২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শুক্রবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
তুরস্কের সাম্প্রতিক অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা
১৯ জুলাই ২০১৬, মঙ্গলবার,
|| ড. মোঃ নূরুল আমিন ||

গত শুক্রবার রাতে তুরস্কে ইসলাম বিরোধী এক অভ্যুত্থান চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। সেনাবাহিনীর বিভ্রান্ত কিছু কর্মকর্তা ও বিচার বিভাগের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু কৌসুলী হঠাৎ করে রাত ন’টায় ইস্তাম্বুল বিমান বন্দর, বসফরাস প্রণালীর উপর নির্মিত দু’টি সেতু, রাষ্ট্রীয় বেতার ও টেলিভিশন, রাজধানী আঙ্কারায় সংসদ ভবন এবং প্রেসিডেন্ট প্রাসাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা দখল করে নেয় এবং জেট বিমান থেকে বোমা বর্ষণ করে। বসফরাসের সেতু দখল করে তারা রাজধানীকে দেশের অপরাংশ বিশেষ করে এশিয়ান অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। ঐ সময় প্রেসিডেন্ট এরদোগান একটি মফস্বল শহরের হোটেলে অবস্থান করছিলেন। বিদ্রোহীরা তাকে মারার জন্য ঐ হোটেলের ওপরও গোলা বর্ষণ করে। কিন্তু তার আগেই তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন। রাষ্ট্রীয় বেতার ও টেলিভিশন বিদ্রোহীদের হাতে চলে যাওয়ায় জাতির উদ্দেশ্যে কোনও বক্তব্য দেয়াও তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে। পরে তিনি তার স্মার্ট ফোনের স্কাইপিতে শুভাকাক্সক্ষীদের উদ্দেশ্যে ৩/৪ মিনিটের একটি বক্তব্য পেশ করেন এবং জনগণকে রাস্তায় বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি নিজেই অবরুদ্ধ ইস্তাম্বুল বিমান বন্দরে আসার ঘোষণা দেন এবং সেখানে জনগণকেও আসার পরামর্শ দেন। তার ঘোষণার সাথে সাথে সারা দেশে তা ছড়িয়ে পড়ে এবং লাখ লাখ লোক রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে এবং তাকবির ধ্বনিতে আকাশ বাতাস মুখরিত করে তোলে। তাদের একটা অংশ বসফরাস সেতু অবরোধকারী সৈন্যদের ট্যাংকের অগ্রযাত্রা বন্ধ করে দেয় এবং ট্যাংক দখল করে নেয়। আরেকটি অংশ প্রেসিডেন্টের সাথে ইস্তাম্বুল বিমান বন্দর মুক্ত করে এবং বিদ্রোহীরা আত্মসমর্পণ করে। জাতীয় স্বার্থে এই দিন তুর্কীরা অনন্য ঐক্যের একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। সামরিক অভ্যুত্থান ঠেকানোর জন্য তারা দলমত নির্বিশেষে কে ডান পন্থী, কে বাম পন্থী আর কে ইসলামপন্থী বা আস্তিক-নাস্তিক তা না ভেবে প্রেসিডেন্ট এরদোগানের আহ্বানে রাস্তায় নেমে আসেন। এই ঐক্য বিরল এবং সারা দুনিয়ার জন্য একটি দৃষ্টান্ত। এই ঐক্যের মাধ্যমেই তারা বিনা অস্ত্রে সশস্ত্র সৈন্যদের মুখোমুখি হয়েছেন এবং সামরিক অভ্যুত্থান প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করেছেন। এই অভ্যুত্থান প্রচেষ্টায় অভ্যুত্থান চেষ্টাকারী ১০৪ জনসহ প্রায় ৩০০ জন লোক নিহত হয়েছেন। বাকীরা পুলিশ ও বোসামরিক লোকজন। এই ঘটনায় ২ শীর্ষ জেনারেলসহ ৬০০০ ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। অভ্যুত্থান চেষ্টার মূল নায়ক ইসরাইল দূতাবাসে তুরস্কের সামরিক এটাচি ছিলেন বলে জানা গেছে। আবার অভ্যুত্থান ব্যর্থ হবার পর যে ৮ জন সেনা সদস্য যুদ্ধ বিমান নিয়ে গ্রিসে পালিয়ে গিয়েছিলেন তাদের ফিরিয়ে আনা হয়েছে। অভ্যুত্থানের পেছনে মার্কিন প্রবাসী তুর্কী নেতা ফতেহউল্লাহ গুলেনের হাত রয়েছে বলে প্রেসিডেন্ট তার ভাষণে উল্লেখ করেছেন।
