২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, রবিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
২০১৬ সালে নির্যাতনের শিকার ৩,৫৮৯ শিশু
১৮ জানুয়ারি ২০১৭, বুধবার,
২০১৬ সালে ৩ হাজার ৫৮৯টি শিশু সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৪৪১টি শিশুর অপমৃত্যু ঘটে। যৌন নির্যাতনের শিকার হয় ৬৮৬টি শিশু। 
বিদায়ী বছরের শিশু অধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম (বিএসএফ) এ তথ্য দিয়েছে। গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন ডেকে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। জাতীয় ১২টি দৈনিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর থেকে শিশুর প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতনের এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। এতে জানানো হয় যে, ২০১৫ সালে সহিংসতা ও নির্যাতনের মোট ঘটনা ছিল ৫ হাজার ২১২টি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় যে, ২০১৫ সালের মতো ২০১৬ সালেও শিশুহত্যা কিছুটা (-৯.২৫%) কমলেও আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে বাবা-মায়ের হাতে শিশুহত্যা (৫৭.৫%)। ২০১৬ সালে ৬৪টি শিশু বাবা-মায়ের হাতে নিহত হয় অর্থাৎ গড়ে প্রতি মাসে অন্তত পাঁচটি শিশু বাবা-মায়ের নির্মমতায় প্রাণ হারায়। সেই সাথে বেড়েছে স্কুলগামী কিশোরীদের প্রতি বখাটেদের অত্যাচার- মারধর। বখাটেদের প্রেম/বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান এবং প্রতিবাদ করায় হামলা, মারধর ও লাঞ্ছনার শিকার অনেকেই মারাত্মক জখম এবং হুমকিতে বিদ্যালয়ে গমন সাময়িক বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিল। শারীরিক নির্যাতন যেমন চুরির অপরাধে পিটিয়ে নির্যাতন (১৮%) এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পিটিয়ে নির্যাতন (২০%) বেড়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ২০১৬ সালের শিশু অধিকার লঙ্ঘনের বিশেষ বিশেষ দিকÑ হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতনসহ বেশ কিছু ঘটনার পরিসংখ্যান এবং বিগত বছরগুলোর সাথে তুলনামূলক বিশ্লেষণ তুলে ধরেন বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের পরিচালক আবদুছ সহিদ মাহমুদ। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি এবং দাতা সংস্থা টেরে ডেস হোমস নেদারল্যান্ডসের শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞ এহসানুল হক বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের চেয়ারপারসন মো: এমরানুল হক চৌধুরী। 
সংবাদ সম্মেলন জানানো হয়, সংখ্যার দিক থেকে আগের বছরের তুলনায় ২০১৬ সালে শিশুর প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতনের ঘটনা কিছুটা কমেছে। তবে বদলেছে সহিংসতার ধরন; বেড়েছে নির্যাতনের ভয়াবহতা। পাশাপাশি, আশঙ্কাজনকভাবে মা-বাবার হাতে শিশুহত্যা এবং শিক্ষকদের হাতে নির্যাতনের হারও বেড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
জাতীয় পর্যায়ে শিশুদের নিয়ে কাজ করে, এমন ২৬৯টি বেসরকারি সংস্থার ফোরাম হচ্ছে বিএসএএফ। বাংলাদেশে শিশু অধিকার রক্ষায় যুক্ত ২৬৯টি এনজিওর একটি জাতীয় নেটওয়ার্ক। ১৯৯০ সাল থেকে বিএসএএফ বাংলাদেশে শিশুদের অধিকার রক্ষা এবং উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে অ্যাডভোকেসি করে যাচ্ছে। 
এ বিষয়ে সংগঠনটির চেয়ারপারসন মো: এমরানুল হক চৌধুরী বলেন, বিচারহীনতা ও বিচারপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার কারণে শিশুদের প্রতি সহিংসতার ঘটনা ঘটেই চলেছে। পাশাপাশি বাড়ছে ঘটনার নির্মমতা।
অপর দিকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, মা-বাবা এবং শিক্ষকদের হাতে হত্যা ও নিপীড়নের ঘটনা হচ্ছে সামাজিক অস্থিরতার কারণে। তিনি এ প্রসঙ্গে শিশুদের সুরক্ষায় রাষ্ট্রকে আরো দায়িত্বশীল হতে পরামর্শ দেন। এর পাশাপাশি তিনি গণমাধ্যমকেও এ ধরনের ঘটনায় আরো গুরুত্ব দেয়ার কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা শিশুর প্রতি যেকোনো সহিংসতা ও নির্যাতনের ঘটনা দ্রুত বিচারের আওতায় নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও রায় দ্রুত কার্যকরের সুপারিশ করেন। পাশাপাশি, শিশুদের জন্য স্বতন্ত্র শিশু কমিশন গঠনের দাবিও জানান তারা।
http://www.dailynayadiganta.com/detail/news/188322