২৩ অক্টোবর ২০২০, শুক্রবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
দেশবাসীর প্রিয়নেতা মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী
১২ জানুয়ারি ২০১৬, মঙ্গলবার,
         প্রিয় দেশবাসী, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। 
  • অসংখ্য আলেম ও ইসলাম প্রিয় জনগণের রুহানি উস্তাদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী। শান্তি ও স্বাধীনতাপ্রিয় জনগণের প্রিয় দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর তিনি আমীর। ২০১৫ সালে আমেরিকার বিখ্যাত “দ্যা রয়েল ইসলামিক স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ সেন্টার” প্রকাশিত তালিকায় বিশ্বের ৫০০ জন প্রভাবশালী মুসলিম ব্যক্তির তিনি অন্যতম। মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত ভদ্র, মার্জিত, পরিশীলিত, মৃদুভাষী এক অসাধারণ ইসলামী ব্যক্তিত্ব। নরমদিল, অমায়িক ব্যবহার, ও স্বচ্ছ চিন্তার অধিকারী, সরল জীবন-যাপনে অভ্যস্ত এই মানুষটি কখনো কারো সাথে রূঢ় আচরণ করেছেন কিংবা কাউকে সামান্য কোন কটু কথা বলে আঘাত দিয়েছেন এমন কোন নজির নেই।
  • সুদীর্ঘ পঁয়তাল্লিশ বছরের রাজনৈতিক জীবনে দেশবাসীর কল্যাণে নিবেদিত মাওলানা নিজামীর ব্যক্তিত্ব দেশবাসীর হৃদয়ে তাদের প্রিয় নেতা স্থান করে নিয়েছে। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে মাওলানা নিজামীর বলিষ্ঠ ভূমিকা বাংলাদেশের  মর্যাদাকে বহির্বিশ্বের কাছে উজ্জ্বল করেছে।
  • ১৯৯১ এবং ২০০১ সালে মোট দুইবার তিনি বিপুল ভোটে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে তিনি বাংলাদেশের কৃষি ও শিল্পমন্ত্রী হিসাবে সর্বমহলে নিজেকে একজন সৎ, দক্ষ ও অমায়িক নেতার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। 
  • মাওলানা নিজামী ১৯৪৩ সালে পাবনা জেলার সাঁথিয়া উপজেলার এক মর্যাদাবান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকার মাদরাসা-ই-আলিয়া এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেন। ছাত্রজীবনে তিনি এদেশের শিক্ষা সংস্কার আন্দোলনের অগ্রনেতার দায়িত্ব পালন করেন। 
  • ছাত্রজীবনে স্বৈরাচারী আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন থেকে নিয়ে স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি বলিষ্ঠ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। 
  • ১৯৯১-১৯৯৬ মেয়াদে তিনি জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে জাতীয় সংসদে তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ফর্মূলা সংক্রান্ত বিল উত্থাপন করেন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। এ আন্দোলন চলাকালে আওয়ামীলীগ এবং জামায়াতে ইসলামীর বহু যৌথ বৈঠক হয়েছে। এর মধ্যে অনকগুলো বৈঠকে নেতৃত্ব দেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং জামায়াতের তৎকালীন সংসদীয় দলের নেতা মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী। 
  • জামায়াতের দীর্ঘদিনের আমীর অধ্যাপক গোলাম আযম বার্ধক্যজনিত কারণে অবসর নেয়ার পর ২০০১ সাল থেকে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী জামায়াতের আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
  • ২০০১-২০০৬ মেয়াদে মন্ত্রী হিসাবে তিনি সততা ও দক্ষতার সাথে যেসব সংস্কার ও উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন এবং আমীর হিসাবে জামায়াতে ইসলামীকে যেভাবে দেশবাসীর আশা-ভরসার স্থলে পরিণত করেছেন, তাতে তাঁর প্রতিপক্ষ গোষ্ঠী তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে উঠে এবং তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করে।
