২৩ জুলাই ২০১৯, মঙ্গলবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মীর কাসেমের কবরে শোকার্ত মানুষের ঢল , দিনভর গায়েবানা জানাযা দোয়া বুকফাটা কান্না চোখে অশ্রুধারা
৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬, সোমবার,
ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ থেকে : শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর চোখের পানিতে সিক্ত হয়ে চির বিদায় নিলেন শহীদ মীর কাসেম আলী। জেলার হরিরামপুর উপজেলার চালা গ্রামে মসজিদের পাশে দাফনের পর থেকে ঢল নামে হাজার হাজার মানুষের। দাফনের সময় উপস্থিত থাকতে না পারলেও দিনভর হাজার হাজার মানুষ কবর যিয়ারত করেছেন, অংশ নিয়েছেন গায়েবানা জানাযায়। 
 
গায়েবানা জানাযা থেকে শুরু করে কবর জিয়ারত করার সময় মানুষের কান্না আর গগনবিদারি আহাজারিতে আশপাশের এলাকার পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। শনিবার রাতে গাজীপুরের কাসিমপুর কারাগারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর গভীর রাতে মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে কবরস্থ করা হয় মরহুমের লাশ। গভীর রাতে দূর দূরান্ত থেকে আসার পরও মীর কাসেম আলীর প্রথম জানাযায় অংশ নিতে না পারায় শত শত মানুষ কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এ সময় চারপাশে কান্নার রোল পড়ে যায়। এরপর সকাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পায়ে হেঁটে, রিকশায়, মোটর সাইকেল, অটোরিকশাসহ যে যেভাবে সম্ভব; কবর জিয়ারত করতে আসেন এবং মরহুমের শাহাদাত কবুলের জন্য মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করেন। এ সময় আগতদের কান্নায় আশপাশের পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে।
 
রাত পোহাবার পর রোববার মীর কাসেম আলীর প্রথম গায়েবানা জানাযা অনুষ্ঠিত হয় সকাল সাড়ে আটটায়। কবরস্থান থেকে ১শ’ গজ পূর্ব-উত্তর দিকে চালা আহাম্মদীয়া সুলতানিয়া সামছুল উলূম হাফেজিয়া মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত গায়েবানা জানাযায় ইমামতি করেন মানিকগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন। নামাজের আগে মুসল্লীদের উদ্দেশ্যে কথা বলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মো. কামরুল ইসলাম। 
 
মুসল্লীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, মীর কাসেম আলী শহীদ হয়েছেন। আমাদের তার আদর্শকে ধারণ করতে হবে। আমাদের সুন্দর আমল দিয়ে মানুষকে ইসলামের আদর্শে উদ্বুদ্ধ করে বাংলাদেশে ইসলাম কায়েম করে এই শাহাদাতের বদলা নিতে হবে। 
তিনি বলেন, মীর কাসেম আলী বলে গেছেন, সাধারণভাবে মৃত্যু হলে হয়তো কিছু মানুষ আমার জন্য দোয়া করতেন। কিন্তু যেভাবে আমার মৃত্যু হচ্ছে তাতে সারা বিশ্বের মানুষ আমার জন্য দোয়া করছেন। তিনি এও বলেছেন,তোমাদের সঙ্গে আমার দেখা হবে জান্নাতের সিঁড়িতে। এজন্য আমাদের উত্তম চরিত্র গঠনের পাশাপাশি মানুষকে ইসলামের ছায়াতলে নিয়ে আসতে হবে। প্রথম গায়েবানা জানাযায় সহস্রাধিক মুসল্লী অংশ নেন। জানাযায় অংশ নিয়ে এবং কবর জিয়ারত করার সময় মুসল্লীদের কান্না এবং আহাজারীতে পাহারায় থাকা পুলিশ সদস্যদের চোখও ভিজে ওঠে। 
 
প্রথম গায়েবানা জানাযায় অন্যদের মধ্যে শিবালয় উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা ওমর ফারুক, ইসলামী ছাত্র শিবির কেন্দ্রীয় কমিটির মানব সম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক মাহফুজুল হক, ছাত্রশিবিরের ঢাকা জেলা উত্তর সভাপতি আব্দুল কাদের, কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের সহকারী প্রচার সম্পাদক মো. জামাল উদ্দিনসহ স্থানীয় এলাকার মানুষ অংশ নেন। 
প্রথম জানাযার আধাঘণ্টা পরে ২য় জানাযা অনুষ্ঠিত হয় একই মাদরাসার সামনের মাঠে। এতে সাভার, ধামরাই, দোহার, টাঙ্গাইল, পাবনা, রাজবাড়ী ও ফরিদপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা লোকজন অংশ নেন।
দুপুর ১২টা পর্যন্তই মরহুম মীর কাসেম আলীর ৫টি গায়েবানা জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কবর জিয়ারতের জন্য স্রোতের মতো আসতে থাকে। পুরুষের পাশাপাশি নারী ও শিশুরাও মীর কাসেম আলীর কবর দেখতে এসে তার জন্য দোয়া করেন। দিনভরই ছিল মানুষের ঢল।
http://www.dailysangram.com/post/249905-%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%AD%E0%A6%B0-%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A6%BE-%E0%A6%A6%E0%A7%8B%E0%A7%9F%E0%A6%BE-%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A6%AB%E0%A6%BE%E0%A6%9F%E0%A6%BE-%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%9A%E0%A7%8B%E0%A6%96%E0%A7%87-%E0%A6%85%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE