২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শনিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
ধানের উৎপাদন কমছে ব্যাপক হারে: ধানের দাম না পেয়ে কৃষি জমিতে মাছের খামার
১৭ জানুয়ারি ২০১৭, মঙ্গলবার,
শরীয়তপুরের বিভিন্ন স্থানে ফসলি জমিতে মাছের খামার তৈরি করা হচ্ছে। ফলে জেলায় ধান উৎপাদন কমে গেছে। মাছের খামার করার কারণে গত দুই বছরে ধানের জমি কমেছে সাড়ে ছয় হাজার একরের বেশি। ধানের উৎপাদনও কমেছে।
মূলত ধানের দাম পড়ে যাওয়া এবং উপযুক্ত দাম না পাওয়ার কারণে কৃষকেরা নিজেরা মাছের খামারের দিকে যাচ্ছেন কিংবা খামারের জন্য ভাড়া দিচ্ছেন। জমির উপযুক্ত ভাড়া না পাওয়ায় কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং মধ্যস্বত্বভোগীরা লাভবান হচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি প্রথমে কিছু জমিতে খামার করে পরে পাশের জমিও খামারের জন্য ভাড়া দিতে কৃষকদের বাধ্য করছেন।
শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, জেলায় ২০১৪ সালে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৯৫০ একর জমিতে ধানের চাষ হয়েছে। ২০১৫ সালে তা কমে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৫৮৭ একরে নেমে এসেছে। ২০১৬ সালে তা আরও কেম দাঁড়ায় ১ লাখ ৩৩ হাজার ৩২৫ একর। উৎপাদন কমেছে ৪১ হাজার ৩৯১ মেট্রিক টন ধান।
কৃষকেরা জানান, ধানের দাম কম থাকায় অনেক জমির মালিক এক ফসলি জমি মৎস্য খামারিদের কাছে ভাড়া দেন। মৎস্য খামারিরা একসঙ্গে ১৫ থেকে ২০ একর জমি নিয়ে একেকটি মৎস্য খামার তৈরি করেন। সেখানে অনেক ক্ষুদ্র কৃষকের জমিও থাকে। ওই কৃষকদের তখন বাধ্য হয়ে খামারিদের কাছে ধান উৎপাদনের জমি ছেড়ে দিতে হয়। কৃষকেরা প্রতি শতাংশ জমি বছরে ভাড়া পান ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা।
ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের ইকরি মৌজার ১৪৫ একর জমিতে স্থানীয় কৃষকেরা ফসল ফলিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ওই এলাকার কিছু ব্যক্তি তাঁদের ৬৫ একর জমি মাছের খামার করার জন্য শরীয়তপুর সদরের পালং এলাকার ব্যবসায়ী শাহিন মাদবরের কাছে ভাড়া দেন। এলাকার ৪৪ জন কৃষক তাঁদের ৮০ একর জমি মৎস্য খামার করার জন্য ভাড়া দেননি। শাহিন মাদবর ওই জমির পাশের ভাড়া না দেওয়া জমিতেও গত ২০ নভেম্বর থেকে পুকুর কাটার কাজ শুরু করেছেন।
ইকরি গ্রামের কৃষকেরা দখলদারের হাত থেকে তাঁদের জমি উদ্ধারের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছেন। গ্রামের বকুল বেগম বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। ওই জমিটুকুই আমার পরিবারের শেষ সম্বল। শাহিন মাদবর দখল করে মাছের খামার বানাচ্ছেন। কে আমার জমিটি উদ্ধার করে দেবে? এ জমিটি হাতছাড়া হয়ে গেলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পথে পথে ঘুরতে হবে। জমিতে ধান উৎপাদন না করতে পারলে মাছ দিয়ে কী করব? ভাত ছাড়া শুধু মাছ খেয়ে তো বাঁচতে পারব না।’
অভিযোগ প্রসঙ্গে শাহিন হাওলাদার বলেন, ‘যাঁরা জমি ভাড়া দিতে চান না, তাঁরা জমি ফেরত নিতে পারেন।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কবির হোসেন বলেন, সহজ-সরল কৃষকেরা অনেক সময় বাধ্য হয়ে মৎস্য খামারিদের কাছে জমি ভাড়া দিচ্ছেন। কৃষক যদি নিজে মাছের খামার করতেন, তাহলে সমস্যা হতো না। বরং লাভবানই বেশি হতেন। কিন্তু কিছু ব্যক্তি জমি ভাড়া নিয়ে মাছের খামার করছেন। ফলে তাঁরা লাভবান হচ্ছেন। বিনিময়ে জমির যে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে তাও সামান্য।
জেলা মৎস্য খামার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক চন্দন ব্যানার্জি বলেন, দুই বছরে শরীয়তপুরের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১০ হাজার একর জমি কেটে মাছের প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে। এক ফসলি জমিতে কৃষক শুধু ধানের আবাদ করেন। ধানের বাজারমূল্য কম থাকার কারণে উৎপাদন খরচ আসে না। তাই কৃষকেরা মাছের খামার মালিকদের কাছে জমি ভাড়া দেন।
http://www.prothom-alo.com/bangladesh/article/1061155/%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%AE-%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A6%95%E0%A7%83%E0%A6%B7%E0%A6%BF-%E0%A6%9C%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%9B%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0