২০ অক্টোবর ২০১৯, রবিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
সর্বশেষেও অপপ্রচারের শিকার মুজাহিদ-সালাহউদ্দিন
২৩ নভেম্বর ২০১৫, সোমবার,
তোফাজ্জল হোসেন কামাল : আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল। সাবেক চারদলীয় জোট সরকারের সফল মন্ত্রী। বাংলাদেশে ইসলামী আন্দোলনের জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল। 
অপরজন সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। সাবেক মন্ত্রী ও মন্ত্রীর পদমর্যাদা সম্পন্ন প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টাসহ ছিলেন একাধিক বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। 
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের আলোচিত শীর্ষ দু‘নেতা ছিলেন সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ। তাদের দু‘জনকে নিয়েই গত ক‘টা দিন নানাভাবে আলোচনা-সমালোচনা চলছে বিভিন্ন মহলে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা অপপ্রচার শেষ পর্যন্তও তাদের পিছু ছাড়েনি অপপ্রচার। ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলে মৃত্যুদণ্ড মাথা পেতে নিলেও নানামুখী অপপ্রচারের এখনও শিকার তারা। 
২২ নবেম্বর ‘২০১৫ রোববার প্রথম প্রহর রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তাদের বিরুদ্ধে দেয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করে কারা কতৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টরা। কারা অধিদফতরের প্রধান আইজি প্রিজন্স ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন মুজাহিদ ও সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে একই মঞ্চে পাশাপাশি ফাঁসিরকাষ্ঠে ঝুলিয়ে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। জল্লাদ শাজাহান ও রাজু তাদের ফাঁসি কার্যকর করেন। 
সর্বশেষ অপপ্রচারের শিকার হলেন মুজাহিদ-সালাহউদ্দিন : ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে শনিবার রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে প্রায় এক ঘণ্টা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন পরিবারের ১৮ সদস্য। প্রবেশ করেছিলেন পরিবারের ৩৫ সদস্য। বাকীদেরকে সাক্ষাতের অনুমতি দেয়নি কারা কতৃপক্ষ। সাক্ষাৎ শেষে কারাফটক দিয়ে বের হয়ে এসে কারাপ্রাঙ্গণে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী উপস্থিত গণমাধ্যমকে বলেন, “তার বাবা বলেছেন, ‘এসব (প্রাণভিক্ষা) বাজে কথা, কে বলেছে? এ সরকারের সময় কত কাগজ বের হবে!’ এ সরকার আমার বাবাকে নির্বাচনে হারাতে পারবে না জেনে কিছুক্ষণের মধ্যে তার জান নিয়ে নেবে”- এ কথা বলে তিনি গাড়িতে উঠে পড়েন। 
বিএনপির মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন দলের পক্ষে এক বিবৃতিতে শনিবার রাত ১১টা ৪৯ মিনিটে জানান, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী দোষ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে প্রাণভিক্ষা চাননি। তার পরিবার বিএনপিকে অবহিত করেছেন এ মর্মে একটি বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপপ্রয়াস চলছে, যা আদৌ সত্য নয়। যে অভিযোগে তাকে প্রাণদণ্ড দেয়া হয়েছে, এ ধরনের কোনো অপরাধ তিনি করেননি, যা তিনি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে আদালতেও যুক্তি ও দালিলিক প্রমাণ দাখিল করেছিলেন। কিন্তু তিনি ন্যায়বিচার পাননি। 
এদিকে শনিবার রাত ১২টা ২০ মিনিটে কারাগারে আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বেরিয়ে আসেন পরিবারের ২৭ সদস্য। মুজাহিদের ছেলে আলী আহমদ মাবরুর সাংবাদিকদের বলেন, রাষ্ট্রপতির কাছে আমার বাবার প্রাণভিক্ষার কথাটি সম্পূর্ণ মিথ্যাচার। বাবা আমাদের বলেছেন, তিনি প্রাণভিক্ষা চাননি। উনার (মুজাহিদ) সম্পর্কে প্রশাসন মিথ্যাচার করেছে। বিগত পাঁচটা বছর উনার (মুজাহিদ) নামে মিথ্যাচার করে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আজ তার জীবনের শেষ সময়ে এসেও তার বিষয়ে (প্রাণভিক্ষা) মিথ্যাচার করা হয়েছে। 
