২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শুক্রবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
তুরস্কে ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পরিকল্পনাকারী ২ শীর্ষ জেনারেলসহ আটক ৬০০০
১৮ জুলাই ২০১৬, সোমবার,
তুরস্কে গত শুক্রবারের ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের পর এ পর্যন্ত ৬ হাজার লোককে গ্রেফতার করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে অভ্যুত্থানের মূল পরিকল্পনাকারী ২ শীর্ষ জেনারেলও রয়েছে। ব্যর্থ অভ্যুত্থানের মূল হোতা ইসরাইলে সামরিক অ্যাটাচি ছিলেন বলে জানা গেছে।
এদিকে অভ্যুত্থান ব্যর্থ হওয়ার পর যে ৮ সেনা সদস্য গ্রিসে পালিয়ে গিয়েছিল তাদেরকে সেখান থেকে ধরে দেশে নিয়ে আসা হয়েছে। অভ্যুত্থানের পর গুলেনের সংগঠনের সাথে সম্পর্ক থাকায় সর্বোচ্চ আদালতের ২ বিচারককে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ৩ হাজার বিচারক কৌসুলীকে আটকের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী গুলেনকে তুরস্কে ফিরিয়ে দিতে যুক্তরাষ্ট্র ও দেশটির প্রেসিডেন্ট ওবামার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এরদোগান। তুরস্কে অভ্যুত্থান প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত থাকার ইঙ্গিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এএফপি, আরটিএনএন, শীর্ষ নিউজ, আল জাজিরা, আনাদোলু।
তুরস্কে ব্যর্থ অভ্যুত্থান চেষ্টার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এ পর্যন্ত ৬,০০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার দেশটির বিচারমন্ত্রী বেকির বোজাদের বরাত দিয়ে দেশটির কয়েকটি গণমাধ্যম এ তথ্য জানায়।
গ্রেপ্তারের সংখ্যা আরো বাড়বে জানিয়ে বেকির বোজাদ বলেন, ‘এই বিচার প্রক্রিযা চলতে থাকবে।’ গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে বিচারক এবং ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারাও রয়েছেন। এর মধ্যে শনিবার পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ দেনিজলি থেকেই অর্ধশতাধিক সেনা সদস্য গ্রেপ্তার হয়েছেন।
২ মূল পরিকল্পনাকারী আটক
তুরস্কের ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের জন্য দেশটির সেনাবাহিনীতে শুদ্ধি অভিযান চলছে। ৮৩৯ সামরিক সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে দুই শীর্ষ কর্মকর্তাও রয়েছেন। তারাই অভ্যুত্থানচেষ্টার মূল নায়ক বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরা হলেন থার্ড আর্মির কমান্ডার জেনারেল এরদাল ওজতুর্ক এবং সেকেন্ড আর্মির কমান্ডার জেনারেল আদেম হুদুতি।
পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক তুরস্কের এক কর্মকর্তা আল জাজিরাকে বলেন, অভ্যুত্থানকারীরা বেশ কিছু সময় নিয়ে এর পরিকল্পনা করেছিলেন। আসন্ন সুপ্রিম মিলিটারি কাউন্সিল সভা হয়ে যেতে পারলে সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে আশঙ্কা করে তারা শুক্রবারেই কাজে নেমে পড়ে।
জেনারেল এরদাল ওজতুর্ক এবং জেনারেল আদেম হুদুতি ছিলেন মূল পরিকল্পনাকারী। এদের মধ্যে ওজতুর্ক ছিলেন আরো এগিয়ে। ধারণা করা হচ্ছে, ক্যু সফল হলে তিনিই হতেন সামরিক জান্তার প্রধান।
মূল হোতা
তুরস্কের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের মূল পরিকল্পনাকারী সন্দেহভাজন জেনারেল আকিন ওজতুর্ক ইহুদিবাদী ইসরাইলে সামরিক অ্যাটাচি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তুর্কি বিমান বাহিনীর সাবেক কমান্ডার জেনারেল ওজতুর্কসহ অন্তত ছয় সন্দেহভাজন জেনারেলকে ব্যর্থ অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযেগে আটক করা হয়েছে।
জেনারেল ওজর্তুক ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত তুরস্কের তেল আবিব দূতাবাসে সামরিক অ্যাটাচি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে তুর্কি বিমান বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। অবশ্য গত বছর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান জেনারেল ওজর্তুক। কিন্তু তুর্কি সর্বোচ্চ সামরিক পরিষদ তার সদস্যপদ বজায় রেখেছিলেন তিনি। অভ্যুত্থানের আগে তাকে দায়িত্বশীল সামরিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে গণ্য করা হতো। নিজ দেশ এবং ন্যাটো তাকে অনেক পদে ভূষিত করেছে।
