২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, বুধবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মুজাহিদের রিভিউর শুনানি শেষ ॥ আজ রায়
১৮ নভেম্বর ২০১৫, বুধবার,
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক মন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদনের শুনানি শেষ হয়েছে। আজ বুধবার সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে এ বিষয়ে রায় দেবেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। শুনানিতে আলী আহসান মুজাহিদের প্রধান আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন মৃত্যুদন্ডের অভিযোগের বিষয়ে তার যুক্তি তুলে ধরে বলেছেন মুজাহিদের বিরুদ্ধে বুদ্ধিজীবী হত্যার কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই। স্বাধীনতার পর বুদ্ধিজীবী হত্যার অভিযোগে ৪২টি মামলায় রাষ্ট্রীয়ভাবে তদন্ত হলে একটিতেও মুজাহিদের নাম ছিল না। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলেছেন আল বদর আর শামসের কমান্ডার হিসেবে মুজাহিদের নাম তদন্তকালে কোথাও তথ্য প্রমাণ পাননি। সুপিরিয়র রেসপন্সিবিলিটির বিষয়ে তিনি বলেন, পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর কমান্ডে পরিচালিত হতো আল বদর ও আল শামস। এতে সাধারণ নাগরিকের অন্তর্ভুক্তির সুযোগ ছিল না। তৎকালীন পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা জেনারেল এ কে নিয়াজী সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন। যা কিছু হয়েছে জেনারেল নিয়াজীর কমান্ডে হয়েছে।
গতকাল  মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার সদস্যর বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি শেষে রায়ের দিন নির্ধারণ করেন। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। সকাল ৯টা ৫ মিনিটে কার্যতালিকায় থাকা একটি মামলার পরেই মুজাহিদের রিভিউর শুনানি শুরু হয়।
মুজাহিদের পক্ষে খন্দকার মাহবুব হোসেন শুনানি শুরু করেন। আদালতে মুজাহিদের পক্ষে এ সময় উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী এসএম শাহজাহান ও আইনজীবী শিশির মনির। অপরদিকে সরকারপক্ষে শুনানি করেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল মমতাজ উদ্দিন ফকির, ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু, তুরিন আফরোজ উপস্থিত ছিলেন।
শুনানিতে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে যে অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে তা আইনানুগ নয়। বুদ্ধিজীবী হত্যার ব্যাপারে রাষ্ট্রীয়ভাবে ৪২টি তদন্ত হয়েছে, তাতে কোথাও তার নাম আসেনি। তাছাড়া তদন্ত কর্মকর্তাও বলেছেন- রাজাকার, আল বদর বা আল শামসের সাথে মুজাহিদ জড়িত থাকার কোনো তথ্য-প্রমাণ পাননি।
আপিল বিভাগে দাখিল করা ‘দি ভ্যাঙ্কুইশড জেনারেলস’ নামের বই থেকে তথ্য উপস্থাপন করে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, অধ্যাপক ড. মুনতাসির মামুনের লেখা এই বইতে মুক্তিযুদ্ধকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর শীর্ষ দু’কর্মকর্তা রাও ফরমান আলী এবং জেনারেল এ কে, নিয়াজী স্বীকার করেছেন যে, আল বদর বাহিনী সরাসরি আর্মির কমান্ডে এবং কন্ট্রোলে পরিচালিত হতো। সেখানে সাধারণ নাগরিকের অন্তর্ভুক্তি ছিল না। যা কিছু হয়েছে জেনারেল নিয়াজীর কমান্ডে হয়েছে।
শুনানির একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, আপনি কি অভিযোগের সাজা কমাতে চান না খালাস চান। জবাবে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আমরা এই অভিযোগ থেকে খালাস চাই।
