২০ নভেম্বর ২০১৯, বুধবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংযোগ সড়ক প্রকল্প: বাতিল হচ্ছে সেই টেন্ডার; ঘটনা জানাতে বাগেরহাট ডিসিকে দুদকের চিঠি
১৬ জানুয়ারি ২০১৭, সোমবার,
বাগেরহাটে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের আশপাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণকাজের শত কোটি টাকার টেন্ডার বাতিল করে পুনঃটেন্ডার আহ্বানের চিন্তাভাবনা করছে কর্তৃপক্ষ। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় কাজ শুরু করেছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। তারা মনে করছেন, প্রশ্নবিদ্ধ টেন্ডারে অংশ নেয়া দুই প্রতিষ্ঠানের একজনকেও কাজ দেয়া হলে তা নিয়ে ভবিষ্যতে প্রশ্ন উঠবে। এ ছাড়া টেন্ডারের স্বচ্ছতা নিয়েও কথা উঠবে। গত মঙ্গলবার সন্ত্রাসীদের বাধার মুখে ওই টেন্ডার জমা দিতে পারেনি ১৫টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
এদিকে টেন্ডারের নামে আগারগাঁওয়ের ঢাকা অফিসের কার্যালয়ে কী হয়েছে জানতে চেয়ে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসককে (ডিসি) চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার এ চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রশ্ন ওঠায় আগের টেন্ডার বাতিল করে পুনঃটেন্ডার আহ্বান করা হবে কিনা জানতে চাইলে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংযোগ সড়ক প্রকল্প পরিচালক বিপুল বণিক রোববার যুগান্তরকে বলেন, আমাদের সাত সদস্যের একটি দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি আছে। ১৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৫টি প্রতিষ্ঠানের টেন্ডার জমা দিতে না পারার বিষয়টি ওই কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। তারা পুরোচিত্র পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। কত দিনের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক জানান, শিগগিরই এ বিষয়ে মূল্যায়ন কমিটি তাদের সিদ্ধান্ত দেবে।
গত ১০ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) ছিল রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংযোগ সড়ক প্রকল্পের টেন্ডার দাখিলের শেষ তারিখ। কিন্তু টেন্ডারে অংশ নেয়া ১৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৫টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানই ওইদিন তাদের দরপত্র বা ব্যাংক গ্যারান্টির টাকা জমা দিতে পারেনি। ১৭টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তমা কনস্ট্রাকশন ও আবদুল মোনেম লিমিটেড ছাড়া বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো মস্তানদের বাধার মুখে টেন্ডার জমা না দিয়ে ফিরে আসে। মারধর করে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের টেন্ডার ছিনিয়েও নেয় সন্ত্রাসীরা। টেন্ডার নৈরাজ্য ঠেকাতে কর্তৃপক্ষ আইনশৃংখলা বাহিনীর সহায়তা নিয়েও কোনো কাজ হয়নি।
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের ৬ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণে গত বছরের ২৮ নভেম্বর ১০০ কোটি টাকার টেন্ডার আহ্বান করা হয়। এতে ১৭টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এগুলো হল- তমা কনস্ট্রাকশন, আবদুল মোনেম লিমিটেড, মীর আক্তার, কনকর্ড প্রগতি, স্পেক্ট্রা ইঞ্জিনিয়ারিং, এমএম বিল্ডার্স, ম্যাক্স, ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন, র্যাবআরসি, মনিকো লিমিটেড, সিপ্লেক্স, ফেল ইউডিসি, এসিএলআরপি, হুবেই, সিব্রনাস ও ম্যাক্স র্যাকিং। টেন্ডার কমিটির প্রাথমিক বাছাইয়ে এই ১৭টি প্রতিষ্ঠানকে টেন্ডার জমা দেয়ার সুযোগ দেয়া হয়। কিন্তু বাধার মুখে তমা কনস্ট্রাকশন ও আবদুল মোনেম লিমিটেড ছাড়া আর কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাদের টেন্ডার জমা দিতে পারেনি। এ নিয়ে দৈনিক যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশিত হলে নড়েচড়ে বসে সংশ্লিষ্ট সবাই। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা সেই বিতর্কিত টেন্ডার বাতিল করে নতুন করে টেন্ডার আহ্বানের চিন্তা করছে বলে জানা গেছে।
নতুন টেন্ডার হলে এবং তাতে যদি কোনো পক্ষের হস্তক্ষেপ না থাকে তবে বাদ পড়া ১৫ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যোগ্য ও সর্বনিু দরদাতা প্রতিষ্ঠান টেন্ডার পাবে বলে মনে করছেন তারা। টেন্ডার জমা দিতে পারেনি এমন দুটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা বলেন, আমরা চাই পুনঃটেন্ডার হোক। টেন্ডারের নামে ওইদিন যা ঘটেছে তা নজিরবিহীন। এ ধরনের ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ চাইলেও টেন্ডারে অংশ নেয়া ১৫ প্রতিষ্ঠানকে বাইরে রেখে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের সংযোগ সড়কের শত কোটি টাকার টেন্ডার ছিনতাইয়ের ঘটনায় দৈনিক যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রকল্প গ্রহণ ও টেন্ডার আহ্বান থেকে শুরু করে টেন্ডার প্রক্রিয়ার যাবতীয় তথ্য চেয়ে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়েছে দুদক। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ রোববার যুগান্তরকে বলেন, আমার যতদূর মনে পড়ছে, পত্রিকার রিপোর্টের ভিত্তিতে কিছু তথ্য তথ্য চাওয়া হয়েছে। দুর্নীতি প্রতিরোধ কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই এ বিষয়ে দুদক উদ্যোগী হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, টেন্ডারের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, খুলনা-মংলা সড়কের বাবুর বাড়ি থেকে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার সড়কে চার লেন রাস্তা নির্মাণ করা হবে। এটি মূল বিদ্যুৎ প্রকল্পের বাইরের প্রকল্প। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র পর্যন্ত ফোর লেন রাস্তা নির্মাণের জন্য সরকারিভাবে ১০০ কোটি টাকার কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে টেন্ডার আহ্বান করা হয়।
http://www.jugantor.com/first-page/2017/01/16/93543/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B2-%E0%A6%B9%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%87-%E0%A6%9F%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A1%E0%A6%BE%E0%A6%B0