আলী আহমদ মাবরুর বলেন, তিনি (মুজাহিদ) কোনো মার্সি পিটিশন করেননি। দেশের কাছে, দলের কাছে, পরিবারের কাছে হেয় করা ও কাপুরুষ বানানোর জন্য এই মিথ্যাচারের নাটক তৈরি করা হয়েছে। 
মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকরের পর শনিবার রাত দেড়টার দিকে গণমাধ্যমে এক বিবৃতিতে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমাদ ফাঁসি কার্যকরের প্রতিবাদ জানিয়ে আজ সোমবার সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল এবং গতকাল রোববার সারা দেশে গায়েবানা জানাযা কর্মসূচির ঘোষণা দেন। 
মকবুল আহমাদ তার বিবৃতিতে বলেছেন, ‘মুজাহিদ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত এবং প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন।’ রাষ্ট্রপতির কাছে মুজাহিদের প্রাণভিক্ষার আবেদনটি সরকারের মিথ্যা প্রচারণা বলে দাবি করেন তিনি। এর আগে, শনিবার বিকেলে আরেকটি বিবৃতিতে দলটির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমানও মুজাহিদের প্রাণভিক্ষার আবেদনটিকে মিথ্যাচার বলে অভিহিত করেন। 
প্রাণভিক্ষার প্রশ্ন : ১৮ নবেম্বর বুধবার সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের রিভিউয়ের আবেদন খারিজের পরের দিন কারাগারে তাদের সঙ্গে আলাদাভাবে দেখা করেন স্বজনরা। উভয় পরিবার সালাহউদ্দিন ও মুজাহিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের জানান, তারা আইনজীবীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চন। এরপর সালাহউদ্দিন ও মুজাহিদের আইনজীবীরা তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য কারাগারের সামনে শুক্রবার দিনভর অপেক্ষা করেও অনুমতি পাননি। শনিবার দুপুর থেকে কারা কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর আসে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেছেন। পরবর্তীতে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকসহ সরকারের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাও এমনটা জানান। কিন্তু সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও মুজাহিদের পরিবারের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই প্রাণভিক্ষার বিষয়টি ‘অসত্য ও বিভ্রান্তিকর’ বলে মন্তব্য করেন। 
সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, ‘আব্বা এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে আমার বিশ্বাস হয় না। সাক্ষাৎ করে সরাসরি তার সঙ্গে কথা না বলা পর্যন্ত বিশ্বাস করতে পারি না।’ অন্যদিকে মুজাহিদের ছেলে আলী আহমদ মাবরুর শনিবার দুপুরে বলেন, ‘এটি বোগাস। তিনি এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আমাদের সাক্ষাতের সময় বলেননি।’
শনিবার সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক গণমাধ্যমকে জানান, রাষ্ট্রপতির কাছে করা সালাহউদ্দিন ও মুজাহিদের মার্সি পিটিশন বা প্রাণভিক্ষার আবেদন মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেছে। 
মন্ত্রণালয় থেকে আইন সচিব শনিবার রাতে প্রাণভিক্ষার আবেদন নিয়ে গুলশানে আইনমন্ত্রীর কার্যালয়ে যান। সেখানে আইনমন্ত্রী তাতে স্বাক্ষর করেন। শনিবার রাত ৮টা ৪০ মিনিটে প্রাণভিক্ষার আবেদন নিয়ে বঙ্গভবনে পৌঁছান স্বরাষ্ট্র সচিব। রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে স্বরাষ্ট্র সচিব বঙ্গভবন থেকে বের হয়ে যান। তবে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ করে দেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল শনিবার রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে গণমাধ্যমকে এ কথা জানান। 
