২৩ অক্টোবর ২০২০, শুক্রবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
লাখো জনতার স্বত:স্ফূর্ত অংশগ্রহণে সারা দেশে মাওলানা নিজামীর গায়েবানা জানাযা
১২ মে ২০১৬, বৃহস্পতিবার,
জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর গায়েবানা জানাযা সারা দেশে হাজার হাজার জনতার অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল বুধবার রাজধানী ঢাকায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত হয়েছে গায়েবানা জানাযা। যোহরের নামায আদায় করার পর মূল জামায়াতেই অনুষ্ঠিত হয় গায়েবানা জানাযা। যারা মূল জামায়াতে অংশ নিতে পারেনি, তারা পরবর্তীতে বায়তুল মোকাররমের সাহান ও উত্তর গেটে খণ্ড খণ্ড একাধিক জানাযা নামায আদায় করেন। মাওলানা নিজামীর জন্য চোখের পানি ফেলে আল্লাহর কাছে তার শাহাদাতের মর্যাদা কামনা করেন। গায়েবানা জানাযা শেষ হওয়ার পর মুসুল্লীরা শ্লোগান দিতে দিতে মসজিদ থেকে বের হয়। এসময় পুলিশ মুসুল্লীদের দ্রুত চলে যাওয়ার জন্য রাস্তা পরিষ্কার করতে থাকে।
বায়তুল মোকাররমে গায়েবানা জানাযায় ইমামতি করেন টেকেরহাটের পীর শায়েখ কেবলা মাওলানা কামরুল ইসলাম সাঈদ আনাসারী। জানাযায় উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মন্জুরুল ইসলাম ভূইয়া, মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য ড. এ্যাডভোকেট মু. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরী কর্মপরিষদ ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা, ফরিদ হোসাইন, ড.মু.রেজাউল করিম, আব্দুস সবুর ফকির, লস্কর মোহাম্মদ তাসলিম। মহানগরী কর্মপরিষদের সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ইবনে কারীম আহমদ মিঠু, মাওলানা ফরিদুল ইসলাম, মাহফুজুর রহমান, রুহুল কুদ্দুস, অধ্যাপক মোর্কারম হোসেন, শেখ শরীফ উদ্দীন আহমদ ও আতিকুর রহমানসহ মহানগরীর অন্যান্য শূরা সদস্য, থানা আমীর ও সেক্রেটারিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ওলামায়ে কেরামদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শর্ষীনার ছোট পীর কেবলা মাওলানা শাহ আরিফ বিল্লাহ সিদ্দিকী, ভৈরবের পীর সাহেব কেবলা মুহতামিম মাওলানা জায়নুল আবেদীন, মুফতি তাজুল ইসলাম কাওসারী ও ড. খলিলুর রহমান আল-মাদানী প্রমুখ।
জানাযাপূর্ব সমাবেশে বক্তারা বলেন, শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী শুধু আমীরে জামায়াতই ছিলেন না বরং তিনি বিগত ৪ দলীয় জোট সরকারের আমলে কৃষি ও শিল্পমন্ত্রী হিসেবে সততা, যোগ্যতা, দক্ষতা, প্রজ্ঞা ও ন্যায়নিষ্ঠতার পরিচয় দিয়েছেন। অনেক চেষ্টা করেও আওয়ামী লীগ সরকার এমনকি জরুরি সরকারও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো প্রকার দুর্নীতি বা অনিয়মের অভিযোগ উত্থাপন করতে পারেনি। কিন্তু ফ্যাসিবাদী ও বাকশালী সরকার তাঁর সাফল্যে ঈর্শ্বান্বিত হয়ে কথিত বিচারের নামে প্রহসন করে এই বয়োবৃদ্ধ জাতীয় নেতাকে নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছে। কিন্তু জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে, হত্যা করে অতীতে কোনো আদর্শকে নির্মূল করা যায়নি, আর কখনো যাবেও না। বক্তারা সকলকে ধৈর্য্যধারণ করার পরামর্শ দেন এবং মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে আমীরে জামায়াতের শাহাদাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা কামনা করেন।
আমীরে জামায়াতের গায়েবানা জানাযায় শরীক হওয়ার জন্য সকাল থেকেই শোকার্ত জনতাকে দলে দলে মসজিদ কমপ্লেক্সের আশেপাশে সমবেত হতে দেখা যায়। বেলা ১২টার মধ্যেই গোটা বায়তুল মোকাররাম জাতীয় মসজিদ এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে। পুলিশ জনতাকে অহেতুক তল্লাশি চালিয়ে মসজিদে প্রবেশ পথে বাঁধা প্রদান করে। কিন্তু সকল প্রকার পুলিশি বাঁধা উপেক্ষা করে শোকার্ত ও বিক্ষুব্ধ জনতা মসজিদে প্রবেশ করার সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় এক সময় পুলিশ প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। জোহরের নামাযের আগেই জাতীয় মসজিদের অভ্যন্তরভাগ ও আশপাশের এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। মসজিদ কমপ্লেক্সে দাঁড়ানোর মতো তিলার্ধ পরিমাণ স্থানও ছিল না।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে আরো বলেন, সরকার নিজেদের অবৈধ ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করতেই হত্যা ও ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছে। সরকার অনির্বাচিত বলেই জনগণের কাছে তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই। তারা দেশ থেকে ইসলাম ও ইসলামী মূল্যবোধ ধ্বংস করতেই দেশের ইসলামিক স্কলারদেরকে বিশেষভাবে টার্গেট করেছে। সরকার কথিত বিচারের নামে একের পর এক জাতীয় নেতৃবৃন্দ হত্যা করে খুনের নেশায় মেতে উঠেছে। মূলত ক্ষমতাসীনরা গোটা দেশকে বধ্য ভূমিতে পরিণত করেছে। তারা আমীরে জামায়াতসহ শীর্ষনেতাদের হত্যা করার মাধ্যমে নেতৃত্বশূন্য করে দেশকে পরাশ্রয়ী করদরাজ্য বানাতে চায়। কিন্তু সরকারের সে স্বপ্নবিলাস কখনোই সফল হবে না বরং সময়ের প্রয়োজনে সকল সত্যই একদিন উদঘাটিত হবে এবং শহীদানের রক্তস্রত এই পবিত্র ভূমিতে ইসলাম বিজয়ী আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবেই।
রাজশাহী অফিস : জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরীর নায়েবে আমীর কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য প্রফেসর এম নজরুল ইসলাম বলেছেন, বাংলার জমিনে ইসলামী আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করতে আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী এ আন্দোলনের কর্মীদের হৃদয়ে প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন। 
তিনি গতকাল বুধবার বাদ জোহর নগরীর হেতেম খাঁ গোরস্থান চত্বরে আমীরে জামায়াত এর শাহাদাতে কেন্দ্রঘোষিত গায়েবানা জানাযা কর্মসূচি-পূর্ব সমাবেশে এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর থেকেই সরকারের বিভিন্ন কার্যকলাপে বিচারের নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা নিয়ে দেশে বিদেশে সমালোচনার ঝড় উঠে। দেশ-বিদেশের খ্যাতনাম আইনজীবী, মানবাধিকার সংগঠনসহ বিভিন্ন মহল থেকে নিরপেক্ষ বিচারের জোরাল দাবি হলেও সরকার কোন তোয়াক্কা না করে নিজেদের রায় বাস্তবায়নে মরিয়া হয়ে উঠে। মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পরও জাতিসংঘের একাধিক মানবাধিকার সংস্থা প্রধান ফাঁসি কার্যকর না করার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছে। তারপরেও সরকার একের পর এক অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ড চােিলয়ে যাচ্ছে। তিনি অবিলম্বে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বন্ধ এবং রাজশাহী মহানগর আমীর প্রফেসর এম আবুল হাশেমকে কোন মামলা ছাড়াই বাড়ি থেকে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও অবিলম্বে তাঁর মুক্তির জোর দাবি জানান।
