১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
না’গঞ্জে সাত খুন : সরকারি কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন; বড় কারণ অবৈধ অর্থ উপার্জন
১৬ জানুয়ারি ২০১৭, সোমবার,
র্যাব-১১ এর সাবেক অধিনায়ক তারেক সাঈদ, কোম্পানি কমান্ডার মেজর (অব.) আরিফ ও লে. কমান্ডার (অব.) রানাসহ কতিপয় কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার লিপ্সা থেকে এ খুনের ঘটনা ঘটে * স্থানীয় প্রশাসনের ওপর নূর হোসেনের ব্যাপক আর্থিক প্রভাব ছিল। বিশেষ করে র্যাব-১১ এর তৎকালীন কর্মকর্তারা ছাড়াও সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সাবেক ওসি আবদুল মতিন, নারায়ণগঞ্জ জেলার সাবেক এসপি সৈয়দ নূরুল ইসলাম ও জেলা প্রশাসক মনোজ কান্তি বড়ালের সঙ্গে নূর হোসেনের বিশেষ সখ্য ছিল * ৪ এপ্রিল মেজর আরিফকে দু’কোটি টাকা দেন নূর হোসেন
নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুনের নেপথ্যে ছিল অবৈধ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। সে সময় এ জেলায় কর্মরত র্যাব-পুলিশসহ স্থানীয় প্রশাসনের অনেকেই অবৈধ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। এসব সুবিধাভোগীর মধ্যে এক ধরনের যোগসাজশও ছিল। মূলত সেভেন মার্ডারের পেছনে অর্থ লেনদেনের বিষয় থাকায় অপহরণ ঘটনার পর তাদের উদ্ধারে ত্বরিত ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বহুল আলোচিত সাত খুনের ঘটনায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এমন মন্তব্য করা হয়। ওই সময় উচ্চ আদালতের নির্দেশে এ কমিটি গঠন করা হয় এবং তদন্ত শেষ হওয়ার পর কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
১৩৪ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনের এক স্থানে বলা হয়, নারায়ণগঞ্জে আইনশৃংখলা পরিস্থিতির অবনতিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে অবৈধ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। গার্মেন্টের ঝুট ব্যবসা, সরবরাহ ও ঠিকাদারি কর্মকাণ্ড, অবৈধ বালু, মাটি, পাথর ব্যবসা, অশ্লীল যাত্রা, জুয়া ও অবৈধ মাদক ব্যবসা নারায়ণগঞ্জে দীর্ঘদিন থেকেই চলছে। অবৈধ সুবিধার বিনিময়ে এসব কর্মকাণ্ডে সরাসরি সহায়তা দেয় স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, র্যাব, রাজনীতিবিদ ও কিছুসংখ্যক গণমাধ্যমকর্মী। সাত খুনের পর অবৈধ সুবিধাভোগীর পরিবর্তন হলেও কর্মকাণ্ডগুলো চলমান রয়েছে। আশংকা প্রকাশ করে বলা হয়, এগুলো প্রতিরোধে ব্যবস্থা না নিলে তা আগের অবস্থায় ফিরে আসতে পারে। এমনকি একই সঙ্গে সাত খুনের মতো লোমহর্ষক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটাও অস্বাভাবিক নয়। এক্ষেত্রে সরকার একাধিক কমিটি গঠন করে প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণ করে দিতে পারে।
নূর হোসেনের সঙ্গে আরিফের আর্থিক লেনদেন : মেজর আরিফের সঙ্গে নূর হোসেনের আর্থিক লেনদেনের সম্পর্ক ছিল। মেজর আরিফ মোহাম্মদপুরে একটি ফ্ল্যাট কিনেন। ওই ফ্ল্যাটের ১২ লাখ টাকা দেন নূর হোসেন। র্যাবের মতো এলিট ফোর্সের একজন কর্মকর্তা বিশেষ করে সেনাবাহিনীর মেজর পদের এক কর্মকর্তার সঙ্গে নূর হোসেনের মতো বিতর্কিত ব্যক্তির ওঠাবসা এবং আর্থিক লেনদেন সন্দেহজনক।
তাছাড়া সাত খুনের আগে ও ঘটনার দিন নূর হোসেনের সঙ্গে আরিফের একাধিকবার যোগাযোগের ঘটনা প্রমাণ করে, নূর হোসেনের কাছ থেকে তিনি আর্থিকভাবে লাভবান হতেন। বিনিময়ে নূর হোসেনকে অবৈধ সুবিধা দেয়া হতো। নূর হোসেন-বাহিনীর অন্যতম সদস্য আলী মোহাম্মদ তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ৪ এপ্রিল মেজর আরিফকে দুই কোটি টাকা দেন নূর হোসেন। আলী মোহাম্মদ ও নূর হোসেনের আরেক সহযোগী মর্তুজা জামান ওরফে চার্চিলের বক্তব্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, মেজর আরিফ নূর হোসেনের বাড়ি ও অফিসে যাতায়াত করতেন। নূর হোসেনের বাড়িতে তাকে খাওয়া-দাওয়া করতেও দেখা যায়।
