২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শুক্রবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে বিরল ঐক্য তুরস্ক পার্লামেন্টে
১৮ জুলাই ২০১৬, সোমবার,
জনতার পর এবার ঐক্য প্রকাশ করলো তুরস্কের সব রাজনৈতিক দল। পার্লামেন্টের জরুরি অধিবেশনে তারা অভ্যুত্থানচেষ্টার বিরুদ্ধে এই ঐক্য প্রকাশ করেছে। শুক্রবার রাতে দেশটির সেনাবাহিনীর একাংশ অভ্যুত্থান ঘটানোর চেষ্টা করে। কিন্তু জনতার প্রতিরোধে তা ভেস্তে যায়। এ অবস্থায় শনিবার জরুরি অধিবেশন আহ্বান করা হয় তুরস্কের পার্লামেন্ট দ্য গ্রান্ড ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির। অধিবেশন চলাকালে এর বাইরে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। পার্লামেন্টের এই বিরল অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন একশ’ রাষ্ট্রদূত। তারা তুরস্ক সরকারের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন। এতে বিরল এই অধিবেশনে যোগ দেননি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূতরা। পার্লামেন্টে এ অধিবেশন শুরু হয় অভ্যুত্থানচেষ্টাকারীদের হাতে নিহত ব্যক্তিদের প্রতি সম্মান জানানোর জন্য নীরবতা পালনের মধ্যে দিয়ে। এরপর স্পিকার ইসমাইল কাহরামান তুরস্কের জাতীয় সংগীতের ১০টি বাক্যই উচ্চারণ করেন। তার সঙ্গে পার্লামেন্টে উপস্থিত সবাই মুখ মিলান। পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম প্রবেশ করামাত্র তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে পড়েন সবাই। তিনি এ সময় বিরোধী দলের পার্লামেন্ট সদস্যদের সঙ্গে করমর্দন করেন। এরপর অভ্যুত্থানচেষ্টার বিরুদ্ধে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। এতে সম্মতি ছিল পার্লামেন্টের মোট চারটি দলের। শুক্রবার রাতে গুলেনপন্থি সেনা কমান্ডোরা যে ব্যর্থ অভ্যুত্থানচেষ্টা চালায় তার নিন্দা জানানো হয় এতে। প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম জোর দিয়ে বলেছেন, যারা জাতির বড় ক্ষতি করার জন্য অভ্যুত্থানচেষ্টা করেছিল উপযুক্ত শাস্তি তাদের পাওনা। তিনি আরো বলেন, আজ (শনিবার) এমন একটি দিন যেদিন তুরস্কের সব রাজনৈতিক দল অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। সবাই পার্লামেন্টে যে সহযোগিতা দেখিয়েছেন তাতে নতুন করে আমাদের যাত্রা শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর পার্লামেন্টে বক্তব্য রাখেন রিপাবলিকান পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান কামাল কিলিকদারোগলু। তিনি অভ্যুত্থানচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানান। এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে সব রাজনৈতিক দল। অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে সব দলের ডেপুটিরা গণতন্ত্রকে গ্রহণ করেছেন। অভ্যুত্থানচেষ্টার নিন্দা করেছেন ন্যাশনালিস্ট মুভমেন্ট পার্টি চেয়ারম্যান ডেভলেট বাহসেলি। তিনি অভ্যুত্থানচেষ্টাকে সন্ত্রাসী হামলা বলে আখ্যায়িত করেন। পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির ডেপুটি গ্রুপ চেয়ারম্যান ইদ্রিস বালুকেন তীব্র ভাষায় অভ্যুত্থানচেষ্টার নিন্দা জানান।
‘শুদ্ধি অভিযানে’ আটক ৬ হাজার
শুক্রবারের ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের পর তুরস্কে চলছে ব্যাপক ধরপাকড়। সেনা ঘাঁটিতে চলেছে অভিযান। এ পর্যন্ত ওই অভ্যুত্থানের জন্য আটক হয়েছেন ৬ হাজারেরও বেশি মানুষ। এই সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। আটকদের মধ্যে রয়েছেন ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাসহ আড়াই হাজারেরও বেশি বিচারক। গতকাল দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের ডেনিজলি প্রদেশ থেকে আটক করা হয়েছে ৫০ জনেরও বেশি জ্যেষ্ঠ সেনা সদস্যকে। দেশটির বিচারমন্ত্রী একে ‘শুদ্ধি অভিযান’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। আর এই অভ্যুত্থানে জড়িতদের জন্য সংসদে মৃত্যুদণ্ডের প্রস্তাব পাস হতে পারে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট। এ খবর দিয়েছে বিবিসি। খবরে বলা হয়, ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর তুরস্ক সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাপক হারে আটক চলছে। সরকারের বিরোধিতা করেছেন যেসব সামরিক কর্মকর্তা বা বিচারক তাদের বিরুদ্ধে আটকাদেশ দেয়া হয়েছে। দেশটির বিচারমন্ত্রী বেকির বোজড্যাগ জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত আটকের সংখ্যা ৬ হাজার পেরিয়ে গেছে। আর এই সংখ্যা আরো বাড়বে বলেই মনে করছেন তিনি। বোজড্যাগ এই আটক অভিযানকে ‘শুদ্ধি অভিযান’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এই অভিযানে আটক হয়েছেন দেশটির অনেক বড় বড় সামরিক কর্মকর্তারাও। আটকদের মধ্যে রয়েছেন- সেনাবাহিনীর দ্বিতীয় কমান্ডার জেনারেল আদেম হুদুতি, তৃতীয় কমান্ডার জেনারেল ইরদাল ওজতুর্ক ও বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান আকিন ওজতুর্ক। তুরস্কের আনাদোলু বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, রোববার আটক হওয়া ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন ডেনিজলি গ্যারিসনের কমান্ডার মেজর জেনারেল ওজহান ওজবাকির। আটকদের মধ্যে রয়েছেন- জ্যেষ্ঠ বিচারক আলপারসলান আলতান। এদিকে পালিয়ে গিয়ে গ্রিসে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করা আট তুর্কি সেনাকে অবৈধ প্রবেশের দায়ে আদালতে তোলা হয়েছে। তাদের আইনজীবী গ্রিক টিভিকে বলেছেন, তারা কেউই অভ্যুত্থানে অংশ নেননি। তবে তাদের উদ্দেশ্য করে তুর্কি পুলিশ গুলি ছুড়লে তারা গ্রিসে পালিয়ে যান। তুরস্কের পক্ষ থেকে তাদের ফেরত চাওয়া হয়েছে। আনাদোলু বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, দেশটির প্রধান বিচারিক সংস্থা শনিবার পর্যন্ত দেশটির ২,৭৪৫ জন বিচারককে বরখাস্ত করেছে। আর দেশটির প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম জানিয়েছেন, শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আটক সামরিক কর্মকর্তার সংখ্যা ২,৮৩৯ জন।
তুরস্কের একজন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে আল জাজিরাকে বলেন, সাংবিধানিক আদালত থেকে ২ জন বিচারক ও শীর্ষ বিচারিক সংস্থা এইচএসওয়াইকে থেকে ১০ জন বিচারককেও আটক করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, এসব বিচারককে আটক করার কারণ অভ্যুত্থানে সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজনদের সঙ্গে তাদের আর্থিক লেনদেন ও যোগাযোগের তথ্য। তিনি আরো বলেন, আটক সবাইকেই হয়তো দণ্ড পেতে হবে না। অন্য এক তুর্কি কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে জেনারেল ইরদাল ওজতুর্ককে আটক করার বিষয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা টের পেয়েছি, ভাবি এই জান্তা কিছু কিছু প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছিলেন। তারা নির্ধারণ করে রেখেছিলেন যে কোন কোন সামরিক কর্মকর্তা গভর্নর হবেন বা কারা সরকারি সংস্থাগুলোর নেতৃত্বে থাকবেন। কিন্তু তারা আসন্ন সুপ্রিম মিলিটারি কাউন্সিল বৈঠকের জন্য দ্রুত বেরিয়ে যেতে বাধ্য হন।’ তিনি অভ্যুত্থানের পরিকল্পনায় ইরদাল ওজতুর্ককে ‘মাস্টারমাইন্ডদের একজন’ বলে অভিহিত করেন।
অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়ার সাফল্য উদযাপন করতে রোববারও রাস্তায় বের হন অনেক তুর্কি। তাদের মধ্যে অনেকেই বর্তমান প্রেসিডেন্ট তাইয়্যেপের কর্তৃত্ববাদী আচরণের সমালোচক ছিলেন। তারা দ্রুত অভ্যুত্থানকে ব্যর্থ করে দেয়াকে গণতন্ত্রের জন্য বিজয় হিসেবেই দেখছেন। বিবিসির মিডল ইস্ট ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের সম্পাদক সেবাস্তিয়ান উশার জানিয়েছেন, তাইয়্যেপ তাকে উৎখাতের প্রচেষ্টাকে পরাস্ত করায় বিজয়ের পূর্ণ সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করবেন। তুরস্কের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা তাই কতটা অটল থাকে তা জানতে উৎসুক হয়ে রয়েছেন অনেক তুর্কিই।
http://www.mzamin.com/article.php?mzamin=23090&cat=2/%E0%A6%85%E0%A6%AD%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A7%87-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A6%B2-%E0%A6%90%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%AF-%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%95-%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%87