গোদাগাড়ী (রাজশাহী) সংবাদদাতা : জামায়াতে ইসলামীর আমীর বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও সাবেক সফল মন্ত্রী, মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর রূহের মাগফিরাত কামনা করে গোদাগাড়ীতে গায়েবানা জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। গায়েবানা জানাযাপূর্ব সমাবেশে বক্তারা বলেন, জামায়াত একটি সুদৃঢ় সত্যপন্থী ও দেশপ্রেমিক দলের নাম। জামায়াত কর্মীরা মহান আল্লাহ ব্যতীত কখনো কারো কাছে মাথা নত করেনি। ভবিষ্যতেও করবে না ইনশাআল্লাহ। বিচারিক হত্যাকাণ্ড, গুম, মামলা ও গ্রেফতার চালিয়ে এই কাফেলার কাজ বন্ধ করতে পারবে না। মাওলানা নিজামীর প্রতি ফোঁটা রক্ত এ দেশের মাটিকে ইসলামী আন্দোলনের জন্য ঊর্বর করবে। এছাড়াও গোদাগাড়ীর ৯টি ইউনিয়নে গায়েবানা জানাযা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 
চারঘাট (রাজশাহীর) সংবাদদাতা : মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর গায়েবানা জানাযা গতকাল বিকেলে রাজশাহী চারঘাটের নিমপাডা, শলুয়া, সারদা ও চারঘাট ইউনিয়নে মোট চারস্থানে আলাদভাবে অনুষ্ঠিত হয়। শলুয়ায় অনুষ্ঠিত জানাযায় ইমামতি করেন রাজশাহী পূর্ব জেলা জামায়াতের আমীর রেজাউর রহমান এবং নিমপাড়া ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত জানাযায় ইমামতি করেন রাজশাহী পূর্ব জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মইনুল হোসেন। জানাযাপূর্ব সমাবেশে বক্তব্য দেন রাজশাহী পূর্ব জেলা জামায়াতের আমীর রেজাউর রহমান। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী পূর্ব জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও চারঘাট উপজেলা ভাইস- চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নাজমুল হক, চারঘাট উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মুহা. কামারুজ্জামান, সেক্রেটারি মু. শেরে আলম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চারঘাট উপজেলা সভাপতি মাওলানা শফিকুল ইসলাম, চারঘাট পৌর জামায়াতের আমীর নকিব উদ্দিন, শলুয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাস্টার আবুল কালাম আজাদ, নিমপাড়া ইউনিয়ন আমীর মিজানুর রহমান, সরদহ ইউনিয়ন সভাপতি আবুল ফজল, ইউসুফপুর ইউনিয়ন সভাপতি মহিদুল ইসলাম শামীম, ভায়ালক্ষীপুর ইউনিয়ন সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম, চারঘাট ইউনিয়ন সভাপতি সাজ্জাদুল ইসলাম, ছাত্রশিবির চারঘাট থানা সভাপতি মো. ইব্রাহিম হোসেন প্রমুখ। জামায়াত-শিবিরের স্থানীয় নেতা-কর্মীসহ শত শত সাধারণ জনগণ জানাযায় অংশগ্রহণ করেন।
চট্টগ্রাম অফিস : ছাত্রলীগ ও পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর গায়েবানা জানাযায় লক্ষাধিক তৌহিদী জনতার ঢল নেমেছে। গতকাল বুধবার বাদ যোহর নগরীর প্যারেড ময়দানে ও সংলগ্ন রাস্তায়। এ বিশ্বনন্দিত ইসলামী চিন্তাবিদের পর পর দুটি গায়েবানা জানাযার নামায অনুষ্ঠিত হয়। জানাযা নামাযগুলোতে ইমামতি করেন চট্টগ্রাম মহনগরী জামায়াতের আমীর মাওলানা মুহাম্মদ শামসুল ইসলাম ও নগর জামায়াত সেক্রেটারি মো: নজরুল ইসলাম। এদিকে জামায়াতের আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর গায়েবানা জানাযা ঠেকানোর ঘোষণা দিয়ে স্বর্তঃস্ফূর্ত জনতার ধাওয়া ও প্রতিরোধের মুখে পালিয়ে যায় ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। এর আগে চকবাজার ও চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ এলাকায় ককটেলের বিস্ফোরণ ও গুলী চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা। তারা বিভিন্ন দোকান ভাংচুর করে। বুধবার দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত দুপক্ষের মধ্যে কয়েক ধাওয়া পাল্টার মাঝেই গায়েবানা জানাযা সম্পন্ন করে জামায়াত-ছাত্রশিবির নেতা-কর্মীসহ জনতা। জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে প্যারেড মাঠে গায়েবানা জানাযার ঘোষণা দেয় জামায়াত। এর বিরোধিতা করে বুধবার দুপর ১২টা থেকে গায়েবানা জানাযা ঠেকাতে নগরীর চকবাজার প্যারেড মাঠের পশ্চিম গেইটে পুলিশের প্রহরায় অবস্থান নেয় সশস্ত্র ছাত্রলীগের ক্যাডাররা। অন্যদিকে জামায়াত-ছাত্রশিবিরসহ সাধারণ জনতা গায়েবানা জানাযার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ নিয়ে এলাকায় থমথমে অবস্থার সৃষ্টি হয়। এ সময় পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্যারেড মাঠের আশপাশে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মাওলানা নিজামীর গায়েবানা জানাযা ঠেকাতে প্যারেড মাঠের পশ্চিম গেটে অবস্থান নেয় ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। অন্যদিকে চকবাজারের গোলজার মোড় ও আশপাশের এলাকায় জামায়াত-ছাত্রশিবির নেতাকর্মীরা অবস্থান নেয়। এর মধ্যে দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রাম কলেজের পূর্বগেট ও কেয়ারি কর্নারে বেশ কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায় ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। পরে দুপুর দেড়টার দিকে সাধারন জনতা,জামায়াত-ছাত্রশিবিরের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী একত্রিত হয়ে চট্টগ্রাম কলেজের পূর্ব গেটের সামনের সড়কে প্রথম দফা গায়েবানা জানাযা আদায় করে। গায়েবানা জানাযা শেষে সাধারণ জনতা কলেজ সংলগ্ন প্যারেড মাঠে ঢুকে পড়ে। পরে জনতার ধাওয়ায় ছাত্রলীগ ক্যাডাররা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে চট্টগ্রাম কলেজের পূর্বগেট দিয়ে প্যারেড মাঠে ঢুকে পড়ে জামায়াত-ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। পরে লাখো তৌহিদী জনতার উপস্থিতিতে মাঠে দ্বিতীয় দফা গায়েবানা জানাযা শেষ করে উত্তর দিক দিয়ে বেরিয়ে যায় তারা। পালিয়ে যাওয়ার সময় ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা চারটি মোটরসাইকেল ও মাইক ভাংচুর করে। এ সময় পুলিশ গুলী ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। সংঘর্ষ চলাকালে প্যারেড মাঠের আশেপাশে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দোকানপাট বন্ধ করে দেয় ব্যবসায়ীরা। আতংক দেখা দেয় এলাকায়। চকবাজার থানার ওসি আব্দুল আজিজ জানান, মাওলানা নিজামীর গায়েবানা জানাযাকে কেন্দ্র করে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। 
দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রতিটি উপজেলায় গায়েবানা জানাযা অনুষ্ঠিত : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর সারা দেশে গায়েবানা জানাযার নামায অনুষ্ঠিত হয়। এরই অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, পটিয়া, আনোয়ারা, বোয়ালখালী ও কর্ণফুলী প্রতিটি উপজেলায় গায়েবানা জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। সাতকানিয়া উপজেলার ৯টি স্থানে, লোহাগাড়ায় ১০টি স্থানে, বাঁশখালীতে ১১টি স্থানে আনোয়ারা ৪টি স্থানে, পটিয়া ৪টি স্থানে বোয়ালখালী ১০টি স্থানে, চন্দনাইশ ২টি এবং কর্ণফুলী উপজেলার ২টি স্থানে গায়েবানা জানাযার নামায অনুষ্ঠিত হয়। এসব জানাযার নামাযে উপজেলা নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ বহু সংখ্যক জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। জানাযাপূর্ব সমাবেশে নেতৃবৃন্দ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুকে দ্বীনের জন্য শাহাদাতের মৃত্যু হিসেবে কবুল করার জন্য মুনাজাত করেন। বাংলাদেশে ইসলামী আন্দোলনের গতিকে বেগবান করার ক্ষেত্রে এ মহান নেতার শাহাদাত সর্বস্তরের ইসলামপ্রিয় জনগণের মাঝে অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করবে বলে নেতৃবৃন্দ মতামত পেশ করেন। তারা মাওলানা নিজামীর রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবার পরিজনকে এ কঠিন সময়ে ধৈর্য ধারণ করার শক্তি দেবার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা জানান।
খুলনা অফিস : কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী জামায়াতের আমীর মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, সম্পূর্ণ অন্যায়-অযৌক্তিক মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগে বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের প্রাণপ্রিয় নেতা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামী চিন্তাবিদ, সাবেক সফল মন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন। তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তা রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে পারেনি। তাকে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। তিনি আরো বলেন, মাওলানা নিজামীকে হত্যা করে যারা জামায়াতকে নেতৃত্বশূন্য করার স্বপ্ন দেখছেন, তাদের সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে না ইনশাআল্লাহ। আমীরে জামায়াতের প্রতি ফোঁটা রক্ত এ দেশের ইসলামী ও গণতন্ত্রমনা জনগণকে উজ্জীবিত করবে। তার এ ত্যাগ যুগে যুগে বিশ্বব্যাপী ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গায়েবানা জানাযা খুলনা মহানগরী জামায়াতের উদ্যোগে বুধবার সকালে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অনুষ্ঠিত হয়। জানাযায় খুলনা মহানগরী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. তারিকুর রহমান, এম রহমান, মো. কাজী সুজন, মো. হেলাল উদ্দীন, মো. অলিয়ার রহমান, মো. আইয়ুব আলী, মো. লুৎফর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ও মহানগরীর থানায় থানায় গায়েবানা জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। 
খালিশপুর : থানা আমীর আবুল বাশারের ইমামতিতে জানাযায় উপস্থিত ছিলেন মো. মোশাররফ আনছারী, মো. হাবিবুর রহমান, মো. আব্দুল কাদেরসহ থানা ও ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
দৌলতপুর : থানা আমীরের উপস্থিতিতে জানাযায় অংশ গ্রহণ করেন মো. খলিলুর রহমান, আবু নাঈমসহ থানা ও ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দ।
খানজাহান আলী : মহানগরী জামায়াত নেতা ডা. কাজী ইয়াসিন-এর ইমামতিতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামায়াত নেতা আব্দুল হাই, ডা. গোলাম কিবরিয়া, মো. রেজাউল করিমসহ থানা ও ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
জানাযাপূর্ব সংক্ষিপ্ত আলোচনায় মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, কেন্দ্রঘোষিত বৃহস্পতিবারের সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল সফলের লক্ষ্যে খুলনা মহানগরী জামায়াতের উদ্যোগে নগরীর বিভিন্ন থানায় থানায় ও ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। 
অপরদিকে খুলনা মহানগরী আমীর মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ও সেক্রেটারি অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান পৃথক এক বিবৃতিতে বলেন, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও সরকারের অন্যায় জুলুম নির্যাতন বন্ধ এবং ইসলামী নেতৃবৃন্দকে হত্যার ষড়যন্ত্র রুখতে সর্বাত্মক হরতাল সফলের আহ্বান জানান।
সিলেট ব্যুরো : প্রখর রোদ উপেক্ষা করে অশ্রুসজল উপস্থিতি ও বেদনাবিধূর পরিবেশের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা ময়দানে সম্পন্ন হলো বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম সাহসী সিপাহশালার আমীরে জামায়াত শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর গায়েবানা জানাযা। দুপুর ২টায় জানাযা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও জোহরের নামায শেষ হওয়ার সাথে সাথে দলে দলে মুসল্লীগণ আলিয়া মাদরাসা ময়দানে সমবেত হতে শুরু করেন। জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবির এর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণিপেশার হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে ২টার আগেই ঐতিহাসিক আলিয়া ময়দান লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। জানাযার পূর্বে সিলেট জেলা ও মহানগর জামায়াত নেতৃবৃন্দের হৃদয়গ্রাহী বক্তব্য উপস্থিত মুসল্লীগণকে অশ্রুসজল করে তোলে। একপর্যায়ে কেউ কেউ হাউমাউ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় আলিয়া ময়দানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। দুপুর আড়াইটায় জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযায় ইমামতি করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক এমপি অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দীন চৌধুরী।
আমীরে জামায়াতকে মিথ্যা মামলায় বিচারিক হত্যার প্রতিবাদে জামায়াত কেন্দ্র আহূত বৃহস্পতিবার থেকে ২৪ ঘণ্টার সর্বাত্মক ও শান্তিপূর্ণ হরতাল পালনের জন্য সিলেটবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তারা।
দেশব্যাপী আওয়ামী সরকারের বিচারিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে শাহাদাতবরণকারী আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর গায়েবানা জানাযার অংশ হিসেবে বুধবার সিলেট জেলা ও মহানগর জামায়াতের যৌথ উদ্যোগে সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে উক্ত জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও সিলেট মহানগর জামায়াতের আমীর এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের-এর সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মাওলানা সোহেল আহমদ-এর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত জানাযাপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট বিভাগীয় আঞ্চলিক দায়িত্বশীল অধ্যাপক ফজলুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সিলেট জেলা দক্ষিণের আমীর মাওলানা হাবীবুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সিলেট জেলা উত্তরের আমীর হাফিজ আনোয়ার হোসাইন খান ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্র্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম।
অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর হাফিজ আব্দুল হাই হারুন ও মো: ফখরুল ইসলাম, সিলেট জেলা দক্ষিণের নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ আব্দুল হান্নান ও মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান, সেক্রেটারি মাওলানা লোকমান আহমদ, জেলা উত্তরের নায়েবে আমীর ভাইস প্রিন্সিপাল সৈয়দ ফয়জুল্লাহ বাহার, সেক্রেটারি মাওলানা ইসলাম উদ্দিন, সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসার সাবেক মুহাদ্দিস আবদুল মালিক চৌধুরী, জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজ নজমূল ইসলাম, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান যথাক্রমে মাওলানা সুলাইমান হোসেন, রেহান উদ্দিন রায়হান, পীর ফয়জুল ইসলাম, সিলেট মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মো: শাহজাহান আলী, মো: আব্দুর রব ও নুরুল ইসলাম বাবুল, ইসলামী ছাত্র শিবির সিলেট মহানগরী সভাপতি মাসুক আহমদ, সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মো: নজরুল ইসলাম, সিলেট জেলা পশ্চিম সভাপতি হাবিবুল্লাহ দস্তগীর।
সিলেট বিভাগীয় আঞ্চলিক দায়িত্বশীল অধ্যাপক ফজলুর রহমান বলেন আমীরে জামায়াতের বিরুদ্ধে উত্থাপিত সকল অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, কাল্পনিক, বানোয়াট। এমন অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড তো দূরের কথা একদিনের সাজাও দেয়া যায় না। শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে বিচারের নামে নিরপরাধ আমীরে জামায়াতকে শহীদ করা হয়েছে। ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ মানবতাবাদী, আদর্শবান, সৎ ও সুনাগরিকদেরকে যারা কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধী বানিয়ে হত্যা করেছে ইতিহাস তাদের কখনো ক্ষমা করবে না।
সভাপতির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমীর এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের নামে এ দেশ থেকে ঈমানদার, দ্বীনদার নেতৃত্ব, ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনকে নির্মূল করতেই একের পর এক জাতীয় নেতৃবৃন্দকে শহীদ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের ওপর ইতিহাসের নির্মম ও নিষ্ঠুর জুলুম-নিপীড়ন চালানো হচ্ছে। স্বাধীনতার ৪৫ বছরে যে মানুষটির বিরুদ্ধে একটা দুর্নীতি তো দূরের কথা কোনো মানুষকে গালি কিংবা হুমকি দিয়েছেন এমন অভিযোগ করা হয়নি। অথচ মিথ্যা-বানোয়াট অভিযোগে সেই নেতাকে হত্যা শুধু বাংলাদেশ নয় গোটা বিশ্বের ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদেও জন্য বেদনাদায়ক।
কুমিল্লা অফিস : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর গায়েবানা জানাযা গতকাল বুধবার দুপুরে কুমিল্লা মহানগরীর টমছম ব্রীজ এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়।
কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ মোছলেহ উদ্দিন এর পরিচালনায় জানাযাপূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের আমীর মু. কাজী দ্বীন মোহাম্মদ। তিনি তার বক্তব্য বলেন, সরকার ষড়যন্ত্র করে জুডিশিয়াল কিলিং-এর মাধ্যমে মাওলানা নিজামীকে হত্যা করছে। মাওলানা নিজামী বাংলাদেশ তথা বিশ্ব মুসলমানদের গৌরব ছিলেন।
তিনি আজ বৃহস্পতিবার জামায়াতের ডাকা হরতাল কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালন করার আহ্বান জানান।
জানাযাপূর্ব সমাবেশে এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা জেলা দক্ষিণের আমীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য বীর মুক্তিযোদ্বা আবদুস সাত্তার, কুমিল্লা মহানগরী ছাত্রশিবিরের সভাপতি ডা. মোজাম্মেল হক।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের নায়েবে আমীর, মাস্টার আমিনুল হক, রাজনৈতিক সেক্রেটারি আমিনুল হক, সহকারী সেক্রেটারি এ কে এম এমদাদুল হক মামুন, মহাবুবর রহমান, দক্ষিণ জেলা জামায়াতের রাজনৈতিক সেক্রেটারি এড. শাহজাহান, জামায়াত নেতা ইসমাইল মিয়া,নাসির আহম্মেদ মোল্লা, কামরুজ্জামান সোহেল, মহানগরী শিবিরের সেক্রেটারি মু. শাহাদাত হোসাইন। জানাযার ইমামতি করেন কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবদুল আউয়াল।
ফরিদপুর : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর গায়েবানা জানাযা ফরিদপুরে অনুষ্ঠিত হয়। ফরিদপুর জেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত গায়েবানা জানাযাপূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, ফরিদপুর অঞ্চলের পরিচালক মুহাম্মদ দেলোয়ার হুসাইন ও ফরিদপুর জেলা জামায়াতের আমীর প্রফেসর আ. তাওয়াব। উপস্থিত ছিলেন অঞ্চল সহকারী শামসুল ইসলাম আল বরাটী, জেলা নায়েবে আমীর মুহাম্মাদ খালেছ, আবুু হারিছ মোল্লা, জেলা সেক্রেটারি মুহাম্মদ বদরুদ্দীন, পৌর আমীর ইমতিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, সদর আমীর মুহাম্মদ জসিম উদ্দীন ও শিবিরের শহর শাখার সভাপতি এহসানুল মাহবুব রুবেল। জানাযা নামাযে ইমামতি করেন অঞ্চল পরিচালক মুহাম্মদ দেলোয়ার হুসাইন।
ফেনী সংবাদদাতা: জামায়াতে ইসলামীর আমীর, উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ আলেম সংগ্রামী জননেতা শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর গাবেয়ানা জানাযা গতকাল বুধবার সকালে ফেনী শহরের একটি মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। গাবেয়ানা জানাযায় ইমামতি করেন ফেনী জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর একেএম সামছুদ্দীন। জানাযায় অংশ নেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক আবু ইউসুফ, জেলা সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদুল হক, জেলা পলিটিকেল সেক্রেটারি আবু বকর ছিদ্দিক মানিক, প্রচার সম্পাদক মাওলানা রফিকুল ইসলাম, জেলা জামায়াত নেতা কামরুল আহসান চৌধুরী, শহর আমীর মাওলানা মুফতি আবদুল হান্নান, ফেনী সদর উপজেলা আমীর অধ্যাপক হাবিব উল্যাহ বাহার ও সেক্রেটারি অধ্যাপক মুহাম্মদ আবদুর রহিম, শহর সেক্রেটারি মোহাম্মদ ইলিয়াস, শহর শিবির সভাপতি নাজমুস সাকিব ও সেক্রেটারি আবু তৈয়ব, জেলা সভাপতি মঈনুল ইসলাম যোবায়ের ও সেক্রেটারি গিয়াস উদ্দিন প্রমুখ। এছাড়া গায়েবানা জানাযায় বিপুল সংখ্যক সাধারণ মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন।
এদিকে সোনাগাজী সংবাদদাতা জানান, সকালে সোনাগাজী পৌর শহরে একটি মাঠে গাবেয়ানা জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। গাবেয়ানা জানাযা পূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন উপজেলা জামায়াত আমীর মাওলানা মোহাম্মদ মোস্তফা ও পৌর আমীর মাওলানা কালিম উল্যাহ।
এছাড়া ছাগলনাইয়া উপজেলার বিভিন্নস্থানে ৬ টি গাবেয়ানা জানাযা ও ফুলগাজী উপজেলায় গায়েবানা জানাযা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জামালপুর সংবাদদাতাঃ বুধবার বাদ যোহর জামালপুর সদরের বোর্ড ঘর জঙ্গল পাড়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গনে জামায়াতে ইসলামী আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর গায়েবানা জানাযা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 