নূর হোসেনের সঙ্গে সখ্য : ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের সঙ্গে নূর হোসেনের আধিপত্য বিস্তার ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ছিল। নজরুলকে শায়েস্তা করার চেষ্টা করছিলেন নূর হোসেন। স্থানীয় প্রশাসনের ওপর নূর হোসেনের ব্যাপক আর্থিক প্রভাবও ছিল।
বিশেষ করে র্যাব-১১ এর তৎকালীন অধিনায়ক তারেক সাঈদ, মেজর অব. আরিফ, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সাবেক ওসি আবদুল মতিন, নারায়ণগঞ্জ জেলার সাবেক এসপি সৈয়দ নূরুল ইসলামের সঙ্গে নূর হোসেনের বিশেষ সখ্য ছিল। নজরুলকে শায়েস্তা করার ক্ষেত্রে নূর হোসেন এ সখ্য কাজে লাগান। নজরুলসহ সাতজনকে অপহরণ ও খুনের সঙ্গে র্যাবের তিন কর্মকর্তা সরাসরি জড়িত ছিলেন। পরে লাশ গুমের সঙ্গে জড়িত হন র্যাবের এএসপি মেহেদী শাহরিয়ার।
ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জ পুলিশ প্রশাসন অপহরণের পেছনে র্যাবকে সন্দেহ করে। ঘটনার পেছনে নূর হোসেনের ভূমিকা নিয়েও পুলিশের সন্দেহ ছিল। পুলিশের এ সন্দেহের কথা স্থানীয় এমপি শামীম ওসমানকে জানানো হয়। ঘটনা শুনে শামীম ওসমান র্যাবের তৎকালীন অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসানকে ফোন করে জানান।
এরপর কর্নেল জিয়াউল আহসান র্যাব-১১ এর সাবেক অধিনায়ক তারেক সাঈদ মোহাম্মদকে টেলিফোন করে ঘটনার সত্যতা জানতে চান। কিন্তু তারেক সাঈদ পুরো বিষয়টি অস্বীকার করেন। তদন্ত কমিটির পর্যালোচনায় উঠে এসেছে- অপহরণ ঘটনার পরপরই অপহৃতের স্বজনরা স্থানীয় সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, ফতুল্লা থানার ওসি আকতার হোসেন, র্যাব-১১ এর অধিনায়ক তারেক সাঈদসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে বারবার ছুটে যান। কিন্তু আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী এদের জীবিত উদ্ধারে বাস্তবসম্মত কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। উপরন্তু র্যাব-১১ এর সাবেক অধিনায়ক তারেক সাঈদ ঘটনার পর ভিকটিমদের পরিবারকে বলে, ‘র্যাব এ বিষয়ে কিছু জানে না।’ তারেক সাঈদ নির্বিকারভাবে এ ধরনের মিথ্যা তথ্য দিয়ে সবাইকে বিভ্রান্ত করেন। নজরুল ইসলামকে হত্যা এবং লাশ গুম করার জন্য অপহরণ করার সময় অপহৃত অন্য ৬ জনকেও হত্যা ও লাশ গুমের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয় চাক্ষুষ কিংবা প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী যাতে না থাকে।
তদন্ত প্রতিবেদনের এক স্থানে বলা হয়, ‘প্রমাণবিহীন এ নির্মম নৃশংস হৃদয়বিদারক বর্বরোচিত অকল্পনীয় হত্যাকাণ্ড কোনো প্রশিক্ষিত ও রাষ্ট্রের আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী করতে পারে তা বিশ্বাস করা কষ্টকর। যদিও দুর্ভাগ্যজনকভাবে ও পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। রক্ষক হয়ে তারা মর্মান্তিকভাবে ভক্ষকের কাজটি করেন। সরকারি দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে র্যাব-১১ এ কাজ করেনি। বরং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেনের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় ও সহায়তায় এ কাজ করা হয়।
