২২ অক্টোবর ২০১৯, মঙ্গলবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মুজাহিদ ও চৌধুরীর মৃত্যুদন্ড কার্যকর
২২ নভেম্বর ২০১৫, রবিবার,
সামসুল আরেফীন, তোফাজ্জল হোসেন কামাল, নাছির উদ্দিন শোয়েব, ইবরাহিম খলিল : জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়েছে। গতকাল শনিবার দিবাগত রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত ফাঁসির মঞ্চে এ রায় কার্যকর করা হয়। (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন।) মৃত্যুদন্ড কার্যকরের পর রাত ১টা ৫২ মিনিটে সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের বলেন, পাশাপাশি দুটি ফাঁসির মঞ্চে দুজনের ফাঁসি একই সময়ে কার্যকর করা হয়েছে। 
রাত ১২টা ২৪ মিনিটে ৪টি এ্যাম্বুলেন্স কারাফটকের সামনে আসে। ১২টা ৩৪ মিনিটে তা কারা অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। রাত ২টা ৫০ মিনিটে এ্যাম্বুলেন্সগুলো পুলিশ-র্যাবের কড়া প্রহরায় মুজাহিদের লাশ ফরিদপুর শহরের পশ্চিম খাবাসপুর ও চৌধুরির লাশ চট্টগ্রামের রাউজানের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। 
সকাল থেকেই নাজিমউদ্দিন রোডে কারাগারের সামনে র্যাব-পুলিশের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। বিকেলের দিকে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থাসহ বিভিন্ন বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়। বিকেল ৪টার আগে শুধু র্যাব সদস্যদের সশস্ত্র পাহারায় দেখা গেলেও সন্ধ্যার আগে পুলিশ সদস্যদেরও সতর্ক অবস্থায় দেখা যায়। পুরো এলাকা ঘিরে নেয়া হয় ৪ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। 
রাত ১০টা ১৩ মিনিটে আইজি প্রিজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন কারাগারে প্রবেশ করেন। এ ছাড়া জেলা প্রশাসক তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, সিভিল সার্জন আব্দুল মালেক মৃধা ও দুই ম্যাজিস্ট্রেট রাত ১০টার দিকে কারাগারে প্রবেশ করেন।
এর আগে রাত ৮টার পরই দুই পরিবারের সদস্যদেরকে ডেকে পাঠান কারা কর্তৃপক্ষ। রাত ৯টার পর কারাগারে গিয়ে পৃথকভাবে মুজাহিদ ও সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরীর সাথে সাক্ষাৎ করেন। রাত ১০টা ৫০ মিনিটে সাক্ষাৎ শেষে কারাগার থেকে বেড়িয়ে আসেন সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবার। তারা বের হয়ে আসার পরই কারাগারে প্রবেশ করেন আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের পরিবার। সাক্ষাৎ শেষে ১২টা ২৫ মিনিটে তারা কারাগার থেকে বের হয়ে আসেন। দুজনের পরিবারের সদস্যরাই জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি বরাবর তারা কোন ধরনের আবেদন করেননি। 
এর আগে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার শেখ মারুফ হাসান সাংবাদিকদের জানান, রাতেই দুজনের ফাঁসি কার্যকর হওয়ার তথ্যের ভিত্তিতেই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার এবং আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। বিশেষ করে তাদের দুজনের লাশ যে পথ দিয়ে যাবে সেসব এলাকায় আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। 
 পুর্ববর্তী খবরে কারা অধিদফতর সূত্র জানায়, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের প্রাণভিক্ষার বিষয়ে জানতে ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মোর্শেদুর রহমান ও তানভীর আহমেদ গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় কারাগারে প্রবেশ করেন। তারা পাঁচ ঘণ্টা কারাগারে অবস্থানের পর বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে সেখান থেকে বের হয়ে আসেন। এর আগে ২টা ৩৫ মিনিটে কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ডেপুটি জেলার সর্বোত্তম দেওয়ানকে একটি রেজিস্ট্রার খাতা নিয়ে বের হতে দেখা যায়। কিসের ফাইল, সে বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে মুখ খোলেননি তিনি। খাতাটির উপরে লেখা ছিল ‘গুরুত্বপূর্ণ পত্রাদি’। এই ডেপুটি জেলার কারাগারে প্রবেশের পর পরই ম্যাজিস্ট্রেটদের কারাগার থেকে বের হতে দেখা যায়। তবে ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি জেলারের কেউই কোনো বিষয়ে মুখ খোলেননি।
এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, গতকাল দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে সিলগালা করা একটি প্যাকেট নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারা শাখায় প্রবেশ করেন ডেপুটি জেলার সর্বোত্তম দেওয়ান ও আরিফুজ্জামান। কারা পুলিশের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্যাকেটটিতে ‘মৃত্যু পরোয়ানা’ সংক্রান্ত নির্দেশনা থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের কিছু বলতে রাজি হননি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কেউ।
গতকাল সকালে কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, দুই ম্যাজিস্ট্রেট কারাগারের ফাঁসির সেলে গিয়ে পৃথকভাবে সালাউদ্দিন চৌধুরী ও মুজাহিদের সঙ্গে দেখা করবেন। এরপর তারা রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করবেন কি-না, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানতে চাইবেন।
    কারাগার সূত্র জানায়, দুই ম্যাজিস্ট্রেটের সাক্ষাতকালীন সময়ে ওই দুই শীর্ষ নেতার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়।
মুজাহিদের দেখা পাননি তার আইনজীবী
জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের সঙ্গে দেখা করার আবেদন নিয়ে কারাগারে যান তার আইনজীবী গাজী এম এইচ তামিম। গতকাল শনিবার বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে কারাগারে আসেন তিনি। গাজী এম এইচ তামিম জানান, মুজাহিদের সঙ্গে দেখা করার আবেদন নিয়ে তিনি কারাগারে আসেন। কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ তার আবেদন গ্রহণ করেননি। পরে রাতে পরিবারের সদস্যদেরকে ডেকে পাঠানোর পর তারা মুজাহিদের সাথে সাক্ষাৎ করেন।
সালাউদ্দিনের পরিবারের আবেদন নাকচ
বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করার জন্য তার পরিবারের আবেদন নাকচ করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। গতকাল শনিবার বিকেলে সালাহউদ্দিনের ছেলে ফজলুল কাদের চৌধুরী ফাইয়াজ তার বাবার সঙ্গে দেখা করার জন্য কারা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন।
বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আইনজীবী উজ্জাতুল ইসলাম খান আলফেসানি সাংবাদিকদের জানান, তার মক্কেলের সঙ্গে দেখা করার  জন্যে তার দুই ছেলে, মেয়ে ও মেয়ের জামাইরা এসেছিলেন। কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ তাদের আবেদন নাকচ করায় তারা চলে গেছেন।
চৌধুরী ও মুজাহিদের সঙ্গে আইনজীবীদের দেখা করতে না দেয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে কারা অধিদফতরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এই ধরনের সাক্ষাতের অনুমতি দেয়ার ব্যাপারটি সেভাবে তাদের হাতে নেই। তবে, দন্ডিতদের কেউ যদি তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে চান, তাহলে সেই ইচ্ছা পূরণ করতে কারা কর্তৃপক্ষ সর্বাত্মক চেষ্টা করবে। পরে রাতে পরিবারের সদস্যরা কারাগারে গিয়ে সালাউদ্দিন চৌধুরীর সাথে সাক্ষাৎ করেন।
বঙ্গভবনে গিয়ে বিফল চৌধুরী পরিবার
যুদ্ধাপরাধের ‘ত্রুটিপূর্ণ’ বিচারে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছে অভিযোগ জানিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি দিতে গিয়ে বিফল হয়ে ফিরেছে তার পরিবার।