জানাযা পূর্ব মরহুমেরে রুহের মাগফেরাত ও তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন, অধ্যক্ষ সামছুল আল, জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক হারুনুর রশিদ, শহর আমীর অধ্যক্ষ জিয়াউল কবীর, শিবিরের সাবেক জেলা সভাপতি মোহাম্মদ আলী, সেক্রেটারি বিছবাহুল কাউম প্রমুখ।
সাতক্ষীরা সংবাদদাতা : জামায়াতের আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামির রাষ্ট্রীয় হত্যাকন্ডের প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বিকাল পাঁচটায় সাতক্ষীরা শহর জামায়াতের উদ্যোগে শহরের ৭ নং ওয়ার্ডে রইচপুর মাদ্রাসা মাঠে এ নামায অনুষ্ঠিত হয়। ইমামতি করেন মাওলানা আমিরুল ইসলাম। এর আগে এক সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বক্তব্য রাখেন,জামায়াত নেতা মাওলানা,মনিরুজ্জামান,আবুল কাশেম,আবুল হোসেন সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ। বক্তরা বলেন,জামায়াত নেতাদের হত্যার মধ্য দিয়ে এদেশে ইসলামী বিপ্লব আসবেই। প্রায় বছর খানিকে মধ্যে এটিই সাতক্ষীরা জামায়াতের প্রকাশ্যে কোন সমাবেশ অনুষ্ঠিত হল।
বিরামপুর (দিনাজপুর) সংবাদদাতা: জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সাবেক সফল মন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর গায়েবানা জানাযা বিরামপুরে অনুষ্ঠিত হয়। জেলা জামায়াতের আমীর মোঃ আনোয়ারুর ইসলামের ইমামতিতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রচার ও প্রকাশনা সেক্রেটারি ড. মুহাদ্দিস মাওলানা এনামুল হক, উপজেলা আমীর মাওলানা আমজাদ হোসাইন, উপজেলা সেক্রেটারি হাফিজুল ইসলাম, পৌর আমীর অধ্যাপক মকছেদ আলী, পৌর সেক্রেটারি ইঞ্জি: শাহিনুর রহমান ও বিরামপুর শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি আলহাজ্জ মাওলানা আশরাফুল ইসলাম। জানাযাপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে জেলা আমীর বলেন, বিনা ভোটে অবৈধ আওয়ামী সরকার জুডিশিয়াল হত্যার মাধ্যমে জামায়াতকে নেতৃত্ব শূণ্য করতে মরিয়া হয়েছে। কিন্তু তাদের সে আশা পূরণ হবে না। জামায়াত সে শোককে শক্তিতে পরিণত করে দূর্বার গণআন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ত্বরান্বিত করবে এবং শাহাদতের রক্তের বিনিময়ে ইসলামী সমাজ কায়েম হবেই ইনশাআল্লাহ।
দামুড়হুদা(চুয়াডাঙ্গা)সংবাদদাতা : আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর রুহের মাগফিরাত কামনায় জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে গতকাল বুধবার চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন স্থানে গায়েবানা জানাজা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলার আলমডাঙ্গা,চুয়াডাঙ্গা সদর, দর্শনা, দামুড়হুদা, জীবননগরসহ বিভিন্ন এলাকায় গায়েবানা জানাযা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রংপুর : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর সাবেক মন্ত্রী শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর গায়েবানা জানাজা রংপুর মহানগর জামায়াতের সকল সাংগঠনিক থানায় পৃথক পৃথক স্থানে অনুষ্ঠিত হয়। 
রংপুর মহানগর পরশুরাম সাংগঠনিক থানার গায়েবানা জানাযায় মহানগর আমীর অধ্যা: মাহবুবুর রহমান বেলাল. রংপুর মহানগর কোতয়ালী সাংগঠনিক গায়েবানা জানাযায় মহানগর সেক্রেটারি অধ্যা: রুহুল কুদ্দুস, রংপুর মহানগর হাজিরহাট সাংগঠনিক থানার গায়েবানা জানাযায় মহানগর নায়েবে আমীর শাহ মুহা: নূর হুসাইন ও মহানগর মাহীগঞ্জ সাংগঠনিক থানার গায়েবানা জানাযায় জেলা আমীর এটিএম আজম খান ও মহানগর সহঃ সেক্রেটারি অধ্যাঃ আনোয়ারূল ইসলাম প্রধান অতিথী হিসাবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য পেশ করেন ।
 পরশু রাম সাংগঠনিক থানার গায়েবানা জানাযা পূর্ব সমাবেশে উপস্থিত প্রধান অতিথীর বক্তব্যে রংপুর মহানগর আমীর অধ্যা: মাহবুবুর রহমান বেলাল আমীরে জামায়াত, সাবেক সফল মন্ত্রী মাওঃ মতিউর রহমান নিজামীর আত্মার মাগফেরাত কামনা ও শাহাদত কবুলের জন্য আল্লাহর দরবারে মোনাজাত করেন।
মাহবুবুর রহমান বেলাল বলেন, বর্তমান আওয়ামী বাকশালী অবৈধ সরকার সম্পূর্ণ অন্যায় ভাবে একজন নিরোপরাধ মানুষকে রাষ্ট্রীয় যন্ত্র ব্যাবহার করে খুন করেছে । বাংলাদেশের তৌহিদী জনগণ অবৈধ সরকারের এই নির্মম হত্যাকান্ডের সমুচিত জবাব বাংলার জমিনে ইসলাম প্রতিষ্ঠা মাধ্যমেই প্রদান করবে।
বেলাল শহীদ মাও: নিজামীর সততা, নিষ্ঠা. আন্তরিকতা সর্বোপরি চারিত্রীক গুণাবলীর বিভিন্ন দিক উল্লেখ করে বলেন, তিনি মানবতার প্রকৃত কল্যান প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে কায়েমী স্বার্থবাদী গোষ্ঠির রোষাণলে পড়লেও জালিমদের কাছে মাথা নত না করে মানবতার কল্যানের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন।
দোয়া মুনাজাতে মহান আল্লাহর দরবারে শহীদ মাওঃ নিজামীর শাহাদত কবুলের প্রার্থনা করেন।
গায়েবানা জানাযায় অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন কোতয়ালী থানা আমীর এ্যাডঃ কাওছার আলী, মাহীগঞ্জ থানা আমীর আনোয়ারুল হক কাজল, পরশুরাম থানা আমীর মাওঃ নজরুল ইসলাম সিদ্দিকী, হাজিরহাট থানা আমীর ডাঃ লোকমান আলী,কোতয়ালী সেক্রেটারি গোলাম মোস্তফা প্রমুখ। বিজ্ঞপ্তি
বরিশাল অফিস : জামায়াতে ইসলামীর আমীর সাবেক মন্ত্রী শহিদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর গায়েবানা জানাযা বরিশালে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বরিশাল মহানগরী এবং জেলার সকল থানায় কেন্দ্র ঘোষিত এই কর্মসূচি পালন করা হয়। দলের নেতাকর্মী এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ এই গায়েবানা জানাযায় অংশ নিয়েছে। বরিশাল মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি জহির উদ্দিন মু. বাবরের অংশ গ্রহণে নগরীতে এক গায়েবানা জানাযার নামাযে ইমামতি করেন মাওলানা মোহাম্মাদ আলী।
এদিকে বরিশাল নগরীর বন্দর থানা আয়োজিত গায়েবানা জানাযার নামায স্থানীয় সাহেবের হাটে অনুষ্ঠিত হয়। জানাযার নামাযে ইমামতি করেন মাওলানা ইসমাইল হোসেন সিরাজী। অপরদিকে নগর জামায়াতের বিামনবন্দর থানা আয়োজিত জানাযার নামাযে অংশগ্রহণ করেন থানা আমীর মোঃ আলাউদ্দিন।
বরিশাল জেলা পশ্চিম : এদিকে বানারীপাড়া বাইতুন নাজাত কপ্লেক্সে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর গায়েবানা জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযায় ইমামতি করেন উপজেলা আমীর মাওলানা আবুল কাশেম জহির অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুর রহিম, পৌর আমীর হাফেজ মোঃ মোজাম্মেল হক, পৌর সেক্রেটারি মাওলানা আলাউদ্দিন, শিবিরের সেক্রেটারি মোঃ ইব্রাহীম (সোহেল) প্রমুখ।
এছাড়া বানারীপাড়া উপজেলার সলিয়াবাকপুর ইলুহার সৈয়দকাঠী সহ বিভিন্ন স্থানে দায়েবানা জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। 