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর আইনমন্ত্রী যা বললেন... : সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মো. মুজাহিদ মৃত্যুদণ্ড মওকুফ চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করলেও তা নিয়ে তাদের পরিবার বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চাইছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। দুই সাবেক মন্ত্রীর ক্ষমার আবেদন রাষ্ট্রপতি নাকচ করার পর গতকাল রোববার প্রথম প্রহরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তাদের ফাঁসিতে ঝোলানো হয় বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। তবে তাদের সঙ্গে শেষ দেখা করে এসে দুজনের ছেলেই দাবি করেছেন, তাদের বাবা ক্ষমা চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেননি। 
এ নিয়ে সচিবালয়ে গতকাল রোববার সাংবাদিকদের প্রশ্নে আনিসুল হক বলেন, “আমি পরিস্কার করে বলতে চাই- উনারা (সালাহউদ্দিন কাদের ও মুজাহিদ) যে দরখাস্ত করেছিলেন, তা সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ব্যবহারের জন্য।”
রাষ্ট্রপতির ক্ষমা সংক্রান্ত সংবিধানের অনুচ্ছেদটি পড়েও শোনান তিনি; যেখানে লেখা আছে- “কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত যে কোনো দণ্ডের মার্জনা, বিলম্বন ও বিরাম মঞ্জুর করিবার এবং যে কোনো দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করিবার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির থাকিবে।”
আইনমন্ত্রী বলেন, “যদি কোনো আবেদনের উপরে লেখা থাকে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৯ প্রসঙ্গে, তাহলে কি সেটা মাফ চাওয়ার দরখাস্ত হয় না? সেটা আপনারা (সাংবাদিক) বিচার করেন।”
প্রাণভিক্ষার আবেদন চাওয়া-না চাওয়া নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে ভিন্ন বক্তব্য আসায় ওই আবেদন প্রকাশ করা হবে কি না- এ প্রশ্নে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির অনুমতি ছাড়া ওই দরখাস্ত প্রকাশ করা যাবে না। 
প্রাণভিক্ষার আবেদন দেখতে চাই -মুজাহিদের ছেলে
আলী আহসান মোহম্মদ মুজাহিদ প্রাণভিক্ষা চেয়েছেন এবং সরকারের কাছে ওই আবেদন সংরক্ষিত আছে মর্মে গতকাল রোববার আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল যে বক্তব্য দিয়েছেন তা আবারো নাকচ করে দিয়েছেন মুজাহিদের ছেলে আলী আহমাদ মাবরুর। গতকাল রোববার রাত সাড়ে ৮টায় এক প্রতিক্রিয়ায় মাবরুর বলেন, ‘আমরা গতকালই বলেছি যে, আমার বাবা আলী আহসান মোহম্মদ মুজাহিদ রাষ্ট্রপতির কাছে প্রানভিক্ষার আবেদন করেননি। আমি আবারও বলছি, সরকারের কাছে যদি প্রাণভিক্ষার আবেদন সংরক্ষিত থাকে, তাহলে। আমরা এটা দেখতে চাই। আমরা আমার বাবার হাতের লেখা ও স্বাক্ষর চিনি।’
‘৬ ফুট ২ ইঞ্চি তোমার বাবা, কারও কাছে মাথা নত করে না’ : ‘৬ ফুট ২ ইঞ্চি তোমার বাবা, কারও কাছে মাথা নত করে না’- ফাঁসি কার্যকরের আগে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শেষ সাক্ষাতের সময় প্রাণভিক্ষার বিষয়ে এভাবেই ছোট ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরীর প্রশ্নের জবাব দেন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত সালাহউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী। 
রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার বিষয়ে হুম্মাম বলেন, বলা হচ্ছে- বাবা (সাকা চৌধুরী) প্রাণভিক্ষা চেয়েছেন। তাকে মানুষ বাংলার বাঘ হিসেবে চিনে। তিনি কখনো প্রাণভিক্ষা চাইবেন না। আমি যখন বাবার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম বাবা বলেছেন ‘৬ ফুট ২ ইঞ্চি তোমার বাবা, কারও কাছে মাথা নত করে না’।
বাবার লাশ দাফনের পর রাউজানের মধ্যগহিরায় গ্রামের বাড়ি বাইতুল বিল্লালে গতকাল রোববার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে এক সাংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন হুম্মাম কাদের চৌধুরী। 