পরিস্থিতি পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসার পর প্রেসিডেন্ট এরদোগান তুরস্কে অবস্থানরত বিদেশী রাষ্ট্রদূতদের সাথে বৈঠক করেছেন। এতে বিভিন্ন দেশের ১০০ জন রাষ্ট্রদূত উপস্থিত ছিলেন। তবে অজ্ঞাত কারণে সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূতরা অনুপস্থিত ছিলেন। অনেকের ধারণা এই অভ্যুত্থানের চেষ্টার সাথে এ দুটি রাষ্ট্রের হয়তো আশীর্বাদ থাকতে পারে। তবে এরদোগান অভ্যুত্থান ঠেকানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে মার্কিন নৌঘাঁটির কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছিলেন বলে জানা যায়। এতে তারা রুষ্ট হয়েছিলেন কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তুর্কী সেনাবাহিনীর অভ্যুত্থান চেষ্টা ছিল একটা গর্হিত কাজ। সে কাজে তারা ব্যর্থ হয়েছে। সে দেশে একটি জাতীয় ঐক্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঐক্যকে কাজে লাগিয়ে দেশটি বিদ্রোহী ও সন্ত্রাসীদের দমন এবং জাতিগঠনে নতুন নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে বলে আমার বিশ্বাস।
সব দেশেই কিছু জাতীয় গাদ্দার থাকে। তুরস্কেও জাতীয় গাদ্দার হিসেবে গুলেনের নাম উঠে এসেছে। তার পরিচয় জানা দরকার। ফতেহ উল্লাহ গুলেন সম্পর্কে আমাদের দেশে অনেক বিভ্রান্তি রয়েছে। অনেকেই তার সম্পর্কে জানেন না। আবার কেউ কেউ তাকে বড় মাপের আলেম বলেও মনে করেন। তিনি এবং তার সংস্থা গুলেন মুভমেন্টের উদ্যোগে বাংলাদেশ থেকে বহু ছাত্র ছাত্রী তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশে বৃত্তি নিয়ে লেখাপড়া করছে। আমাদের অনেক সাংবাদিক বুদ্ধিজীবীর মধ্যে তার অনেক সুবিধাভোগীও রয়েছেন। তারা তার প্রশংসা ও প্রচারে মুখর। এই অবস্থায় পাঠকদের সুবিধার্থে ফতেহ উল্লাহ গুলেনের পরিচয় তুলে ধরা জরুরি বলে মনে হয়।
জনাব গুলেন ১৯৪১ সালে তুরস্কের এরজুরুম শহরে জন্ম গ্রহণ করেন এবং ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই তার লেখাপড়ার হাতে খড়ি হয়। ১৯৬৬ সালে তিনি গ্রামের একটি মসজিদের ইমাম হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এবং পাশাপাশি ওয়াজ মাহফিলের বক্তা হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার চেষ্টা করেন এবং বদিউজ্জামান নূরানীর আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত হন। এই সম্পৃক্ততার পেছনে খ্যাতি, ক্ষমতা এবং সম্পদ আহরণই ছিল তার মুখ্য উদ্দেশ্য। ফলে নূরানীর শিক্ষা থেকে তার বিচ্যুতি ঘটে। এই সময়ে তিনি কামাল আতাতুর্ক পন্থী সেনাবাহিনী ও সরকারের সহযোগিতায় নিজস্ব আন্দোলন গড়ে তোলেন এবং সারা দেশে তার নেটওয়ার্ক স্থাপন করেন ।
১৯৮০ সালে জেনারেল কেনান এবরানের সামরিক অভ্যুত্থানকে তিনি সমর্থন করেন এবং তার বিনিময়ে সামরিক সরকার তার আন্দোলনের মুখপত্র জামান পত্রিকার অর্থায়নের দায়িত্ব গ্রহণ করে। তুরস্কে এই পত্রিকার ব্যাপক কাটতি রয়েছে। ১৯৯৮ সালে তিনি পোপ দ্বিতীয় জনপলের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং ক্যাথলিক খৃস্টানদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলেন। এই সময়ে তিনি ক্যাথলিক গীর্জার সহযোগিতায় হিজমত (সেবা) আন্দোলনের সূচনা করেন। এই সময়ে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে তুর্কী ভাষা ও সংস্কৃতি শেখানোর মিথ্যা প্রতিশ্রুত দিয়ে তুরস্কের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের কাছ থেকে প্রচুর দান সংগ্রহ করেন। ঐ অর্থ এবং পরবর্তীকালে পোপ ও ইহুদী ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় বিভিন্ন দেশে প্রায় ৩০০০ স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। অর্থ উপার্জন এবং মুসলিম দেশসমূহের ধর্ম নিরপেক্ষ নেতৃবৃন্দকে সহায়তা করাই ছিল তার মুখ্য উদ্দেশ্য। ইহুদী লবি এবং ইসরাইলের সাথে তার হিজমত আন্দোলনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং তাদের সহায়তায় শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রেই জনাব গুলেন ১২৯টি স্কুল স্থাপন করেছেন যার বার্ষিক আয় ৪০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। বাংলাদেশে টার্কিস হোপ স্কুল এবং টার্কিস রেস্তোরাঁসহ তার অনেক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ইহুদী ও মার্কিনীদের সহায়তায় তিনি তুরস্কের সরকার ব্যবস্থা ও তার বাইরে একটি মজবুত নেটওয়ার্ক স্থাপন করেন। ১৯৯৯ সালে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান এবং সেখান থেকেই এখন পর্যন্ত তার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। তুরস্ক ও তুরস্কের বাইরে তার বহু স্বজন রয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আইন ও বিচার বিভাগ, পুলিশ বিভাগ সর্বত্র তার নেটওয়ার্ক ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করলেও সাম্প্রতিককালে সামরিক বিভাগে তা তত শক্ত ভিত গড়ে তুলতে পারেনি। গত নির্বাচনে তিনি তায়েপ এরদোগানকে সমর্থন করেছিলেন। তার আশা ছিল একে পার্টি ও সরকারের উপর তিনি অধিকতর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন। তিনি তা করতে ব্যর্থ হন। প্রেসিডেন্ট এরদোগানের সাথে ইসরাইলকে কেন্দ্র করেই তার সংঘাত বাধে। এরদোগানের ইসরাইল বিরোধী কিছু কিছু কথাবার্তা ও অবস্থান তাকে অসন্তুষ্ট করে। ইসরাইল ও ইহুদী লবির পক্ষ থেকে এতে উষ্মা প্রকাশ করা হয়। কারোর কারোর মতে তারা গুলেনকে এরদোগানের ইসরাইল বিরোধী চিন্তাধারা ও তার সরকারের তৎপরতা থেকে সরে আনার দায়িত্ব দিয়েছেন এবং এই দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই আর্মিসহ তুরস্কের আনাচে-কানাচে থাকা তার সমর্থকদের দিয়ে তিনি এই অভ্যুত্থানের আয়োজন করেছিলেন। অবশ্য এর আগে তিনি প্রেসিডেন্ট এরদোগান, তার দল একে পার্টি এবং ইসলামপন্থী দল ও আলেমদের মধ্যে একটি বিভ্রান্তি ও ভুল বুঝাবুঝির চেষ্টা করেছিলেন এবং কোন কোন ক্ষেত্রে সফলও হয়েছিলেন। ঐ সাফল্যের রেশ ধরেই তিনি ধারণা করেছিলেন যে, এই অভ্যুত্থান ঘটলে দল-মত নির্বিশেষে সকলেই সামরিক বাহিনীকে অভ্যর্থনা জানাবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। যদি হতো তাহলে ইহুদিনির্ভর ইসলামবিরোধী শক্তি তুরস্ক নামক দেশটিকে ধ্বংস করে দিত। বলাবাহুল্য, ইতোপূর্বে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তুরস্কে ইসলামী পুনর্জাগরণ ও ইসলামী আন্দোলনের প্রধান স্থপতি ও প্রধানমন্ত্রী নাজমুদ্দিন আরবাকানের সরকারকে পদচ্যুত করা ও জনাব আরবাকানকে রাজনীতিতে নিষিদ্ধ করার পেছনে জনাব গুলেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
