১৭ নভেম্বর ২০১৯, রবিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
জনশক্তি রফতানিকারকরা হাবুডুবু খাচ্ছেন
১৭ জানুয়ারি ২০১৭, মঙ্গলবার,
সউদী আরবের ইন্টারনেট সংস্থা মুসানেদ অনেক সউদী নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের ক্লিয়ারেন্স বন্ধ করে দেয়ায় প্রায় ৫০ হাজার পুরুষ কর্মী নিয়োগের ওকালা (চাহিদাপত্র) ঢাকায় ঘুরপাক খাচ্ছে। মুসানেদ ওকালার ক্লিয়ারেন্স কমিয়ে দেয়ায় সউদী গমনেচ্ছু শত শত কর্মীদের গামকার স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্টের মেয়াদ বাতিল হয়ে যাচ্ছে। মুছানেদের ক্লিয়ারেন্স না থাকায় রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো কর্মীদের পাসপোর্ট ভিসা স্টেম্পিংয়ের জন্য সউদী দূতাবাসে জমা দিতে পারছে না। দফায় দফায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে গিয়ে সউদী গমনেচ্ছু কর্মীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিসহ চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সউদী আরবে সময় মতো কর্মী পাঠাতে না পেরে জনশক্তি রফতানিকারকদের অনেকেই সউদী ও দেশীয় মোবাইল ফোন বন্ধ করে নিজস্ব অফিস ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। সউদী মুসানেদ থেকে ইস্যুকৃত ওকালার পুনঃঅনুমোদন না পাওয়ায় অনেক ভিসার মেয়াদও শেষ হয়ে যাচ্ছে। মুসানেদ সংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত অবসান না হলে সউদী আরবে জনশক্তি রফতানিতে বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে। এ ব্যাপারে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ বায়রা নেতৃবৃন্দকে অবহিত করেও সুরাহা পাওয়া যাচ্ছে না। একাধিক জনশক্তি রফতানিকারক এ অভিমত প্রকাশ করেছেন। দুইশ’ মহিলা গৃহকর্মী সউদীতে পাঠালে এর বিপরীতে ১শ’ পুরুষ কর্মী ফ্রি পাঠানোর সুযোগের চুক্তি অনুযায়ীই সউদী মুসানেদ গত ১০/১২ দিন যাবত পুরুষ কর্মী নিয়োগের পুনঃঅনুমোদন দিচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বছর জুন মাসে রিয়াদ সফরকালে সউদী বাদশাহ সালমানের সাথে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে অধিক হারে কর্মী নেয়ার অনুরোধ জানান। প্রধানমন্ত্রী’র সউদীর সফরের পরিপ্রেক্ষিতেই সউদীর শ্রমবাজার উন্মুক্ত হয়। সউদী আরবে মহিলা গৃহকর্মীর পাশাপাশি পুরুষ কর্মী নিয়োগও বাড়তে থাকে। 
গত বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনশক্তি রফতানি ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে সউদী গমনেচ্ছু কর্মীদের ওকালার ভিসা প্রসেসিং নিয়ে মারাত্মক জটিলতার সৃষ্টি হওয়ায় জনশক্তি রফতানিতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বায়রার একজন কর্মকর্তা এ অভিমত ব্যক্ত করেন।  তিনি বিষয়টি দ্রুত সুরাহা করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন। 
 ঢাকাস্থ সউদী দূতাবাস কর্তৃপক্ষ প্রতিদিন ভিসা স্টেম্পিং-এর জন্য আগের চেয়ে পাসপোর্ট জমা নেয়ার সংখ্যা কমিয়ে দেয়ায় পরিস্থিতি আরো জটিল আকার ধারণ করছে। জনবল স্বল্পতার দরুন সউদী দূতাবাস কর্তৃপক্ষ প্রতিদিন পর্যাপ্ত ভিসা ইস্যু করতে হিমসিম খাচ্ছে। সউদী দূতাবাস কর্তৃপক্ষ গত বছর  ভিসা ইস্যু প্রক্রিয়া সহজতর ও দ্রুত করার লক্ষ্যে দূতাবাসে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের জন্য সউদী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। দূতাবাসে এখনো প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ না হওয়ায় সউদী গমনেচ্ছু কর্মীদের ভিসা পাওয়া এখন সোনার হরিণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বায়রার একাধিক সদস্য এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন। সান সাইন ওভারসিজের (৮৫৬) চেয়ারম্যান মোঃ আনোয়ার হোসাইন গতকাল ইনকিলাবকে বলেন, সউদী মুছানেদ-এর ক্লিয়ারেন্স এবং সউদী দূতাবাস থেকে পর্যাপ্ত ভিসা না পাওয়ায় বর্তমানে প্রায় তিন হাজার ওকালা আমার প্রতিষ্ঠানে আটকা পড়েছে। গত ২০ ডিসেম্বর থেকে সউদী দূতাবাস দৈনিক মাত্র ১০টি পাসপোর্ট জমা নিচ্ছে। গত ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত দূতাবাস প্রতিদিন ৫০টি পাসপোর্ট জমা নিতো। তিনি বলেন, গত এক মাসে আমার তিনশ’ সউদী গমনেচ্ছু কর্মীর মেডিকেল রিপোর্টের মেয়াদ বাতিল হয়ে গেছে। ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রতিদিন বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সির শত শত কর্মীর গামকার মেডিক্যাল রিপোর্ট বাতিল হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সউদীতে ২শ’ মহিলা কর্মীর বিপরীতে একশ’ পুরুষ কর্মী প্রেরণের শর্ত কোনো যুক্তিসঙ্গত হতে পারে না। এমন শর্ত কোনো জনশক্তি আমদানিকারক দেশের নেই। উল্লেখিত ১শ’ পুরুষ কর্মীর ওকালা বিনা মূল্যে পাওয়ার কথা ছিল কিন্তু তা এখন চড়া দামে কিনে আনতে হচ্ছে। মোঃ আনোয়ার হোসাইন বলেন, সউদী গমনেচ্ছু কর্মীদের ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা মারাত্মক আকার ধারণ করায় রাজধানীতে প্রায় দু’শতাধিক রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক মোবাইল ফোন বন্ধ করে অফিস ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তিনি বলেন, বায়রার নেতা ও বিএমইটি’র কর্মকর্তাদের পেছনে ধরনা দিয়ে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছে জনশক্তি রফতানিকারকরা। তিনি বলেন, সউদী মুসানেদ সংক্রান্ত জটিলতায় জনশক্তি রফতানিকারকদের নাভিশ্বাস উঠেছে। সউদী গমনেচ্ছু কর্মীদের ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত নিরসন এবং শ্রমবাজারকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশু হস্তক্ষেপ কামান করেন।   
 মুসানেদ-এর বেড়াজালে পড়ে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর নাভিশ্বাস উঠেছে। সউদীর হাউজ ড্রাইভার , হাউজ লেবারসহ বিভিন্ন কর্মীর নতুন ওকালা এখন এজেন্সিগুলো গ্রহণ করতে অনীহা প্রকাশ করছে। শিখা ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী জাহাঙ্গীর আলম জানান, চাহিদানুযায়ী ভিসা না পাওয়ায় তার এখন প্রায় ৭শ’ সউদী গমনেচ্ছু কর্মীর ওকালা আটকা পড়েছে। এভিয়েট ইন্টারন্যাশনাল এ যাবত ৯শ’ ৩০জন মহিলা গৃহকর্মী সউদী আরবে পাঠিয়েছে। পুরুষ কর্মী পাঠিয়েছে মাত্র ২শ’ ৫৪জন। মুসানেদ-এর ওকালা আছে বর্তমানে ৮ শতাধিক। মুসানেদ পাসওয়ার্ড বন্ধ রাখায় এভিয়েট ইন্টারন্যাশনাল ২শ’ ৫জন কর্মীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করেও মুসানেদের পুনঃঅনুমোদন না পাওয়ায় তাদেরকে সউদী আরবে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে অপেক্ষমান কর্মীরা চরম হতাশায় ভুগছে। আল-হাসিব ওভারসীজ, বাংলাদেশ এক্সপোর্ট, ডিবিএইচ ইন্টারন্যাশনালেরও ওকালা আটকা পড়েছে বলে জানা গেছে। দূতাবাসের ভিসা বিভাগ সামান্য অজুহাতেই বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সি’র কার্যক্রম ১০ দিন, ১৫দিন এবং ৩০ দিন স্থগিত রাখছে। এতে ভিসা নিয়ে আরো জটিলতা বাড়ছে। সউদী’ গমনেচ্ছু কর্মীদের ভিসা জটিলতা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বায়রা নেতৃবৃন্দও উদ্বিগ্ন। মুসানেদ ক্লিয়ারেন্সের স্বল্পতা এবং দূতাবাস থেকে স্বল্প ভিসা ইস্যু হওয়ায় বিপুল সংখ্যা কর্মীর মেডিকেল রিপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়টি বায়রার সহ-সভাপতি কাজী মফিজুর রহমান স্বীকার করেছেন। রাতে বায়রা নেতা কাজী মফিজুর রহমান ইনকিলাবকে বলেন, সম্ভাবনাময় সউদীর শ্রমবাজার যাতে হাত ছাড়া না হয় সে বিষয়টি মাথায় রেখে সউদী ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের জন্য আমরা  কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। ইতিমধ্যেই সউদীর ভিসা সহজতর ও দ্রুত পাওয়ার জন্য একাধিক আলোচনা করা হয়েছে। তিনি বলেন, সউদী দূতাবাসে কিছু নতুন জনবল নিয়োগ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বায়রা নেতা বলেন, সউদীর ভিসা সংক্রান্ত সংকট সমাধানের জন্য আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছি। সউদীর আটকে পড়া ওকালা ও দ্রুত ভিসা লাভের বিষয়টি শিগগিরই সমাধান হবে বলে বায়রা নেতা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
- See more at: https://www.dailyinqilab.com/article/59066/%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A6%B6%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A6%B0%E0%A6%AB%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%BE-%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%A1%E0%A7%81%E0%A6%AC%E0%A7%81-%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%9B%E0%A7%87%E0%A6%A8#sthash.s3EaY9Pq.dpuf