১০ মিনিটের সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, অবৈধ রায়ে বাবাকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে। কিছুক্ষণ আগে আমরা তার দাফন কাজ সম্পন্ন করেছি। তিনি বলেন, আমরা নিজেদেরকে ভাগ্যবান মনে করছি। দেশের এখন এমন পরিস্থিতি যখন অনেক খুন-গুম হচ্ছে। অনেকে আপনজনের লাশ খুঁজে পাচ্ছে না। আমরা ভাগ্যবান যে সম্মানের সঙ্গে বাবাকে দাফন করতে পেরেছি। ‘একজন বেকসুর মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। দেশের মানুষ অবশ্যই একদিন ন্যায়বিচারের ডাক দিবে।’
হুম্মাম বলেন, তিনি (সাকা) চট্টগ্রামের সিংহপুরুষ। ইংরেজিতে লিগেসি বলে যা আছে তা টিকে থাকবে। এ হত্যার বিচার একদিন না একদিন হবে। চট্টগ্রামের মানুষ এ রায় কোনদিন মেনে নেবে না। 
সাংবাদিক সম্মেলনে সাকার ছোট ভাই জামালউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, প্রাণভিক্ষার বিষয়ে তিনি (সাকা) বলেছেন- ‘আমি যদি মার্সি (ক্ষমা) চাই, তবে মহান রাব্বুল আলামীনের কাছে চাইবো, কোনো বান্দার কাছে নয়। ’
শুরুতেই ‘মার্সি পিটিশন’ নিয়ে সন্দেহ দুই পরিবারের : সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ফাঁসিকাষ্ঠ এড়াতে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমার আবেদন করেছেন বলে আইনমন্ত্রী জানালেও তার সত্যতা নিয়ে শুরু থেকেই সন্দিহান এই দুই পরিবারের সদস্যরা। 
বিএনপি নেতা ও জামায়াত নেতার পরিবারের সদস্যরা বলছেন, তারা নিজেরা দেখা করলে কিংবা তাদের আইনজীবীরা বললে তারা বিষয়টি বিশ্বাস করবেন। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত সালাহউদ্দিন কাদের ও মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তোড়জোড়ের মধ্যে শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেন তাদের পরিবারের সদস্যরা। এরপর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বেলা আড়াইটার দিকে জানান, দুজনই রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চেয়ে আবেদন করেছেন। 
আইনজীবীদের সঙ্গে কারাগারে মুজাহিদের সাক্ষাতের সুযোগ দেয়ার দাবি আবার জানিয়ে মাবরুর বলেন, “উনি যদি ক্ষমা প্রার্থনা করে থাকেন, তবে আইনজীবীদের সাথে সাক্ষাত করার সুযোগ দিয়ে আইনজীবীদের মাধ্যমেই যেন তিনি জানাতে পারেন, সেই সুযোগ দেয়া হোক। উনি যে পর্যায়ে আছেন, উনার ইচ্ছার একটা দাম আছে। এই পর্যায়ে ইচ্ছা অন্য স্বাভাবিক মানুষের মতো না। এই পর্যায়ে এসে উনি বার বার আইনজীবীদের সাথে কথা বলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন,” বলেন তিনি। 
এদিকে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদেরের পরিবারের সদস্যরা গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের পর রাষ্ট্রপতির কাছে একটি আবেদন নিয়ে বিকেলে বঙ্গভবনে যায়। তাতে যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে প্রশ্ন তুলে তার প্রতিবিধান চাওয়া হয়। সেখানে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি নিয়ে সালাহউদ্দিন কাদেরের ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, “বাবা ক্ষমা চেয়ে মার্সি পিটিশন চাইবেন? এটা আমি তার সঙ্গে কথা না বলে কিছু বলতে পারব না।”
আইনমন্ত্রী তা জানিয়েছেন- বলা হলে তিনি (হুম্মাম) বলেন, “আনিসুল হক ভাল করেই জানেন, বাবা কী বলতে পারেন। আমার বাবা কী ধরনের লোক, তা সবাই জানে।”
সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আরেক ছেলে ফাইয়াজ কাদের চৌধুরী বিকালে কারাফটকে সাংবাদিকদের একই কথা জানান। ওই দিন দুই পরিবারের সদস্যরা আইনজীবীদের কারাগারে দেখা করার সুযোগ চাইলেও তার সুযোগ এখন আর নেই বলে মনে করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=213419