ইসলামী সভ্যতার পাদপীঠ তুরস্ক কয়েক শতাব্দী ধরে ওসমানীয় খেলাফতের কেন্দ্রভূমি ছিল। ঊনিশশ’ সালের দ্বিতীয় দশকের শেষের দিকে ইহুদী-খৃস্টান চক্রের ষড়যন্ত্রে সেখানে খেলাফতের পতন হয়। এই উপমহাদেশের মুসলমানরা বিশেষ করে আমাদের পূর্বপুরুষগণ খেলাফত রক্ষার জন্য খেলাফত আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন, কিন্তু তা রক্ষা করতে পারেননি। তুরস্কে যে শাসক শ্রেণী ক্ষমতা গ্রহণ করেন তারা ছিলেন উগ্র আধুনিক ও পাশ্চাত্যপন্থী। তারা এসে প্রথম হামলা করেন ইসলামী শিক্ষা, সভ্যতা ও সংস্কৃতির উপর। ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। মসজিদের আযান নিষিদ্ধ হয়। আরবীতে কুরআন পড়া বেআইনী করা হয়। মেয়েদের হিজাব নিষিদ্ধ হয় এবং তাদের জন্য পোশাক হিসেবে মিনি স্কাটের প্রচলন হয়। হাজার হাজার মসজিদ বন্ধ করে দেয়া হয়। অবস্থার এতই অবনতি ঘটে যে একজন মুসলমান মারা গেলে জানাযা পড়ানো অথবা যে সমস্ত মসজিদ ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিল সেগুলোতে ইমামতি করার জন্য লোক পাওয়াও মুশকিল হয়ে পড়ে। এই অবস্থায় ৫০ এর দশকে সম্ভবত সুলেমান ডেমরিলের সরকারের আমলে ইমাম-খতিব তৈরির লক্ষ্যে স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয় যা এখনো অব্যাহত আছে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট এরদোগান এ ধরনের একটি স্কুলেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। তিনি ও তার পূর্বসূরী তুরস্কের মূল ইসলামী আন্দোলন মিল্লি গুরুসের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তার নেতৃত্বের গতিশীলতা ও দৃঢ়চিত্ততা সহজেই মানুষকে অনুপ্রাণিত করতে পারে। তিনি ফিলিস্তিনী, সিরীয়, ইরাকী, সোমালীয় মোহাজেরসহ দুনিয়ার মজলুম মুসলমানদের সহায়তায় যে অনবদ্য ভূমিকা রেখেছেন তা নজিরবিহীন। আমরা যেখানে প্রতিবেশী নির্যাতিত আশ্রয় প্রার্থী মুসলিম মোহাজেরদের পিটিয়ে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছি সেখানে তিনি লাখ লাখ নির্যাতিতকে বুকে টেনে নিয়েছেন এবং দুর্দশা লাঘবের কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণসহ নাগরিকত্ব প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন। তুরস্কের মুসলিম ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন, হিজাবের উপর শতাব্দী পুরাতন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছেন। সমাজের ইসলামিকীকরণে তার গতি শ্লথ হলেও তা প্রশংসনীয়; তিনি Revolution এর পরিবর্তে Evolution এর পথ বেছে নিয়েছেন। দুনিয়ার যে প্রান্তেই হোক অবিচারের প্রতিবাদ করছেন এবং তার এই বজ্রকণ্ঠ দেশে বিদেশে তাকে জনপ্রিয় করে তুলেছে। যারা তাকে পছন্দ করেন না, যেমন আমাদের দেশের কিছু পত্রিকা তাকে ‘ডিক্টেটর’ আখ্যা দিয়ে খবর ‘রচনা’ করেছেন। তার ডাকে মুহূর্তের মধ্যে লাখ লাখ লোকের রাস্তায় নেমে আসার ঘটনায় তাদের লজ্জা পাওয়া উচিত। জনগণের কাতারে এসে জনগণের পাশে থেকে তিনি যেমন বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তেমনি তুরস্কের সাহসী জনতা দলমত নির্বিশেষে তার পাশে এসে দাঁড়িয়ে দেশপ্রেম ও নেতার আনুগত্যের যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা বিশ্বে বিরল এবং বিশ্ববাসীর জন্য রোল মডেল হওয়ার উপযুক্ত।
তুরস্ক মুসলিম জাতির ঐতিহ্য ও উত্থানের প্রতীক। ইসলামবিরোধী শক্তির উত্থানে শংকিত হয়ে দেশটিকে ধ্বংস করার জন্য মরণ আঘাত হেনেছিল। কিন্তু এরদোগানের ন্যায় অপরাজেয় সৈনিকের তেজস্বী নেতৃত্ব তা প্রতিহত করেছে এবং তার পেছনে রাস্তায় সমবেত জনগণ কোটি কণ্ঠে তাকবীর আল্লাহু আকবার ধ্বনিতে বিদ্রোহী সামরিক বাহিনীকে পরাভূত ও পিছু হটতে বাধ্য করেছে। আমরা তুরস্কের সাহসী, ঈমানদীপ্ত দেশপ্রেমিক জনগণকে অভিনন্দন জানাই এবং এরদোগানের নেতৃত্বে সে দেশের সরকারের স্থায়িত্ব কামনা করি। আল্লাহ তাদের এবং আমাদের সহায় হোন।
http://goo.gl/TWfdCj