২৯ নভেম্বর ২০২০, রবিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
সঠিকভাবে মূল্যায়িত হলে আপিলের রায় বাতিলযোগ্য -খন্দকার মাহবুব হোসেন
১৫ অক্টোবর ২০১৫, বৃহস্পতিবার,
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর প্রধান কৌঁসুলি এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, আল্লাহর বিচারের আগে সর্বোচ্চ আদালতের বিচার হলো শেষ বিচার। রিভিউতে দাখিল করা তথ্য প্রমাণ সঠিকভাবে মূল্যায়িত হলে আপিলের রায় বাতিলযোগ্য। আমরা আশা করি সর্বোচ্চ আদালতে ন্যায়বিচার পাব।
গতকাল বুধবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশন মিলনায়তনে রিভিউ করার পরবর্তী এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। তাকে সহায়তা করেন এডভোকেট মো. শিশির মনির।
মুজাহিদের রিভিউ বিষয়ে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, মুজাহিদের মামলা নতুন ধরনের। অন্যান্য মামলায় প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ততার বিষয় ছিল। কিন্তু এ মামলায় প্রত্যক্ষভাবে তিনি জড়িত নন। তিনি প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন এমন কোন সাক্ষ্য প্রমাণ নাই। অন্যের দোষে জড়িত করে মৃত্যুদন্ড বহাল রাখা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি হত্যা, গুম-খুনসহ কোনো মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিলেন না। যে অভিযোগে দন্ড বহাল রাখা হয়েছে তার দু’জন সাক্ষীর বয়স ঘটনার সময় ছিল ১৩/১৪ বছর। আমাদের দাবি তাদের বয়স আরো কম ছিল।
তিনি বলেন, তদন্ত সংস্থা সেফহোমে শিখিয়ে পড়িয়ে সাক্ষীদের ট্রাইব্যুনালে এনেছে। দু\'জন সাক্ষী বলেছেন, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে মোহাম্মদপুর ফিজিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে যেতে দেখেছেন। তাদের সাক্ষ্য অনুযায়ী তার যাওয়াটা পাপ হয়েছে। সেখান থেকে আদালত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওইখানে কোনো ষড়যন্ত্র হয়। মুজাহিদ আল বদর আল শামসদের কমান্ডার ছিলেন না। কোনো সাক্ষীও তা বলেননি। এমনকি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাও এ বিষয়ে কোন প্রমাণ পাননি।
খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, রিভিউ আবেদনে আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি দিয়েছি। অধ্যাপক মুনতাসির মামুনের লেখা ‘ভ্যাংকুইথ জেনারেল এন্ড দ্যা লিবারেশন ওয়ার অব বাংলাদেশ’ বই জমা দিয়েছি। বইটিতে এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানি জেনারেল রাও ফরমান আলী ও একেএম নিয়াজী বলেছেন, আল বদর, আল শামস তাদের নেতৃত্বে (কমান্ডে) ছিল। এখানে সাধারণ নাগরিকের পক্ষে আল শামস, আল বদরের কমান্ডার হওয়া সম্ভব না। সেক্ষেত্রে একজন সাধারণ নাগরিকের পক্ষে কামান্ডার হওয়াও অস্বাভাবিক। আশা করি আদালত বিষয়টি বিবেচনা করবেন, তার মৃত্যুদন্ডাদেশ বাতিল হবে।
খন্দকার মাহবুব আরো বলেন, ৪০ বছর পর এই মামলার বিচার হচ্ছে। ফৌজদারি মামলায় সময়ের সাথে সাথে অনেক কিছু প্রবেশ করে। বিশ্বব্যাপী মৃত্যুদণ্ড চরম সাজা হিসেবে বিবেচিত। তাই পৃথিবীর অনেক দেশে মৃত্যুদন্ড বাতিল করা হচ্ছে। জাতিসঙ্ঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই মৃত্যুদন্ড বাতিলের অনুরোধ করেছে। আশা করি আদালত আইনগতভাবে বিচার বিবেচনা করে মুজাহিদের মৃত্যুদন্ড মওকুফ করবেন।
খন্দকার মাহবুব বলেন, সালাহউদ্দিন কাদেরের রিভিউ বিষয়ে বলেছি, তিনি ফজলুল কাদের চৌধুরীর ছেলে। ফজলুল কাদের চৌধুরী এক সময়ের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ও স্পীকার। তার ছেলে হিসেবে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধের সময় চট্টগ্রামে ছিলেন না। তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের পাঞ্জাব ইউনিভার্সিটিতে লেখাপড়া করেছেন। এ বিষয়ে আমরা হলফনামা জমা দিয়েছি। আশা করি আদালত এগুলো বিবেচনায় নিয়ে তাকেও খালাস দিবেন।
তিনি বলেন, রিভিউ যেহেতু বিচারের শেষ পর্যায়ের। সেহেতু রিভিউর বিচারে আমরা পর্যাপ্ত সময় পাবো বলে প্রত্যাশা করছি।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. নজরুল ইসলাম, এডভোকেট মো. মশিউল আলম, এডভোকেট এসএম কামাল উদ্দিন, সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সম্পাদক মো. সাইফুর রহমান ও একেএম রেজাউল করিম খন্দকার, এডভোকেট মো. ইউসুফ আলী, এডভোকেট মো. জাকির হোসেন, এডভোকেট তারিকুল ইসলাম, এডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন প্রমুখ।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=208423