২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, রবিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
এ আশাবাদ জাগিয়ে রাখতে হবে: দেখা অদেখা
১৬ জানুয়ারি ২০১৭, সোমবার,
|| সালাহউদ্দিন বাবর ||
 
রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে নির্বাচন কমিশন এবং এ জন্য একটি অনুসন্ধান কমিটি তথা সার্চ কমিটি গঠনের জন্য রাষ্ট্রপতি যে সংলাপ সদ্য বিগত বছরের শেষ দিকে শুরু করেছিলেন, তা গত ১১ জানুয়ারি শেষ হয়েছে। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও কয়েকটি দলের সাথে ১৮ ডিসেম্বর এ সংলাপ শুরু হয়েছিল, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সংলাপ পর্ব শেষ হয়। খবরে প্রকাশ, আরো আটটি দলের সাথে রাষ্ট্রপতি বৈঠক করবেন।
সার্চ কমিটি এবং নয়া নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে বেশ কিছু দিন থেকে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে সবার মধ্যে প্রবল আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তের প্রতি পুরো দেশ এখন তাকিয়ে আছে। নির্বাচন কমিশন গঠন করা নিয়ে যদি সিদ্ধান্তের গ্রহণযোগ্যতা না আসে তবে গণতন্ত্র বিপন্ন হতে পারে। সংলাপের যে প্রেক্ষাপট সৃষ্টি হয়েছে, তাতে ভবিষ্যতে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন কমিশন গঠিত হবেÑ এমন প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন এবং বিভিন্ন নির্বাচন নিয়ে দেশবাসীর অভিজ্ঞতা খুব সুখকর নয়। বিশেষ করে বর্তমান নির্বাচন কমিশন ও তাদের অধীনে অনুষ্ঠিত সব নির্বাচন নিয়েই দেশে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে হাজারো প্রশ্ন রয়েছে। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (আম্বিয়া) সাথে নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে সংলাপের সময় বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তাব ও মতামত এ লক্ষ্যে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। রাষ্ট্রপতির এ বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং গণ-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন তাতে ঘটেছে। রাষ্ট্রপতির এই বক্তব্য জাতির কাছে অঙ্গীকারের মতো হয়ে থাকবে। সার্চ কমিটি ও নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির উদ্যোগের প্রতি জনগণের পূর্ণ আস্থা ও শুভেচ্ছা রয়েছে। এ ছাড়া সারা দেশে নির্বাচনব্যবস্থা প্রশ্নমুক্ত করার ক্ষেত্রে এখন একটি আবহ সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবার উচিত এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সংলাপকে সফল করা, যাতে দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এগিয়ে যেতে পারে এবং গণতন্ত্র দৃঢ় ভিত্তি পায়। সব মহলে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন হলে যে জাতীয় জীবনে স্বস্তি আসবে, তার প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করা যেতে পারে এবারের নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এ নির্বাচন নিয়ে কোনো মহল থেকে তেমন কোনো বিরূপ মন্তব্য আসেনি। সর্বত্র মোটামুটি স্বস্তি ও আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে। আর নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু না হলে কী অস্বস্তি-অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ অনেক নির্বাচন তার প্রমাণ।
চলমান সংলাপ নিয়ে যে আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে, তা পূরণ করার একক দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির নয়। তার সাংবিধানিক ক্ষমতা সীমিত; তাই তার পক্ষে এককভাবে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। সংলাপের নির্যাসকে তিনি প্রস্তাবাকারে সরকারের কাছে পাঠাবেন। এর আলোকে সমস্যার সমাধান বা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার পূর্ণ ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী এবং তার পরিচালিত সরকারের হাতে। রাজনৈতিক অঙ্গনে নির্বাচন নিয়ে যে অস্থিরতা বিরাজ করছে তা দূর হলে, দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যে গতি সৃষ্টি হয়েছে, তা বাধামুক্ত হবে এবং তাতে গতিবেগ আরো বাড়বে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমে যে সরকারই ক্ষমতায় আসবে তাদের পক্ষে রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বস্তি আসবে।
