২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শুক্রবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি আয় কমছে
১৭ জানুয়ারি ২০১৬, রবিবার,
ইউরোপের বাজার থেকে তৈরি পোশাকের আয় কমছে। গত ছয় মাসে এই আয় ২০ ভাগ কমেছে বলে জানিয়েছে রফতানি খাতের সংগঠন এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি)। বিশেষ করে ইউরো’র মূল্য পতনের ফলে এই আয় কমছে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র জানায়, ডলার ও ইউরোর বিপরীতে টাকা শক্তিশালী হওয়ার কারণেও ভুগতে হচ্ছে রফতানি বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যবসায়ীদের। এক বছর আগে এক ইউরো আয় করলে বাংলাদেশী মুদ্রায় রফতানিকারক  পেতেন ১০৬ টাকা। এখন পাচ্ছেন ৮৮ টাকা। এ হিসাবে ২০ শতাংশ আয় কম করছেন বাংলাদেশী রফতানিকারকরা।
তৈরি পোশাক রফতানিকারকরা জানান, বাংলাদেশের রফতানি আয়ের বড় অংশ আসে ইউরোপ অঞ্চলের ২৮টি দেশ থেকে। একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বড় রফতানি বাজার হলেও অঞ্চল বিবেচনায় পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার ইউরোপ। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ইউরোপীয় অঞ্চলের ১১টি দেশ থেকে বাংলাদেশের রফতানি আয় কমেছে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) রফতানি পরিসংখ্যান থেকে পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সংকলিত হিসাবে এ চিত্র উঠে এসেছে।
পোশাক খাত থেকে চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রফতানি আয় কমেছে এমন দেশের মধ্যে আছে অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, গ্রিস, আয়ারল্যান্ড, সাইপ্রাস, হাঙ্গেরি, লাটভিয়া, স্লোভেনিয়া ও ক্রোয়েশিয়া। দেশগুলোর ঋণাত্মক বা নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি যথাক্রমে ২ দশমিক ৯৯, ৩ দশমিক ৭৩, ৬ দশমিক ৫৩, ২০ দশমিক ৭২, ৭ দশমিক ৭৯, ২২ দশমিক ৫২, ৩০ দশমিক ৪৪, ৩৬ দশমিক ২৭, ৩৯ দশমিক ১৯, ১৫ দশমিক ৬৭ ও ২৪ দশমিক ৪০ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরের ছয় মাসে ইউরোপের ১১টি দেশ থেকে রফতানি আয় কমেছে ৮ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। আর আয় হয়েছে ৮৩ কোটি ৩৩ লাখ ৭০ হাজার ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৯০ কোটি ৬২ লাখ ৬০ হাজার ডলার।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত এক বছরে ডলারের বিপরীতে প্রায় ২০ শতাংশ মূল্য হারিয়েছে ইউরো। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে রফতানিতে। ইউরোপের ক্রেতারা এক বছর আগে ১ ডলার মূল্যের বাংলাদেশী পণ্য কিনতেন দশমিক ৭২ ইউরোর বিনিময়ে। একই পণ্য কিনতে এখন তাদের খরচ করতে হচ্ছে দশমিক ৮৮ ইউরো। এ হিসাবে ইইউ আমদানিকারকদের খরচ বেশি হচ্ছে প্রায় ১৩ শতাংশ।
রফতানি খাতের সংগঠন এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী জানান, ইউরোপীয় অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশ থেকে রফতানি আয় কমে যাওয়ার মূল কারণ ইউরোর অবমূল্যায়ন। আর বিগত বছরগুলোয় ইইউ অঞ্চলের অপ্রচলিত বাজারগুলোয় বিপণন করার সুযোগ আমরা পাইনি। ফিনল্যান্ড, গ্রিসের মতো বাজারগুলোর আর্থিক মন্দা দীর্ঘায়িত হওয়াও রফতানি কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ। আবার জার্মানীর মতো বড় দেশ থেকে আসা আয়ের প্রবৃদ্ধি কমে এসেছে।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=220272