১০ জুলাই ২০২০, শুক্রবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
শায়খ ইউসুফ আল-কারযাভীর বার্তাঃ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করতে বাংলাদেশ সরকার প্রধানের ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ কামনা
৬ মে ২০১৬, শুক্রবার,
ইত্তেহাদুল আলামী লি উলামাইল মুসলিমীন এর প্রধান শায়খ ইউসুফ আল-কারযাভী এক বার্তায় বলেনঃ "ইসলামী উম্মাহ ও বাংলাদেশী জাতির বৃহত্তর স্বার্থে এই ধারাবাহিক নিন্দনীয় কর্মকাণ্ডগুলো বন্ধ করুন। তাহলে আপনাদের জাতির শক্তি গড়ার কাজে আসবে ভাঙ্গার কাজে নয় ঐক্য ও সংহতির কাজে আসবে বিভেদ কিংবা অনৈক্যের কাজে নয়।"

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদ! 
আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহঃ 
ইতিমধ্যে আমাদের গভীর উদ্বেগ উতকন্ঠায় ফেলেছে যে বাংলাদেশে ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ও উলামায়ে কেরামের উপর আব্যাহত গ্রেফতার ও মৃত্যুদণ্ডের দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, যাদের মধ্যে কেউ কেউ বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী এবং জাতীয় সংসদ সদস্য ছিলেন। চল্লিশ বছর পূর্বের ঘটনার জের ধরে তাদের উপর আরোপ করা হচ্ছে আদালতের রায়।

পূর্ব ও পশ্চিমের তাবৎ মুসলমানরা যথেষ্ঠ মনোবেদনা নিয়ে লক্ষ্য করেছে ধারাবাহিক মৃত্যুদণ্ডের রায় সমূহ যেগুলো বাস্তবায়িত হয়েছে  জনাব আব্দুল কাদের মোল্লা, জনাব কামারুজ্জামান, জনাব আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ, জনাব সালাউদ্দিন চৌধুরী উপর এবং চিকিৎসা অবহেলায় জীবন বিপন্ন করা হয়েছে সাবেক আমীরে জামায়াত অধ্যাপক গোলাম আযম এবং নায়েবে আমীর শায়খ আবুল কালাম মোহাম্মদ ইউসুফ কে, আল্লাহ তায়ালা তাঁদের সকলের রূহের উপর রহমত বর্ষণ করুন। 

আমি, আমার নামে এবং আমার ইত্তেহাদুল আলামী লি উলামাইল মুসলিমীন এর সহকর্মী ও সকল সদস্যদের পক্ষ থেকে এ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর এবং অন্যায় রায় সৃষ্ট রক্তপাত বন্ধে আপনার ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ কামনা করছি। 

প্রিয় শেখ হাসিনা! 
ইসলাম, শান্তি, মুসলিম উম্মাহ এবং বাংলাদেশের সামাজিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে আমি দাবি করছি যে, আপনারা এই ধারাবাহিক নিন্দনীয় কর্মকাণ্ডগুলো বন্ধ করুন। তাহলে আপনাদের জাতির শক্তি গড়ার কাজে আসবে ভাঙ্গার কাজে নয় ঐক্য ও সংহতির কাজে আসবে বিভেদ কিংবা অনৈক্যের কাজে নয়। 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী!
আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে দুনিয়া ও আখেরাতে এই রক্তপাতের পরিনাম সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, "যে কেউ প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ অথবা পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করা ছাড়া কাউকে হত্যা করে সে যেন গোটা মানবজাতিকে হত্যা করে।" (সুরা মায়েদাঃ ৩২) আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: "আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কোন মুসলমানকে হত্যা করে, তার শাস্তি জাহান্নাম সেখানে সে চিরকাল থাকবে, এবং আল্লাহ তার উপর ক্রুদ্ধ। তিনি তাকে অভিসম্পাত দেন এবং তার জন্য ভীষণ শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন" (সূরা নিসা : ৯৩)। 

ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত রাসূল (সাঃ) ইরশাদ ফরমান: "কিয়ামতের দিন মানুষের মাঝে সর্বপ্রথম হত্যার বিচার করা হবে" (বুখারি ও মুসলিম)। ইমাম আহমদ এবং নাসায়ি হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন: "কিয়ামতের দিন নিহতব্যক্তি সংশ্লিষ্ট হত্যাকারীকে নিয়ে এসে বলবে: হে রব! তাকে জিজ্ঞাসা করুন কেন সে  আমাকে হত্যা করেছে?" (মুসনাদে আহমদ ও নাসায়ী)। 

পরিশেষে আমি এবং আমার সাথে উম্মাহর আলেমগণ বাস্তবিকভাবে এসব বন্ধের জোর দাবী জানাচ্ছি। আলেমদের সাথে সংঘর্ষের রাজনীতি সত্যিকারভাবে পরিহার করুন। যা অনর্থক রক্ত ঝরায় অযথা প্রাণহাণী ঘটায় এবং সকল ধরণের স্বাধীনতা হরণ করে।

ইউসুফ আল-কারযাভী 
চেয়ারম্যান, ইত্তেহাদুল আলামী লি উলামাইল মুসলিমীন (আন্তর্জাতিক মুসলিম উলামা পরিষদ)

উৎসঃ http://www.qaradawi.net/new/Articles-8800