আইনি সব প্রক্রিয়া নিষ্পত্তি হওয়ার পর মৃত্যুদন্ড কার্যকরের তোড়জোড়ের মধ্যে গতকাল শনিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই চিঠি দেয়ার কথা জানান বিএনপি নেতার স্ত্রী ফারহাত কাদের চৌধুরী।
বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়ে দলের নেতাদের পাশে রেখে এই সালাহউদ্দিন কাদেরের ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, আজই (শনিবার) এই চিঠি বঙ্গভবনে পৌঁছে দেবেন তারা। এরপর বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে চিঠি নিয়ে বঙ্গভবনে যান ফারহাত কাদের ও ছেলে হুম্মাম। বঙ্গভবনের ফটকের সামনে গাড়িতে বসেছিলেন ফারহাত। ‘পিটিশন টু দ্য অনারেবল প্রেসিডেন্ট ফ্রম সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী’ শিরোনামের চিঠিটি নিয়ে হুম্মাম ভেতরে গেলে মূল ফটকের রিসিপশনে তাকে বসানো হয়।
বঙ্গভবনের ডেসপাস শাখার কর্মকর্তারা তাকে জানান, রাষ্ট্রপতির কাছে সরাসরি কোনো আবেদন করা যায় না। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চিঠি দিতে হবে।
ত্রুটিপূর্ণ বিচার (মিস ট্রায়াল) বিবেচনার আবেদন নিয়ে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে গেলেও আবেদনপত্র জমা দিতে পারেননি সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী। বঙ্গভবন থেকে বিকেল পৌনে ৫টার দিকে বেরিয়ে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান তিনি।
হুম্মাম বলেন, ‘এখান থেকে আমাকে বলা হয়েছে সরাসরি কোনো চিঠি জমা নেয়া হয় না। তাই এটা মন্ত্রণালয়ে জমা দিলে সেখান থেকে তা ফরোয়ার্ড হবে। আমার ধারণা, এটা আইন মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘উনি (সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী) যে ডকুমেন্টগুলি জমা দিয়েছিলেন সেগুলো ভেরিফাই করে বিচার করার জন্য আমরা একটা আবেদন করেছি। সেই কপিটাই এখানে দিতে এসেছিলাম।’
এর আগে বিকেল ৪টা ২৩ মিনিটে গাড়ি নিয়ে বঙ্গভবনে পৌঁছান তিনি। গাড়িটি বাইরে রেখে হেঁটেই ৪টা ২৮ মিনিটে বঙ্গভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় ফারহাত কাদের চৌধুরীকে গাড়িতে বসে থাকতে দেখা যায়।
বঙ্গভবনে ঢোকার সময় হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, ‘এটি একটি মিস ট্রায়ালের আবেদন। রাষ্ট্রপতি যেহেতু সংবিধানের গার্ডিয়ান, এ জন্য আমরা তার কাছে মিস ট্রায়ালের আবেদন করছি।’
কারাফটকে ৪ স্তরের নিরাপত্তা
সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের রায় কার্যকরের প্রস্তুতিকে কেন্দ্র করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার এলাকাসহ তৎসন্নিহিত এলাকার নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।
গতকাল সকাল থেকে সরেজিমন ঘুরে দেখা গেছে, শুক্রবার নিরাপত্তা জোরদারের পর গতকাল শনিবার সকাল থেকে আরও কড়াকড়ি দেখা যাচ্ছে কারাফটক এবং সংলগ্ন এলাকায়।
কারাগারের পূর্ব-দক্ষিণ পাশে চক বাজার থেকে কারাফটকের সামনে দিয়ে যাওয়ার সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কারাফটকের কাছে সংবাদ মাধ্যমের কোনো গাড়িও রাখতে দেয়া হচ্ছে না। হেঁটে ঢুকতে চাইলেও তল্লাশি হচ্ছে। পরিচয় যাচাইয়ের পর শুধু গণমাধ্যমকর্মী এবং কারাগারে বিভিন্ন বন্দীর সঙ্গে সাক্ষাৎপ্রার্থীদের ঢুকতে দেয়া হচ্ছে।
কারাফটকের সামনে সশস্ত্র অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছেন ডজনখানেক র্যাব সদস্য। আশপাশে এই বাহিনীর অর্ধশত সদস্য টহলে রয়েছেন। পুলিশ বাহিনী একটি সাঁজোয়া যান নিয়ে তৈরি আছে। প্রায় একশ পুলিশ সদস্যকে বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন দেখা যায়, এছাড়া সাদা পোশাকেও রয়েছেন অন্যান্য বাহিনীর সদস্য।
