২০ অক্টোবর ২০১৯, রবিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মাওলানা নিজামীর রিভিউ খারিজ
৬ মে ২০১৬, শুক্রবার,
জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সাবেক মন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। “ডিসমিসড” এই এক শব্দে রিভিউ আবেদন খারিজের আদেশ দেন সর্বোচ্চ আদালত। ফলে আপিলে তিনটি অভিযোগে দেয়া মৃত্যুদন্ডের রায় বহাল থাকলো। এই রায়ের মধ্য দিয়ে কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারিক প্রক্রিয়ার সমাপ্তি হলো। 
আইনী প্রক্রিয়ার শেষ ধাপে অবশ্য সংবিধান অনুযায়ী রায় কার্যকরের আগে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন রাষ্ট্রপতি মঞ্জুর না করলে দন্ড কার্যকরে জেল কর্তৃপক্ষের সামনে আর কোনো বাধা থাকবে না।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে এগারটায় প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ রিভিউ আবেদন খারিজের রায় দেন। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। 
গত মঙ্গলবার রিভিউ শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার রায়ের দিন ধার্য করা হয়েছিল। ওইদিন সকাল ৯টা ২৫ মিনিট থেকে ১০টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত যুক্তি উপস্থাপন করেন মাওলানা নিজামীর প্রধান কৌঁসুলি ও সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন। এরপর ১০ মিনিট এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম প্রসিকিউশন পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। মাঝে আধা-ঘণ্টার বিরতি শেষে এটর্নি জেনারেল তার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন। এরপর আদালত রায়ের জন্য ৫ মে দিন ধার্য করেন। 
আদালতে শুনানিতে খন্দকার মাহবুব হোসেনকে সহায়তা করেন আইনজীবী এস এম শাহজাহান, ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিকী ও ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন।
রায় ঘোষণার সময় মাওলানা নিজামীর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট এস এম শাহজাহান। আরো উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট মশিউল আলম, এডভোকেট ফরিদউদ্দন খান, এডভোকেট মাঈনউদ্দিন ফারুকী, এডভোকেট মো.ইউসুফ আলী, এডভোকেট আবদুর রাজ্জাক, এডভোকেট আসাদউদ্দিন, এডভোকেট তারিকুল ইসলাম, এডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন প্রমুখ। 
শুনানি শেষে গত মঙ্গলবার খন্দকার মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, প্রসিকিউশন আদালতে যে সাক্ষ্য প্রমাণ উপস্থাপন করেছে তাতে অভিযোগ প্রমাণ হয় না। অভিযুক্তকে খালাস দেয়া উচিত। ১৯৭৪ সালের সিমলা চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান সম্মিলিতভাবে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে তাতে ১৯৫ জন পাকিস্তানী সৈন্যকে যুদ্ধপারাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয় পরে তাদের ক্ষমা করে ছেড়ে দেয়া হয়েছিল। ছেড়ে দেয়া ১৯৫ জন পাকিস্তনী সৈন্য ছিলেন প্রধান আসামী। তাদের ছেড়ে দিয়ে সহযোগীদের বিচার আইনত চলতে পারে না। আমাদের উচ্চ আদালতের রায়েও উল্লেখ রয়েছে প্রধান আসামীকে ছেড়ে দিয়ে সহযোগীদের বিচার হয় না। তারপরেও প্রসিকিউশন থেকে যে সাক্ষ্য ও প্রমাণ তাতে অভিযোগ প্রমাণ হয় না। প্রসিকিউশন সাক্ষীদের সেইফহোমে রেখে আদালতে দাঁড় করিয়েছে।
দুর্ভাগ্যজনক হলো, ড. আলীমের স্ত্রী মামলার তদন্ত কর্মকর্তার (আইও) কাছে বলেননি নিজামী সাহেবের নির্দেশে তাকে তুলে নিয়েছে। ডা.আজহার হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী কিছু বলেননি। আইওর কাছে যা বলেননি কিন্তু হঠাৎ করে অভিযোগ করা হলো। তারা বলেছেন, নিজামী সাহেবের নির্দেশে তুলে নিয়ে গেছে যা অবিশ্বাস্য। এ কথার ওপর ভিত্তি করে একটি লোককে চরম দন্ড দেয়া যায় না।
আমরা দেখিয়েছি নিজামী সাহেব মৃত্যুদন্ডের অভিযোগ থেকে খালাস পাওয়ার যোগ্য। কারণ সরাসরি তিনি অভিযোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। পরোক্ষ অপরাধের (ভাইকেরিয়াস লায়াবিলিটি) জন্য মৃত্যুদ- দেয়া যায় না। প্রধান বিচারপতিও এ প্রসঙ্গে এটর্নি জেনারেলকে জিজ্ঞেস করেছেন প্রধান আসামীকে ছেড়ে দেয়ার পর সহযোগীদের চরম দ- দেয়া যায় কিনা? আমার মনে হয় না এটর্নি জেনারেল এ প্রশ্নে সঠিক জবাব দিতে পেরেছেন। 
