২৩ এপ্রিল ২০১৯, মঙ্গলবার
Choose Language:

সর্বশেষ
মিডিয়া
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদন: সম্পাদকদের বিরুদ্ধে সব মামলা দ্রুত প্রত্যাহারের আহ্বান
২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, সোমবার,
বাংলাদেশর দু’টি শীর্ষ স্থানীয় পত্রিকা ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম ও প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে সব ফৌজদারি (ক্রিমিনাল) অভিযোগ প্রত্যাহার করার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে নিউইয়র্ক ভিত্তিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। একইসঙ্গে মানহানি ও রাষ্ট্রদ্রোহের আইন আন্তর্জাতিক মানদ- লঙ্ঘন করে বলে তা বাতিল করা উচিত বলেও মন্তব্য করেছেন।
২০ ফেব্রুয়ারি শনিবার নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বাংলাদেশ : চার্জিং এডিটরস ইজ ড্রামাটিক ব্যাকসাইড (অর্থাৎ সম্পাদকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নাটকীয়ভাবে পশ্চাৎধাবন) শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের শীর্ষ স্থানীয় পত্রিকার সম্পাদকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ থেকে পরিষ্কার যে, এর উদ্দেশ্য হলো দেশের সব মিডিয়াকে ভীতি প্রদর্শন করা। সরকারকে প্রেসের স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে। তা না হলে বাংলাদেশ কর্তৃত্বপরায়ণ একটি রাষ্ট্রে পরিণত হবে। এতে দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে বিচারহীন অবস্থায় ২০১৩ সাল থেকে জেলে আটকে রাখার প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়েছে। দীর্ঘ ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০ ফেব্রুয়ারি এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম মোট ৫৪টি মানহানি ও ১৫টি রাষ্ট্রদ্রোহের মামলার মুখোমুখি। কয়েক বছর আগে সেনা সূত্র থেকে দুর্নীতি সংক্রান্ত পাওয়া রিপোর্ট প্রকাশের কারণে এসব মামলা হয়েছে।
একজন আইনজীবীর করা মামলায় এ বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জের একটি আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে ৫৫টি মামলা হয়েছে। মামলা রয়েছে পত্রিকাটি ও এর কিছু সাংবাদিকের বিরুদ্ধেও। এগুলো মানহানি ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অভিযোগে করা মামলা। প্রতিটি মানহানি মামলায় শাস্তি হিসেবে দু’ বছরের জেল হতে পারে। রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় তিন বছরের জেল হতে পারে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্র্যাড এডামস বলেন, বাংলাদেশের শীর্ষ স্থানীয় পত্রিকার সম্পাদকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনার মধ্য দিয়ে পরিষ্কার যে, দেশের সব মিডিয়াকে ভীতি প্রদর্শন করাই উদ্দেশ্য। বাংলাদেশে এখন পার্লামেন্টের বেশিরভাগ আসন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এমন সরকার ক্ষমতায়। তাদের এবং জাতীয় নির্বাহী সব কর্তৃপক্ষের উচিত মিডিয়ার স্বাধীনতা রক্ষা করা। তা না হলে বাংলাদেশ পরিণত হবে একটি কর্তৃত্বপরায়ণ রাষ্ট্রে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বাংলাদেশের নিরপেক্ষ মিডিয়ার বিরুদ্ধে এমন মামলা কয়েক বছর ধরেই একটি সংগঠিত প্রচেষ্টা। বাংলাদেশী কর্তৃপক্ষ সমালোচনা করে এমন মিডিয়া হাউজ বন্ধ করে দিয়েছে। সম্পাদকদের জেলে দিয়েছে। ব্লগারদের বিচার করেছে। সরকারের পক্ষে যায় না এমন রিপোর্টের কারণে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছে। ২০১৩ সাল থেকে বিচার ছাড়াই আটকে রাখা হয়েছে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে। তার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ ও টেলিফোন সংলাপ প্রকাশ করার। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, এর আগে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশের একটি অংশ আওয়ামী লীগ প্রধান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রধান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিল। তারা এ দু’জনের বিরুদ্ধেই দুর্নীতির অভিযোগ আনে।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=224956