২৩ অক্টোবর ২০২০, শুক্রবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
বৃষ্টি উপেক্ষা করে লন্ডনে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে শহীদ নিজামীর গায়েবানা জানাযায়; মাওলানা নিজামী রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের শিকার ॥ তাঁর রক্ত বৃথা যেতে পারে না -ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক
১২ মে ২০১৬, বৃহস্পতিবার,
লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন সেইভ বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত এক নাগরিক শোক সমাবেশ ও গায়েবানা জানাযার নামায অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, মাওলানা নিজামী রাজনৈতিক হত্যাকার শিকার, তাঁর রক্ত বৃথা যেতে পাওে না। মাওলানা নিজামীকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করতেই মাওলানা নিজামীকে হত্যা করা হয়েছে। তবে বিশ্বের কোনো সরকারই শেষ সরকার নয়। বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ বিচার প্রক্রিয়াকে আর্ন্তজাতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, শেখ মুজিব কর্তৃক ৭১ সালের একটি মীমাংসিত ইস্যুকে সামনে নিয়ে এসে বর্তমান সরকার দেশে ইসলামী আন্দোলনকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করছে।
গতকাল বুধবার দুপুরে পূর্ব লন্ডনের আলতাব আলী পার্কে আয়োজিত এক প্রতিবাদে লন্ডনে নাগরিক শোক সমাবেশ ও গায়েবানা জানাযার নামায অনুষ্ঠানে তিনি এইসব কথা বলেন। মানবাধিকার কর্মী সেভ বাংলাদেশ চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইউরোপের মুখপাত্র ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা, শিক্ষাবিদ মামুনুর মোর্শেদ, শায়খ হাসিমুল আদ্দাদ হাইতাম আল হাদ্দাদ, বিশিষ্ট মানবাধিকার আইনজীবী ব্যারিস্টার বদরে আলম দিদার, মুফতি শাহ সদর উদ্দিন, সাংবাদিক মাহবুব আলী খানশূর, জাকের আহমদ চৌধুরী, মীর আব্দুল আউওয়া তারেক, সাংবাদিক আমিমুল আহসান তানিম, মানবাধিকার সংগঠক ফরিদুল ইসলাম, মুহম্মদ এবি সেলিম, মানবাধিকার কর্মী  মনিরুল হক, মুহম্মদ আলাউদ্দিন, তরিকুল ইসলাম, বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যক্তিবর্গ আব্দুল বাসিত, জুবাইর আহমেদ, সাইফুল ইসলাম প্রমুখ। বৃষ্টিকে অপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে মাওলানা নিজামীর জানাযায়।
ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিশ্বের ইতিহাসে অনেক যুদ্ধাপরাধের বিচার হয়েছে নুরেমবাগ থেকে সিওরালিয়ন কিন্তু মাওলানা নিজামী ৪০ বছর দেশে থাকার পরও কেউ কোনো দিন যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনেননি। সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে।
ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা বলেন, দোষ করলো কে আর ফাঁসি হয় কার? দোষী ভুট্টোকে দেয়া হলো লাল গালিচা সংবর্ধনা আর নিজামী সাহেবের হয় ফাঁসি, পাকিস্তানি দোষী আর্মিদের চুক্তি করে ক্ষমার ঘোষণা করলো আর জামায়াত নেতাদের ধরে ধরে ফাঁসি দেয়া হলো! মহা অবাক করা কাণ্ড!
সেইভ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম বলেন, যে জমিনে মাওলানা নিজামীর রক্ত ঝরেছে সেই জমিনে আমরা একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করে রক্তের বদলা নিব। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ যেভাবে হাজার হাজার প্রতিবাদী গণতন্ত্রকামী মানুষকে হত্যা করেছিলো, এখন বাংলাদেশকে সেইরকম পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। বিশ্বের মতামতকে উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার শ্লোগান নিয়ে বাংলাদেশে বাকশাল কায়েমের সুগভীর ষড়যন্ত্র করছে। 
মুফতি শাহ সদর উদ্দিন সকল রাজবন্দির মুক্তির দাবি জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে তাদের মুক্তি দেয়া না হলে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে সকল দায়দায়িত্ব আওয়ামী লীগকেই বহন করতে হবে।
মানবাধিকার সংগঠক ব্যারিস্টার বদরে আলম দিদার বলেন, বাংলাদেশে সামাজিক ন্যায় বিচার সুশাসন প্রতিষ্ঠা সংগ্রাম চলছে চলবে। আমাদের নেতাদের হত্যা করে আওয়ামী সরকারের পতন বন্ধ করা যাবে না। বাংলাদেশে নতুন করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হবে আওয়ামী বাকশালীদের পতনের মধ্য দিয়ে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জনতার সংগ্রাম চলছে জনতার সংগ্রাম চলবে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা চাই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হোক। চিহ্নিত ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীকে বিচারের কাঠ গড়ায় দাড় করানো হোক। কিন্তু বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের সে সৎ সাহস নেই। মূলত শেখ মুজিবর রহমান ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীকে ক্ষমা করে দিয়ে নিজেই যুদ্ধাপরাধীদের মদদ করেছেন। এমনকি ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীকে দিল্লি চুক্তির মাধ্যমে ভারত পাকিস্তানের কাছে হস্তান্তর করেছে। আর সেই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে শেখ মুজিব সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন। প্রকৃত দোষীদের ছেড়ে দিয়ে আজ বাংলাদেশের নাগরিকদের বিচার করা হচ্ছে মিথ্যা, বানোয়াট অভিযোগে।  
বক্তারা বলেন, বিশ্বের সকল আন্তর্জাতিক সংস্থার পক্ষ থেকে অস্বচ্ছ, অগ্রহণযোগ্য ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলা সত্ত্বেও সরকার দেশের সত্যিকার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় যারা কাজ করছেন তাদের সেই প্রতিবাদী  কন্ঠকে স্তব্ধ করতে চাইছে।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=234592