বর্তমানে সার্চ কমিটি ও নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির ওপর বিরাট দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। তা সম্পাদন করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির বহু সীমাবদ্ধতার পরও এ আস্থা সৃষ্টি হয়েছে যে, তিনি সফল হবেন। পরিবেশ-পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সহযোগিতার মনোভাব পাওয়া গেছে; তাতে এই প্রত্যাশা আরো বেড়েছে। এখানে সরকার একটি শক্তিশালী পক্ষ। এ পর্যন্ত সরকারের যে মনোভাব লক্ষ করা গেছে, তা-ও ইতিবাচক। রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কথা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে। এখন দেখা যেতে পারে, তার এ সীমাবদ্ধতা কতটুকু? প্রকৃতপক্ষে সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির পদটি রাষ্ট্রপ্রধানের হলেও এটি আলঙ্কারিক। সরকারপ্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী সব ক্ষমতার উৎস। আমাদের সংবিধানে এ বিধানই রয়েছে। সংবিধানে সন্নিবেশিত রয়েছে ‘প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ব্যতীত রাষ্ট্রপতি অন্য সব দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শঅনুযায়ী কার্য করিবেন।’ প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা মূলত সীমাবদ্ধ। জাতীয় নির্বাচনের পর সংসদে যিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা নির্বাচিত হবেন, তাকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দানের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি বাধ্য।
এসবের পরও এবার নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয়ে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা নিয়ে সবাই আশাবাদী। বাংলাদেশের সংবিধানে বর্ণিত রয়েছে ‘নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকিবেন এবং কেবল এই সংবিধান ও আইনের অধীন হইবেন।’ আরো উল্লেখ রয়েছে, ‘সংসদ কর্তৃক প্রণীত যেকোনো আইনের বিধানাবলি-সাপেক্ষে নির্বাচন কমিশনারদের কর্মের শর্তাবলী রাষ্ট্রপতি আদেশের দ্বারা যেরূপ নির্ধারণ করিবেন, সেইরূপ হইবে।’ গত ৪৫ বছরের মধ্যে সংবিধানের এই নির্দেশনা কেউ রক্ষা করেনি। এখন প্রশ্ন হচ্ছেÑ রাষ্ট্রপতি একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন এবং নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ‘আইন ও বিধানাবলি’ প্রণয়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন কি না। আর নির্বাচন কমিশন গঠনের ব্যাপারে সর্বজনগ্রাহ্য একটি সার্চ কমিটি গঠন করতে পারবেন কি না, সেটিই দেখার বিষয়। সার্চ কমিটি গঠন করতে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে রাষ্ট্রপতি সংলাপ করেছেন ও করছেন। দেশের বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ অনেক দলের সাথে রাষ্ট্রপতি কথা বলেছেন। এই সংলাপ নিয়ে গভীর আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে যে, রাষ্ট্রপতি গণ-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে সব কিছুকে একটি সুন্দর পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারবেন। 
বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর একটি মন্তব্য এই আশাবাদকে আরো দৃঢ় করেছে। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রপতি যে সিদ্ধান্ত নেবেন, তাতে তার নিজের ও দলের কোনো আপত্তি থাকবে না। এ ছাড়া রাষ্ট্রপতির সাথে সংলাপের পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, রাষ্ট্রপতির প্রতি তাদের পূর্ণ আস্থা-বিশ্বাস রয়েছে। তার গৃহীত যেকোনো ন্যায়সঙ্গত উদ্যোগের প্রতি আওয়ামী লীগের পূর্ণ সমর্থন থাকবে।