বিকেলের পর থেকে কারাফটকে চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। র্যাব, পুলিশ, কারারক্ষীদের সমন্বয়ে এ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। এছাড়া কারাগার এলাকার আশপাশে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। কারাগারের আশপাশের উঁচু ভবনগুলোর ছাদেও পুলিশ সদস্যদের অবস্থান করে পর্যবেক্ষণ করতে দেখা গেছে। কারা ফটকের সামনে কারারক্ষীদের পাশাপাশি অতিরিক্ত র্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া এর আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশকে অবস্থান করতে দেখা গেছে। পুলিশ বাহিনীর একটি সাঁজোয়া যানও কারাফটকের পাশে অবস্থান করছে। কারাগারের সামনে থেকে চকবাজার যাওয়ার রাস্তাটিতে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া অন্য দুটি রাস্তায় স্বল্প পরিমাণ যান চলাচল করতে দিলেও নিয়ন্ত্রণ করেছে পুলিশ। এছাড়া রাস্তা দিয়ে কোনো মানুষ যেতে চাইলে তাদের তল্লাশি করা হয়।
এ বিষয়ে ডিএমপির লালবাগ জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) মফিজ উদ্দিন বলেন, মৃত্যুদ-প্রাপ্ত দুই আসামীর দ- কার্যকরের অপেক্ষায় রয়েছে। এজন্য এ এলাকার সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কেউ যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটাতে পারে, এ ব্যাপারে পুলিশ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।’
গত দুদিনের চেয়ে গতকাল শনিবার নিরাপত্তা বাড়ানোর বিষয়ে ডিএমপির লালবাগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার সঞ্জীত কুমার রায় বলেন, “যেহেতু দুজন ফাঁসির আসামী রয়েছেন। তাই বাইরে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য এই পদক্ষেপ।” তিনি বলেন, সার্বিক নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
মামলার পূর্বকথা
গত ৩০ সেপ্টেম্বর আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরীর আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এরপর ১ অক্টোবর আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং তা কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এরপর গত ২ অক্টোবর আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের সাথে রিভিউ আবেদন দায়েরের বিষয়ে পরামর্শ করতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তার পাঁচজন আইনজীবী সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষতে তিনি আইনজীবীদের রিভিউ আবেদন দায়ের করার পরামর্শ দেন। 
গত ১৭ নভেম্বর আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও ১৮ নভেম্বর সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরীর রিভিউ আবেদনের শুনানী শেষে ১৮ নভেম্বরই তা খারিজ করে দেয় আপিল বিভাগ।  একদিন পরই পূর্নাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। ওই দিনই তা কারাগারে পৌছে। 
২০১০ সালের ২৯ জুন আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার একটি মামলায় গ্রেফতার করে পুলিশ। পরবর্তীতে তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক দেখানো হয়। ২০১১ সালের ১১ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। এরপর ২০১২ সালের ২৬ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। ২০১২ সালের ১৬ এপ্রিল চিফ প্রসিকিউটরের এক আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলাটি ট্রাইব্যুনাল-২ এ স্থানান্তর করা হয়।
২০১৩ সালের ১৭ জুলাই ফাঁসির আদেশ দেয় আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর তৎকালীন চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে অপর দুই সদস্য বিচারপতি মো: মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারক শাহিনুর ইসলাম। 
এ দিকে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে ২০১০ সালের ১৫ ডিসেম্বর রাতে হরতালে গাড়ি পোড়ানো ও ভাংচুরের এক মামলায় গ্রেফতার করা হয়। এক আবেদনের প্রেক্ষিতে ওই বছরের ১৯ ডিসেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=213330