১৭ অক্টোবর ২০১৯, বৃহস্পতিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মীর কাসেম আলীর রিভিউ কার্যতালিকায়
২৪ আগস্ট ২০১৬, বুধবার,
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলীর রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) আবেদন শুনানির জন্য আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় এসেছে। আপিল বিভাগের আজ বুধবারের কার্যতালিকায় (কজলিস্টে) ৫ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে এই রিভিউ আবেদন। এদিকে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে শুনানির জন্য আরো আট সপ্তাহ সময় চেয়ে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করেছেন তার আইনজীবীরা। গতকাল মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বুধবারের কার্যতালিকায় শুনানির জন্য মীর কাসেম আলীর রিভিউ আবেদনটি ৫ নম্বর ক্রমিকে রাখা হয়েছে। এতে শুনানি মুলতবির একটি আবেদনের বিষয়ও উল্লেখ রয়েছে। 
গত ২৫ জুলাই রিভিউ শুনানির জন্য প্রস্তুতিতে দু’মাস সময় চাইলে সর্বোচ্চ আদালত এক মাস শুনানি পিছিয়ে দেন। ওইদিন মীর কাসেম আলীর প্রধান আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন রিভিউ শুনানির দুই মাসের সময় আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে আদালত এক মাসের সময় মঞ্জুর করেন। ওই দিনই ২৪ আগস্ট রিভিউ শুনানির পরবর্তী দিন নির্ধারণ করেন আদালত। 
আজ বুধবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চে এ মামলার শুনানি হবে। বেঞ্চের অন্য বিচারপতিরা হলেন-বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মোহাম্মদ বজলুর রহমান।
গত ২৫ জুলাইর শুনানিতে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, মামলার প্রস্তুতির জন্য আমরা দুই মাস সময় প্রার্থনা করছি। রাস্তাঘাটে যা দেখি আমাদের বুক কাঁপে। তিনি লাস্ট ম্যান, শেষ ব্যক্তি। আমাদের প্রস্তুতি নিতে সময় লাগবে। প্রধান বিচারপতি বলেন, এটি আপনার শেষ মামলা হবে কেন? আরো তো অনেক মামলা রয়েছে? খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, দেশে যে অবস্থা রাস্তায় বের হলেই শুধু অস্ত্রের ঝনঝনানি শোনা যায়। বাসা থেকে বের হওয়ার পথে সাত-আট জায়গায় চেক করা হয়। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, আপনি চাইলে আপনার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে। তবু এ মামলা দ্রুত শেষ করা প্রয়োজন।
গত ১৯ জুন আপিল বিভাগের মৃত্যুদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন করেন মীর কাসেম আলী। রিভিউ দাখিলের একদিন পরেই সরকার পক্ষ দিন ধার্যের জন্য আবেদন করে। পরে ২১ জুন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী রিভিউ শুনানির জন্য ২৫ জুলাই দিন ধার্য করেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিষয়টি আপিল বিভাগের ২৫ জুলাইর কার্যতালিকায় আসে। 
মীর কাসেম আলীর রিভিউতে বলা হয় আপিলের রায়ে ১১ নম্বর অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেয়া ত্রুটিপূর্ণ। আবেদনে আপিলের রায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়া সাতটি (২, ৩, ৭, ৯, ১০, ১১ এবং ১৪) অভিযোগ থেকে খালাস চান তিনি। খালাসের পক্ষে ৮৬ পৃষ্ঠার রিভিউ আবেদনে মোট ১৪টি যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। এসব যুক্তিতে বলা হয়েছে মীর কাসেম আলী নির্দোষ এবং ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নেই। 
রিভিউতে আরো বলা হয়েছে মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের রায়ে মারাত্মক ত্রুটি রয়েছে কেননা এটা সম্পূর্ণরূপে সন্দেহ ও অনুমানভিত্তিক এবং স্ববিরোধী রায়। তাই ন্যায়বিচারের স্বার্থে মামলাটি রিভিউ হওয়া উচিত। গত ৬ জুন মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে এ রায় প্রকাশিত হয়। 
গত ৮ মার্চ মীর কাসেম আলীর আপিল আংশিক মঞ্জুর করে তিনটি অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি এবং সাতটি অভিযোগে সাজা বহাল রাখেন সুপ্রিম কোর্টে আপিল বিভাগ। এরমধ্যে ১১ নম্বর অভিযোগে কিশোর মুক্তিযোদ্ধা জসিম উদ্দিন হত্যার অভিযোগে ট্রাইব্যুনালের দেয়ার মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। 
আপিলের সংক্ষিপ্ত রায়ে বলা হয়, আসামীপক্ষের আপিল আংশিক মঞ্জুর করা হলো। প্রসিকিউশন করা অভিযোগের মধ্যে ৪, ৬ ও ১২ নম্বর অভিযোগ থেকে মীর কাসেম আলীকে খালাস এবং ২, ৩, ৭, ৯, ১০, ১১ ও ১৪ নম্বর অভিযোগে মীর কাসেম আলীকে ট্রাইব্যুনালে দেয়া দণ্ড বহাল রাখা হলো। এরমধ্যে ১১ ও ১২ নম্বর অভিযোগে মীর কাসেম আলীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। ১২ নম্বর অভিযোগ থেকে আপিল বিভাগ খালাস দিলেও ১১ নম্বর অভিযোগে তার মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে।
২০১৪ সালের ২ নবেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে দু’ সদস্য মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রদান করেন। প্রসিকিউশনের আনীত ১১ ও ১২ নম্বর অভিযোগে মুক্তিযোদ্ধা জসিম ও জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে হত্যার অভিযোগে তাকে এই দণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল। এর মধ্যে ১২ নম্বর অভিযোগে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে রায় প্রদান করা হয়। এ ছাড়া ২ নম্বর অভিযোগে ২০ বছর, ৩, ৪, ৬, ৭, ৯ ও ১০ নম্বর অভিযোগে মীর কাসেম আলীকে ৭ বছর করে এবং ১৪ নম্বর অভিযোগে ১০ বছর কারাদণ্ডের আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। অপরদিকে ১, ৫, ৮ ও ১৩ নম্বর অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয় তাকে। ওইদিন মোট ৩৫১ পৃষ্ঠার রায়ের মধ্যে ১১ পৃষ্ঠার সংক্ষিপ্ত রায় পড়ে শোনায় ট্রাইব্যুনাল। 
একই বছরের ৩০ নবেম্বর ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় থেকে খালাস চেয়ে আপিল করেন মীর কাসেম আলী। তার পক্ষে আইনজীবীরা আপিলটি দাখিল করেন। আপিলটি পাঁচটি ভলিউমে ১৭৫০ পৃষ্ঠার। ১৫০ পৃষ্ঠার আপিলে ১৮১টি যুক্তিতে খালাস চাওয়া হয়েছিল। 
২০১২ সালের ১৭ জুন মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে ওই দিনই তাকে গ্রেফতার করে বিকেল সোয়া চারটার দিকে ট্রাইব্যুনালে নিয়ে আসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
http://www.dailysangram.com/post/248238-%E0%A6%AE%E0%A7%80%E0%A6%B0-%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%AE-%E0%A6%86%E0%A6%B2%E0%A7%80%E0%A6%B0-%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%AD%E0%A6%BF%E0%A6%89-%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A7%9F