২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শুক্রবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
জার্মানিতে কার্গো নিষেধাজ্ঞা রপ্তানিতে নয়া ঝুঁকি
২৯ জুন ২০১৬, বুধবার,
‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বিবেচনায় বাংলাদেশ থেকে সরাসরি আকাশপথে পণ্য পরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জার্মানির বেসামরিক বিমান সংস্থা লুফথানসা  এয়ারলাইনস। এতে ব্যবসায়ীদের নতুন করে শঙ্কায় ফেলে দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, আগের সৃষ্ট নিষেধাজ্ঞার ইমেজ পুনরুদ্ধার না হতেই নতুন করে আরেকটি নিষেধাজ্ঞা আসায় উদ্যোক্তাদের ভাবিয়ে তুলছে। এ ছাড়া দেশের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনও অন্তরায় হয়ে পড়বে বলে তারা মনে করেন।

গত রোববার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত জানায় লুফথানসা এয়ারলাইনস। এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ থেকে পণ্য রপ্তানিতে প্রভাব পড়বে বলে জানিয়েছেন তৈরি পোশাক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ। কারণ, বাংলাদেশ থেকে পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে একক দেশ হিসেবে জার্মানি দ্বিতীয় বৃহত্তম।

বিজিএমইএ’র সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ইইউ থেকে বৃটেনের সরে আসার এই পর্যায়ে জার্মানির সিদ্ধান্ত দেশের রপ্তানিতে চরম প্রভাব ফেলবে। জার্মানির এ সিদ্ধান্তে তারা বেশ উদ্বিগ্ন। কারণ, বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে একক দেশ হিসেবে জার্মানি দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার। যুক্তরাষ্ট্রের পরই এর অবস্থান। গত বছর বাংলাদেশ থেকে জার্মানিতে ৪৩৬ কোটি ৪০ লাখ ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এর একটা অংশ গেছে আকাশপথে। তিনি বলেন, কোনো কারণে পণ্য তৈরিতে দেরি হলে জরুরি কারণে তৈরি পোশাক জাহাজে না দিয়ে আকাশপথে পাঠানো হয়। সেটাও বন্ধ হলে প্রভাব না পড়ার তো কোনো কারণ দেখি না।

বিমানবন্দর সূত্র মতে, বর্তমানে ঢাকা থেকে কেবল লুফথানসা এয়ারলাইন সপ্তাহে দুটি কার্গো ফ্লাইট পরিচালনা করে। এর মধ্যে বেশির ভাগই থাকে তৈরি পোশাক।

এর আগে গত ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া ও মার্চে যুক্তরাজ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ‘আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে’ ঘাটতির কথা বলে বাংলাদেশ থেকে আকাশপথে পণ্য পরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পরে যুক্তরাজ্যের পরামর্শে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার, বিশেষ করে কার্গো স্ক্যানিং আন্তর্জাতিক মানে নেয়ার লক্ষ্যে ওই দেশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রেডলাইনকে নিয়োগ করা হয়। রেডলাইন কাজ শুরুর তিন মাসের মাথায় জার্মানির এই সিদ্ধান্তে বড় ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

সূত্র জানায়, লুফথানসা এয়ারলাইনস জানিয়েছে, তারা আকাশপথে সরাসরি বাংলাদেশ থেকে পণ্য পরিবহন করবে না। বাংলাদেশ থেকে পণ্য পরিবহনকে তারা ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছে।

জার্মানির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (এলবিএ লুফৎফার্ট বুন্ডেসামট অথরিটি) বার্লিন দপ্তর থেকে দেয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে আকাশপথে পাঠানো পণ্য ও চিঠিপত্রকে ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জার্মানির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা। এ কারণে বাংলাদেশকে উড্ডয়ন নিরাপত্তার ক্ষেত্রে উচ্চ ঝুঁকির দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই চিঠির পর থেকে জার্মানির যেকোনো বিমানবন্দরে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি আকাশপথে পাঠানো পণ্য ও ডাককে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
 
বেবিচক সূত্র জানায়, এর আগে অস্ট্রেলিয়ায় নিষেধাজ্ঞায় বলা হয়েছিল বাংলাদেশ থেকে তৃতীয় একটি দেশ ঘুরে অস্ট্রেলিয়াতে কার্গো যাবে। ওই তৃতীয় দেশে পণ্য পুনরায় স্ক্যানিং করা হবে। কিন্তু জার্মানিতে তৃতীয় দেশে পুনরায় স্ক্যানিং করে কার্গো পাঠানো যাবে কি না, সে বিষয়ে ওই দেশের কর্তৃপক্ষের পাঠানো চিঠিতে কিছু বলা হয়নি।
http://goo.gl/UeK7uL