২০ অক্টোবর ২০১৯, রবিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মাওলানা নিজামীর রিভিউ শুনানির পরবর্তী দিন ৩ মে
১১ এপ্রিল ২০১৬, সোমবার,
জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সাবেক মন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর খালাস চেয়ে করা রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) আবেদনের শুনানির জন্য ৩ মে পরবর্তী দিন নির্ধারণ করেছেন আপিল বিভাগ। গতকাল রোববার সকালে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ এ দিন নির্ধারণ করেন। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। ডিফেন্সপক্ষের আইনজীবীর সময় চেয়ে করা আবেদনের প্রেক্ষিতে আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
মাওলানা নিজামীর রিভিউ আবেদন আপিল বিভাগের কার্যতালিকার ১৯ নম্বর ক্রমিকে ছিল। এদিন সংক্ষিপ্ত শুনানিতে অংশ নিয়ে সময়ের আবেদন করেন মাওলানা নিজামীর প্রধান কৌসুলি ও সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সদ্য বিদায়ী সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন। সরকার পক্ষে ছিলেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। 
শুনানিতে মাওলানা নিজামীর পক্ষে আরো ছিলেন আইনজীবী এস এম শাহজাহান। উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিকী ও ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন। 
আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের গ্রীষ্মকালীন ছুটি শুরু হবে। এ ছাড়া ১ মে বিশ্ব শ্রমিক দিবসের সরকারি ছুটি। এসব বিবেচনায় ৩ মে শুনানির দিন নির্ধারণ করেন আদালত। 
এর আগে গত ৩ এপ্রিল এ বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল। ওইদিন রিভিউ আবেদন কার্য তালিকায় আসলে ডিফেন্সপক্ষের সময় চেয়ে করা আবেদন মঞ্জুর করে আদালত “এই সপ্তাহে নয়” বলে আদেশ দিয়েছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় এক সপ্তাহ পর রিভিউ আবেদনটি আবার কার্যতালিকায় আসে।  একইসঙ্গে ডিফেন্সপক্ষের মুলতবির আবেদনও শুনানির জন্য আসে। শুনানি শেষে আদালত ৩ মে শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করেন। 
গত ২৯ মার্চ মাওলানা নিজামীর আইনজীবীরা খালাস চেয়ে আপিলের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন। এর একদিন পরেই সরকারপক্ষে শুনানির দিন নির্ধারণের জন্য করা আবেদন করে। সরকারের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ৩০ মার্চ আপিল বিভাগের চেম্বার জজ বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার আবেদনটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে ৩ এপ্রিল দিন নির্ধারণ করেন। এই ধারাবাহিকতায় রিভিউ আবেদনটি আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় আসে। ওইদিন ডিফেন্সপক্ষে ৬ সপ্তাহ সময় চেয়ে আবেদন করা হলে আদালত এ সপ্তাহে নয় বলে আদেশ দেন। মামলার প্রধান কৌসুলি ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেনের ব্যক্তিগত অসুবিধার কারণে সময় চাওয়া হয়।
গত ২৯ মার্চ বেলা ১১ টার দিকে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় মাওলানা নিজামী খালাস চেয়ে আপিলের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করেন। ৭০ পৃষ্ঠার মূল রিভিউর আবেদনের সঙ্গে মোট ২২৯ পৃষ্ঠার নথিপত্রে ৪৬টি (গ্রাউন্ড) যুক্তিতে খালাস চেয়েছেন তার আইনজীবীরা। রিভিউ আবেদনের এডভোকেট অন রেকর্ড হলেন আইনজীবী জয়নুল আবেদীন তুহিন। 
রিভিউ আবেদনে মাওলানা নিজামীর পক্ষে শুনানি করবেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন ও এস এম শাহজাহান। তাদেরকে সহযোগিতা করবেন ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিকী ও ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন। 
গত ১৫ মার্চ আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী রায় প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে রিভিউ আবেদন করতে হয়। সে হিসেবে ৩০ মার্চ পর্যন্ত রিভিউ করার সময় ছিল। তার আগেই মাওলানা নিজামীর পক্ষে তার আইনজীবীরা সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আবেদন করেন। 
রিভিউর প্রধান আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন এক ব্রিফিংয়ে বলেছিলেন আলবদর বাহিনী এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যাকা-ের সঙ্গে মাওলানা নিজামীর সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল না। অপরাধে সরাসরি সম্পৃক্ততা না থাকায় ও সাক্ষ্য পর্যালোচনা করলে তিনি ন্যায়বিচার পাবেন। যে সাক্ষী আছে তা পুনর্বিবেচনা হলে এবং যেহেতু তার (মাওলানা নিজামীর) সরাসরি সম্পৃক্ততা নাই তাই তিনি ন্যায়বিচার পাবেন বলে আমরা আশা করছি। 
অপরদিকে সরকারের অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা বলেছিলেন ডিফেন্সপক্ষে রিভিউ আবেদন করা হয়েছে। এর দ্রুত শুনানির পদক্ষেপ নেয়া হবে। 
গত ১৬ মার্চ মাওলানা নিজামীর সঙ্গে আইনজীবীরা কাশিমপুর কারাগারে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তিনি রিভিউ করার পরামর্শ দেন। মাওলানা নিজামী তার আইনজীবীদের বলেন, তিনি নির্দোষ। যে অভিযোগে তাকে সাজা দেয়া হয়েছে তার সঙ্গে তার দূরতম সম্পর্কও নেই। তিনি আশা প্রকাশ করেন রিভিউ করার পর ন্যায়বিচার হলে তিনি খালাস পাবেন। আগের দিন ১৫ মার্চ মাওলানা নিজামীর আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করে আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ রায়ে স্বাক্ষর করলে ওইদিন রায় প্রকাশ হয়। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। পূর্ণাঙ্গ রায় লেখেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা। পূর্ণাঙ্গ রায়ে তিনটি অভিযোগে মাওলানা নিজামীর মৃত্যুদ-, তিনটিতে খালাস, দুটিতে যাবজ্জীবন দেয়া হয়। এর আগে গত ৬ জানুয়ারি আপিল বিভাগ সংক্ষিপ্ত রায় প্রদান করেন। 
২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাবনায় হত্যা, ধর্ষণ ও বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে মাওলানা নিজামীকে মৃত্যুদ-াদেশ দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=231146