুরি নির্ধারণে মানসম্পন্ন আবাসন, পুষ্টি এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ বিবেচনায় নেয়া হয় না। সেজন্যই পোশাক শ্রমিকের মজুরির হার দারিদ্র্যসীমার নিচে দেখা যাচ্ছে। পোশাক উৎপাদন আয়ের অধিকাংশই পান ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে কারখানা পর্যন্ত মধ্যস্বত্বভোগীরা। সেখানে শ্রমিকরা পান খুব সামান্যই, যা পোশাকের পিসপ্রতি মাত্র ১৮ সেন্ট। তবে প্রতিবেদেনের সাথে একমত নন বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বার্ষিক মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি বছরই বাড়ে। সর্বশেষ মজুরি কাঠামো অনুযায়ী এটি করা হচ্ছে। শ্রমিকের মজুরি দারিদ্র্যসীমার নিচে— এমন তথ্য আমার কাছে যথার্থ মনে হচ্ছে না। কারণ আমরা জরিপ করে দেখেছি, বর্তমান মজুরি হারে একজন শ্রমিক মাস শেষে স্বল্প হারে হলেও সঞ্চয়ের সামর্থ্য রাখেন।
তিনি বলেন, গত তিন বছরে তৈরি পোশাক শিল্প খাতে অকল্পনীয় পরিবর্তন এসেছে। এ খাতে নিযুক্ত শ্রমিক পরিবারকে আমরা লালন-পালন করছি। যেসব কারখানা বিজিএমইএ বা নিট পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন, বিকেএমইএর সদস্য নয়, কমপ¬ায়েন্সের ক্ষেত্রে তাদের সমস্যা থাকতে পারে। সেগুলোকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের মতে , পোশাক শ্রমিকের মজুরির বর্তমান হারের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না বলে দাবি করছেন শ্রমিক প্রতিনিধিরা। এর কারণ বাড়ি ভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। সরকার বর্তমান হারের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে শ্রমিক-মালিক দুপক্ষের জন্যই ভালো হতো। তবে এটি ঠিক যে, বর্তমান হার আরো বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে। দারিদ্র্যসীমার নিচে মজুরির হার বিশে¬øষণে আরো অনেক বিষয় বিবেচনা করা দরকার।
এদিকে শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব মিকাইল শিপার বলেছেন, ২০১৮ সালে মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেয়া হবে। সে সময় আলোচনা করে ছয় মাস সময় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় নতুন মজুরি বোর্ড ঘোষণা করা হবে। এ কারণে ২০১৯ সালের আগে নতুন মজুরি বোর্ড ঘোষণা করা হবে না।
শ্রম সচিব বলেন, ইউরোপ ও আমেরিকার ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জোট অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স ২ হাজার ২৩১টি কারখানা পরিদর্শন করেছে। এর মধ্যে ১৫০টি কারখানা প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও মান নিশ্চিত না করায় বন্ধ করে দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তিনি বলেন, কারখানাগুলো যাতে জেন্ডার সমতার বিধানগুলো মেনে চলে এ জন্য জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) ও বিজিএমইএর সঙ্গে এক হয়ে সরকার কাজ করছে।
http://www.dailysangram.com/post/268100-%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%9F-%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A7%87-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%8B%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A6%A4-%E0%A7%AA%E0%A7%A6-%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%96-%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B0%C2%A0%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A7%8B%E0%A7%9C%E0%A7%87%E0%A6%A8