১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, রবিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মাওলানা নিজামীর আপিল : এটর্নি জেনারেলের যুক্তি উপস্থাপন শেষ
৮ ডিসেম্বর ২০১৫, মঙ্গলবার,
জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর আপিলে প্রসিকিউশনের (সরকারপক্ষ) যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়েছে। আজ মঙ্গলবার মাওলানা নিজামীর আইনজীবীরা এটর্নি জেনারেলের বক্তব্যের জবাব দেবেন। এর মধ্য দিয়ে মাওলানা নিজামীর আপিলের শুনানি শেষ হবে। এরপর আদালত রায়ের দিন ধার্য করবেন।
গতকাল সোমবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম যুক্তি উপস্থাপন করেন। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন- বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।
গতকাল শুনানিতে এটর্নি জেনারেল বলেন, এটা বিশেষ আইনের মামলা। সাধারণ আইনের নয়। তাই সাক্ষী কী দেখলো, আর কী দেখলো না, তা বিবেচ্য নয়। আইনে অপরাধ প্রমাণিত হলে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার কথা বলা হয়েছে।
জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, মৃত্যুদণ্ড আছে বলে দিতে হবে এমনটি নয়। অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে অন্য যে কোনো দণ্ড দেয়ার কথাও বলা হয়েছে।
শুনানি শেষে এক ব্রিফিংয়ে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, চারটি অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। সেটা যেন বহাল থাকে তার জন্য জোরালো বক্তব্য দিয়েছি। ২, ৪ ও ৬ নম্বর অভিযোগে সাক্ষীরা বলেছেন, নিজামীর উপস্থিতির কথা। আর ১৬ নম্বর অভিযোগ হচ্ছে বুদ্ধিজীবী হত্যার অপরাধ। এ ব্যাপারে শুধু শহীদ বুদ্ধিজীবীদের পরিবাররাই নয় সারা দেশের মানুষ বিচার প্রার্থী। এ অপরাধের সাজা একটাই হতে পারে। সেটা হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা।
তিনি বলেন, আমাদের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়েছে। আজ মঙ্গলবার নিজামীর পক্ষে বক্তব্য শোনার পর শুনানি শেষ হবে। এরপর আদালত ঠিক করবেন কবে রায় দেবেন।
এটর্নি জেনারেলের যুক্তি উপস্থাপন সমাপ্ত হওয়ার পর আদালত আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেন। শুনানিতে এটর্নি জেনারেলকে সহায়তা করেন অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা ও মো.মোমতাজ উদ্দিন ফকির।
অপরদিকে মাওলানা নিজামীর পক্ষে আইনজীবী ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, এডভোকেট এসএম শাহজাহান, এডভোকেট শিশির মনির ও ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন।
গত ২৫ নবেম্বর আদালত ৩০ নবেম্বর, ১ ডিসেম্বর ও ২ ডিসেম্বর- এই তিনদিন মাওলানা নিজামীর পক্ষে যুক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্য করে দেন। এছাড়া ৭ ডিসেম্বর এটর্নি জেনারেলের যুক্তি পেশ এবং ৮ ডিসেম্বর মাওলানা নিজামীর পক্ষে এটর্নি জেনারেলের বক্তব্যের জবাব দেয়ার জন্য দিন ধার্য করা হয়।
এর আগে গত ১৭, ১৮, ২৩, ২৪ ও ২৫ নবেম্বর মাওলানা নিজামীর আইনজীবী এস এম শাহজাহান মামলার সাক্ষীদের জবানবন্দী ও জেরা পড়া শেষ করেন। এরপর ৩০ নবেম্বর, ১ ডিসেম্বর ও ২ ডিসেম্বর আপিলের যুক্তি উপস্থাপন করেন এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন ও এডভোকেট এসএম শাহজাহান।
গত ৯ সেপ্টেম্বর এই আপিলের শুনানি শুরু হয়েছিল। ওইদিন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শুনানি শুরু করেন। পরে মাওলানা নিজামীর এডভোকেট অন রেকর্ড জয়নাল আবেদীন তুহিন পেপারবুক পড়েন। মাঝে সুপ্রিম কোর্টের দেড় মাসের অবকাশ ছুটি থাকায় শুনানি ২ নবেম্বর পর্যন্ত মুলতবি রাখা হয়। ওইদিন আংশিক শুনানি হয়। পরদিন ৩ নবেম্বর মাওলানা নিজামীর আপিলের শুনানির দিন ধার্য থাকলেও ওই দিন আপিল বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ বিচারপতি অনুপস্থিত থাকায় শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি।
গত বছরের ২৩ নবেম্বর মাওলানা নিজামীর খালাস চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল আবেদন দায়ের করেন তার আইনজীবীরা। ১২১ পৃষ্ঠার মূল আপিল আবেদনে ১৬৮টি যুক্তি দেখিয়ে মাওলানা নিজামীর খালাস চাওয়া হয়। আবেদনে ৬ হাজার ২৫২ পৃষ্ঠার নথিপত্র রয়েছে।
গত বছরের ২৯ অক্টোবর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দায়ের করা মোট ১৬টি অভিযোগের মধ্যে ৮টিতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এর মধ্যে ৪টি অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর ৪টি অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। এছাড়া বাকি ৮টি অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মাওলানা নিজামীকে অভিযোগগুলো থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=215303