২২ নভেম্বর ২০১৯, শুক্রবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মাওলানা নিজামীর আপিলের যুক্তিতর্ক শুরু ৩০ নবেম্বর
২৬ নভেম্বর ২০১৫, বৃহস্পতিবার,
জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর আপিলের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে সময়সীমা বেধে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। যুক্তি উপস্থাপনের ডিফেন্স পক্ষকে সময় দেয়া হয়েছে তিন কার্যদিবস। আর একদিন তারা প্রসিকিউশনের (সরকার পক্ষ) যুক্তি খণ্ডনে তার জবাব দেয়ার সুযোগ পাবেন। আগামী ৩০ নবেম্বর ডিফেন্স পক্ষের যুক্তি উপস্থপনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন।
গতকাল বুধবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চে পেপারবুক থেকে সাক্ষী ও জবানবন্দী উপস্থাপন শেষে যুক্তিতর্কের দিন নির্ধারণ করে দেন। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।
শুনানিতে মাওলানা নিজামীর পক্ষে পেপার বুক থেকে তার আইনজীবী এডভোকেট এসএম শাহজাহান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও চার ডিফেন্স সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করেন। তাকে সহায়তা করেন এডভোকেট মো. শিশির মনির। সরকারপক্ষে ছিলেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল মোমতাজ উদ্দিন ফকির।
এছাড়াও মাওলানা নিজামীরপক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন, ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেম।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ৩০ নবেম্বর এবং ১ ও ২ ডিসেম্বর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন নিজামীর আইনজীবী। এরপর ৭ ডিসেম্বর এটর্নি জেনারেল তার বক্তব্য উপস্থান করবেন। পরদিন ৮ ডিসেম্বর এটর্নি জেনারেলের যুক্তির জবাব দিবেন মাওলানা নিজামীর আইনজীবী।
গতকাল বুধবারের শুনানিতে মাওলানা নিজামীর পক্ষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও চার ডিফেন্স সাক্ষীর জবানবন্দী ও জেরা উপস্থাপন শেষ করেন তার আইনজীবী এডভোকেট এস.এম শাহজাহান।
গত ৯ সেপ্টেম্বর এই আপিলের শুনানি শুরু হয়েছিল। ওইদিন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শুনানি শুরু করেন। পরে মাওলানা নিজামীর এডভোকেট অন রেকর্ড জয়নাল আবেদীন তুহিন পেপারবুক পড়েন। মাঝে সুপ্রিম কোর্টের দেড় মাসের অবকাশ ছুটি থাকায় শুনানি ২ নবেম্বর পর্যন্ত মুলতবি রাখা হয়। গত ২ নবেম্বর মাওলানা নিজামীর আপিল আবেদনটি আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় ১০ নম্বরে ছিল। আপিল আবেদনের সঙ্গে মাওলানা নিজামীর দুই আইনজীবীকে হয়রানি না করতে এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে যেন বাধা না দেয়া হয় সে ব্যাপারে নির্দেশনা চেয়ে আরো একটি আবেদন ছিল। তবে আদালত ৩ নবেম্বর মাওলানা নিজামীর আপিলের শুনানির দিন ধার্য করলেও ওই দিন আপিল বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ বিচারপতি অনুপস্থিত থাকায় শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি। এরপর গত ১৭, ১৮, ২৩, ২৪ ও গতকাল মিলিয়ে ৬ কার্যদিবসে পেপারবুক উপস্থপান শেষ হলো।
গত বছরের ২৩ নবেম্বর মাওলানা নিজামীর খালাস চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল আবেদন দায়ের করেন তার আইনজীবীরা। ১২১ পৃষ্ঠার মূল আপিল আবেদনে ১৬৮টি যুক্ত দেখিয়ে মাওলানা নিজামীর খালাস চাওয়া হয়। আবেদনে ৬ হাজার ২৫২ পৃষ্ঠার নথিপত্র জমা দেয়া হয়।
গত বছরের ২৯ অক্টোবর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দায়ের করা মোট ১৬টি অভিযোগের মধ্যে ৮টিতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এর মধ্যে ৪টি অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর ৪টি অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। এছাড়া বাকি ৮টি অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মাওলানা নিজামীকে অভিযোগগুলো থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=213747