২৫ আগস্ট ২০১৯, রবিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
আল্লামা সাঈদীর রায়ের অনুলিপি ট্রাইব্যুনালে
৪ জানুয়ারি ২০১৬, সোমবার,
বিশ্ববরেণ্য আলেম ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়েছে। গতকাল রোববার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে অনুলিপিটি পাঠানো হয়। ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার শহিদুল আলম ঝিনুক রায়ের অনুলিপি পাওয়ার বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এরপর রায়ের অনুলিপি যাবে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঢাকা জেলা প্রশাসনের কাছে। আইন মন্ত্রণালয়কেও রায় জানানো হবে।
গত ৩১ ডিসেম্বর ৬১৪ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করা হয়। আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির স্বাক্ষরের পর সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর ১৫ দিনের মধ্যে রিভিউ আবেদনের সুযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জানিয়েছেন, সরকারপক্ষ রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ দায়ের করবে।
গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে আল্লামা সাঈদীর মৃত্যুদ-ের সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডের সংক্ষিপ্ত রায় দেন। অন্য চার বিচারপতি হলেন বিচারপতি (বর্তমান প্রধান বিচারপতি) সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী। পূর্ণাঙ্গ রায়ে বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা সব অভিযোগ থেকে আল্লামা সাঈদীকে খালাস দেন। আর বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী আসামীর মৃত্যুদ-ের পক্ষে রায় দেন। তবে তখনকার প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন, বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (এস কে সিনহা) ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর মতামতে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে আমৃত্যু কারাদ-ের রায় আসে। 
আপিলের রায়ে সকল অভিযোগ থেকে খালাস দিয়ে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি আবদুল ওয়াহ্হাব মিয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলেন, প্রসিকিউশন তাদের যুক্তিতে বলেছেন অভিযুক্ত রাজাকার, তিনি ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন সুনির্দিষ্ট করে ৬,৭,৮,১০,১১,১৪,১৬ ও ১৭ নম্বর অভিযোগে। কিন্তু ডিফেন্স পক্ষের আপিল এবং সাক্ষীরা ক্যাটাগরীভাবে দেখিয়েছে তিনি (আল্লামা সাঈদী) অপরাধ সংঘটনের স্থানে ওই সময়ে উপস্থিত ছিলেন না। তখন তিনি রওশন আলীর (ডিডব্লিউ-৬) দোহা খোলায় ছিলেন। তিনি রাজাকার ছিলেন না এবং অপরাধ সংঘটিত করেছে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সঙ্গে স্থানীয় রাজাকার এবং শান্তি কমিটির সদস্যরা। প্রসিকিউশনের মামলা এবং ডিফেন্সের আপিল থেকে দেখা যায় অভিযুক্ত রাজাকার বা শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন প্রসিকিউশন তা চূড়ান্ত প্রমাণের (ক্রুশিয়াল ফ্যাক্ট) মাধ্যমে সন্দেহাতীত ভাবে দেখাতে ব্যর্থ। উপরন্তু ডিফেন্সপক্ষে উপস্থাপিত সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং প্রামাণ্যচিত্র পরিষ্কার সংশয় সৃষ্টি করে প্রসিকিউশনের করা তিনি ১৯৭১ সালে রাজাকার বা শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন এ বিষয়ে। ফলে অভিযুক্তকে বেনিফিট অব ডাউট দেয়া হলো। আমি এই সিদ্ধান্তে উপনীত যে প্রসিকিউশন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে এবং তিনি (আল্লামা সাঈদী) সকল অভিযোগ থেকে খালাস পাওয়ার অধিকারী। একইসঙ্গে অভিযুক্তের অপরাধ খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং তাকে খালাস দেয়া হলো।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=218599