তুরস্ক ঘোষণা করেছে, ওজতুর্ক এবং তার সহযোগীদের রাষ্ট্রদ্রোহিতার দায়ে বিচার করা হবে। এদিকে তুর্কি প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম বলেছেন, অভ্যুত্থানে জড়িতদের মৃত্যুদ- দেয়া হবে না। তুরস্কের সংবিধানে মৃত্যুদ- দেয়ার বিধান নেই। অবশ্য ভবিষ্যৎ অভ্যুত্থান আশংকা বন্ধের জন্য দেশটির সংবিধানে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এদিকে অভ্যুত্থান প্রচেষ্টায় জড়িত থাকার দায়ে ২৮৩৯ জনের বেশি সেনাকে আটক করা হয়েছে।
গ্রিস থেকে ধরে আনা হলো ৮ তুর্কি সেনাকে
গ্রিসে পালিয়ে যাওয়া আট সেনা সদস্যকে শনিবার মধ্যরাতে আটক করে নিয়ে এসেছে তুরস্ক।
সেনা অভ্যুত্থান চেষ্টা ব্যর্থ হলে ওই সেনা সদস্যরা একটি সামরিক ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার নিয়ে গ্রিসে পালিয়ে গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করে।
তুরস্কের সেনাবাহিনীর সদস্যরা আরো দুটি হেলিকপ্টারে করে গ্রিসে গিয়ে শনিবার রাত সাড়ে ১১টায় পালিয়ে যাওয়া সেনা সদস্যদের আটক করে নিয়ে আসে। এদের মধ্যে একজন কর্নেলও ছিলেন।
গ্রিসের পুলিশ জানায়, স্থানীয় সময় শনিবার বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে একটি হেলিকপ্টারে করে ওই আট সেনা সীমান্তবর্তী আলেক্সান্দ্রোপিয়ায় অবতরণ করে।
অলগা গেরোভেসিলি নামে গ্রিস সরকারের এক মুখপাত্র গণমাধ্যমকে জানান, শনিবার সকালে গ্রিসের আকাশসীমায় ঢুকে এসওএস বার্তা পাঠিয়ে তুরস্কের একটি সামরিক হেলিকপ্টার জরুরি অবতরণের অনুমতি চায়। পরে তাদের গ্রেপ্তার করা হলে তারা গ্রিস সরকারের কাছে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করে। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রী গ্রিসের পররাষ্ট্র মন্ত্রীকে তাদের ফিরিয়ে দেয়ার অনুরোধ করেন। এরপর শনিবার মধ্যরাতে তাদের তুরস্কে নিয়ে আসা হয়।
দুই বিচারক গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী তুরস্কের ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লাহ গুলেনের সংগঠন ফেতু’র (এফইটিও) সঙ্গে সম্পর্ক থাকায় তুরস্কের সর্বোচ্চ আদালতের দু’জন বিচারক আলপারসান আলতান ও এরদাল তেরকানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা দু’জনেই তুরস্কের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক আদালতের সদস্য।
তুরস্কের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ফেতুল্লাহ গুলেনের সংগঠন ফেতু একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। তিনি তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের চেষ্টা করেছেন। তার সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক আছে ওই দু’জন বিচারকের।
আটকের নির্দেশ
ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের পর দেশটির দুই হাজার ৭৪৫ বিচারক ও সরকারি কৌঁসুলিকে আটক করার নির্দেশ দিয়েছে তুরস্কের কর্তৃপক্ষ। দেশটির এনটিভি টেলিভিশনের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
তুরস্ক সরকারের অভিযোগ, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লা গুলেনের অনুসারীরা এই সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টা চালিয়েছে। আর বিচার বিভাগের যাদের আটক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারাও তার অনুসারী বলেই সরকারের অভিযোগ।