জেলার আগৌলঝাড়া উপজেলার রতœপুর জামেমসজিদ প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিক গায়েবানা জানাযায় ইমামতি করেন মাওলানা মোঃ মহসিন। এছাড়া উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে গায়েবানা জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জেলার গৌরনদী উপজেলার বিজয়পুর জামে মসজিদে থানা সংগঠনের উদ্যোগে গায়েবানা জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মাওলানা আঃ রহিম। জেলার বুজিরপুর উপজেলায় গায়েবানা জানাযা অনুষ্ঠিত হয় এতে ইমামতি করেন মাওলানা আঃ খালেক। এছাড়া উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে গায়েবানা জানাযার নামায অনুষ্ঠিত হয়।
বরিশাল জেলা পূর্ব : বরিশাল জেলা পূর্ব জামায়াতের উদ্যোগে জেলার ৬টি থানায় আমীরে জামায়াতের শাহাদাতে গায়েবানা জানাযার নামায অনুষ্ঠিত হয়।
জেলার বাবুগঞ্জ থানার আমীর মাওলানা রুহুল আমিনের নেতেৃত্ব স্থানীয় ভুতেরদিয়া জামে মসজিদে গায়েবানা জানাযার নামায অনুষ্ঠিত হয়। জেলার মুলাদি থানার উদ্যোগে পাতার হাটে গায়েবানা জানাযার নামায অনুষ্ঠিত হয় এতে ইমামতি করেন থানা আমীর মাওলানা আবু ছালেহ। জেলার হিজলা উপজেলা আমীর মাওলানা আবুল হাশেমের নেতেৃত্বে স্থানীয় বড়জালিয়া জামে মসজিদ প্রঙ্গনে গায়েবানা জানযার নামায অনষ্ঠিত হয়। জেলার কাজির থানা জামায়াতের উদ্যোগে থানা সেক্রেটারি লুৎফর রহমানের নেতৃত্বে গায়েবানা জানাযার নামায অনুষ্ঠিত হয়। জেলার বাকেরগঞ্জ থানার উদ্যোগে বাকেরগঞ্জ পেীর আমীর অধ্যাপক ফিরোজ আলমের নেতৃত্বে গায়েবানা জানাযার নামায অনুষ্ঠিত হয়। জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত গায়েবানা জানাযার নামাযে ইমামতি করেন থানা আমীর মাওলানা মহিউদ্দিন। এছাড়া ইউনিয়ন জামায়াতের উদ্যোগে একাধিক স্থানে গায়েবানা জানাযার নামায অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় জানসাধারণসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ গ্রহণ করেন।
এদিকে নগর জামায়াতের উদ্যোগে স্থানীয় বায়তুল আমান মসজিদ প্রঙ্গনে অনুষ্ঠিত গায়েবানা জানাযার নামাযপূর্ব সমাবেশে মহানগর সেক্রেটারি জহির উদ্দিন মু. বাবর বলেন, সরকার নিরাপরাধ আমীরে জামায়াতকে হত্যা করেছে। মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দিয়ে প্রহসন করে বিচারিক খুন করে দেশে ন্যায়বিচারে পদাঘাত করা হয়েছে। আজকে যারা আমাদের নিরাপরাধ নেতৃত্বকে খুন করে তৃপ্তির ঢেকুর তুলছে একদিন তাদেরও কৃত অপরাধের জন্য এর চেয়েও কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। আমরা বাংলার জমিনে ইসলামের বিজয়ের মাধ্যমে এর প্রতিশোধ গ্রহণ করবো ইনশা-আল্লাহ।
জামায়াতের ডাকে হরতাল সফল করার আহবান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বরিশাল মহানগর ও জেলা জামায়াত। বরিশাল মহানগর জামায়াতের আমীর এ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, পশ্চিম জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মাওঃ হাবিবুর রহমান, পূর্ব জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আবদুল জব্বার, মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খসরু ও আলহাজ্ব বজলুর রহমান বাচ্চু, সেক্রেটারী জহির উদ্দিন মু. বাবর।
কুড়িগ্রাম থেকে সংবাদদাতা : কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের উদ্দোগে শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর গায়েবানা জানাযা নামায অনুষ্ঠিত।
বুধবার দুপুরে কুড়িগ্রাম এম এ সাত্তার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর এ গায়েবানা জানাযা নামায অনুষ্ঠিত হয়।
গায়েবানা জানাযা নামাযে ইমামতি করেন মাওলানা আ ন ম আঃ খালেক। এ সময় শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর রাজনৈতিক জীবনীর উপর আলোচনা রাখেন, জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আজিজুর রহমান সরকার, সাবেক জেলা আমীর আ ন ম সোলায়মান, জেলা সেক্রেটারি আব্দুল মতিন ফারুকি,শিবিরের জেলা সভাপতি মোঃ শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
 এ ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলা প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জানা যায়,কুড়িগ্রাম সদরের হোলখানা ও পাটেশ্বরী ,ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী, চিলমারি,উলিপুর, রৌমারি ,ভূরঙ্গামারি ও রাজিবপুর উপজেলায় মোট ৩৬ টি স্থানে এ গায়েবানা জানাযা নামায অনুষ্ঠিত হয়।
কক্সবাজার সংবাদদাতা : কক্সবাজার জেলা জুড়ে আমীরে জামায়াত বরেণ্য ইসলামী চিন্তাবিদ ও বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের পুরোধা শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর গায়েবানা জানাযা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বরেণ্য এ নেতার স্মরণে গোটা জেলার কক্সবাজার শহরসহ ৮ উপজেলার বিভিন্নস্থানে অন্তত ৫ শতাধিক গায়েবানা জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল বুধবার শহরের উপকণ্ঠে বাঁধভাঙ্গা মানুষের উপস্থিতিতে মোঃ ইলিয়াস মিয়া চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় ময়দানে গায়েবানা জানাযা অনুষ্ঠিত হয়েছে। হাজার হাজার জনতার অংশগ্রহণে বিকাল ৪টায় অনুষ্ঠিত বরেণ্য নামাযে জানাযার ইমামতি করেন প্রবীণ জননেতা মাওলানা আব্দুল গফুর পীর। কিংবদন্তি ইসলামী নেতার নামাযে জানাযায় শরিক হতে পূর্ব থেকে নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের ইসলামপ্রিয় তৌহিদী জনতা হুমড়ি খেয়ে সমবেত হতে থাকে ইলিয়াছ মিয়া চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। এতে পুরো মাঠ লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে। সারি সারি মানুষ আর মানুষ। শুধু একটি বারের জন্য প্রিয় নেতা মাওলানা নিজামীর গায়েবানা জানাযায় অংশ গ্রহণ করতে এভাবে ছুটে আসে দূর-দূরান্ত থেকে অগণিত ভক্ত, অনুরাগিসহ কুরআনপ্রেমিক জনতা। 
এতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ ও কক্সবাজার জেলা আমীর মুহাম্মদ শাহজাহান, নায়েবে আমীর মাওলানা মুস্তাফিজুর রহমান, জেলা সেক্রেটারি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান জিএম রহিমুল্লাহ, এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি এডভোকেট ফরিদ উদ্দিন ফারুকী, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন জেলা সভাপতি মাওলানা আলমগীর, শহর আমীর অধ্যাপক আবু তাহের চৌধুরী, রামু উপজেলা আমীর ফজলুল্লাহ মুহাম্মদ হাসান, সদর উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান শাহিদুল আলম বাহাদুর, জেলা অফিস সেক্রেটারি জাহেদুল ইসলাম, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য শফিউল হক জিহাদী, শহর সেক্রেটারি সাইদুল আলম, এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আবদুল্লাহ আল ফারুক, সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ মুহসিন, ছাত্রশিবির শহর সভাপতি জাহাঙ্গির আলম, জেলা সভাপতি আজিজুর রহমান প্রমুখ।
