২০ নভেম্বর ২০১৯, বুধবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
৬ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি সাড়ে ৩৫ হাজার কোটি টাকা: আমদানি ব্যয় বেড়ে গেছে ; অবকাঠামো সুবিধার অভাব
২৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, সোমবার,
মূল্য প্রতিযোগিতার সক্ষমতা কমে যাচ্ছে রফতানিকারকদের। প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় ডলারের বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রার মান কমেনি, বরং একই স্থানে অবস্থান করছে। এতে একই পণ্য রফতানি করে প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম আয় করছে রফতানিকারকেরা। এ ছাড়া বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ অবকাঠামো সুবিধার অভাবতো রয়েছেই। সব মিলেই রফতানি আয়ে প্রভাব পড়েছে। কিন্তু আমদানি ব্যয় কমেনি, বরং বেড়ে গেছে। ফলে বাণিজ্য ঘাটতিও বেড়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান মতে, অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসেই (জুলাই-ডিসেম্বর) বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে হয়েছে ৪৪৪ কোটি ১০ লাখ ডলার, যা স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ৩৫ হাজার কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রফতানি আয় হয়েছে এক হাজার ৬০৮ কোটি ডলার, যেখানে একই সময়ে পণ্য আমদানিতে ব্যয় হয়েছে দুই হাজার ৫২ কোটি ডলার। বাণিজ্য ঘাটতি হয়েছে ৪৪৪ কোটি ডলার।
আগের বছরের আলোচ্য সময়ে রফতানি আয় হয়েছিল ১৪৯ কোটি ডলার, যেখানে পণ্য আমদানিতে ব্যয় হয়েছিল এক হাজার ৯১৯ কোটি ডলার। গেল বছরের আলোচ্য সময়ে বাণিজ্য ঘাটতি হয়েছিল ৪২৭ কোটি ডলার।
রফতানি আয় ক্রমান্বয়ে কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গত বছরের শুরুর তিন মাসে বড় ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ছিল। ওই সময় টানা রাজনৈতিক সঙ্কটে তার রফতানি আদেশ কমে যায়। একই সাথে পণ্যের মূল্যও কমিয়ে দেয়া হয়। এ অবস্থায় বিদেশী ক্রেতারা আস্থার সঙ্কটে ভোগেন। অনিশ্চিত পরিবেশে তারা রফতানি আদেশ কমিয়ে দেন। আস্থার সঙ্কট ও রফতানি আদেশ কমার পাশাপাশি বিদেশী ক্রেতারা সুযোগ নেয়। তারা পণ্যের মূল্য কমিয়ে দেয়। এ জন্য সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে মূল্যের প্রতিযোগিতা তারা হারাচ্ছেন। কেননা, শ্রমিকের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর সাথে যোগ হয়েছে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বর্ধিত মূল্য। এর বাইরে দীর্ঘ দিন ধরে ডলারের বিপরীতে টাকার মান অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোতে যেখানে তাদের স্থানীয় মুদ্রার মান ডলারের বিপরীতে ব্যাপকভাবে পড়ে যায়, সেখানে আমাদের দেশে ডলারের বিপরীতে টাকার মান অপরিবর্তিত রয়েছে। সব মিলে রফতানিকারকেরা প্রতিনিয়তই প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় মূল্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হারাচ্ছেন। যার সামগ্রিক প্রভাব পড়েছে রফতানি আয়ে।
এ দিকে এ সময়ে মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি কিছুটা বেড়েছে। যদিও বাস্তবে এর কোনো প্রতিফলন নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, গ্যাস, বিদ্যুৎ সংযোগ না পাওয়ায় অনেক শিল্প আলোর মুখ দেখছে না। সব মিলে বৈদেশিক বাণিজ্যে ঘাটতি বেড়ে গেছে।
ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, বাণিজ্য ঘাটতির প্রভাব আপাতত দেশে পড়ছে না। কারণ বিনিয়োগ স্থবিরতার মধ্যে ব্যাংকগুলো রফতানি আয়, রেমিট্যান্স ও অন্যান্য সার্ভিস চার্জের মাধ্যমে যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আহরণ করছে তা কাজে লাগাতে পারছে না। ডলারের চাহিদা না থাকায় আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারেও ডলার বিক্রি করা যাচ্ছে না। ব্যাংকগুলো বাধ্য হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ডলার বিক্রি করছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে যাচ্ছে। ফলে আপাতত বৈদেশিক বাণিজ্য ঘাটতির প্রভাব পড়ছে না। কিন্তু দেশে বিনিয়োগ পরিবেশ ফিরে এলে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা বেড়ে যাবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে। আমদানি ব্যয়ের তুলনায় রফতানি আয় না বাড়লে বাণিজ্য ঘাটতি আরো বেড়ে যাবে। - See more at: http://www.dailynayadiganta.com/detail/news/97754#sthash.LhHLne3J.dpuf