১৬ জুন ২০১৯, রবিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
মিডিয়া
বিদেশে বিপদগ্রস্ত বাংলাদেশির সংখ্যা বাড়ছে
৫ অক্টোবর ২০১৬, বুধবার,

বিদেশে বিপদে পড়া বাংলাদেশিদের সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা সফররত আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম’র জরুরি সেবা ও উদ্ধার অভিযান বিষয়ক পরিচালক মোহাম্মদ আবদিকার। ‘মাইগ্রেন্টস ইন ক্রাইসিস সিচুয়েশন’ শীর্ষক ঢাকায় এক পর্যালোচনা সভা শেষে গতকাল উপস্থিত সংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে এ মন্তব্য করেন তিনি। গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিস) অর্ধদিনব্যাপী ওই পর্যালোচনার আয়োজন করে। রাজধানীর ইস্কাটনের বিস মিলয়াতনে পররাষ্ট্রসচিব এম শহীদুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আইওএম পরিচালক আবদিকার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সেখানে আইওএমের চিফ অব মিশন শরৎ দাস স্বাগত বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচক হিসেবে ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইসিসিসিএডি)’র পরিচালক ড সলিমুল হক, অ্যাকশন এইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবীর। অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তৃতা করেন বিস চেয়ারম্যান মুন্সী ফয়েজ আহমদ। উন্মুক্ত আলোচনায় দেশি বিদেশি কূটনীতিক, অভিবাসন বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ ও পেশাজীবীরা অংশ নেন। মূল প্রবন্ধে আইওএম পরিচালক ভিন দেশে বিপদগ্রস্ত অভিবাসীদের নানামুখী সঙ্কট এবং তাদের উদ্ধারে পরিচালিত অপারেশন বা অভিযানের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত বা অভ্যন্তরীণ সমস্যায় জর্জরিত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংঘাত-সংঘর্ষের মুখে আটকেপড়া নিরীহ অভিবাসীদের জরুরি উদ্ধার অভিযান পরিচালনায় সেখানে তহবিল বা অর্থনৈতিক জোগানের সঙ্কট সবচেয়ে ভয়াবহ হয় বলে  উল্লেখ করেন তিনি। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ সংক্রান্ত বৈশ্বিক তহবিল গঠনের উদ্যোগে বাংলাদেশের তাৎক্ষণিক ১ মিলিয়ন ডলার প্রদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন আইওএম বিশেষজ্ঞ আবদিকার। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী নিরাপদ এবং নিয়মিত অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে বাংলাদেশ জাতিসংঘে যে প্রস্তাব (গৃহীত) করেছে তার জন্য ধান্যবাদ জানান তিনি। বলেন, সমস্যা-সঙ্কুল এলাকায় ঝুঁকি মুখে পড়া অভিবাসীদের উদ্ধারে প্রস্তাবিত ওই তহবিল শুধু বাংলাদেশিদের জন্য নয়, গোটা মানবতার কল্যাণে ব্যয় হবে। নিরাপদ অভিবাসন প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের ‘ড্রাইভিং রুল’ আগামীদিনেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা করেন তিনি। বিশ্বের দেশে দেশে কাজ করা ওই আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশ প্রেরিত অভিবাসীদের দক্ষতা বাড়ানোর কাজে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন। সঞ্চালক হিসেবে অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তৃতা এবং পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বলেন, বাংলাদেশ অনেক দিন ধরে এ সেক্টরে কাজ করছে। লিবিয়া, সিরিয়া ও ইয়েমেনে সঙ্কটকালে সেখান থেকে বাংলাদেশিদের নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে আসার অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, সেই অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশ এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে। জাতিসংঘে আমাদের প্রধানমন্ত্রী একটি ডাক দিয়েছেন। বিশ্বব্যাপী সেফ, রেগুলার অ্যান্ড অর্ডারলি মাইগ্রেশন (নিরাপদ, নিয়মিত এবং চাহিদা মাফিক অভিবাসন)’র একটি কমপেক্ট ও ফ্রেমওয়ার্ক গড়ে তোলার জন্য বাংলাদেশই সর্বপ্রথম জাতিসংঘে প্রস্তাব করে। এবারে জাতিসংঘের ৭১তম সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তথা বাংলাদেশের সেই প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। বিশ্ব নেতারা একমত হয়েছেন, আগামী দু’বছর এ নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে নেগোসিয়েশন বা দরকষাকষি করার বিষয়ে। ২০১৮ সাল পর্যন্ত সেই নেগোসিয়েশন চলবে উল্লেখ করে সচিব বলেন, এই সময়ে অভিবাসী প্রেরণকারী এবং গ্রহণকারী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সিরিজ আলোচনা হবে। অভিবাসীদের সঙ্গে কি আচরণ করা উচিত, তারা কতটুকু অধিকার পাবেন, তাদের প্রটেকশন বা সুরক্ষার ব্যবস্থা-ই বা কি থাকবে? তা নিয়ে সেখানে আলোচনা হবে। ওই আলোচনার মধ্য দিয়ে যে বিষয়গুলো উঠে আসবে তা ২০১৮ সালে জাতিসংঘে গৃহীত হবে বলে আশা করেন সচিব। নিরাপদ, নিয়মিত এবং চাহিদার আলোকে অভিবাসস সংক্রান্ত ফেমওয়ার্ক বা কাঠামো গঠনে ঢাকার প্রস্তাব প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র সচিব আরো বলেন, এটা বাংলাদেশের বিরাট অর্জন, এটি প্রধানমন্ত্রীর অর্জন। বাংলাদেশের রেমিট্যান্স কমে যাওয়াবিষয়ক বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত তথ্যের বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এক রিপোর্টার। জবাবে সচিব বলেন, রেমিট্যান্স কমে যাওয়া কিংবা বাড়ার বিষয়টি একটি চলমান প্রক্রিয়া। তবে আমার মনে হয় লং টার্মে এটি বাড়বে। প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ কোন কোন ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ উল্লেখ করে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এটি ৩ শতাংশে নামিয়ে আনার জন্য কাজ চলছে। ব্যয় কমলে রেমিট্যান্স আরো বাড়বে বলে আশা করেন পররাষ্ট্র সচিব।

http://www.mzamin.com/article.php?mzamin=34421&cat=3/%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%AA%E0%A6%A6%E0%A6%97%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%96%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A7%9C%E0%A6%9B%E0%A7%87