২৫ জুন ২০১৯, মঙ্গলবার
Choose Language:

সর্বশেষ
মিডিয়া
আসক ও অধিকারের বার্ষিক প্রতিবেদন: মানবাধিকার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক; বিচারবহির্ভূত হত্যা ১৯৫ || গুম ৯৭, সীমান্তে হত্যা ৩০ || রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ১৭৭
৫ জানুয়ারি ২০১৭, বৃহস্পতিবার,
বিদায়ী বছরে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি মারাত্মক উদ্বেগজনক ছিল। বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এবং অধিকার তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। অধিকারের ওয়েবসাইট ও আসকের ডকুমেন্টেশন শাখা থেকে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।
আসকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদায়ী বছরে ১৯৫ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। গুম হয়েছেন ৯৭ জন। রাজনৈতিক কোন্দলে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে ১৭৭টি, সীমান্তে হত্যার শিকার হয়েছেন ৩০ বাংলাদেশী নাগরিক। আর সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ৩৯১টি। এছাড়া ৭২৪টি ধর্ষণের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। শিশু হত্যার শিকার হয়েছে ৪১৫ জন।
এদিকে একই সময়ে অধিকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা রেকর্ড করেছে ১৭৮টি। আর গুমের ঘটনা রেকর্ড করছে ৯০টি। বিদায়ী বছরে কারা হেফাজতে মারা গেছেন ৬৩ জন। বিএসএফের হাতে নিহত হয়েছেন ২৯ বাংলাদেশী। রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ২১৫ জন। আহত হয়েছেন ৯ হাজার ৫৩ জন। ধর্ষণের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে ৭৫৭টি। বখাটে কর্তৃক যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটেছে ২৭১টি। গণপিটুনিতে মারা গেছেন ৫৩ জন।
আসকের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিচারবহির্ভূত হত্যার মধ্যে ক্রসফায়ার, গুলি, বন্দুকযুদ্ধে এসব ব্যক্তি নিহত হন। একইভাবে ২০১৫ সালে ১৯২ ও ২০১৪ সালে ১২৮ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।
অধিকার জানায়, ২০১২ সালে গুম হন ৭০ জন, ২০১৩ সালে ৩২৯ জন, ২০১৪ সালে ১৭২ জন, ২০১৫ সালে ১৮৫ জন ও ২০১৬ সালে ১৭৮ জন। এই ৫ বছরে মোট বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হন ৯৩৪ জন। এ সময় গুম হন ২৭৪ জন। এর মধ্যে ২০১২ সালে ২৬ জন, ২০১৩ সালে ৫৩ জন, ২০১৪ সালে ৩৯ জন, ২০১৫ সালে ৬৬ জন ও ২০১৬ সালে ৯০ জন। গত ৫ বছরে গুম হওয়া ২৭৪ ব্যক্তির মধ্যে পরবর্তী সময়ে ৩৫ জনের লাশ পাওয়া গেছে, ১৫৯ জনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বা গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এখনও হদিস মেলেনি ৮০ জনের।
বিদায়ী বছরে রাজনৈতিক সহিংসতায় ৭৬ জন নিহত হন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের নিহত হন ৭৩ জন আর বিএনপির মারা যান ৩ জন। একই সময় আন্তঃকোন্দলে ৩৩৫টি ঘটনায় আওয়ামী লীগের ৩ হাজার ৫৮৬ জন আহত হয়েছেন। আর ১৫টি সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির আহত হয়েছেন ৩৩৫ জন। এসব পরিসংখ্যান তুলে ধরে দুটি মানবাধিকার সংগঠনই জানিয়েছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।
অধিকার তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বাংলাদেশে যে ধরনের চরমপন্থার উত্থান ঘটেছে, তা অতীতের সব ঘটনাকে ছাড়িয়ে গেছে। চরমপন্থী উত্থানের ফলে ২০১৩ সাল থেকে ব্লগার হত্যা শুরু হয়। ২০১৬ সালে শিক্ষক, সমকামীদের অধিকারবিষয়ক ম্যাগাজিনের সম্পাদক এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নাগরিক, বৌদ্ধ ভিক্ষু ও হিন্দু পুরোহিতসহ কয়েক জনকে হত্যা করা হয়েছে। ২০১৬ সালের জুলাইয়ে ঢাকায় গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২২ জন দেশী ও বিদেশী নাগরিক নিহত হন। এ সময় অভিযানে ৫ জঙ্গি নিহত হওয়ার দাবি করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। কিশোরগঞ্জ জেলার শোলাকিয়ায় ঈদুল ফিতরের জামাতের কাছে হামলার ঘটনায় ২ জনের প্রাণহানি ঘটে। এসব হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে জুলাইয়ে ঢাকার গুলশান ও কল্যাণপুরে, অগাস্টে নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায়, সেপ্টেম্বরে ঢাকায় রূপনগর ও আজিমপুরে, অক্টোবরে গাজীপুর ও টাঙ্গাইলে এবং ডিসেম্বরে ঢাকার আশকোনায় আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান পরিচালনা করলে নারী ও শিশুসহ ৩৪ জন নিহত হয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সরকার চরমপন্থীদের দমন অভিযানের নামে সারা দেশে গণগ্রেফতার চালিয়েছে। জুনে গণহারে গ্রেফতার করে ১৫ হাজারের বেশি মানুষকে বিনা বিচারে আটক রাখা হয়। অনেক সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ, এমনকি পথচারী ও শিশুও সেই সময় গণগ্রেফতারের শিকার হয়। ধরপাকড় ও গণগ্রেফতারের ফলে দেশের ৬৮টি কারাগারে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বন্দি রাখার কারণে কারাগারগুলোয় মানবিক বিপর্যয় দেখা দেয়।
http://www.jugantor.com/first-page/2017/01/05/90608/%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A7%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A6%89%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%97%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A6%95