সুপিরিয়র রেন্সপন্সিবিলিটির বিষয়ে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, একই অভিযোগে অন্যান্য মামলার আসামীদের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল। কিন্তু মুজাহিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই। আল বদর আল শামস পাকিস্তানী সেনাবহিনীর কন্ট্রোলে ও কমান্ডে পরিচালিত হতো। শুধুমাত্র মুক্তিযুদ্ধকালে ইসলামী ছাত্রসংঘের সেক্রেটারি হওয়ার কারণে তার ওপর দায়-দায়িত্ব চাপিয়ে বা সাজা দেয়া আইনানুগ হবে না।
খন্দকার মাহবুব আরো বলেন, বুদ্ধিজীবী হত্যার ব্যাপারে এক নম্বর সাক্ষী জালাল (বিচ্ছু জালাল) ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে অন্য সাক্ষীদের দিয়ে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনি মুজাহিদকে সম্পূর্ণ নির্দোষ উল্লেখ করে তাকে অভিযোগ থেকে খালাস দেয়ার দাবি জানান। ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে খন্দকার মাহবুব হোসেন ডিফেন্সপক্ষে শুনানি শেষ করলে এটর্নি জেনারেল শুরু করেন। ১০ মিনিট শুনানির পর আদালত আধা ঘণ্টার বিরতিতে যান। এরপর শুনানি শুরু হলে এটর্নি জেনারেল ১২টা ০ মিনিট পর্যন্ত শুনানি করেন। খন্দকার মাহবুব হোসেন আবার তিন মিনিট শুনানি করলে আদালত কাল বুধবার (আজ) রায়ের দিন নির্ধারণ করেন।
গত ১৪ অক্টোবর রিভিউ দাখিলের সময় শেষ হওয়ার একদিন আগেই সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিভিউ দাখিল করেন আইনজীবীরা। গত ২ নবেম্বর এ বিষয়ে আপিল বিভাগে শুনানি হলে ডিফেন্স পক্ষে প্রস্তুতি এবং আইনজীবীদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হয়রানির বিষয়টি তুলে ধরে চার সপ্তাহ সময় চাওয়া হয়। আদালত পরে ১৭ নবেম্বর শুনানির দিন নির্ধারণ করেন। সে অনুযায়ী গত সোমবার রিভিউটি আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় দু’ নম্বর ক্রমিকে আসে। ৩৮ পৃষ্ঠার রিভিউ আবেদনে ৩২টি গ্রাউন্ডে আপিল বিভাগের রায়ের পুনর্বিবেচনা চাওয়া হয়। রিভিউ আবেদনে আপিল বিভাগের দেয়া দন্ড থেকে মুজাহিদের অব্যাহতি চাওয়া হয়।
রিভিউ আবেদনে বলা হয় বুদ্ধিজীবী হত্যার অভিযোগের সমর্থনে সরকার পক্ষ (প্রসিকিউশন) দুইজন সাক্ষী হাজির করে। যথা রুস্তম আলী মোল্লা ও জহির উদ্দিন জালাল। ১৯৭১ সালে রুস্তম আলী মোল্লার বয়স ছিল ১৪ বছর এবং জহির উদ্দিন জালালের বয়স ছিল ১৩ বছর। রুস্তম আলী মোল্লা নিজেকে এই ঘটনার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হিসেবে দাবি করলেও তার সাক্ষ্য পরস্পর বিরোধী। আর জহির উদ্দিন জালাল একজন শোনা সাক্ষী। রুস্তম আলী মোল্লা মুজাহিদকে আর্মি অফিসারের সাথে ষড়যন্ত্র এবং পরিকল্পনা করতে দেখেনি। এই সাক্ষী দাবি করেছেন যে, স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হওয়ার ৩-৪ মাস পর মুজাহিদকে ফিজিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের গেইটে দেখেছেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে, মুজাহিদকে আগে থেকে চিনতেন না। গেইটে প্রহরারত ব্যক্তিরা বলাবলি করছিল যে, গোলাম আযম, নিজামী ও মুজাহিদ কলেজে এসেছেন এবং তখন তিনি মুজাহিদ সাহেবকে চিনতে পারেন। রুস্তম আলী মোল্লার সাক্ষ্যে এটি প্রতীয়মান হয় যে, তিনি পূর্ব থেকে এই তিনজনের কাউকেই চিনতেন না। কেউ তাকে সুনির্দিষ্টভাবে মুজাহিদকে চিনিয়েও দেয়নি। তাহলে প্রশ্ন হলো, পূর্ব থেকে না চেনা সত্ত্বেও কিভাবে তিনি নিজেই কলেজের গেইটে মুজাহিদকে চিহ্নিত করলেন? তর্কের খাতিরে রুস্তম আলী মোল্লার কথা সত্য বলে ধরে নিলেও এর দ্বারা কি আদৌ এটি প্রমাণিত হয় যে, তিনি আর্মি অফিসারের সাথে বুদ্ধিজীবী হত্যাকা-ের ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করেছেন?
