১৯ নভেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
দেশপ্রেমের চশমা: সংসদ নির্বাচন ইভিএমে করা ঠিক হবে না
১৬ জানুয়ারি ২০১৭, সোমবার,
মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর বিএনপির সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। ইতিমধ্যে তিনি চার দফায় ২৩টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে এ প্রসঙ্গে আলোচনা করেছেন। এরপর পঞ্চম দফায় আরও আটটি দলের সঙ্গে তিনি একই বিষয়ে আলোচনা করবেন। অর্থহীন হলেও এসব আলাপ-আলোচনা গুরুতহীন নয়। অর্থহীন এ অর্থে, যে দল যত ভালো পরামর্শ দিক না কেন, সবশেষে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। কারণ সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ না নিয়ে রাষ্ট্রপতির এককভাবে কমিশন গঠন করার সুযোগ নেই। আর এ সংলাপের গুরুত্ব আছে এজন্য যে, দেশে এখন সরকারি দল ছাড়া বিরোধী দলের কর্মকাণ্ড নেই। বিরোধী দলগুলো কোনো সভা-সমাবেশ করতে পারছে না। স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড করতে পারছে না। তারা না আছে রাজপথে, না আছে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে। এ অবস্থায় দলগুলোর নেতারা বঙ্গভবনের সুন্দর পরিবেশে মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেলে মন্দ কী! এতে দলগুলোর মধ্যে কিছুটা হলেও গতিশীলতা সৃষ্টি হয়। বঙ্গভবন থেকে বেরিয়ে দলীয় নেতারা সাংবাদিকদের মাইক্রোফোনের সামনে কথা বলার সুযোগ পান। এতে দলীয় তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝে কিছুটা হলেও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। দলগুলোর নেতারাও জানেন, তারা যত ভালো পরামর্শই দিয়ে আসুন না কেন, প্রধানমন্ত্রীর সবুজ সংকেত ছাড়া রাষ্ট্রপতির সেসব বাস্তবায়নের সুযোগ নেই।
 
 
এ চলমান সংলাপে ১১ জানুয়ারি আওয়ামী লীগদলীয় সভাপতির নেতৃত্বাধীন ১৯ সদস্যের একটি দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বঙ্গভবনে বৈঠকে চার দফা প্রস্তাব পেশ করে। এর মধ্যে নির্বাচন কমিশন গঠন সম্পর্কিত আইন তৈরির উদ্যোগসহ বাকি তিনটি প্রস্তাব হল সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ইসি গঠন, একাদশ সংসদ নির্বাচনে ই-ভোটিং প্রবর্তন এবং রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার অনুযায়ী ইসি গঠন। দলটি কিছু সুপারিশও দেয়। ইসি গঠনসংক্রান্ত আইন তৈরির ব্যাপারে দলটি এখনই উদ্যোগ নিতে চায় না। আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় রয়েছে। অথচ ইসি গঠন সম্পর্কে দলটি আইন তৈরি করেনি। এখনও দলটি হয়তো ইসি গঠন সম্পর্কিত আইন তৈরি করতে চায় না; কিন্তু এরকম একটি আইন তৈরি না করায় বড় দলগুলোর বিরুদ্ধে সমালোচনা ওঠায় সরকারি দল এখন এমন আইন তৈরির দাবি করে বলছে, এবার তাড়াহুড়ো করে এমন আইন করা সম্ভব না হলেও এরকম আইনের উদ্যোগ শুরু করা হবে।
 
