২৬ এপ্রিল ২০১৯, শুক্রবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মসজিদের পাশে শায়িত হলেন শহীদ মীর কাসেম আলী
৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬, সোমবার,
ইবরাহীম খলিল, শাহীনুল ইসলাম তারেক, আবুল বাসার আব্বাসী, মানিকগঞ্জ থেকে : অছিয়ত অনুযায়ী মসজিদেরই পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন শহীদ মীর কাসেম আলী। তার হাতে গড়া মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার চালা গ্রামে মীরবাড়ি জামে মসজিদের উত্তর পশ্চিম কোণে তাকে দাফন করা হয়। গত শনিবার রাত সাড়ে ১০টায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর রাত পৌনে ৩টার দিকে তার লাশ নিয়ে পৌঁছে আইন শৃংখলা বাহিনী। নামাযে জানাযা শেষে দ্রুত সময়ে মসজিদের পাশের লেবু বাগানে তাকে দাফন করা হয়। এ সময় এলাকার মানুষ নামাযে জানাযায় অংশ নিতে চাইলেও কড়া নিরাপত্তা বলয়ের কারণে তারা আসতে পারেনি। তবে ভোর হওয়ার পর সারাদিন দফায় দফায় গায়েবানা জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। দিনভর ছিল মানুষের ঢল। 
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও বিশিষ্ট শিল্প উদ্যোক্তা মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ড গত শনিবার রাত সাড়ে ১০টায় গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার-২ এ কার্যকর করা হয়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর লাশের সুরতহাল রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন করা হয়। এরপর ময়নাতদন্ত শেষে পুলিশ-র্যা বের কড়া নিরাপত্তায় রাত সাড়ে ১২টার দিকে এ্যাম্বুলেন্সে করে মীর কাসেম আলীর লাশ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়। 
এর আগেই চালাগ্রামের মীরবাড়ি জামে মসজিদের পশ্চিম পাশে তার কবর খননের কাজ সম্পন্ন হয়। এ সময় স্থানীয় প্রশাসন গোটা এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করে। এর মধ্যেই রাত সাড়ে ১০টার দিকে পরিবারের সদস্যরা ৫টি গাড়িতে করে এলাকায় যান। তাদেরকে দেড় মাইল দূরে কলতাবাজার বেইলী ব্রীজের কাছে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পথরোধ করে। পরে তারা ৩টি গাড়িতে করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। পথে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলে আইনশৃংখলা বাহিনী। কাউকেই মীর কাসেম আলীর বাড়ির দিকে যেতে দেয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানিয়েছে, শনিবার রাত পৌনে তিনটার দিকে পুলিশ, র্যা ব ও বিজিবির ১৭টি গাড়ির পাহারায় মীর কাসেম আলীর লাশ মানিকগঞ্জের গ্রামের বাড়ি চালাগ্রামে পৌঁছায়। সেখানে স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে তার লাশ গ্রহণ করেন সহধর্মিনী খন্দকার আয়েশা খাতুন। পরে পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় কিছু লোকজন নিয়ে ওই গ্রামের মসজিদের পাশে নামাজে জানাযা শেষে তাকে দাফন করা হয়। নামাযে জানাযা পড়ান মরহুমের প্রিয়ভাজন, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আবুল হাসনাত আবদুল হালিম। পরে লাশ কবরে নামান মরহুমের ভাইয়ের ছেলে ইমরান ও ওসমানসহ তিন স্বজন। এসময় পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাদেরকে দুই মিনিটের জন্য মরহুমের মুখ দেখতে দেওয়া হয়। এলাকার হাজার হাজার মানুষ জানাযায় অংশ নিতে চাইলেও প্রশাসনের লোকজনের কারণে জানাযায় অংশ নিতে পারেননি। দাফন শেষে প্রশাসনের লোকজনের পাহারায় পরিবারের লোকজনকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। 
এর আগে রাত ৯টার দিকে এলাকার মানুষ কবরের কাছে আসতে চাইলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাড়িয়ে দেয়।
এদিকে মীর কাসেম আলীর লাশ দাফনের সংবাদ কাভার করার জন্য ঢাকা এবং স্থানীয় সংবাদ কর্মীরা চালায় যেতে চাইলে কবরস্থান থেকে ৬/৭ কিলোমিটার উত্তরে কলতাবাজার ব্রীজের সামনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আটকে দেয়। বাধ্য হয়ে সেখানেই সারারাত অবস্থান করেন অর্ধশতাধিক সংবাদ কর্মী। ওইদিন ভোর ৪টার দিকে সাংবাদিকদের কবরস্থানে যেতে দেওয়া হয়। এসময় কবরস্থানে গিয়ে দেখা যায়, একজন সহকারী দারোগার নেতৃত্বে কয়েকজন কনস্টেবল কবরস্থান পাহারা দিচ্ছেন। প্রথমে সংবাদকর্মীদের বাধা দিলেও পরবর্তীতে কবরস্থানে যেতে দেওয়া হয়। 
কবরস্থানে গিয়ে দেখা যায়, মসজিদের উত্তর-পশ্চিম পাশে মীর কাসেম আলীকে কবরস্থ করা হয়। কবরের উপর নীল পলিথিনে ঢাকা। কবরের চার কোণে চারটি বাঁশের খুটি এবং খেজুরের ডাল পুঁতে রাখা।
কবরের ১৫ ফুট দক্ষিণে এস এস পাইপ দিয়ে নির্মিত লাশের খাটিয়া পড়ে আছে। খাটিয়ার একদিকের ডালা খোলা। খাটিয়া থেকে আরও বিশ ফিট পশ্চিমে লাশের কফিনের বাক্স পড়ে আছে। পড়ে থাকা কফিনের পশ্চিম-উত্তর কোণে একটি ভেজা চাদর গোছানো অবস্থা এবং ২০/২৫ ফুট উত্তরে কফিনের উপরের ঢাকনা পড়ে আছে। কবরের চার পাশে লেবুর বাগান।
এলাকাবাসী জানান, মীর কাসেম আলীর যেখানে কবরস্থ করা হয় সেটা তার পৈত্রিক ভিটা নয়। তাদের সুতালড়ী ইউনিয়নের মুন্সিডাঙ্গা গ্রামের বাড়িটি পদ্মা নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় চালাগ্রামে ৫০ শতাংশ জায়গা কিনেন মীর কাসেম আলীর পরিবার। সেখানে বাড়ি করার ইচ্ছা থাকলেও আগে তিনি মসজিদ নির্মাণ করেন। কিন্তু সেখানে বাড়ি করার আগেই চলে গেলেন মহান রবের দরবারে।
http://goo.gl/Iqy9Ym