১৭ নভেম্বর ২০১৯, রবিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
মদ্যপ কিশোর-তরুণদের হাতে প্রাইভেট কার ॥ বাড়ছে দুর্ঘটনা
১৬ জানুয়ারি ২০১৭, সোমবার,
বাড়ছে প্রাইভেটকার দুর্ঘটনা। অপেশাদার, অপরিপক্ব ব্যক্তি বা কিশোর-তরুণদের মাদকাসক্ত হয়ে বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর কারণেই ঘটছে দুর্ঘটনা। এতে ঝরে যাচ্ছে তাজা প্রাণ। পঙ্গু হয়েছেন অনেকে। ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকরা প্রভাবশালী হওয়ায় দুর্ঘটনায় নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ন্যায় বিচার পাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে প্রায়ই প্রাইভেটকার দুর্ঘটনা ঘটছে। পুলিশ ও ভুক্তভুগীদের তথ্য অনুযায়ী মাদকাসক্ত হয়ে বেপরোয়া চালানোর কারণেই বেশিরভাগ ঘটনা ঘটছে। 
সম্প্রতি অভিনেতা কল্যাণ কোরাইয়ার কারচাপায় গুরুতর আহত হন প্রথম আলোর ফটো সাংবাদিক জিয়া ইসলাম। চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়েছে। গতকাল রোববার কুমিল্লার চান্দিনায় প্রাইভেটকার চাপায় দুই নারী নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে শিশুসহ চারজন। গত বছর রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় মাদকাসক্ত তরুণের কারচাপায় নির্মমভাবে মৃত্যু হয় এক দম্পতির। এতে গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গু হয়েছেন ডিসিসির এক কর্মচারী। গুলশানে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি এইচ বি এম ইকবালের কিশোর ভাতিজার কারের ধাক্কায় আহত হয় চারজন। এছাড়াও বিভিন্ন সময় রাজধানীতে পাইভেটকার চাপায় নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। হাতিরঝিলে এধরনের দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে। 
জামিন হয়নি কল্যাণ কোরাইয়ার: পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীতে গাড়ির ধাক্কায় আহত ফটো সাংবাদিক জিয়া ইসলাম আহত হওয়ার ঘটনায় গ্রেফতার অভিনেতা কল্যাণ কোরাইয়ার গতকাল জামিন হয়নি। কল্যাণের নতুন আইনজীবী মোহাম্মদ ফারুক এদিন জামিনের আবেদন করলে ঢাকার মহানগর হাকিম আব্দুল¬াহ আল মাসুদ এ মামলায় পুলিশ প্রতিবেদন প্রাপ্তি ও আসামীর আগের আইনজীবীর অনাপত্তি সাপেক্ষে জামিন শুনানির নির্দেশ দেন। এর ফলে কল্যাণ কোরাইয়াকে কারাগারেই থাকতে হচ্ছে বলে বাদীপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন।
গত ৯ জানুয়ারি মধ্যরাতে পান্থপথে বসুন্ধরা সিটির সামনে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় আহত হন মোটর সাইকেলে থাকা জিয়া। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর কল্যাণও সেখানে গিয়েছিলেন। পরদিন সন্ধ্যায় এই অভিনেতা ফেইসবুকে ‘আই এম ইনোসেন্ট’ লিখে স্ট্যাটাস দিলে তা অনেকের নজরে পড়ে। পুলিশও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে থানায় ডেকে নেয়।
এরই মধ্যেই প্রথম আলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাপক অবসরপ্রাপ্ত মেজর সাজ্জাদুল কবির কলাবাগান থানায় কল্যাণের নামে মামলা করেন। রাতেই কল্যাণকে গ্রেফতার করার কথা জানানো হয় পুলিশের পক্ষ থেকে। ১১ জানুয়ারি কল্যাণকে হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশের পক্ষ থেকে তিন দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হলে বিচারক আসামীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। রিমান্ড নাকচ করে আদেেেশ বলা হয়, তদন্ত কর্মকর্তা চাইলে তিন দিনের মধ্যে কারা ফটকে গিয়ে কল্যাণকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবেন। গতকাল রোববার কল্যাণের নতুন আইনজীবী হিসেবে মোহাম্মদ ফারুক আদালতে জামিনের আবেদন করলে বাদীপক্ষের আইনজীবী প্রশান্ত কুমার কর্মকার এর বিরোধিতা করেন। 
তিনি বলেন, আসামীর পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী আগের আইনজীবীর কাছ থেকে অনাপত্তিপত্র না নিয়েই নতুন আইনজীবী আব্দেন করেছেন। তাছাড়া এ মামলায় এখনও পুলিশ প্রতিবেদনও হয়নি। এ অবস্থায় জামিন শুনানি হতে পারে না। শুনানি শেষে বিচারক এ মামলায় পুলিশ প্রতিবেদন এবং আগের আইনজীবীর অনাপত্তিপত্র পাওয়া সাপেক্ষে জামিন শুনানির নির্দেশ দেন বলে প্রশান্ত কর্মকার জানান।
এদিকে গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল¬ার চান্দিনায় প্রাইভেটকার চাপায় দুই নারী নিহত ও এক শিশুসহ দুইজন আহত হয়েছেন। নিহতরা হচ্ছেন, চান্দিনা উপজেলার মধ্যমতলা গ্রামের ইদ্রিস মিয়ার স্ত্রী পারুল বেগম (৪৫) ও দেবিদ্বার উপজেলার বাগুর এলাকার রবিউলল্লাহর স্ত্রী নুরজাহান বেগম (৫৫)। আহত শিশু রাফি (৫) নিহত পারুল বেগমের ছেলে ও আহত অপরজন প্রাইভেটকারের যাত্রী। আহত প্রাইভেটকারের যাত্রী ঢাকা বংশালের আশরাফ উদ্দিনের ছেলে সালাউদ্দিন (৫৮)।
