১৭ নভেম্বর ২০১৯, রবিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন প্রতিবেদন: রামপাল প্রকল্প দ্বিতীয় শ্রেণীর বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট
৮ অক্টোবর ২০১৬, শনিবার,
রামপাল প্রকল্পটি একটি দ্বিতীয় শ্রেণীর বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট যাতে রয়েছে সেকেলে ও অনুপযুক্ত প্রযুক্তি যা সুন্দরবন ও আশেপাশের জনপদের উপর অগ্রহণযোগ্য নেতিবাচক প্রভাব প্রতিরোধে সক্ষম নয়। এতে ভূমিকম্প ও প্লাবন বিষয়ে ঝুঁকি পুরোপুরি বিবেচনায় রাখা হয়নি, যার ফলে প্রকল্পের চারপাশের এসব দুর্যোগ থেকে সৃষ্ট ভারী ধাতুসমূহ থেকে জলাশয়ে দূষণ ঘটতে পারে; এ ধরনের একটি অর্থনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা বাংলাদেশকে একটি ‘ফাঁকা পকেটে’ পরিণত করবে, এবং তা থেকে দেশটি আর মুক্তি পাবে না।
সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির প্রতিবেদনে গতকাল শুক্রবার সকালে এসব তথ্য দেয়া হয়। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি সাগর-রুনি মিলনায়তনে “রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিষয়ে নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞবৃন্দের মূল্যায়ন প্রতিবেদনে” এসব হয়। এতে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতামত তুলে ধরা হয়। আন্তর্জাতিক এ সব বিশেষজ্ঞদের মধ্যে অন্যতম হলেন বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞ ও জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রঞ্জিত সাহু , ওয়াটার কিপারস এলায়েন্স এর কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের পানি দূষণ সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ ডোনা লিসেনবী, ডেবিস ডিপার্টমেন্ট অব সিভিল এন্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, যুক্তরাষ্ট্র চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডেব নিয়েমেয়ার, ভুতত্ত্ববিদ্যা, জলীয় ভুতত্ত্ববিদ্যা, এবং ফলিত ও তাত্ত্বিক ভূ-বিদ্যা ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞ চার্লস এস নরিস পিএইচডি, বিশেষ গবেষণা বিজ্ঞানী ও অধ্যাপক লেমন্ট-ডোহার্তি আর্থ অবজারভেটরী, কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লস এইচ জ্যাকব, পিএইচডি। এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে স্কাইপি’র মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন ও বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন ড. রঞ্জিত সাহু।
এসব বিশেষজ্ঞের দেয়া তথ্য প্রকাশ উপলক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল এতে মূল বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও অধ্যাপক এম এম আকাশ, ডাঃ মোঃ আব্দুল মতিন, রুহিন হোসেন প্রিন্স, শরীফ জামিল ও রিসালাত খান এতে বক্তব্য রাখেন।
এতে বলা হয় যে, এসকল নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ সর্বসম্মতভাবে একমত হয়ে বলেছেন যে রামপাল প্রকল্পটি: একটি দ্বিতীয় শ্রেণীর বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট যাতে রয়েছে সেকেলে ও অনুপযুক্ত প্রযুক্তি যা সুন্দরবন ও আশেপাশের জনপদের উপর অগ্রহণযোগ্য নেতিবাচক প্রভাব প্রতিরোধে সক্ষম নয়; এতে ভূমিকম্প ও প্লাবন বিষয়ে ঝুঁকি পুরোপুরি বিবেচনায় রাখা হয়নি, যার ফলে প্রকল্পের চারপাশের এসব দুর্যোগ থেকে সৃষ্ট ভারী ধাতুসমূহ থেকে জলাশয়ে দূষণ ঘটতে পারে; এ ধরনের একটি অর্থনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা বাংলাদেশকে একটি ‘ফাঁকা পকেটে’ পরিণত করবে, এবং তা থেকে দেশটি আর মুক্তি পাবে না। সকল বিশেষজ্ঞের সর্বসম্মত মতামত হচ্ছে: “রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করতে হবে”। 
এদিকে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে ড. রঞ্জিত সাহু জানান সারা বিশ্বে সুন্দরবনের মত কোন স্থানের পাশে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মিত হয়নি। এধরনের প্রকল্প সুন্দরবন থেকে চল্লিশ মাইল দূরে নির্মিত হলেও বনের জীব-বৈচিত্রের ভয়াবহ ক্ষতি হবে। 
এরপর দেয়া বক্তব্যে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক এডভোকেট সুলতানা কামাল, রামপাল প্রকল্পের উপর করা সরকারি ইআইএ যথাযথ ও বিজ্ঞান সম্মত ভাবে তৈরী হয়নি বিধায় সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি এর অর্থনৈতিক, বায়ু দূষণ প্রশমন প্রযুক্তি, পানি দূষণ, সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ভূমি ধস, ভূমিকম্প, কয়লা জমা করার পুকুর ও কয়লার ছাই বিষয়ে অভিজ্ঞ ও প্রকৃত বিশেষজ্ঞদের খোঁজ করেছে ও তাদেরকে পরিবেশ প্রভাব কাজে যুক্ত করেছে। 
তিনি বলেন, তাই এসকল বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি দাবি করছে যে, প্রধানমন্ত্রীর রামপাল কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সকল ভুল তথ্য ভিত্তিক প্রচার বন্ধ করে, এ্খানে সন্নিবেশিত আন্তর্জাতিক নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞদের প্রদত্ত মতামত বিবেচনা ও গ্রহণ করবেন, বাংলাদেশের আপামর জনগণের দাবি মেনে নিবেন এবং সর্বতোভাবে সুন্দরবন ও দেশের সার্বিক পরিবেশ ও অর্থনীতির জন্য মারাতœক ক্ষতিকর রামপাল প্রকল্প অবিলম্বে বাতিল করবেন। 
সুলতানা কামাল বলেন, সরকার কি ধরনের চুক্তি করছে, কার স্বার্থে এসব চুক্তি হচ্ছে তা কিছুই জানতে পারছে না দেশের জনগণ। রাষ্ট্রীয় চুক্তিগুলো জনস্বার্থ রক্ষা করছে না, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চুক্তির বিষয়টি প্রকাশ হওয়ার পর তা আবারো প্রমাণ হল। শুধু রামপাল নয়, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়েও প্রশ্ন তোলা দরকার এবং এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন। 
অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, দেশ বিদেশের বিভিন্ন সমীক্ষায় বলা হয়েছে প্রকল্পটি ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল। এটি অর্থনৈতিক, পরিবেশ ও সামাজিক দিক বিবেচনায় নিলে এটি কখনই দেশের জন্য কোন সুফল বয়ে আনবে না। তাই প্রকল্পটি বাতিল করার জন্য আমরা আবারও সরকারের নিকট দাবি জানাচ্ছি।
http://www.dailysangram.com/post/254046-%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B2-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA-%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%80%E0%A7%9F-%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%A3%E0%A7%80%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A7%8E-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%9F