২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শুক্রবার
Choose Language:

সর্বশেষ
আমীরে জামায়াত বিভাগ
মানবিক কারণে মিয়ানমারের বিপন্ন মুসলমানদের আশ্রয়ের জন্য বাংলাদেশের বর্ডার খুলে দেয়ার আহ্বান
২৯ নভেম্বর ২০১৬, মঙ্গলবার,
মিয়ানমারের বিপন্ন মুসলমানদের মানবিক কারণে বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশের বর্ডার খুলে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর জনাব মকবুল আহমাদ আজ ২৯ নভেম্বর প্রদত্ত এক বিবৃতিতে বলেন, “মিয়ানমারের মুসলমানদের উপর সে দেশের সরকার বর্বরতম গণহত্যা চালাচ্ছে। মিয়ানমারের মুসলমানরা আশ্রয়ের জন্য বাংলাদেশে ঢুকার চেষ্টা করছে।  কিন্তু বাংলাদেশ সরকার তাদের ঢুকতে দিচ্ছে না।  
 
মিয়ানমারের সংখ্যালঘু মুসলমান সম্প্রদায়ের উপর সে দেশের সরকার বর্বরতম গণহত্যা চালিয়ে তাদের নিশ্চিহ্ন করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। মুসলিম হিসেবে জন্মগ্রহণ করাটাই যেন মিয়ানমার সরকারের নিকট তাদের অপরাধ। মিয়ানমার সরকারের গণহত্যা আজ বিশ্ববিবেককে প্রবলভাবে নাড়া দিচ্ছে। মিয়ানমার সরকার নারী-পুরুষ নির্বিশেষে মানুষকে হত্যা করছে। দশ বছরের অধিক বয়সের পুরুষদের গুলি করে হত্যা করছে। মহিলারা ব্যাপকভাবে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী কর্তৃক ধর্ষিতা হচ্ছে। তারা মুসলিম অধ্যুষিত এলাকার গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিচ্ছে। তারা ১০ হাজারের অধিক মুসলমান পুরুষকে ধরে নিয়ে গিয়েছে। ৩০ হাজারের অধিক গৃহহীন মানুষ গহীন অরণ্যে আশ্রয় গ্রহণ করেছে। নিহত মুসলমানদের মৃতদেহ গুলো পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে, এমনকি জ্যান্ত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করা হচ্ছে। ইসলামী বিধানমতে লাশ কবর দেয়ার কোন সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। 
 
সারা বিশ্বের মানুষ মিয়ানমার সরকারের প্রতি ধিক্কার জানানো সত্বেও তারা গণহত্যা বন্ধ করছে না। মিয়ানমারের একটি প্রতিবেশী দেশ মুসলমানদের জন্য সে দেশের বর্ডার খুলে দিয়েছে। অথচ বাংলাদেশ সরকার মিয়ানমারের মুসলমানদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। তাদের বাংলাদেশে ঢুকতে না দিয়ে প্রকারান্তরে তাদের নিষ্ঠুরভাবে গণহত্যার দিকেই ঠেলে দেয়া হচ্ছে। 
 
বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে জীবন বাঁচানোর লক্ষ্যে মিয়ানমারের বিপন্ন মুসলমানদের বাংলাদেশে প্রবেশ করার সুযোগ দিতে অবিলম্বে বর্ডার খুলে দেয়ার জন্য আমি বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। সেই সাথে মিয়ানমারের মুসলমানদের উপর পরিচালিত গণহত্যা বন্ধ করার জন্য অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আমি জাতিসংঘ এবং ওআইসিসহ সকল আন্তর্জাতিক সংস্থা ও শান্তিকামী রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”