বিএনপির পক্ষ থেকেও রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাতের ব্যাপারটি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, এ সংলাপ সফল হবে। এ পর্যন্ত ২৩টি দল রাষ্ট্রপতির সাথে সংলাপে যোগ দিয়েছে। প্রায় সব দলই নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকার গঠন এবং নির্বাচন কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে স্থায়ী ব্যবস্থা হিসেবে এ-সংক্রান্ত বিষয়ে এখনই আইন প্রণয়নের জন্য সুপারিশ করেছে। দলগুলোর মতামতের মধ্যে দেশের গণমানুষের মতামতের প্রতিফলন ঘটছে বলে ধরা যেতে পারে। এসব মতামতের প্রতিফলন ঘটিয়ে যদি রাষ্ট্রপতি পদক্ষেপ নিতে পারেন, তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে স্থিতিশীলতা আসবে এবং তখন গণতন্ত্রের পথ মসৃণ হবে।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ গত ১১ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রাষ্ট্রপতির সংলাপে যোগ দেয়। আওয়ামী লীগ সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ১১টি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে। এ বিষয়গুলো সামনে রেখে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে রাষ্ট্রপতিকে চার দফা প্রস্তাব দিয়েছে দলটি। রাষ্ট্রপতির কাছে আওয়ামী লীগের দেয়া প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ ‘সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারকে নিয়োগ দান করবেন, রাষ্ট্রপতি যেভাবে চাইবেন সেভাবেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারদের নিয়োগ দেবেন, নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে সম্ভব হলে এখনই একটি উপযুক্ত আইন প্রণয়ন অথবা অধ্যাদেশ জারি করা হবে, সময় স্বল্পতার কারণে তা সম্ভব না হলে পরের নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের সময় তা বাস্তবায়িত করা হবে এবং ভোট ব্যবস্থায় ই-ভোটিং প্রবর্তন।’
সংলাপে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বেশ কিছু বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে সুনির্দিষ্টভাবে রাষ্ট্রপতির কাছে ১১টি সুপারিশ তুলে ধরেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সুপারিশগুলো হচ্ছেÑ একটি স্বাধীন ও কার্যকর নির্বাচনী প্রশাসন, নির্বাচনকালীন নির্বাহী বিভাগের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার দায়িত্বশীলতা, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দায়িত্বশীল ও নিরপেক্ষ আচরণ, ছবিযুক্ত একটি নির্ভুল ভোটার তালিকা এবং ভোট গ্রহণের দিন নির্বাচন কেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা, নির্বাচন পরিচালনায় বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবর্তে কেবল প্রজাতন্ত্রের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রিজাইডিং অফিসার পদে নিয়োগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সদস্যদের নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল আচরণ, দেশী-বিদেশী পর্যবেক্ষক থেকে শুরু করে মিডিয়া ও সিভিল সোসাইটির সদস্যদের নির্মোহ তৎপরতা, নির্বাচনে পেশিশক্তি ও অর্থের প্রয়োগ বন্ধ এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সব পর্যায়ের ভোটারের অবাধ ভোটদানের সুযোগ নিশ্চিত করা, নির্বাচনের আগে পরে এবং নির্বাচনের দিন ভোটারসহ সর্বসাধারণের সার্বিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা এবং নির্বাচনকালীন প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ নির্বাচন পরিচালনার জন্য আবশ্যকীয় সব সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে ন্যস্ত করা। সর্বশেষ সুপারিশ হলোÑ নির্বাচনকালীন সরকারের কর্মপরিধি কেবল আবশ্যকীয় দৈনন্দিন কার্যবিধির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা।
বিএনপি রাষ্ট্রপতির সাথে সংলাপের সময় নির্বাচনসংক্রান্ত সঙ্কট নিরসনে নির্বাচনকালীন সরকারের স্থায়ী ব্যবস্থাসহ ১৩ দফা প্রস্তাব দিয়েছে। ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠন, পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি বাছাই কমিটি গঠন এবং এ বাছাই কমিটির আহ্বায়ক হবেন একজন সাবেক প্রধান বিচারপতি, যিনি সরকারের কোনো লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন না বাছাই কমিটির সদস্যরা হবেন, আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, সাবেক সচিব, বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও একজন জ্যেষ্ঠ নারী।