পরিস্থিতি যখন প্রায় সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে, তখন এরদোগান ইস্তাম্বুলের কামাল আতাতুর্ক বিমানবন্দরে সংবাদ সম্মেলন করে যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছানির্বাসনে থাকা তুরস্কের ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লা গুলেন এবং তার অনুগত সেনা কর্মকর্তা ও সদস্যদের অভ্যুত্থানের জন্য দায়ী করেন। তবে গুলেন অভ্যুত্থানে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এরদোগানের একসময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ফেতুল্লা গুলেন একজন ইসলাম প্রচারক। তিনি এখন থাকেন যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের পোকোনো পার্বত্য এলাকার একটি ছোট শহরে। ১৯৯৯ সাল থেকে তিনি সেখানে আছেন। নিজ দেশ তুরস্কে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ ওঠার পর থেকেই তার যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস।
সাম্প্রতিক সময়ে হিজমত নামে পরিচিত গুলেন সমর্থকদের আন্দোলন তুরস্কে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় এরদোগান ও গুলেনের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। তুরস্কের গণমাধ্যম, পুলিশ এবং বিচার বিভাগে এ আন্দোলন জনপ্রিয়তা পেয়েছে। আর এ বিষয়টি নিয়েই এক সময়ের সহযোগী গুলেন পরিণত হয়েছেন এরদোগানের শত্রুতে।

গুলেনকে ফেরত দিন
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী তুরস্কের ধর্মীয় নেতা হিসেবে পরিচিত ফেতুল্লা গুলেনকে তুরস্কে ফিরিয়ে দিতে যুক্তরাষ্ট্র ও দেশটির প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান।
তুরস্কে শুক্রবার রাতে ঘটে যাওয়া ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানে ফেতুল্লা গুলেনের ইন্ধন আছে এমন অভিযোগ এনে তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুরস্কে ফেরত দেয়ার দাবি জানান তিনি।
এরদোগান বলেন, ফেতুল্লা গুলেনই তুরস্কের জনগণের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান সৃষ্টি করেছে।
তিনি বলেন, এর আগেও তুরস্ক বার বার বলেছে গুলেনকে হস্তান্তর করতে। গুলেন একজন প্রবাসী। আমি যুক্তরাষ্ট্রকে বলেছিলাম তাকে বিতাড়িত করুন কিংবা তুরস্কে ফেরত দিন।
এরদোগান বলেন, গুলেনকে তুরস্কে ফেরত দেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রতি আমি পুনরায় আহ্বান জানাচ্ছি। সূত্র : আনাদোলা এজেন্সি।
যুক্তরাষ্ট্র বহিষ্কার করবে
 মার্কিন সরকার ঘোষণা করেছে, তুরস্ক সরকার দাবি জানালে দেশটির বিরোধী নেতা ফতেহউল্লাহ গুলেনকে বহিষ্কার করতে প্রস্তুত রয়েছে ওয়াশিংটন।
তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান শনিবার সন্ধ্যায় টেলিভিশনে দেয়া ভাষণে জোর দিয়ে বলেছেন, গুলেনকে আঙ্কারার কাছে হস্তান্তর করা উচিত। এ সময় তিনি বলেন, কোনো সন্ত্রাসীকে ফেরত দেয়ার বিষয়ে আঙ্কারা ওয়াশিংটনের দাবি প্রত্যাখ্যান করেনি। সে কারণে গুলেনের বিষয়ে তুরস্কের দাবি গ্রহণ করা উচিত।
সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী লড়াইয়ে আমেরিকার সঙ্গে তুর্কি জাতির সহযোগিতার কথাও তিনি তুলে ধরেন। এরদোগান বলেন, “আমরা যদি কৌশলগত অংশীদার হয়ে থাকি তাহলে আপনাদের উচিত আমাদের অনুরোধ শোনা।”
এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেছেন, আমেরিকায় অবস্থানকারী গুলেনকে দেশে ফেরত পাঠানোর আগে তুর্কি সরকারকে অবশ্যই গুলেনের অন্যায় প্রমাণ করতে হবে। এরদোগানের এক সময়কার ঘনিষ্ঠ সহযোগী গুলেন ১৯৯৯ সাল থেকে আমরিকায় অবস্থান করছেন।
লুক্সেমবার্গে এক সংবাদ সম্মেলনে কেরি বলেছেন, “গুলেন সম্পর্কে যে প্রশ্ন উঠেছে আমরা সম্পূর্ণভাবে তা মেনে নিচ্ছি এবং অবশ্যই আমরা তুর্কি সরকারকে বলব গুলেনের অন্যায় সম্পর্কে যথাযথ প্রমাণ দিন। যদি তুরস্ক সে প্রমাণ দিতে পারে তাহলে আমেরিকা তা গ্রহণ করবে এবং সে অনুযায়ী সঠিক ব্যবস্থা নেব।”
তুরস্কে ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের পর প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম বলেছেন, গুলেনের সমর্থকরা এ অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার সঙ্গে জড়িত কিন্তু গুলেন সে অভিযোগ নাকচ করে বলেছেন, এর সঙ্গে তার ও তার সমর্থকদের কোনো সম্পর্ক নেই। ঘটনার পরপরই গুলেন এর নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, “আমি সুনির্দিষ্টভাবে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করছি।” কিন্তু এরদোগান সরকার ধর্মীয় নেতা গুলেনকেই অভিযুক্ত করছে। বলা হয়, সামরিক বাহিনীর ভেতরে শীর্ষ পর্যায়ের বহু কর্মকর্তা গুলেনের সমর্থক।
