২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, বুধবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মুজাহিদের রিভিউ শুনানি ১৭ নভেম্বর
৩ নভেম্বর ২০১৫, মঙ্গলবার,
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদনের শুনানি আগামী ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেত্বত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ এ দিন ধার্য করেন। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।
তবে আদালত সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রিভিউ আবেদনের সাথে আটজন সাীর সাক্ষ্যগ্রহণের আবেদন খারিজ করে দেন। এ ছাড়া আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনিরকে হয়রানি না করতে এবং ডিফেন্স আইনজীবীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে যেন বাধা না দেয়া হয় সে ব্যাপারে নির্দেশনা চেয়ে দায়ের করা আবেদনও খারিজ করেছেন আদালত। আদালত বলেছেন, কাউকে হয়রানি করা হলে হাইকোর্টে আগাম জামিন আবেদন করা যেতে পারে।
আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাহউদ্দিন কাদেরের পক্ষে শুনানি করেন তাদের প্রধান আইনজীবী সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
শুনানিতে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী পক্ষে আটজন সাক্ষীর সমন চেয়ে দায়ের করা আবেদন প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি বলেন, আপনি পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কাগজ (সার্টিফিকেট) আনেননি। আপনাদের বক্তব্য সঠিক এটি কিভাবে বুঝব? আপনি ঘটনার সময় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ওই সময়ের সংবাদপত্রে তা প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী রয়েছে। এরপর আমরা কিভাবে গ্রহণ করব যে আপনি পাকিস্তানে ছিলেন।
এ সময় খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না, এটি বিবেচনা করেন।
প্রধান বিচারপতি তখন বলেন, আপনি পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন, লন্ডনে গেছেন, লিঙ্কনস ইনে ভর্তির কথা বলেছেন। কিন্তু সার্টিফিকেট কই। এত কাগজ দিলেন পাকিস্তান থেকে সার্টিফিকেট আনতে পারলেন না।
এ পর্যায়ে খন্দকার মাহবুব বলেন, এটিই শেষ সুযোগ। এফিডেভিট পরীা করে দেখুন। যারা এফিডেভিট দিয়েছে তারা সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তি তাদের আসতে দিন।
প্রধান বিচারপতি বলেন, আমরা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিয়ে দিয়েছি।
খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, তাহলে তাদের (আট সাী) অডিও রেকর্ড নেন। জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, সরি।
এরপর আদালত রিভিউ শুনানির জন্য ১৭ নভেম্বর দিন ধার্য করেন।
আদেশের পর খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আদালতকে বলেছি এই মামলার আইনজীবী অ্যাভোকেট শিশির মনিরের মোহাম্মদপুরের বাসায় গত ২৬ অক্টোবর সার্চ ওয়ারেন্ট ছাড়াই তল্লাশি করে কম্পিউটার, মনিটর, মডেম ও পেনড্রাইভ নিয়ে গেছে আইন শৃঙ্খলাবাহিনী। এ ছাড়া গত ২২ অক্টোবর তার বাসায় পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে। ডিফেন্স কাউন্সেলদের যাতে হয়রানি না করা হয় সে বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা প্রার্থনা করেছিলাম। আদালত বলেছেন, হাইকোর্টে আগাম জামিন আবেদন করেছেন কিনা; আমাদের পক্ষে এ বিষয়ে আদেশ দেয়া সম্ভব নয়।
খন্দকার মাহবুব বলেন, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ঘটনার সময় দেশে ছিলেন না। এ বিষয়ে সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সাক্ষ্য দিতে চেয়েছেন যে তারা যে এফিডেভিট দিয়েছিলেন তা সঠিক। তাদের আসতে দিন। আদালত বলেছেন তারা এফিডেভিটের ওপর নির্ভর করেননি, সাক্ষ্য প্রমাণ বিবেচনায় নিয়েছেন। আদালত বলেছেন রিভিউতে সাক্ষী আনার নজির নেই। এরপর আমাদের আবেদন খারিজ করা হয়েছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ঘটনার সময় দেশে ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষ অকাট্য ডকুমেন্ট দিয়ে তা প্রমাণ করেছে। আদালত তার পক্ষে নতুন সাক্ষী আনার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার কথা বললেও সার্টিফিকেট দেননি।
গত ২০ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবকাশকালীন চেম্বার আদালতের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ২ নভেম্বর শুনানির দিন ধার্য করেন।
গত ১৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপে অ্যাটর্নি জেনারেলের প থেকে আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) আবেদনের দ্রুত শুনানির তারিখ নির্ধারণের জন্য আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করা হয়।
অন্য দিকে সম্প্রতি ডিফেন্স সাী হিসেবে পাকিস্তানের পাঁচজন বিশিষ্ট নাগরিকসহ আটজনের স্যাগ্রহণ করতে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুনীর পে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় একটি আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। এতে পাকিস্তানের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও অন্তবর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ মিঞা সুমরো এবং বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি শামীম হাসনাইনের নাম রয়েছে।
এর আগের গত ১৪ অক্টোবর আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় প্রথমে মুজাহিদের পক্ষে আবেদনটি দায়ের করেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির। ৩৮ পৃষ্ঠার রিভিউ আবেদনে ৩২টি গ্রাউন্ডে আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনা করে মুজাহিদকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি ও মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস চাওয়া হয়।
অন্য দিকে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী পে একই দিন মৃত্যুদণ্ড থেকে অব্যাহতি চেয়ে রিভিউ আবেদন দায়ের করা হয়েছে। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন তুহিন আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন করেন। ১০৮ পৃষ্ঠার রিভিউ আবেদনে মোট ১০টি যুক্তি তুলে ধরে মোট ৩৫৭টি নথিপত্র যুক্ত করা হয়।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এর পর ১ অক্টোবর আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং তা কারা কর্তৃপরে কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
গত ১৬ জুন আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং ২৯ জুলাই সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আপিল মামলার সংপ্তি রায় দেন আপিল বিভাগ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বিভাগের বেঞ্চ আলী আহসান মুজাহিদ ও সালাহউদ্দিন কাদেরের এ রায় প্রদান করেন।
১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের লক্ষ্যে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই আলী আহসান মুজাহিদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। - See more at: http://www.dailynayadiganta.com/detail/news/66527#sthash.OGlOZyAn.dpuf