বিএনপি এসব কমিটির জন্য ১০ সদস্যের নামের তালিকাও পেশ করেছে। অন্যান্য দল নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য এখনই আইন প্রণয়নের সুপারিশ করলেও বিএনপি তা করেনি। দলটি ঐকমত্যের ভিত্তিতে এবার নির্বাচন কমিশন গঠনের সুপারিশ করেছে। সম্ভবত সংসদে এখন তারা নেই বিধায় এই মুহূর্তে স্থায়ী আইন প্রণয়নের বিষয়ে কিছু না বলে বিএনপি ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাব করেছে। এ প্রসঙ্গে বিএনপি আরো বলেছে, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। এ জন্য এবার সব রাজনৈতিক দলের মতামতের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী কিংবা দলের প্রতি আনুগত্য প্রকাশকারী কোনো ব্যক্তি নির্বাচন পর্যবেক্ষক হতে পারবেন না। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচনে পর্যবেক্ষক নিয়োগ করতে হবে। নির্বাচন আইন ভঙ্গের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বিএনপি আরো বলেছে, নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক প্রশাসনিক ও লজিস্টিক সহযোগিতা প্রদান এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমর্থন ও সহযোগিতা ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য করা অসম্ভব।
জাতীয় পার্টি রাষ্ট্রপতির কাছে একটি ‘নিরপেক্ষ’ ও সম্পূর্ণ ‘স্বাধীন’ নির্বাচন কমিশন গঠন করতে বর্তমান সংসদেই এ জন্য আইন প্রণয়নের সুপারিশ করেছে। তারা আরো একটি প্রস্তাব করেছে, বর্তমান নির্বাচন পদ্ধতি পরিবর্তন করে ভোটের আনুপাতিক হারে সংসদে আসন নির্ধারণের ব্যবস্থা করতে হবে। দলটি আগামী নির্বাচন কমিশনের জন্য পাঁচ সদস্য ইসি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের জন্য একটি পৃথক সচিবালয় স্থাপনের প্রস্তাবও দিয়েছে জাতীয় পার্টি। তারা যে পাঁচ দফা প্রস্তাব রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করেছেন, তাতে এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। রাষ্ট্রপতির সাথে সংলাপে আরো যোগ দিয়েছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের বিভিন্ন গ্রুপ, গণফোরাম, বিকল্প ধারা, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, এলডিপি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, ইসলামী ঐক্যজোট, জেপি, বিএনএফ ও ন্যাপ এবং বিভিন্ন ইসলামপন্থী দলসহ আরো কয়েকটি দল।
এবারের এই সংলাপ গতবারের সংলাপের চেয়ে মৌলিক দিক থেকে পৃথক। বিগত সংলাপে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জনগণের মধ্যে কোনো আশা জাগাতে পারেননি। এবার রাষ্ট্রপতির বক্তব্য এবং সরকারের যে মনোভাব দেখা গেছে, তাতে আশান্বিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। রাষ্ট্রপতির অবশ্য সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কারণ তিনি প্রধানমন্ত্রীর অভিমতের বাইরে যেতে পারবেন না। তবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য এবং তার দলের পক্ষে যে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে তা ইতিবাচক। আর এটা জাতির প্রতি অঙ্গীকারও বটে। আর সব দলের যে অভিমত পাওয়া গেছে, তা-ও সরকারের ওপর এ ক্ষেত্রে চাপ হিসেবে কাজ করতে পারে।
আরেকটি বিষয় সবার স্মরণ রাখা উচিত, এ দেশের দুর্ভাগ্য হচ্ছেÑ এখনো ক্ষমতার হাতবদল হওয়ার ক্ষেত্রটি স্বাভাবিক নয়। দেশের দুইজন মহান নেতা ও রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনকালে নিহত হয়েছেন। দুই দফা সামরিক শাসন জারি করে ক্ষমতা ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। দেশে গণতন্ত্র দৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল না বলেই এমন দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। এরপর অবশ্য নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার হাতবদল হলেও বিষয়টি তেমন মসৃণ হয়নি। ক্ষমতার হাতবদল প্রক্রিয়া নিয়ে তিক্ততার সৃষ্টি হয় এবং পরাজয় বরণ করা নিয়ে বিতর্ক জন্ম নেয়। অভিযোগ করা হয়, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি, কারচুপি হয়েছে। এমন নির্বাচনের মাধ্যমে স্থিতিশীল সরকার প্রতিষ্ঠিত হয় না। আর এ পরিস্থিতির অবসান হতে হবে।
http://www.dailynayadiganta.com/detail/news/187623