আওয়ামী লীগের এ চার দফা প্রস্তাব বিশ্লেষণ করে এর মধ্যে প্রস্তাব পাওয়া যায় একটি। বাকি তিনটি প্রস্তাব গুরুত্বহীন মনে হয়। যেমন, ইসি গঠনসংক্রান্ত আইন যেহেতু দলটি এবার করবে না, কাজেই ওই প্রস্তাব উত্থাপন গুরুত্ব বহন করে না। বাকি দুটি প্রস্তাবও (সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ইসি গঠন এবং রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার অনুযায়ী ইসি গঠন) দেয়া না দেয়া একই কথা। কারণ এমন দাবি উত্থাপন না করলেও এমনটাই হওয়া বাঞ্ছনীয়। তবে সরকারদলীয় প্রস্তাবের মধ্যে একটি প্রস্তাবই নতুন এবং মুখ্য এবং তাহল দলটি ইভিএমে একাদশ সংসদ নির্বাচন চায়। এ প্রসঙ্গে দলীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য বিদ্যমান সব বিধিবিধানের সঙ্গে জনমানুষের ভোটাধিকার অধিকতর সুনিশ্চিত করার স্বার্থে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ই-ভোটিং প্রবর্তন করতে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।’ সরকারি দলের এমন প্রস্তাব কতটা যৌক্তিক হবে তা আলোচনা করে দেখা যেতে পারে। তবে তার আগে এ কথা বলে নেয়া দরকার, সরকারি দল এমন প্রস্তাব রাষ্ট্রপতি মহোদয়কে দিতে পারে কিনা। কারণ এমন দাবি বা প্রস্তাব দেয়া উচিত ইসিকে, যারা নির্বাচনের আয়োজক। ইসিই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করবে যে নির্বাচন ব্যালটে হবে, নাকি মেশিনে হবে। রাষ্ট্রপতির কাছে তো দলগুলো গেছে নির্বাচন কমিশন কীভাবে গঠিত হবে সে সম্পর্কে পরামর্শ দিতে। সেসব বিষয়ের বাইরে সেখানে ইভিএম প্রসঙ্গের অবতারণার প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
 
মনে রাখা দরকার, সারা পৃথিবীতে যখন ইভিএমে ভোট গ্রহণ বিতর্ক সৃষ্টি করেছে এবং অনেক উন্নত দেশ শিক্ষার উচ্চ হার থাকা সত্ত্বেও ইভিএমে নির্বাচন করা থেকে সরে আসছে, তখন আমাদের মতো উন্নয়নশীল, অল্পশিক্ষিত ও প্রযুক্তি অসচেতন ভোটারের দেশে ক্ষমতাসীন দলের ইভিএমে নির্বাচন করার আগ্রহের বিষয়টি বুঝে দেখা দরকার। একথা ভুলে গেলে চলবে না, স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে গত সাড়ে চার দশকে এদেশে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর যত আলোচনা-সংলাপ হয়েছে সেসব আলোচনায় কখনও কোনো রাজনৈতিক দল ইসির কাছে মেশিনে ভোট গ্রহণের দাবি করেনি। বাংলাদেশে নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের চিন্তা এসেছে ২০০৯ সালে হুদা কমিশনের (২০০৭-২০১২) মস্তিষ্ক থেকে। অবশ্য নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হুদা কমিশন ওই সময় ক্ষমতাসীন দলের পরামর্শ অনুযায়ী করেছিল বলে প্রতীয়মান হয়। কারণ তা না হলে এত বড় একটি পরিকল্পনা এ কমিশনের মাথায় থাকলে কমিশন ক্ষমতাসীন হয়ে ২০০৭ সালেই এ ব্যাপারে আওয়াজ তুলে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি গ্রহণ করত; কিন্তু ক্ষমতা গ্রহণের পর মেয়াদকালের অর্ধেক সময় পার করা পর্যন্ত ওই কমিশন এ ব্যাপারে একটিও শব্দ উচ্চারণ করেনি। রাজনৈতিক নেতৃত্বের সবুজ সংকেত পেয়ে হয়তো কমিশন ২০১০ সালে ইভিএম মেশিন তৈরির তোড়জোড় শুরু করে এবং ২০১১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারির কমিশন বৈঠকে সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তবে হুদা কমিশন অনেক চেষ্টা করেও রাজনৈতিক দলগুলোকে ইভিএমে সংসদ নির্বাচন করাতে রাজি করাতে পারেনি।
 