অপর সাক্ষী জহির উদ্দিন জালাল তার সাক্ষ্যে বলেছেন যে, নিজামী, মুজাহিদরা ফিজিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে আসতেন-এই খবরগুলো রুস্তম আলী মোল্লা কেরানীগঞ্জে তাকে জানিয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা জেরায় স্বীকার করেছেন রুস্তম আলী মোল্লা তদন্তকালে তার কাছে বলেনি যে, বিচ্ছু জালাল নামে কারো সঙ্গে তার পূর্ব পরিচয় ছিল। সুতরাং জালালের দাবি অসত্য প্রমাণিত।
রুস্তম আলী মোল্লার পিতা মো. রহম আলী মোল্লা ১৯৭১ সালে ফিজিক্যাল ট্রেনিং কলেজের প্রহরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা জেরায় স্বীকার করেছেন যে, তিনি আজও জীবিত আছেন। কিন্তু প্রসিকিউশন এই মামলায় তাকে সাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে হাজির করেনি। ফিজিক্যাল ট্রেনিং কলেজের তদানীন্তন অধ্যক্ষ মুহিবুল্লাহ খান মজলিস এবং তার ছেলে বর্তমান অধ্যক্ষ তারেক ইকবাল খান মজলিসকেও (যিনি ১৯৭১ সালে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন) সাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়নি। অধিকন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তা ১৯৭১ সালে অত্র কলেজে কর্মরত কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীর সাথে কথাবার্তা বলেননি এবং তাদের কাউকে সাক্ষী মান্য করেননি। প্রাপ্তবয়স্ক প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জীবিত থাকা সত্ত্বেও অপ্রাপ্তবয়স্ক একজন ব্যক্তির সন্দেহজনক ও প্রশ্নবিদ্ধ সাক্ষ্যের ভিত্তিতে মুজাহিদের মৃত্যুদন্ড বহাল রাখা হয়েছে?
আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের বিরুদ্ধে আর্মি অফিসারের সাথে বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ড সংঘটনের ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনার অভিযোগ করা হয়। কিন্তু তিনি কবে কোথায় কোন্ আর্মি অফিসারের সাথে এই ষড়যন্ত্র করেছেন এই মর্মে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য-প্রমাণ প্রসিকিউশন উপস্থাপন করতে পারেননি। উল্লেখ্য যে, এই কথিত ষড়যন্ত্রের ফলে কে কাকে কোথায় কখন কিভাবে হত্যা করেছে এই মর্মে কোনো মৌখিক ও দালিলিক সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। প্রসিকিউশনের আনীত ১ নম্বর অভিযোগে সাংবাদিক সিরাজউদ্দিন হোসেনকে হত্যার কথা উল্লেখ থাকলেও আপিল বিভাগ অত্র অভিযোগ থেকে মুজাহিদকে বেকসুর খালাস প্রদান করেছেন।
মুজাহিদকে আল বদরের কমান্ডার হিসেবে সাজা দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে নিম্নোক্ত প্রশ্নের কোনো সদুত্তর প্রসিকিউশন দিতে পারেনি- কে কখন কোথায় কিভাবে মুজাহিদকে আল বদরের কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেন? তিনিই কি আল বদরের প্রথম এবং শেষ কমান্ডার? তার আগে এবং পরে কে বা কারা এই দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন? প্রসিকিউশনের ভাষ্যমতে, ১৯৭১ সালের মে মাসে জামালপুরে মেজর রিয়াজের প্রচেষ্টায় আল বদর বাহিনী গঠিত হয়। ঐ সময় মুজাহিদ ঢাকা জেলার ছাত্র সংঘের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। তাহলে ঢাকায় বসে কিভাবে তিনি জামালপুরে গঠিত আল বদর বাহিনীর কমান্ডার হলেন?