  • মন্ত্রী হিসেবে তিনিঃ ক. দেশের প্রতিটি চাষীর বাড়িকে একটি বাগান বাড়ি হিসেবে গড়ে তোলার যুগান্তকারী মডেল কর্মসূচি গ্রহণ করেন। যার ধারাবাহিকতা আজও বিদ্যমান। খ. শিল্পমন্ত্রী হিসেবে তিনি শিল্পখাতে প্রবৃদ্ধি শতকরা ১০.৪৫ ভাগে উন্নীতকরণ, সুষ্ঠুভাবে সার সরবরাহ, বন্ধ শিল্প চালু, সাভারে চামড়া শিল্প নগরী স্থাপন সহ অনেকগুলো বৈপ্লবিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। চিনি শিল্পে প্রায় ৭০ কোটি টাকা মুনাফা অর্জনসহ ব্যাপক উন্নতি সাধন করেন মাওলানা নিজামী।
  • মাওলানা নিজামীর নেতৃত্বে দেশে ইসলামী জাগরণের অগ্রগতি এবং জনকল্যাণমূলক কাজের ব্যাপকতায় প্রতিহিংসা পরায়ণ গোষ্ঠী ক্ষমতার জোরে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে ২০১০ সালের ২৯ জুন তাঁকে গ্রেফতার করে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে তাঁর বিরুদ্ধে অবিশ্বাস্য মিথ্যা অভিযোগ ও মিথ্যা সাক্ষী হাজির করে তাঁর বিরুদ্ধে ফাঁসির ন্যায়ভ্রষ্ট রায় আদায় করা হয়।
  • মাওলানা নিজামীর পক্ষ থেকে এই রায় বাতিল চেয়ে সুপ্রীম কোর্টে আপিল করা হয়েছে। আপিল শুনানি শেষে এখন রায়ের জন্য অপেক্ষমান। 
  • বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সরকার এবং বহু আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বের পক্ষ থেকে এ বিচার প্রক্রিয়াকে ভূল ও অগ্রহণযোগ্য বলা হয়েছে। এ বিচার কিছুতেই গ্রহণযোগ্য নয়। 
  • সরকার যুদ্ধাপরাধ বা মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনের হাতিয়ার হিসেবেই গ্রহণ করেছে একথা আজ সর্বজন স্বীকৃত। এই বিচারের জন্য প্রণীত আইন ও বিধিমালা নিয়ে ইতোমধ্যেই দেশে-বিদেশে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে। এর স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও দেশি-বিদেশী বিশেষজ্ঞ ও সংস্থাসমূহ ব্যাপক আপত্তি উত্থাপন করেছেন।
  • প্রিয় দেশবাসী, ভাবতে অবাক লাগে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য একদিন তারাই মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ও তাঁর দল জামায়াতে ইসলামীর সাথে একত্রে আন্দোলন করেছে। কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তদানিন্তন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাই মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে পাশে বসিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন। জাতীয় সংসদে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর নেতৃত্বে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর দলের নেতারা জামায়াতে নামাজ আদায় করেছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তার দলের নেতাদের বাসায় জামায়াত নেতাদের সাথে আন্দোলনের কর্মসূচি প্রণয়নে দফায়-দফায় লিয়াজো কমিটির বৈঠক, একত্রে খাওয়া-দাওয়া সহ পরস্পর অনেক উঠাবসা করেছেন। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেয়ে জামায়াতের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের জন্য যাবতীয় চেষ্ট করেছেন এবং  দলের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বিচারপতি বদরুল হায়দারকে তার দলের নেতাদের নেতৃত্বে জামায়াত নেতৃবৃন্দের কাছে সমর্থন কামনা করে পাঠিয়েছিলেন।
  • অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, সেদিন যদি জামায়াত তাদের সাথে সরকার গঠনে রাজি হতো তাহলে আজকে জামায়াত নেতাদের ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলতে হতো না।
 
  • মূলত এরা ইসলামী নেতৃবৃন্দকেই শুধু নয়, বরং এর মাধ্যমে তারা দেশ থেকে ইসলামকেই নির্মূল করতে চায়। তাদের হাতে মসজিদ, মাদরাসা, খানকা, দাঁড়ি-টুপি ও ইসলামী পোষাকধারী নারী-পুরুষ কেউই আজ নিরাপদ নন। তাই প্রিয়দেশবাসীর প্রতি আমাদের আকুল আবেদন, এই অন্যায় ও প্রহসনের বিচার বাতিল করে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে মুক্তি দেয়ার জন্যে আপনারা জোর দাবি তুলুন এবং সকল অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলুন।