২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, রবিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
গুরুতর প্রক্রিয়াগত সমস্যার অভিযোগ : মাওলানা নিজামী ও মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ডে জাতিসঙ্ঘের উদ্বেগ
৮ এপ্রিল ২০১৬, শুক্রবার,
বিচারের আন্তর্জাতিক মান নিয়ে সন্দেহের অবকাশের মধ্যেই জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ও কেন্দ্রী নির্বাহী পরিষদ মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ডাদেশে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংক্রান্ত জাতিসঙ্ঘ হাইকমিশনার।

আজ শুক্রবার জেনেভা থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে হাইকমিশনারের মুখপাত্র এই উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, অপরাধের মাত্রা যাই হোক না কেন এবং বিচারের মান যতই কঠোর হোক না কেন, জাতিসঙ্ঘ যে কোনো পরিস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে। অতীতের অপরাধ বিচারের বাংলাদেশের দৃঢ়চেতা মনোভাব জাতিসঙ্ঘ অনুধাবন করতে পারে। কিন্তু দু:খজনকভাবে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সুষ্ঠু বিচারের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সনদের (আইসিসিপিআর) শর্ত পূরণ করেনি। এই বিচারে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা অভাব, প্রসিকিউশন ও ডিফেন্সের মধ্যে সমতার অভাবসহ গুরুতর প্রক্রিয়াগত সমস্যা রয়ে গেছে, যা জাতিসঙ্ঘের বিভিন্ন স্বাধীন বিশেষজ্ঞরা বারবার তুলে ধরেছেন। 

আইসিসিপিআরের আওতায় বাধ্যবাধতা সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকারকে শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহবান জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের সই করা এই সনদের আর্টিকেল ১৪-তে সুষ্ঠু বিচারের অধিকারের কথা বলা হয়েছে। বিচার প্রক্রিয়ায় এই সনদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হয়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়ায় জীবনের অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে।

এতে বলা হয়, বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতা মতিউর রহমান নিজামী তার মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে রিভিউ পিটিশন দাখিল করেছেন, যার শুনানি হবে ১০ এপ্রিল। রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়া ছাড়া ফাঁসির আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের এটিই আইনের শেষ স্তর। আমরা আশা করি রিভিউ পিটিশনটি আদালত পুঙ্খনাপুঙ্খভাবে বিবেচনা করবেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে নিজামীর বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণসহ অন্যান্য গুরুতর অপরাধের পরিকল্পনা, নির্দেশ দান ও কার্যকর করার অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ৮ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট জামায়াতে ইসলামীর অপর নেতা মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখেছেন। ২০১৪ সালের নভেম্বরে ট্রাইব্যুনাল মীর কাসেম আলীকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন। ২০১০ সালে কার্যক্রম শুরুর পর ট্রাইব্যুনাল অন্তত ১৭টি আদেশ দেন। এর মধ্যে বেশির ভাগই মৃতুদণ্ড। এসব রায়ের ভিত্তিতে এ পর্যন্ত চারজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। 

এতে বলা হয়, বাংলাদেশে এক হাজার দুইশ’য়ের বেশি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কারাবন্দি রয়েছে। গত মার্চে বাংলাদেশের চারটি জেলায় পৃথক পৃথক হত্যাকাণ্ডের জন্য অন্তত ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসাবে সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা থেকে বিরত হয়ে বাংলাদেশ সরকারকে আমরা প্রাণদণ্ড ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকার আহবান জানাচ্ছি। 

বিবৃতিতে বাংলাদেশে আরো একজন ব্লগার হত্যায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জঙ্গিবাদে হুমকিতে থাকা বাংলাদেশের সব নাগরিককে সুরক্ষা দেয়ার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহবান জানানো হয়। এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে সব রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতাদের সমস্বরে নিন্দা জানানো এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার জন্যও এতে আহবান জানানো হয়েছে। - See more at: http://www.dailynayadiganta.com/detail/news/108527#sthash.8WQL53ag.dpuf