রিভিউতে দাখিল করা নতুন দালিলিক প্রমাণ হিসেবে আওয়ামী লীগ সমর্থক হিসেবে পরিচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক ও লেখক অধ্যাপক ড. মুনতাসির মামুন সম্পাদিত ‘দি ভ্যাঙ্কুইশড জেনারেলস’ বই দাখিল করা হয়। বইটিতে রয়েছে রাও ফরমান আলী এবং জেনারেল এ, এ, কে, নিয়াজী স্বীকার করেছেন যে, আল বদর বাহিনী সরাসরি আর্মির কমান্ডে এবং কন্ট্রোলে পরিচালিত হতো। প্রশ্ন হলো মুজাহিদ একজন ছাত্রনেতা হয়ে কিভাবে এই বাহিনীর কমান্ডার হলেন? এই বইটি পুনর্বিবেচনার আবেদনের সাথে নতুন দালিলিক সাক্ষ্য হিসেবে দাখিল করা হয়।
জেরায় তদন্তকারী কর্মকর্তা নির্দ্বিধায় স্বীকার করেছেন যে, তার তদন্তকালে রাজাকার, আল বদর, আল শামস বা শান্তি কমিটির সংশ্লিষ্ট কোনো তালিকায় আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের নাম ছিল মর্মে তিনি কোনো প্রমাণ পাননি। কিসের ভিত্তিতে তাকে আল বদরের কমান্ডার সাব্যস্ত করা হলো এ বিষয়ে রিভিউতে বলা স্বাধীনতার অব্যবহিত পরবর্তীকালে (১৭ ডিসেম্বর ১৯৭১ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত) তদানীন্তন জাতীয় গণমাধ্যমে আল বদরের কর্মকান্ড নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ ছাপা হয়েছে এমনকি ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে তাদেরকে ধরিয়ে দেয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়েছে। অথচ ঐসব সংবাদ ও বিজ্ঞপ্তিতে মুজাহিদের নাম কেউ উল্লেখ করেনি। যদি তিনি আল বদরের সারা দেশের কমান্ডার হতেন তাহলে স্বাধীনতার অব্যবহিত পরবর্তী সময়ে তার নাম কেউ উল্লেখ করেনি কেন? বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ড নিয়ে ১৯৭২ সালে দালাল আইনে ৪২টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এর একটিতেও মুজাহিদকে আসামী করা হয়নি। প্রসিকিউশন এই মামলাগুলোর নথি আদালতে উপস্থাপন করেনি। অথচ ৪২ বছর পর কিভাবে এই হত্যাকান্ডের সকল দায়-দায়িত্ব তার ওপর চাপানো হয়েছে? ২৯ ডিসেম্বর ১৯৭১ তারিখে বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডের তদন্তের জন্য জহির রায়হানকে আহ্বায়ক করে ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছিল। প্রথিতযশা সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার আমির-উল-ইসলাম এবং ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এই কমিটির সদস্য ছিলেন। প্রসিকিউশন এই কমিটি কর্তৃক প্রস্তুতকৃত তদন্ত রিপোর্ট ট্রাইব্যুনালে জমা দেয়নি এবং তদন্তকালে তাদের কারো সাথে আলোচনাও করেনি। কেন প্রসিকিউশন এই তদন্ত রিপোর্ট জাতির সামনে প্রকাশ করেনি?
এর আগে, কারাগারে আইনজীবীরা সাক্ষাৎ করলে রিভিউ আবেদন দায়ের করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ দু’টি প্রশ্ন উত্থাপন করেন আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ।
এই প্রশ্ন দু’টি হলো- মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেরায় স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন রাজাকার, আল বদর বা শান্তি কমিটির কোনো তালিকায় মুজাহিদের নাম নেই। হঠাৎ করে ৪২ বছর পর কিভাবে তিনি আল বদরের কমান্ডার হয়ে গেলেন?
দ্বিতীয় প্রশ্নটি হলো- ১৯৭১ সালে আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ২৩ বছর বয়সের একজন ছাত্র ছিলেন। একজন ছাত্র কিভাবে আধা-সামরিক বাহিনীর কমান্ডার হতে পারেন? কে কখন কোথায় তাকে এই পদে নিয়োগ দিলেন এই মর্মে প্রসিকিউশন কোনো মৌখিক বা দালিলিক সাক্ষ্য উপস্থাপন করতে পারেনি।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরীর আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এরপর ১ অক্টোবর আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং তা কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এরপর গত ২ অক্টোবর আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের সাথে রিভিউ আবেদন দায়েরের বিষয়ে পরামর্শ করতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের তার পাঁচজন আইনজীবী সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতে তিনি আইনজীবীদের রিভিউ আবেদন দায়ের করার পরামর্শ দেন।
গত ১৬ জুন মুজাহিদের মৃত্যুদন্ড বহালের চূড়ান্ত রায় দেন আপিল বিভাগ। ওইদিন সংক্ষিপ্ত রায়ে বলা হয়, আপিল আংশিক মঞ্জুর করা হলো। এক নম্বর অভিযোগে ট্রাইব্যুনালের দেয়া সাজা থেকে খালাস দেয়া হয়েছে। তিন নম্বর অভিযোগে পাঁচ বছর কারাদন্ড, পাঁচ নম্বর অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং ছয় নম্বর অভিযোগে মৃত্যুদন্ড বহাল রাখা হলো। এছাড়া সাত নম্বর অভিযোগে মৃত্যুদন্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন করা হয়। পরে এই সংক্ষিপ্ত রায়ের পুর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ হয় ৩০ সেপ্টেম্বর।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=212779