তৎপর ছিল না পুলিশ : সাতজনকে অপহরণের ঘটনায় র্যাবকে সন্দেহ করা হলেও পুলিশ অপহৃতদের জীবিত উদ্ধারে তৎপরতা দেখায়নি। বিশেষ করে তৎকালীন জেলা প্রশাসক মনোজকান্তি বড়াল ও পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলাম, ফতুল্লা থানার সাবেক ওসি আকতার হোসেন সন্দেহভাজনদের গ্রেফতারের চেষ্টা করেননি। ঘটনার পর নূর হোসেনের জড়িত থাকার কথা জানা গেলেও নূর হোসেনকে বা তার সহযোগী আলী মোহাম্মদ এবং দেহরক্ষী মোস্তফা জামান ওরফে চার্চিলকে গ্রেফতারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এটি ছিল পুলিশ বাহিনী ও জেলা প্রশাসনের ব্যর্থতা। জেলা প্রশাসক হিসেবে মনোজকান্তি বড়াল ও পুলিশ সুপার জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করলে অপহৃতদের জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হতো। তদন্তে বেরিয়ে আসে, নারায়ণগঞ্জের পুলিশ, সিভিল প্রশাসন এবং র্যাব-১১ এর কতিপয় সদস্য নূর হোসেনের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পড়েছিলেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সাবেক ওসি আবদুল মতিন কাজ করতেন নূর হোসেনের কথামতো। তিনি টানা ৪ বছর নারায়ণগঞ্জে দায়িত্ব পালন করেন। এ কারণে নারায়ণগঞ্জের অপরাধ জগতের সঙ্গে তার অনৈতিক যোগাযোগ ছিল।
ঘটনার পর ২৮ এপ্রিল নূর হোসেনকে আসামি করে ফতুল্লা থানায় মামলা হয়। কিন্তু গ্রেফতার হওয়ার আগেই মামলার বিষয়টি জেনে যান নূর হোসেন। এরপর তিনি সময়মতো গোপনে পালিয়ে যান। অথচ পুলিশ গোয়েন্দা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নূর হোসেনের গতিবিধি জানার চেষ্টা করেনি। কারণ সম্ভবত নূর হোসেনের প্রভাবের কারণে পুলিশ তাকে আটকের চিন্তাও করেনি। নূর হোসেনের মতো অপরাধীরা এভাবেই অবৈধ ক্ষমতা ও অর্থের দাফটে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রশাসনের কিছুসংখ্যক সদস্যকে প্রভাবিত করে তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে।
প্রতিবেদনের সুপারিশ অংশে বলা হয়, ‘র্যাব একটি স্বতন্ত্র বাহিনী হলেও এর নিজস্ব কোনো স্থায়ী জনবল নেই। বিভিন্ন বাহিনী থেকে র্যাবে প্রেষণে জনবল এসে থাকে। বিভিন্ন বাহিনীতে শৃংখলা ভঙ্গের শাস্তি ভিন্ন ভিন্ন। ফলে র্যাবে যোগদানের পর একই অপরাধ করেও বাহিনীর ভিন্নতার কারণে সাজাও ভিন্ন ভিন্ন হয়। তাই এলিট বাহিনী হিসেবে র্যাবের মর্যাদা রক্ষার জন্য এর কোনো সদস্যের অপরাধের ক্ষেত্রে প্রচলিত অন্যান্য আইনের চেয়েও কঠোর শাস্তির বিষয়টি বিবেচনা করা যায়। একই সঙ্গে নিয়োগবিধিতে সংশোধনী এনে র্যাবের নিজস্ব জনবল নিয়োগ কার্যক্রম গ্রহণ করা যেতে পারে।’
শক্তিশালী গোয়েন্দা ইউনিট : প্রতিবেদনে বলা হয়, র্যাবের অফিসগুলোর কার্যক্রম হেডকোয়ার্টার কর্তৃক মনিটরের জন্য শক্তিশালী গোয়েন্দা ইউনিট থাকা দরকার। কারণ র্যাবের স্থানীয় অফিসগুলোর কার্যক্রম মনিটরিংয়ের ক্ষেত্রে গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক যে কতটা ব্যর্থ সাত খুনের ঘটনাই তার বড় প্রমাণ।
র্যাব হেডকোয়ার্টার্সের গোয়েন্দা ইউনিট নারায়ণগঞ্জে কর্মরত থাকলেও তারা অপহরণ ও লাশগুমসহ সারা দিনের তৎপরতার কোনো তথ্য সদর দফতরকে অবহিত করতে পারেনি। তাই একটি শক্তিশালী স্বয়ংসম্পন্ন গোয়েন্দা ইউনিট এ কাজটি যথাযথভাবে করতে পারে। এছাড়া র্যাবের কাজে জবাবদিহিতা নিশ্চিতের জন্য প্রতিটি অপারেশনে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাখা হলে ভবিষ্যতে অপারেশন নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠার সুযোগ কমে যাবে।
র্যাব অফিসে জিডি : প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অপরাধ দমন ও আইন প্রয়োগে মাঠ পর্যায়ে র্যাবের অফিস বিস্তৃত থাকলেও সাধারণ মানুষের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করার কোনো পদ্ধতি নেই। জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে র্যাব দফতরে সাধারণ ডায়েরির অনুরূপ ব্যবস্থার প্রচলন করা যায়।    
