১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
ব্যাংকে অলস অর্থের পাহাড়: উচ্চ সুদে বিনিয়োগ নেই। অতিরিক্ত তারল্য ১ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা
১৬ জানুয়ারি ২০১৭, সোমবার,
উচ্চ সুদের কারণে দেশে বিনিয়োগ হচ্ছে না। শিল্প উদ্যোক্তারা এজন্য ঋণ নিতে আগ্রহী হচ্ছেন না। এজন্য সরকারি-বেসরকারি সব বাণিজ্যিক ব্যাংকেই অলস অর্থের পাহাড় জমে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, দেশের ব্যাংক খাতে এখন অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা। এদিকে ব্যাংকের বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় আমানতের অনুপাতে ঋণ কমে নেমেছে ৬৯ ভাগে। সে হিসাবে ব্যাংক ১০০ টাকা আমানত সংগ্রহ করে বিনিয়োগ করতে পেরেছে মাত্র ৬৯ টাকা।
 
 
বিভিন্ন ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ঋণের সুদ হার না কমায় বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ হচ্ছে না। এ ছাড়া অবকাঠামোগত সমস্যা, বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকট তো রয়েছেই। এসব কারণে ব্যাংকে প্রচুর টাকা পড়ে থাকলেও শিল্প-উদ্যোক্তাদের মধ্যে ঋণ নেয়ার তেমন আগ্রহ নেই। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেসরকারি খাতকে চাঙ্গা করতে হলে ব্যাংক ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনতে হবে।
 
জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, দীর্ঘ দিন থেকে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগে এক ধরনের স্থবিরতা বিরাজ করছে। সে কারণে ব্যাংকে বিপুল অংকের অলস অর্থ জমা হয়ে আছে।
 
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, এটা সত্য যে ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের কারণে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ হচ্ছে না। তিনি বলেন, বেসরকারি খাত চাঙ্গা করতে হলে ঋণের সুদ সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনতে হবে। বিশেষ করে সবার জন্য সমান কার্যকর করা উচিত। মেঘনা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নুরুল আমিন যুগান্তরকে বলেন, অবকাঠামোগত সমস্যা, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট ও কোনো কোনো ক্ষেত্রে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এখনও রয়ে গেছে। এ ছাড়া ছোট গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ঋণের সুদ কিছুটা বেশি হওয়ায় বিনিয়োগে প্রভাব পড়ছে। সে কারণে অলস টাকার পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ৫ বছর আগেও দেশে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহের প্রবৃদ্ধি ছিল ২৫ শতাংশের ওপরে। অথচ চলতি অর্থবছরের সেপ্টেম্বর শেষে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ১৫ শতাংশে নেমে এসেছে।
 
সাধারণত যে কোনো দেশের অর্থনীতির গতি বাড়লে বা পরিধি বাড়লে ব্যাংকের টাকা বিনিয়োগে যাওয়ার কথা। বাংলাদেশে অর্থনীতির পরিধি বাড়ছে কিন্তু শিল্প-উদ্যোক্তাদের মধ্যে বিনিয়োগের আগ্রহ সৃষ্টি হচ্ছে না।
 
জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে ঋণের চাহিদা না থাকায় ব্যাংকগুলো আর আমানত নিতে চাইছে না। ইতিমধ্যে বেসরকারি বেশ কিছু ব্যাংক আমানত নেয়া বন্ধ করে দিয়েছে। যারা নিচ্ছে তারাও গ্রাহকদের লাভ দিচ্ছে মাত্র ২ থেকে ৩ শতাংশ।
 
এ প্রসঙ্গে একটি বেসরকারি ব্যাংকের আমানত সংগ্রহকারী কর্মকর্তা বলেন, ঋণের চাহিদা নেই বললেই চলে। সে কারণে ব্যাংকে অতিরিক্ত তারল্য জমে গেছে।
 
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংক খাতে থাকা প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে এক পয়সাও আয় করতে পারেনি বেশির ভাগ ব্যাংক। এ ছাড়া উদ্যোক্তা না পেয়ে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা নামমাত্র সুদে বিভিন্ন বন্ডে বিনিয়োগ করে রাখা হয়েছে।
 
এদিকে ব্যাংকগুলোর হাতে থাকা অতিরিক্ত তারল্য অনুৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ হয়ে যেন মূল্যস্ফীতির হার না বাড়ে, সেজন্য বাজার থেকে অতিরিক্ত টাকা তুলে নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রেখে দিতে হচ্ছে।
 
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা ব্যাংকমুখী না হওয়ায় ১ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা সরকারের বিভিন্ন বিল-বন্ডে বিনিয়োগ করে রেখেছে ব্যাংকগুলো।
 
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ব্যাংক যদি বন্ডে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগ না করে এই পরিমাণ অর্থ বেসরকারি
 
উদ্যোক্তাদের শিল্প-কারখানায় বিনিয়োগ করত, তাহলে ব্যাংকের দ্বিগুণ আয় হতো।
http://www.jugantor.com/industry-trade/2017/01/16/93660/%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%85%E0%A6%B2%E0%A6%B8-%E0%A6%85%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A7%9C