আমরা মনে করি প্রধান আসামীদের ক্ষমা করে দেয়ার পর যদি প্রসিকিউশনের সাক্ষ্য মেনে নেয়াও হয় তাহলেও পরোক্ষ অপরাধের জন্য চরম দ- হতে পারে না। পরোক্ষ অপরাধের জন্য যে সাজা রয়েছে সে সাজা হওয়া উচিত।
শুনানিতে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, নিজামী সাহেব আলবদর বাহিনীর সদস্য ছিলেন, এ রকম কোনো তথ্য ছিল না। যুদ্ধের পর ১৯৭২ সালে দালাল আইনে মামলা হয়েছিল। তখন তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি। যুদ্ধের ৪২ বছর পর হঠাৎ করে আমার (নিজামী) নাম আনা হয়েছে। তখন রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে নিজামী সাহেব তাদের সমর্থন দিয়েছেন। কিন্তু তিনি কোনো হত্যাকা-ে বা কোনো ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন না।
যে  তিন অভিযোগে মৃত্যুদ-
আপিলের রায়ে প্রসিকিউশনের আনা ২, ৬ ও ১৬ নম্বর অভিযোগে মাওলানা নিজামীর মৃত্যুদ- বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। ২ নম্বর অভিযোগ হলো রুপসী, ডেমরা ও বাউশগাড়ী হত্যাকা-। অভিযোগ অনুযায়ী এ ঘটনায় প্রায় ৪৫০ লোককে হত্যা করা হয়েছে, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়েছে এবং নারী নির্যাতন করা হয়েছে। এই অভিযোগে ট্রাইব্যুনাল মৃত্যদ- দিয়েছিল। এই অভিযোগে ট্রাইব্যুনালের সাজা বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। ৬ নম্বর অভিযোগ হলো ধুলাউড়ি হত্যাকা-। অভিযোগ হলো-একাত্তরের ২৭ নবেম্বর রাত সাড়ে তিনটায় মাওলানা নিজামী কর্তৃক রাজাকার ও পাক বাহিনী সাথে নিয়ে ধুলাউড়ি গ্রামের আব্দুল আউয়াল সাহেবের বাড়িতে ঘেরাও দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর আক্রমণ করে ভোর সাড়ে ৬টায় পুরুষ, মহিলা ও শিশুদেরকে ধুলাউড়ি স্কুলে নিয়ে ৩০ জনকে হত্যা। পরে রাজাকারদের সাথে নিয়ে ২২ জনকে ইছামতি নদীর তীরে নিয়ে হত্যা। এর শিকার সকলে ছিলেন বেসামরিক ব্যক্তি (আন আর্মড সিভিলিয়ান)। এই অভিযোগে মৃত্যুদ- দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। এই অভিযোগের সাজা আপিল বিভাগে বহাল রয়েছে। ১৬ নম্বর অভিযোগ হলো বুদ্ধিজীবী হত্যাকা-। এই অভিযোগে বলা হয় মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে ইসলামী ছাত্র সংঘের সভাপতি হিসাবে পদাধিকার বলে আলবদর ও সহযোগী বাহিনীর প্রধান হিসাবে বিশেষত ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর সংঘটিত বুদ্ধিজীবী হত্যাকা-ের দায়ে গণহত্যা এবং কমান্ড রেসপনসিবিলিটির অভিযোগ আনা হয়েছে। এই অভিযোগেও মৃত্যুদ- দেয় ট্রাইব্যুনাল। এই অভিযোগে ট্রাইব্যুনালের সাজা বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। এই তিনটি অভিযোগের মৃত্যুদ-ের সাজার বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে রিভিউ আবেদন করেন মাওলানা নিজামী। 
গত ১০ এপ্রিল আপিল বিভাগ ডিফেন্সপক্ষে সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে ৩ মে রিভিউর পরবর্তী দিন নির্ধারণ করেছিলেন। 
এর আগে গত ৩ এপ্রিল এ বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল। ওইদিন রিভিউ আবেদন কার্য তালিকায় আসলে ডিফেন্সপক্ষের সময় চেয়ে করা আবেদন মঞ্জুর করে আদালত “এই সপ্তাহে নয়” বলে আদেশ দিয়েছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় এক সপ্তাহ পর রিভিউ আবেদনটি আবার কার্যতালিকায় আসে ১০ এপ্রিল।  একইসঙ্গে ডিফেন্সপক্ষের মুলতবির আবেদনও শুনানির জন্য আসে। ওইদিন শুনানি শেষে আদালত ৩ মে শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করেন। 
গত ২৯ মার্চ মাওলানা নিজামীর আইনজীবীরা খালাস চেয়ে আপিলের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন। ৭০ পৃষ্ঠার মূল রিভিউর আবেদনের সঙ্গে মোট ২২৯ পৃষ্ঠার নথিপত্রে ৪৬টি (গ্রাউন্ড) যুক্তিতে খালাস চান তার আইনজীবীরা। রিভিউ আবেদনের এডভোকেট অন রেকর্ড হলেন আইনজীবী জয়নুল আবেদীন তুহিন। 
এর একদিন পরেই সরকারপক্ষে শুনানির দিন নির্ধারণের জন্য আবেদন করে। সরকারের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ৩০ মার্চ আপিল বিভাগের চেম্বার জজ বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার আবেদনটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে ৩ এপ্রিল দিন নির্ধারণ করেন। ওইদিন ডিফেন্সপক্ষে ৬ সপ্তাহ সময় চেয়ে আবেদন করা হলে আদালত এ সপ্তাহ নয় বলে আদেশ দেন। মামলার প্রধান আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেনের ব্যক্তিগত অসুবিধার কারণে সময় চাওয়া হয়।