চকরিয়া সংবাদদাতা : চকরিয়া পৌরশহরের চিরিঙ্গায় বিশাল গায়েবানা জানাযা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পৌর জামায়াতে সেক্রেটারি আরিফুল কবিরের সার্বিক পরিচালনায় জানাযাপূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর পৌর আমীর আখতার আহমদ, উপজেলা দক্ষিণ আমীর মুহাম্মদ হেদায়াত উল্লাহ, উত্তর আমীর মাওলানা ছাবের আহমদ, জামায়াত নেতা আরিফুর রহমান চৌধুরী মানিক, উপজেলা দক্ষিণ সেক্রেটারি মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক, লক্ষ্যারচর ইউপির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা কাইছার ও ছাত্রনেতা আজহারুল ইসলাম। বিশাল গায়েবানা জানাযায় ইমামতি করেন বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মাওলানা কুতুব উদ্দিন হেলালী। 
একইদিন সকালে দিগরপানখালীতে অনুষ্ঠিত গায়েবানা জানাযায় ইমামতি করেন বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন হাফেজ বশির আহমদ। জানাযাপূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পৌরসভা সেক্রেটারি আরিফুল কবির, লক্ষ্যারচর ইউপির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা কাইছার, জামায়াত নেতা মাওলানা কুতুবউদ্দিন, আব্দুল্লাহ বাহাদুর, মোঃ রাসেল, শিবির সভাপতি আজহার উদ্দিন, সেক্রেটারি আব্দুর রহিমসহ সর্বস্তরের জনসাধারণ। তাছাড়া উপজেলার পূর্ববড় ভেওলায় অনুষ্ঠিত গায়েবানা জানাযায় ইমামতি করেন মাওলানা শিব্বির আহমদ, খুটাখালীতে ইমামতি করেন মাওলানা সৈয়দ করিম। এ সময় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুর রহমানসহ স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। হারবাংয়ে ইমামতি করেন মাওলানা আবুল বশর। এতে অন্যান্যদের মধ্যে মাস্টার রফিক আহমদ, জহির উদ্দিন আহমদ বাবর, মাওলানা সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন। বরইতলীতে অনুষ্ঠিত জানাযায় ইমামতি করেন মাওলানা নাছির উদ্দিন। এ সময় জামায়াত নেতা মাস্টার রশিদুর রহমান, ছালেকুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
পেকুয়া : উপজেলার বারবাকিয়া ফাঁিসয়াখালী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত গায়েবানা জানাযায় ইমামতি করেন বিশিষ্ট আলেমেদ্বীন মাওলানা বদিউল আলম। জানাযাপূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আমীর মাস্টার আবুল কালাম আজাদ, সেক্রেটারি মাওলানা ইমতিয়াজ উদ্দিন, এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটরি উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান মন্জু, উপজেলা শিবির সভাপতি শাকের উল্লাহসহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ।
উখিয়া : কোটবাজারস্থ বালিকা মাদরাসা প্রঙ্গণে অনুষ্ঠিত গায়েবানা জানাযায় ইমামতি করেন উপজেলা আমীর মাওলানা আবুল ফজল। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা সুলতান আহম্মদ, সাংগঠনিক সেক্রেটারি মাওঃ নুরুল হক, রতœাপালং ইউনিয়ন সভাপতি মাওলানা রহমত উল্লাহ, শ্রমিকনেতা শাহ আলম, ছাত্রনেতা কামাল উদ্দিন ও মোহাম্মদ রিদোয়ানসহ স্থানীয় জনসাধারণ।
টেকনাফ : উপজেলার খারাংখালীতে অনুষ্ঠিত জানাযায় ইমামতি করেন, বিশিষ্ট আলেমেদ্বীন চেয়ারম্যান নূর আহম্মদ আনোয়ারী। জানাযাপূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আমীর অধ্যক্ষ নুরুল হোসাইন ছিদ্দিকী, সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুস সুবহান, ছাত্রশিবির সভাপতি মনজুর হাসান প্রমুখ।
মহেশখালী : উপজেলার শাপলাপুরে অনুষ্ঠিত গায়েবানা জানাযায় ইমামতি করেন মাওলানা বদিউল আলম। জানাযাপূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আমীর জাকের হোসাইন, ইউনিয়ন সভাপতি মাওলানা আব্দুল হক হাক্কানী, জামায়াত নেতা মাওলানা এহতেসাম বিল্লাহ, মাওঃ শহিদুল্লাহ জিহাদী, মাওঃ আবুল বশর, মাওঃ আব্দুশ শাকুর প্রমুখ। এদিকে মহেশখালী পৌরসভার ঘোনার পাড়ায় অনুষ্ঠিত গায়েবানা জানাযায় ইমামতি করেন মাওলানা ইসমাইল আজাদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াত সেক্রেটারি মাস্টার শামীম ইকবাল, সমাজসেবক নাছির উদ্দিন, নুরুল আলম প্রমুখ। অপরদিকে বড় মহেশখালীল মুনসীর ঢেইলে অনুষ্ঠিত গায়েবানা জানাযায় ইমামতি করেন, বিশিষ্ট আলেমেদ্বীন মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, আরো উপস্থিত ছিলেন মাষ্টার আব্দুল মাজেদ, মাওঃ আব্দুল মালেক, জালাল আহম্মদ, ছাত্র শিবির নেতা আব্দুল খালেক, বেলাল উদ্দিন ও সধারণ জনগণ।
কুতুবদিয়া : ধুরং স্টেডিয়াম মাঠে অনুষ্ঠিত গায়েবানা জানাযায় ইমামতি করেন উপজেলা আমীর মাওলানা আনোয়ার হোসাইন। জানাযাপূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন আবুহেনা মোস্তফা কামাল, মাওলানা নুরুল আমিন, মাস্টার ইব্রাহিম কুতুবী, মাওঃ মোহাম্মদ ইসমাইল, শিবির সভাপতি রেজাউল করিম। 
ঈদগাঁও : ঈদগাঁও হাইস্কুল মাঠে গায়েবানা জানাযায় ইমামতি করেন থানা আমীর মাওলানা সলিম উল্লাহ জিহাদী। জানযাপূর্ব সমাবেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন মাওলানা নুরুল হক, মাস্টার সৈয়দ আলম, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা দেলোয়ার হোসাইন প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
চাঁদপুর : বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের নেতা শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর গায়েবানা জানাযা সারা দেশের ন্যায় চাঁদপুরেও অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সারা দিনই দফায় দফায় চাঁদপুর শহর ও সদর উপজেলা, ফরিদগঞ্জ, হাজীগঞ্জ, শাহরাস্তি, মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণ, হাইমচর, কচুয়া উপজেলার অন্তত শতাধিক স্থানে গায়েবানা জানাযা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আ’লীগ সরকারের হুমকি-ধমকির মধ্য দিয়েই প্রতিটি জানাযায়ই স্বতঃস্ফূর্ত মানুষের অংশ গ্রহণ ছিল লক্ষণীয়। এ সময় অনেকেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তাদের প্রিয় নেতার জন্য দোয়া করেন আল্লাহর দরবারে। 
চাঁদপুর শহরে গায়েবানা জানাযাপূর্ব সমাবেশে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা বিল্লাল হোসেন মিয়াজী বলেন, কে আমলে সালেহ করে তা পরীক্ষা করার জন্য আল্লাহ আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সন্তুষ্টিই মু’মিন জীবনের অভীষ্ট লক্ষ্য। আর জীবন-মৃত্যুর ফয়সালাও আল্লাহর হাতে। আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়ে আল্লাহর জমিনে দ্বীন কায়েমের চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। সরকার প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই তাকে নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছে। কিন্তু যড়যন্ত্র ও হত্যা করে ইসলামী আন্দোলনের অগ্রযাত্রা রোধ করা যাবে না। তিনি মাওলানা নিজামীর শাহাদাত কামনা করেন।