রাজনৈতিক লেজুড় : র্যাব সদস্যদের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, এমনকি সর্বসাধারণের অন্তরঙ্গ সম্পর্ক রাখা আদৌ নিরাপদ নয়।  কারণ এসব লোকের সঙ্গে অতিরিক্ত মেলামেশা র্যাব সদস্যকে নৈতিকস্খলনের পথে নিয়ে যেতে পারে। তা ছাড়া গোপন তথ্য সংগ্রহের নামে বা অপরাধী চক্রের সঙ্গে নিজস্ব সম্পৃক্ততা বাড়িয়ে কোনো র্যাব সদস্য যাতে নৈতিকস্খলনের পথে যেতে না পারে সে বিষয়ে র্যাব সদর দফতর কঠোর নজরদারি করতে পারে।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা : নিজস্ব কার্যক্রম পরিচালনায় র্যাবকে শক্তি প্রয়োগ করে অপরাধীদের আটক করতে হয়। কিন্তু এরপর কী করতে হবে সে সম্পর্কে র্যাবের অভ্যন্তরীণ কোনো নির্দেশনা নেই। যদিও সংবিধান ও ফৌজদারি কার্যবিধি মোতাবেক আটককৃতকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হাজির করার কথা। কিন্তু র্যাবের ক্ষেত্রে এ বিধান অনেকটাই প্রতিপালন হয় না বলে অভিযোগ আছে। কোনো সন্দেহভাজন বা অভিযুক্তকে আটক করার পর তাৎক্ষণিকভাবে কাছের থানাকে অবহিত করা বা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হাজির করার বিধান প্রতিপালন করা প্রয়োজন।
তদন্তের স্বার্থে ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়ে আটক ব্যক্তিকে র্যাব হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা যেতে পারে। র্যাবের অভিযানের আগে স্থানীয় থানাকে কিছু না জানানোর অভিযোগ পুরনো। এক্ষেত্রে র্যাবের যুক্তি হচ্ছে, থানাকে জানানো হলে তথ্য ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ অবস্থা নিরসনে একটি ভারসাম্যমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
স্বতন্ত্র আইন করা যেতে পারে : এছাড়া র্যাবের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে দেশের প্রচলিত প্রশাসনিক কাঠামো এলাকা অনুসরণ করা হয়নি। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের জন্য প্রচলিত প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে র্যাবের কার্যক্রম সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে পুনর্গঠন করা যেতে পারে। বিভিন্ন বাহিনী থেকে আসা র্যাব সদস্যদের বেশিরভাগেরই আইন সংক্রান্ত যথাযথ প্রশিক্ষণ নেই। ফলে অপরাধ দমনে আইন প্রয়োগে ব্যত্যয় ঘটতে পারে। প্রতিবেদনের সুপারিশে র্যাবের জন্য পৃথক আইনের কথা বলা হয়েছে। র্যাবকে মানুষ বিশেষ ভরসাস্থল মনে করে। কিন্তু সাত খুনের ঘটনা এবং আগে-পরে আরও কিছু ঘটনায় র্যাবকে এক বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে।
তদন্তে দেখা যায়, সাত খুনের মর্মান্তিক ঘটনায় র্যাব-১১ এর সাবেক অধিনায়ক তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, কোম্পানি কমান্ডার মেজর অব. আরিফ ও লে. কমান্ডার অব. রানাসহ কতিপয় কর্মকর্তা ব্যক্তিগত লাভবান হওয়ার লিপ্সা থেকে এ খুনের ঘটনা ঘটে। অথচ বর্তমানে পাল্টে যাওয়া অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে র্যাবের মতো এলিট বাহিনী আবশ্যক। র্যাবের কাজ পুলিশের চাইতে আলাদা। এমতাবস্থায় স্বতন্ত্র র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন আইন প্রণয়ন করা যেতে পারে।
সেভেন মার্ডারের পর আদালতের নির্দেশে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন অতিরিক্ত সচিব এবং বর্তমানে সরকারি কর্মকমিশন সচিবালয়ের (পিএসসি) ভারপ্রাপ্ত সচিব শাহজাহান আলী মোল্লাকে প্রধান করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সদস্য ছিলেন- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সাঈদ মোহাম্মদ বেলাল হায়দর ও শফিকুর রহমান, আইন বিচার ও সংবাদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মিজানুর রহমান খান ও মোস্তাফিজুর রহমান এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন ও আবদুল কাইউম সরকার। এ প্রতিবেদনের একটি কপি যুগান্তরের হাতে এসেছে।
http://www.jugantor.com/first-page/2017/01/16/93538/%E0%A6%AC%E0%A7%9C-%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%A3-%E0%A6%85%E0%A6%AC%E0%A7%88%E0%A6%A7-%E0%A6%85%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A5-%E0%A6%89%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%A8