দম্পতির মৃত্যু, বিচার পায়নি পরিবার: মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় প্রাইভেট কারের চাপায় দম্পতি নিহতের ঘটনায় ন্যায় বিচার না পেয়ে ক্ষুব্ধ পরিবার। এমনকি ঘটনার প্রথম দিকে পুলিশের তৎপরতা লক্ষ করা গেলেও তদন্ত করতে গিয়ে ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ এখন নীরব রয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ। জড়িতরা শনাক্ত হয়েছে কিনা সেটিও জানাতে রাজি হচ্ছে না পুলিশ। পুলিশের এই নীরবতায় হতাশ হয়ে পড়েছেন নিহত দম্পতির স্বজনেরা। নিহত দম্পতির একমাত্র ছেলে রায়হান অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার পর অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামী করে মামলা করা হয়েছে। তিনি বলেন, দুর্ঘটনার পর প্রাইভেটকার থেকে মদের বোতল উদ্ধার করে পুলিশ। 
গত বছর ঈদুল আযহার পরদিন ১৪ সেপ্টেম্বর ভোরে শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ডের কাছে হাজী আশরাফ আলী মার্কেটের সামনে প্রাইভেট কার চাপায় নিহত হন বৃদ্ধ দম্পতি আতাউর রহমান (৭৮) ও তার স্ত্রী রওশন আরা বেগম (৬০)। নিহতদের ছেলে রায়হান জানান, ঈদের পরদিন ফজরের নামাজ পড়ে বাবা-মা মোহাম্মদপুরে বড় বোনের বাসায় যেতে শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ডের কাছে সিএনজি কিংবা রিকশার অপেক্ষায় ছিলেন। এ সময় একটি প্রাইভেট কার (ঢাকা মেট্রো-গ ২১-৮৫৭১) এসে তাদের ধাক্কা দেয়। এতে দু’জনই কয়েক গজ দূরে ছিটকে পড়েন। ঘটনাস্থলেই মারা যান বাবা-মা। খবর পেয়ে তারা এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই ঘাতকেরা গাড়ি ফেলে পালিয়ে যায়। রায়হান আরো জানান, বাবা কৃষি মন্ত্রণালয়ে চাকরি শেষে অবসরে গিয়েছিলেন। পূর্ব শেওড়াপাড়ার ৯২১ নম্বর হোল্ডিংয়ের ছয়তলা বাড়িটি তাদের। সেখানেই সপরিবারে থাকতেন তারা। দুর্ঘটনার সময় প্রাইভেট কারটি রোড ডিভাইডারের সাথে ধাক্কা খেয়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। গাড়ি থেকে মদের বোতলসহ কিছু আলামতও জব্দ করা হয়েছে। 
এদিকে ২০১৫ সালের ১২ অক্টোবর ঢাকায় আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এইচ বি এম ইকবালের কিশোর ভাতিজা ফারিজ রহমানের (১৬) বেপরোয়া গাড়ি চালানোয় গুলশানে চারজন আহত হয়। ওই ঘটনায় পুলিশ ওই কিশোরকে আটক করলেও পরে ছেড়ে দেয়। পুলিশ তাৎক্ষণিক আহতদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়। গাড়িটি আটক রাখা হয় আর ওই ছেলেকে তার বাবার হেফাজতে দেওয়া হয়। ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়াই অভিজাত এলাকায় গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছিলেন ওই কিশোর। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী লাইসেন্স পেতে ১৮ বছর বয়স হতে হয়। 
গুলশান থানার এক এসআই নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ওই ছেলে মদ্যপ অবস্থায় ছিল। গুলশানের ৭৪ নম্বর সড়ক দিয়ে বেপরোয়া চালানোর সময় দুটি রিকশাকে ধাক্কা দেয়। এতে দুই রিকশাচালকসহ চারজন আহত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওইদিন বিকেল পৌনে চারটার দিকে গুলশানের ৭৪নং সড়কে ফারিজ রহমান ও তার বন্ধু কার রেসিং-এর সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে এ দুর্ঘটনা ঘটে। 
এদিকে ঘটনার পর গুলশানে প্রাইভেটকার চাপা দিয়ে কয়েকজনকে আহত করার ঘটনায় ফারিজ রহমানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না কেন জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে মামলা না করায় গুলশান থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কেন আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে না তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।
এছাড়াও গত বছর হাতিরঝিলে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় জরিনা বেগম (৭০) নামে এক বৃদ্ধা নিহত হয়। নিহত জরিনা বেগম পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার আবদুল বারেক তালুকদারের স্ত্রী। নিহতের নাতি মোহাম্মদ রাজিব হোসেন জানায়, ঘটনার তিনদিন আগে সেলিনা বেগম তার নাতিদের নিয়ে মহানগর প্রজেক্টে বেড়াতে আসেন আরেক মেয়ের বাসায়। সন্ধ্যায় নাতিদের নিয়ে হাতিরঝিলে বেড়াতে গেলে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত সোয়া ৮টার দিকে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে হাতিরঝিলে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় রায়হান (৭) নামে এক শিশু নিহত হয়। জানা গেছে, রায়হান বাসার কাছে খেলছিল। রাস্তা পার হওয়ার সময় হঠাৎ একটি বেপরোয়া গতির প্রাইভেটকার তাকে ধাক্কা দেয়। এতে সে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
http://www.dailysangram.com/post/267726-%E0%A6%AE%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AA-%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%8B%E0%A6%B0-%E0%A6%A4%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%A3%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%AD%E0%A7%87%E0%A6%9F-%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A7%9C%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A6%A6%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%98%E0%A6%9F%E0%A6%A8%E0%A6%BE