এ অবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তুরস্কের সব পক্ষকে নির্বাচিত সরকারের প্রতি সমর্থন দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সব ধরনের সহিংতা ও রক্তপাত এড়ানোর জন্য তুরস্কের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।
জন কেরির ক্ষোভ
তুরস্কের ব্যর্থ অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার সঙ্গে আমেরিকার জড়িত থাকার আভাস দিয়ে আঙ্কারা যে বক্তব্য দিয়েছে তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন।
এ জাতীয় বক্তব্যকে মিথ্যা এবং তুর্কি-আমেরিকার সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন।
তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসওগ্লুর উদ্দেশে দেয়া বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি এ দাবি করেন। তিনি আঙ্কারাকে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ব্যর্থ অভ্যুত্থানে আমেরিকার যোগসাজশ থাকার বিষয়ে প্রকাশ্য বিবৃতি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র বিভাগের মুখপাত্র জন কিরবি এক বিবৃতিতে কেরির বক্তব্যের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। অভ্যুত্থান ষড়যন্ত্রের তদন্তের বিষয়ে ধৈর্য ধারণের জন্য আঙ্কারার প্রতি কেরি আহ্বান জানিয়েছেন বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তুরস্কের বিরোধী নেতা ফতেহউল্লাহ গুলানকে আমেরিকায় আশ্রয় দেয়াকে কেন্দ্র করে তুর্কি কর্মকর্তারা ওয়াশিংটনের পরোক্ষ সমালোচনা করছে। আঙ্কারা প্রশাসন দাবি করছে, এ অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার পরিকল্পনা করেছেন গুলান। আঙ্কারার এমন পরোক্ষ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এবারে মুখ খুললেন জন কেরি।
মার্কিন ঘাঁটি থেকে আটক
এএফপি : তুরস্কে আমেরিকার ব্যবহৃত একটি বিমান ঘাঁটি থেকে ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের কয়েকজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে তুরস্কের বিমান বাহিনীর একজন জেনারেল ও অন্য কয়েকজন কর্মকর্তা রয়েছেন।
গতকাল রোববার তুরস্কের দৈনিক হুররিয়াত পত্রিকাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম এ খবর দিয়েছে।
সিরিয়ায় তৎপর সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কথিত বিমান অভিযানে তুরস্কের ইনজারলিক নামে এ ঘাঁটিটি ব্যবহার করে আমেরিকা। সেখান থেকে তুর্কি বিমান বাহিনীর জেনারেল বেকির এরকান ভানকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তার সঙ্গে এক ডজনেরও অনুগত সেনা কর্মকর্তাকে আটক করা হয়।
তুরস্কের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি বলেছে, আংকারা ধারণা করছে এ বিমান ঘাঁটি থেকে অভ্যুত্থানকারীরা জঙ্গিবিমানে জ্বালানি নিয়েছে।
গত বছর তুরস্ক ইনজারলিক বিমান ঘাঁটিটি আমেরিকাকে ব্যবহারের অনুমতি দেয়। সেখান থেকে আমেরিকা উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল বা দায়েশের বিরুদ্ধে কথিত বিমান হামলা চালাচ্ছে। তবে এসব হামলার তেমন কোনো প্রভাব দেখা যায় না।
ইনজারলিক বিমান ঘাঁটিটি কৌশলগত দিক দিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে আমেরিকার অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য মার্কিন যুদ্ধবিমান এ-১০ রয়েছে। এছাড়া, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনীর যে ছয়টি ঘাঁটি রয়েছে এটি তার একটি। সেখানে পরমাণু বোমাও রাখা হয়েছে।
গণতন্ত্রের জয়গান
হাততালি দিয়ে গান গাইতে গাইতে ভিড়টা চলেছে। হাতে জাতীয় পতাকা। গলায় স্লোগান, ‘উই ওয়ান্ট ডেমোক্রেসি!’ মাঝরাত পেরিয়ে গিয়েছে। ঘণ্টাখানেক আগেও শ্যুটিং করেছি। তখনই বুঝতে পারছিলাম, কিছু একটা ঘটছে এই দেশটায়। হোটেলে ফিরে টিভি খুলতেই স্পষ্ট হল সব। অভ্যুত্থানের চেষ্টা করেছিল তুর্কি সেনাবাহিনীর একটা অংশ। সেই চেষ্টা ব্যর্থ করতে পথে নেমেছে সাধারণ মানুষ।
ভেবে কেমন লাগছিল। যে বসফরাস ব্রিজে সকালে শ্যুটিং করে এলাম, রাতে সেখানেই দাঁড়িয়ে রয়েছে বিদ্রোহীদের একটা ট্যাঙ্ক!