গত ১৫ মার্চ আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী রায় প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে রিভিউ আবেদন করতে হয়। সে হিসেবে ৩০ মার্চ পর্যন্ত রিভিউ করার সময় ছিল। তার আগেই মাওলানা নিজামীর পক্ষে তার আইনজীবীরা সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আবেদন করেন। 
গত ১৬ মার্চ মাওলানা নিজামীর সঙ্গে আইনজীবীরা কাশিমপুর কারাগারে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তিনি রিভিউ করার পরামর্শ দেন। মাওলানা নিজামী তার আইনজীবীদের বলেন, তিনি নির্দোষ। যে অভিযোগে তাকে সাজা দেয়া হয়েছে তার সঙ্গে তার দূরতম সম্পর্কও নেই। তিনি আশা প্রকাশ করেন রিভিউ করার পর ন্যায়বিচার হলে তিনি খালাস পাবেন। আগেরদিন ১৫ মার্চ মাওলানা নিজামীর আপিলের পূর্র্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করে আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ রায়ে স্বাক্ষর করলে ওইদিন রায় প্রকাশ হয়। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। পূর্ণাঙ্গ রায় লেখেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা। পূর্ণাঙ্গ রায়ে তিনটি অভিযোগে মাওলানা নিজামীর মৃত্যুদ-, তিনটিতে খালাস, দুটিতে যাবজ্জীবন দেয়া হয়। এর আগে গত ৬ জানুয়ারি আপিল বিভাগ সংক্ষিপ্ত রায় প্রদান করেন। 
২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর মাওলানা নিজামীর মামলায় রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। রায়ে ১৬টি অভিযোগের মধ্যে ২, ৪, ৬ ও ১৬ নম্বর অভিযোগে মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদ-ের রায় দেয়া হয়। অপর চারটি অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদ- প্রদান করা হয়। এছাড়া বাকি আটটি অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মাওলানা নিজামীকে অভিযোগগুলো থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।
ট্রাইব্যুনালের দেয়া এ রায়ের বিরুদ্ধে একই বছরের ২৩ নবেম্বর সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন তিনি। ছয় হাজার ২৫২ পৃষ্ঠার আপিলে মৃত্যুদ-ের রায় বাতিল করে খালাসের আরজি জানান মাওলানা নিজামী। মোট ১৬৮টি যুক্তি দেখিয়ে এ আপিল করা হয়। 
২০১৩ সালের ১৩ নবেম্বর প্রথমবারের মতো এই মামলা রায়ের জন্য অপেক্ষমান (সিএভি) রাখা হয়। কিন্তু রায় ঘোষণার আগেই অবসরে চলে যান ট্রাইব্যুনাল-১-এর তৎকালীন চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীর। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনাল অধিকতর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে দ্বিতীয় দফায় গত ২৪ মার্চ মামলার রায় অপেক্ষমান রাখেন। 
২০১২ সালের ২৮ মে ট্রাইব্যুনাল মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের ১৬টি অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে। অভিযোগের মধ্যে ছিল মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, লুট, উসকানি ও সহায়তা, পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র এবং বুদ্ধিজীবী হত্যা। অভিযোগ গঠনের ৩ মাস পর ২৬ আগস্ট তার বিরুদ্ধে ইসলামী ঐক্যজোটের (একাংশ) চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান চৌধুরীর জবানবন্দীর মধ্যদিয়ে প্রসিকিউশনের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। পরে প্রসিকিউশন পক্ষে সাক্ষ্য দেন মুক্তিযোদ্ধা জহিরউদ্দিন জালাল, শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. আলীম চৌধুরীর স্ত্রী শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা.আজহারুল হকের স্ত্রী সৈয়দা সালমা হক, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক খানসহ আরো ২৫ জন।
আসামীপক্ষের সাক্ষী (সাফাই সাক্ষী) হিসেবে প্রথমে ১০ হাজার ১১ জন সাক্ষীর তালিকা দিয়েছিল আসামীপক্ষ। পরে তারা ২৩ জন সাক্ষীর একটি সংশোধিত তালিকা জমা দেন। এর মধ্যে মাত্র ৪ জনকে সাফাই সাক্ষ্য দেয়ার জন্য নির্দিষ্ট করে দেন ট্রাইব্যুনাল। সাফাই সাক্ষীদের মধ্যে ছিলেন মাওলানা নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন। ২০১০ সালের ২৯ জুন কথিত ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের একটি মামলায় মাওলানা নিজামীকে গ্রেফতার করা হয়। পরে একই বছরের ২ আগস্ট এক আবেদনে তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার দেখানো হয়।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=233823