১৭ অক্টোবর ২০১৯, বৃহস্পতিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মাওলানা নিজামীর মুক্তির দাবিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি
১ এপ্রিল ২০১৬, শুক্রবার,
মুহাম্মদ নূরে আলম বরষণ (লন্ডন): জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর মুক্তির দাবিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরুনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন সেইভ বাংলাদেশ। ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে বিক্ষোভ শেষে একটি প্রতিনিধি দল স্মারকলিপি দেয়। বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক, মানবাধিকার ও সামাজিক সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মীর শ্লোগানে ছিলো মুখরিত ১০ ডাউনিং স্ট্রিট। নানা ধরনের শ্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন ও ব্যানারে লেখা ছিলো দেশ রক্ষার প্রতিবাদে মুখরিত গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার শ্লোগান। রুখে দাঁড়াতে বিশ্ববিবেকের কাছে আবেদন। শত শত বাংলাদেশী ও ব্রিটিশ পতাকা শোভিত এ বর্ণাঢ্য সমাবেশ এক অনবদ্য আকর্ষণ সৃষ্টি করে।  ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনেই বিশাল সমাবেশে এমনি দৃশ্য দেখা গেছে। 
স্মারকলিপি প্রদান উপলক্ষে গত বুধবার দুপুরে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিশিষ্ট মানবাধিকার আইনজীবী ব্যারিস্টার বদরে আলম দিদারের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন  বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর  ইউরোপের মুখপাত্র ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা, ইউকে বিএনপি’র সভাপতি এম এ মালেক, সেইভ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ব্যারিষ্টার নজরুল ইসলাম, জমিয়তে উলামা ইউরোপের সভাপতি মুফতি শাহ সদুরুদ্দিন,  বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যক্তিবর্গ আব্দুল বাসিত, জুবাইর আহমেদ, সাইফুল ইসলাম, নাসির উদ্দিন প্রমুখ। 
স্মারকলিপিতে রাজনৈতিক, মানবাধিকার ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা অবিলম্বে জামায়াত ও বিএনপির নেতাদের মুক্তির দাবি জানান। 
সমাবেশে ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা বলেন, এটি সরকারের সাজানো মামলার বিচার। মাওলানা নিজামী কোনো অপরাধে সংশ্লিষ্ট ছিলেন না ও আলবদর বাহিনীর প্রধানও ছিলেন না। এর পরও সরকার তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে। তিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কাছে সরকারের জঘন্য ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে ন্যায়বিচার দাবি করেন। তিনি বলেন, বর্তমান ব্যর্থ সরকারের নানাবিধ চুরি ডাকাতি আর গুম খুন ধামাচাপা দিতে হঠাৎ করে মাওলানা নিজামীর রায় সামনে নিয়ে এসেছে । 
ব্যারিষ্টার নজরুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ যেভাবে হাজার হাজার প্রতিবাদী গণতন্ত্রকামী মানুষকে হত্যা করেছিলো, এখন বাংলাদেশকে সেইরকম পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে বর্তমান ক্ষমতা লোভী সরকার। বিশ্বের মতামতকে উপেক্ষা করে মিথ্যা মামলায় বিচারের আয়োজন করা হচ্ছে। অবিলম্বে আমরা এই সমাবেশ থেকে জামায়াত আমীর মাওলানা নিজামীর মুক্তির দাবি করছি। 
ব্যারিস্টার বদরে আলম দিদার বলেন, পাবনার কোনো মুক্তিযোদ্ধা বলেননি যে মাওলানা নিজামী মানবতা বিরোধী কোন প্রকার অপরাধে জড়িত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে ১৯৮৬ সালের আগ পর্যন্ত মাওলানা নিজামী পাবনা সংশ্লিষ্ট এলাকায় যায়নি। আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে জামায়াতকে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে জনপ্রিয় নেতাদের ফাঁসি দেয়ার ষড়যন্ত্র করছে। 
নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা চাই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হোক। চিহ্নিত ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীকে বিচারের কাঠ গড়ায় দাঁড় করানো হোক। কিন্তু বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের সে সৎ সাহস নেই। মূলত শেখ মুজিবর রহমান ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীকে ক্ষমা করে দিয়ে ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীকে দিল্লি চুক্তির মাধ্যমে ভারত পাকিস্তানের কাছে হস্তান্তর করেছে। আর সেই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে শেখ মুজিব সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন। প্রকৃত দোষীদের ছেড়ে দিয়ে আজ বাংলাদেশের নাগরিকদের বিচার করা হচ্ছে মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগে। আর এ থেকে প্রমাণিত হয় যুদ্ধাপরাধের বিচার নয়, আওয়ামী লীগের মূল টার্গেট জনপ্রিয় ইসলামিক ব্যক্তিবর্গ।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=229910