তারপর জানলা দিয়ে বাইরে চোখ পড়তেই রাস্তায় নেমে এলাম। আমার সঙ্গে ইউনিটের কয়েকজন। দেখলাম, চলেছে ভিড়। তুলনাটা ঠিক হচ্ছে কি না জানি না, কিন্তু হঠাৎ চোখের সামনে ভেসে উঠল কলকাতার মিছিল। রাজনীতির নয়, প্রতিবাদী জনতার। মনে পড়ল নির্ভয়ার মৃত্যুর পর দিল্লির রাজপথ। সারা বিশ্বে এভাবেই তো বারবার পথে নামে সাধারণ মানুষ তত ক্ষণে খবরে বলেছে, প্রায় একশো জন মারা গিয়েছেন। এবং সংখ্যাটা বাড়ছে। বিদ্রোহীরা নাকি নানা জায়গায় গুলী চালাচ্ছে। সে শব্দ আমরাও শুনেছি। এ বার একটা তিরতিরে চিন্তা হচ্ছিল। শ্যুটিংটা শেষ করতে পারব তো?
আমার এই ছবির প্রায় পুরোটাই শ্যুটিং হচ্ছে তুরস্কে। প্রায় ছ’সপ্তাহের শ্যুটিং। ইস্তাম্বুলে আরও সপ্তাহ খানেক থেকে তার পর দূরের কয়েকটা ট্যুরিস্ট স্পটে লোকেশন। এই ছবিতে কাজ করছেন ব্রাত্য বসু, মিমি চক্রবর্তী, গৌরব চক্রবর্তী, যশ দাশগুপ্তরা।  সবাই এখন ইস্তাম্বুলে। আমাদের সবার হোয়াটসঅ্যাপ-টুইটারে উপচে পড়া উদ্বেগ। নির্যাস একটাই ‘ভাল আছিস তো?’
টুইটারে লিখলাম ঠিক আছি। ফোনও করলাম বাড়িতে। মিমির মা টেনশনে পড়ে গিয়েছিলেন। মাঝে ওর চোখ লেগে গিয়েছিল, আর সেই সময়েই মায়ের ফোন। উনিই জানালেন, টিভিতে দেখানো হচ্ছে যে, আমরা হোটেলে বন্দী। ব্যাপারটা কিন্তু তা নয়। এখানকার ভারতীয় দূতাবাস আমাদের বলেছিল, শুধু শনিবারটা যেন আমরা শ্যুটিং বন্ধ রাখি। আমরা তাই সকালে আর বেরোইনি।
বিদেশ মন্ত্রক ও ভারতীয় দূতাবাস খুব সাহায্য করছে। ওঁরা বলেছেন, রোববার থেকে আবার শ্যুটিং করতে পারব। এই লেখা যখন পাঠাচ্ছি, তখন শনিবার প্রায় সন্ধ্যে। দিব্যি গাড়ি চলছে। স্কুল থেকে ফিরছে বাচ্চারা। কে বলবে, এক রাত আগে সব অন্য রকম ছিল।
আমাদের ছবিটা পুজোয় বেরোনোর কথা। তবু মন ভারী হয়ে রয়েছে। গা ঘেঁষে এতগুলো মৃত্যু ঝাঁকিয়ে দিয়ে গিয়েছে আমাদের।    -সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা
http://goo.gl/6Tfx6y