১৮ অক্টোবর ২০১৯, শুক্রবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
পিপল পাওয়ার
১৮ জুলাই ২০১৬, সোমবার,
মানবস্রোত। বাঁধভাঙা। শুধু মানুষ আর মানুষ। নিরস্ত্র। হাতে জাতীয় পতাকা। মুখে গণতন্ত্রের জয়গান। জন্মলগ্ন থেকে গণতন্ত্রকে পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়েছে বারবার। নানান কিসিমের মানুষ গণতন্ত্রের পথে বাধা হয়েছেন। গণতন্ত্রের ছদ্মবেশও ধারণ করেছেন অনেকে। জনগণই সকল ক্ষমতার মালিক। কথাটি যে শুধু বাকওয়াজ নয়, তুরস্কের জনগণ সে কথা আবারও প্রমাণ করেছেন। শুক্রবার মধ্যরাতে হঠাৎই পালটাতে থাকে তুরস্কের দৃশ্যপট। বিবিসি’র খবরে বলা হয়, রাতে যখন প্রথম তুরস্কে অভ্যুত্থানের খবর ছড়িয়ে পড়ে তখন কয়েক ঘণ্টা ধরে দেশটির নিয়ন্ত্রণ বিদ্রোহী সেনাদের হাতে বলেই মনে হচ্ছিল। রাজধানী আংকারা আর সবচেয়ে বড় নগরী ইস্তাম্বুলের প্রধান স্থাপনাগুলোতে ছিল তাদের দৃশ্যমান উপস্থিতি। টেলিভিশন চ্যানেলগুলো দখল করে নেয় সেনাবাহিনী এবং তাদের সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়। অভ্যুত্থানের চেষ্টা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দেখা গেল প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম তা প্রতিরোধের চেষ্টা শুরু করেছেন। তবে তুরস্কের বেশির ভাগ মানুষ জানতেন, প্রকৃত ক্ষমতা আসলে প্রেসিডেন্ট এরদোগানের হাতে এবং কিছু করতে হলে তাকেই নেতৃত্ব দিতে হবে।
এরদোগান তখন দক্ষিণাঞ্চলের একটি শহরে অবকাশ কাটাচ্ছিলেন। ফৌজি অভ্যুত্থানের খবর পাওয়ার পরপরই তিনি তার নিজস্ব উপায়ে তা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। এক মোবাইল ভাষণে তিনি জনগণকে রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানান। ডাক দেন গণপ্রতিরোধের। তার ডাকে মুহূর্তের মধ্যে সাড়া দেয় লাখ লাখ মানুষ। জনতার প্রতিরোধের সামনে ভেসে যায় সেনাশক্তি। ট্যাংক আর ভারি অস্ত্র জনগণ মোকাবিলা করে খালি হাতে। ছবিটি এরইমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে সারা দুনিয়ায়। একটি ট্যাংকের সামনে শুয়ে রয়েছেন এক ব্যক্তি। ট্যাংকের উপরে দাঁড়িয়ে জনতার উল্লাসের নৃত্যের ছবিও দেখা গেছে। হাজার হাজার জনগণ ক্রমান্বয়ে বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা দখলে নিয়ে নেয়। জনপ্রতিরোধের মুখে পিছু হটতে শুরু করে বিদ্রোহী সেনারা। এক পর্যায়ে তারা আত্মসমর্পণ করেন। পরিস্থিতি এখন পুরোটাই সরকারের নিয়ন্ত্রণে। যদিও কিছু অনিশ্চয়তা এখনও আছে। এ নিবন্ধ যখন লেখা হচ্ছে তখনও লাখ লাখ মানুষ রাজপথে অবস্থান করে আছে।
দৃশ্যত ক্ষমতায় টিকে গেলেন এরদোগান। নিজ দেশে তার সমালোচনা রয়েছে। বিশেষকরে বিরোধী মত দমনে তার নীতি সমালোচিত। বাংলাদেশেও তিনি বিতর্কিত। তবে তুরস্কে জয় যতটা না এরদোগানের তার চেয়ে বেশি জনগণের এবং গণতন্ত্রের। গণতন্ত্রের সঙ্গে কোনো কিছুরই বিনিময় হয় না- এ কথাই সাফ ঘোষণা দিয়েছেন তুরস্কের জনগণ। গণতন্ত্রের প্রশ্নে তারা কোনো আপস করতে রাজি নন সে বার্তাই তারা দিয়েছেন। তাদের মুখে গান ছিল- ‘উই ওয়ান্ট ডেমোক্রেসি।’ জয় হয়েছে তাদের। জয় হয়েছে আসলে মেহনতি মানুষেরও। যেমনই হোক গণতন্ত্রই যে সর্বোত্তম শাসন ব্যবস্থা। কোনো ফৌজি ব্যবস্থা গণতন্ত্রের বিকল্প হতে পারে না- লাখ লাখ তুর্কি জানান দিলেন সেটাই। এই সেনা অভ্যুত্থান ব্যর্থ করে দেয়ার পেছনে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর ভূমিকাও প্রশংসনীয়। বিশ্বশক্তির প্রায় সবাই একযোগে এ অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়েছেন। পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখে জাতিসংঘ। নির্বাচিত সরকারের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিবৃতি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। যদিও অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘে উত্থাপিত একটি প্রস্তাব মিশরের বাধার কারণে পাস হয়নি।
অভ্যুত্থানের দীর্ঘ ইতিহাস থাকা তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরেই গণতন্ত্রের পথে রয়েছে। এখন সেখানে তৈরি হয়েছে এক অনিশ্চয়তা। তুরস্ক পরিস্থিতি কোন্দিকে যায় তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তবে এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়, পিপল পাওয়ারের এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন তুরস্কের জনগণ। জয়তু জনতা।
http://www.mzamin.com/article.php?mzamin=23094&cat=2/%E0%A6%AA%E0%A6%BF%E0%A6%AA%E0%A6%B2-%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%93%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0