চাঁদপুর সদরে জানাযাপূর্ব সংক্ষিপ্ত আলোচনায় সদর জামায়াতের আমীর জাহাঙ্গীর আলম প্রধান বলেন, সম্পূর্ণ অন্যায়-অযৌক্তিক মিথ্য ও ভিত্তিহীন অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের প্রাণপ্রিয় নেতা মাওলানা নিজামীকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে।
ফরিদগঞ্জ উপজেলায় জানাযাপূর্ব বক্তব্যে উপজেলা আমীর মাওলানা আবু তাহের তালুকদার বলেন, সরকারি ষড়যন্ত্রের ও নীলনকশার অংশ হিসাবেই এই বরেণ্য ও প্রতিভাবান রাজনীতিককে হত্যা করা হয়েছে। 
হাজীগঞ্জে জানাযাপূর্ব সমাবেশে উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মীর হোসাইন বলেন, জাতীয় নেতা ও সাবেক মন্ত্রী হিসাবে মাওলানা নিজামী ন্যায় ও সত্যের পথে ছাত্রজীবন থেকেই দেশ ও জাতির কল্যাণে সততা, দক্ষতা, যোগ্যতার সাথে দায়িত্ব পালন করে দুর্নীতিমুক্ত দেশ ও সমাজ গঠনে তিনি অনেক ভূমিকা পালন করেছেন। সরকার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে জামায়াতকে নেতৃত্বশূন্য করার জন্য ষড়যন্ত্রমূলকভাবে হত্যা করেছে। তিনি ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ইসলামী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়াই ছিল তার অপরাধ। নেতৃবৃন্দ মাওলানা নিজামীর রক্তের বদলায় আল্লাহর জমিনে ইসলামকে বিজয়ী করে এর বদলা নেয়ার জন্য ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের জনগণকে সাথে নিয়ে আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান।
গায়েবানা জানাযা শেষে মাওলানা নিজামীর রুহের মাগফিরাত ও শাহাদাত কামানায় প্রত্যেক স্থানেই দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করা হয়।
মৌলভীবাজার : সারা দেশের ন্যায় গতকাল বাদ যোহর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর গায়েবানা জানাযা মৌলভীবাজারের পশ্চিম বাজার জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শত শত মুসল্লীর উপস্থিতিতে গায়েবানা জানাযা-পূর্ববর্তী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য দেওয়ান সিরাজুল ইসলাম মতলিব, জেলা জামায়াতের আমীর আব্দুল মান্নান, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার এম শাহেদ আলী, সদর উপজেলা বিএনপি সভাপতি মৌলভী ওয়ালী সিদ্দিকি, ছাত্রশিবির মৌলভীবাজার শহর সভাপতি মুর্শেদ আহমদ চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক পৌর মেয়র ফজলুল করিম ময়ূন, মৌলভীবাজার পৌর জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ ইয়ামীর আলী, সদর উপজেলা আমীর মোঃ আলাউদ্দিন শাহ, কেন্দ্রীয় শিবিরের সহকারী দপ্তর সম্পাদক ফখরুল ইসলাম, বিএনপি নেতা আখতারুজ্জামান, খেলাফত মজলিসের জেলা প্রশিক্ষণ সম্পাদক জিয়া উদ্দিন, পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি হাফেজ তাজুল ইসলাম, জামায়াত নেতা আহমদ ফারুক, শহর শিবিরের সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ বিভিন্ন সামাজিক, পেশাজীবী ও ছাত্র সংগঠনের নেতা কর্মীরা।
শাহরাস্তি (চাঁদপুর) সংবাদদাতা : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর, মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ফাঁসির মাধ্যমে শহীদ করায় ফজরের নামাযের পর গায়েবানা জানাযা শেষে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শাহরাস্তি উপজেলা জামায়াত। গতকাল বুধবার সকালে উপজেলার চাঁদপুর কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কে এ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল-পূর্বক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে সরকার জুডিশিয়াল কিলিং এর মাধ্যমে ইসলামী নেতৃবৃন্দকে হত্যা করছে। ১১ মে কোরআন দিবস, আর এ দিবসেই কোরআনের সিপাহলারকে শহীদ করেছে জালিমশাহী। হত্যা ও নির্যাতনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব ইসলামী আন্দোলন থেমে যাবে না। এই রাষ্ট্রীয় অবিচারের বিরুদ্ধে বিশ্বের মুসলিমরা রুখে দাঁড়াবেই।
সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর গায়েবানা জানাযা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার দুপুর ২টায় শহরের ষোলঘর কলোনি মাঠে অনুষ্ঠিত নামাযে ইমামতি করেন জেলা জামায়াত নেতা, ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা তোফায়েল আহমদ খান।
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোমতাজুল হাসান আবেদ ও সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আবু হানিফ নোমানের যৌথ পরিচালনায় জানাযাপূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সিলেট অঞ্চল টিমের সদস্য মো. হাতিমুর রহমান, জেলা নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শামসউদদীন, জেলা অফিস সম্পাদক অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ, দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ডা. আব্দুল কুদ্দুছ, জেলা শিবির সভাপতি হাফেজ জাকির হোসেন, পৌর আমীর মো. নূরুল ইসলাম, সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আনোয়ার হোসেন, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা আমীর অ্যাডভোকেট আবুল বাশার, সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বদরুল কাদির শিহাব, বিএনপি নেতা ও গৌরারং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফুল মিয়া, ২০ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দসহ নানা শ্রেণিপেশার হাজারো মানুষ।
গাইবান্ধা সংবাদদাতা : কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসাবে আমীরে জামায়াত শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর গায়েবানা জানাযা গতকাল বুধবার জেলার বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী সদর উপজেলার ত্রিমোহেনী পিয়ারাপুর হাইস্কুল মাঠে উপজেলা আমীর ডা. আব্দুল হামিদের সভাপতিত্বে আলোচনা ও গায়েবানা জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। পরে শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা এবং তাকে বেহেস্তের উচ্চস্থানে অধিষ্ঠিত করার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে মুনাজাত করা হয় ।
মেহেরপুর জেলা সংবাদদাতা : মেহেরপুর, গাংনী, মুজিবনগরে বিভিন্ন স্থানে জেলা জামাতের উদ্যেগে কেন্দ্রীয় আমীর মতিউর রহমান নিজামীর গায়েবী জানাযা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে দাবি করেন মেহেরপুর জেলা আমীর তাজউদ্দিন খাঁন। তিনি বলেন মতিউর রহমান নিজামী ছিলেন সৎ-নিষ্ঠাবান, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো নেতা। এই অবৈধ সরকার অবৈধভাবে বিচার করে মতিউর রহমান নিজামী হত্যা করল। শহীদের রক্ত কখনও বৃথা যায় না। আল্লাহ জমিনে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠিত করার জন্য জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ চেষ্টা করে যাবে বলেন জেলা জামায়াতের আমীর তাজউদ্দিন খান।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=234547