মধ্য-২০১০ সালে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) নির্বাচন থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে যত নির্বাচনে আংশিক বা পূর্ণভাবে ইভিএম ব্যবহৃত হয়েছে, তার প্রতিটিতে ইভিএমকেন্দ্রিক কিছু না কিছু জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। চসিক নির্বাচনে জামাল খান ওয়ার্ডে ইভিএমে ভোট গ্রহণকালে কারচুপির অভিযোগ ওঠে। কিছু কেন্দ্রে কয়েকজন নারী ভোটার অভিযোগ করেন, ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের পর কিছু বুঝে ওঠার আগেই কর্মকর্তারা তাদের সুনির্দিষ্টভাবে দেখিয়ে বাটনে চাপ দিতে বলেন। এর ফলে তারা পছন্দের প্রার্থীক ভোট দিতে পারেননি জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন (আমাদের সময়, ১৮ জুন, ২০১০)। পরবর্তীকালে নারায়ণঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে (নাসিক) এক-তৃতীয়াংশ এবং কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন (কুসিক) নির্বাচনের সব কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট গ্রহণ করা হয়। নাসিক নির্বাচনের প্রচারণাকালের প্রথমদিকে বিএনপি প্রার্থীকে ইভিএমবিরোধী বক্তব্যের জন্য ইসি শোকজ করলে ২০১১ সালের ২১ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় অনুষ্ঠিত শুনানিতে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে দলীয় আইটি বিশেষজ্ঞ শামা ওবায়েদ অংশ নেন। শামা অভিযোগ করেন, নাসিক নির্বাচনে ব্যবহৃত ইভিএমগুলো তৈরিকৃত প্রতিষ্ঠান বুয়েট ছাড়া অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষিত নয়। এ ইভিএমগুলো হ্যাক করা সম্ভব। তাকে সাত দিনের জন্য একটি ইভিএম মেশিন দিলে কীভাবে এ মেশিন হ্যাক করা সম্ভব তিনি তা দেখাতে পারবেন বলে দাবি করেন; কিন্তু কমিশন তাকে সে সুযোগ দেয়নি। কুসিক নির্বাচনের প্রাক্কালে নির্বাচনসংক্রান্ত এক আলোচনা সভায় ইসি কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন ২০১১ সালের ২৮ নভেম্বর ইভিএম পদ্ধতিতে নির্বাচনে কারচুপি করা সম্ভব প্রমাণ করতে পারলে ইভিএম বাতিল করার ঘোষণা দিলে স্থানীয় বিএনপি নেতারা ওই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে ১ ডিসেম্বর কমিশনে লিখিত চিঠি দিয়ে একটি ইভিএম মেশিন চাইলে কমিশন থেকে সহযোগিতা পাননি।
 
রকিব কমিশন ২০১২ সালে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে ইভিএমে নির্বাচন করবে কিনা সে সিদ্ধান্ত নিতে সাড়ে চার মাস সময় নেয়। অনেক বৈঠক করে ২০১২ সালের ২২ জুন, কমিশন সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তে পৌঁছে। তবে এ সিদ্ধান্তে হয়তো সব ইসি কমিশনার একমত ছিলেন না। কারণ এ সিদ্ধান্তের সাড়ে তিন মাস পর ১৬ অক্টোবর, ইসি কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) জাবেদ আলী বলেন, দশম সংসদ নির্বাচনে আংশিকভাবে ইভিএম ব্যবহৃত হতে পারে। ইভিএম নিয়ে এমন দোদুল্যমানতা, অনিশ্চয়তা ও জটিলতার মধ্যে রকীব কমিশন সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে অনুষ্ঠিত চার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আংশিক ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ধাক্কা খায়।
 
