১৬ জুন ২০১৯, রবিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
মিডিয়া
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন- পরিবেশ না থাকায় ৩ বছরে বেসরকারি বিনিয়োগ সর্বনিম্ন
৪ অক্টোবর ২০১৬, মঙ্গলবার,
গত তিন বছরে বেসরকারি খাতে সবচেয়ে কম বিনিয়োগ হয়েছে। এখানে বিনিয়োগের পরিবেশের অভাব রয়েছে। বর্তমানে এ হার জিডিপি প্রবৃদ্ধির ২১ দশমিক ৮ শতাংশ। বাংলাদেশে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকলেও ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ বাড়ানোই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।
 গতকাল সোমবার রাজধানীর আগারগাঁও-এ বিশ্বব্যাংক কার্যালয়ে দারিদ্র্য ও অসমতা বিষয়ক আরেকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এ উপলক্ষে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর চিমিয়াও ফান এ মন্তব্য করেন। প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে (২০১৬-১৭) বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। তবে রেমিট্যান্স ও বেসরকারি বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রবণতাসহ কয়েকটি কারণে আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়াবে ৬ দশমিক ২ শতাংশ। এই হারে প্রবৃদ্ধি হলে ২০১৭ সালে দারিদ্র্য হার কমে দাঁড়াবে ১২ দশমিক ১ শতাংশ এবং এরপরের বছর তা আরও কমে হবে ১১ দশমিক ৪ শতাংশ। বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদনে সংস্থাটি এসব পূর্বাভাস দিয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ্য করা হয়, এখানে বিনিয়োগ পরিবেশের অভাব রয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ সংযোগ, সম্পদ রেজিস্ট্রেশন, ঠিকাদারের সঙ্গে সমস্যা মেটাতে অধিক সময় লাগায় ব্যবসা শুরু করতে সময় লাগে। এ পরিবেশের উন্নয়ন ঘটাতে হবে।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিশ্বব্যাপী দুর্বল প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকা এবং অভ্যন্তরীণ কিছু চ্যালেঞ্জ থাকায় প্রবৃদ্ধি এ রকম হবে। বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নিরাপত্তা এবং আর্থিক খাতের অস্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগ সমস্যা। নিরাপত্তার অভাবে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যেতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ব্রেক্সিট ও যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে বাণিজ্য সংরক্ষণের বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। সেটি হলো ওইসব দেশে রপ্তানীর ক্ষেত্রে করসহ বিভিন্ন বিষয় বাড়বে। ফলে বাংলাদেশের রপ্তানী কমতে পারে, যা প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান যে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে তার মাধ্যমে এসডিজি নির্ধারিত শূন্য দারিদ্র (জিরো পোভার্টি) লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। প্রবৃদ্ধির বর্তমান ধারা বজায় থাকলে ২০৩০ সালে দারিদ্রের হার দাঁড়াবে ৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ। শূন্য দারিদ্র্যের লক্ষ্য অর্জনে ৮ দশকি ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন।
দরিদ্রতার হার হিসেবের ক্ষেত্রে নতুন পদ্ধতির প্রয়োগরে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয়ের তুলনায় দারিদ্রের হার কম। ২০১০ সালে হত দারিদ্রের হার ছিল ১৮ দশমিক ১০ শতাংশ। ২০১৬ সালে এটি কমে দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৯ শতাংশে।
এ প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর চিমিয়াও ফান বলেন, শিক্ষায় জেন্ডার সমতা, সফল পরিবার কল্পনা এবং নগদ অর্থ ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে উদ্ভাবনী পদ্ধতির প্রয়োগ দারিদ্র হার কমানো এবং নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নের ক্ষেত্রেও ভূমিকা রেখেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যক্তি খাতে প্রবৃদ্ধি কমছে। অপরদিকে সরকারী বিনিয়োগ বেড়েছে। বেসরকারি বিনিয়োগ গত তিন বছরের মধ্যে সবচেযে কম (জিডিপির ২১ দশমিক ৮ শতাংশ)। সঞ্চয়ের অভাবে নয়, বরং বিনিয়োগের অভাবে এই সমস্যা। সঞ্চয়ের কিছু অর্থ যাচ্ছে রিজার্ভে আর কিছুটা পাচার হচ্ছে। বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ বাড়লেও এর নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে হবে।
http://www.dailysangram.com/post/253477-%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B6-%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A7%A9-%E0%A6%AC%E0%A6%9B%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B8%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BF-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%8B%E0%A6%97-%E0%A6%B8%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%A8