বরিশালে পলিটেকনিক কলেজ কেন্দ্রে নির্বাচনী কর্মকর্তারা ইভিএম কার্ড খুলে ফেলায় ভোটারদের মধ্যে ভোট নষ্ট হওয়ার আশংকা তৈরি হয়। রাজশাহীতে টিটি কলেজ কেন্দ্রের একটি বুথে গৃহীত ৩১০টি ভোট মুছে যাওয়ায় ওই বুথের ভোট বাদ দিয়ে প্রিসাইডিং অফিসারকে কেন্দ্রের নির্বাচনী ফলাফল হিসাব করে দু’সপ্তাহ পর ওই কেন্দ্রে সাধারণ কাউন্সিলর পদে কমিশনকে আবারও ব্যালট পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ করতে হয়। রাজশাহীর ইভিএম জটিলতায় পড়ে রকিব কমিশন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন (গাসিক) নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। ইসি কমিশনার শাহ নেওয়াজ ওই সময় বলেন, ‘রাজশাহী সিটি নির্বাচনে একটি কেন্দ্রে ইভিএম নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়ার কারণে গাজীপুর সিটি নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে না। রাজশাহীতে ইভিএমকেন্দ্রিক জটিলতার কারণ খুঁজে দেখার পর অন্য কোনো নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের কথা চিন্তা করব।’ এ বক্তব্যের এক বছরের মাথায় কমিশন আবারও ইউপি নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে এবং পরে আবার সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। তবে কমিশন রাজশাহীর একটি বুথের ৩১০টি ভোট মুছে যাওয়ার কারণ বের করতে পেরেছে কিনা সে সম্পর্কে জনগণকে এখনও জানায়নি। যতদূর জানা যায়, বুয়েটের তৈরিকৃত ইভিএম অন্য কোনো সমজাতীয় দেশী বা বিদেশী গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষা করানোও হয়নি। এ অবস্থায় বিতর্কিত ইভিএম দিয়ে আগামী সংসদ নির্বাচন করতে সরকারি দলের আগ্রহী হওয়ার পেছনে কী রহস্য থাকতে পারে জনগণকে সে বিষয়ে ভাবতে হবে।
 
সরকারি দল ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত মহাবিতর্কিত দশম সংসদ নির্বাচন বা পরবর্তীকালে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার (উপজেলা, পৌরসভা, তিন সিটি ও ইউপি) নির্বাচনগুলোর মতো দৃশ্যমানভাবে দুর্নীতিযুক্ত নির্বাচন না করে বাহ্যিকভাবে সুশৃংখল; কিন্তু অদৃশ্যভাবে কারচুপিময় কোনো নির্বাচন করতে চাইছে কিনা সে বিষয়টিও নাগরিকদের ভাবিত করছে। তা না হলে ইভিএম ব্যবহারের আগে এর হ্যাকপ্র“ফের নিশ্চয়তা বিধান করা দরকার। এ মেশিনে ভোট পুনঃগণনার সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। যে কোনো উপায়ে ইভিএমে কাগজ ব্যবহারের ব্যবস্থা করা দরকার। কারচুপির অভিযোগকারী প্রার্থীকে আবারও ভোটসংখ্যা দেখানোর ব্যবস্থা সৃষ্টি করাও জরুরি। আরও আবশ্যক, প্রতিটি পোলিং এজেন্ট এবং ভোটারকে ইভিএমে ভোট প্রদানের প্রশিক্ষণকালে মেশিনের অভ্যন্তরে কোনো ইলেকট্রুনিক ডিভাইস পরিবর্তন করা হয়েছে কিনা তা বুঝতে পারার মতো প্রশিক্ষণ দেয়া। ভোটার প্রদত্ত ভোট সঠিক মার্কায় গেল কিনা সে ব্যাপারে ভোটারদের মানসিক দুশ্চিন্তা দূর করার উপায় উদ্ভাবনও জরুরি এবং সর্বোপরি এ মেশিনের ওপর রাজনৈতিক দল ও ভোটারদের আস্থা সৃষ্টি করা প্রয়োজন। এসব ব্যবস্থা না নিয়ে সরকারি দলের বিতর্কিত ইভিএমে সংসদ নির্বাচন করার আগ্রহের পেছনে ডিজিটাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে অদৃশ্য ভোট কারচুপি করে নির্বাচন জেতার পরিকল্পনা আছে কিনা সতর্ক জনগণ সে বিষয়টি ভেবে দেখবে। সরকারি দল এবং আগামী ইসিকে মনে রাখতে হবে, সমস্যা সৃষ্টিকারী ইভিএমের সমস্যা দূর না করে এ মেশিনে সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করা যৌক্তিক হবে না।
 
ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার : অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
 
akhtermy@gmail.com
http://www.jugantor.com/window/2017/01/16/93598/%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%B8%E0%A6%A6-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%9A%E0%A6%A8-%E0%A6%87%E0%A6%AD%E0%A6%BF%E0%A6%8F%E0%A6%AE%E0%A7%87-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%BE-%E0%A6%A0%E0%A6%BF%E0%A6%95-%E0%A6%B9%E0%A6%AC%E0%A7%87-%E0%A6%A8%E0%A6%BE