২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, বুধবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের রিভিউ শুনানি আজ
২ নভেম্বর ২০১৫, সোমবার,
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদনের শুনানি আজ সোমবার অনুষ্ঠিত হবে।
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেত্বত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চে আজকের কার্যকালিকায় রিভিউ আবেদন দুটি শুনানির জন্য উঠছে। আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের রিভিউ আবেদনের সাথে শুনানি মুলতবি করার একটি আবেদন রয়েছে। এ ছাড়া সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রিভিউ আবেদনের সাথে আটজন সাীর সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য সমন চাওয়া হয়েছে।
প্রধান বিচারপতির নেত্বত্বে বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।
সোমবারের কার্যকালিকায় আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের রিভিউ আবেদন ১৬ নম্বরে এবং সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রিভিউ আবেদন ১৭ নম্বরে রয়েছে।
আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাহউদ্দিন কাদেরের পক্ষে রিভিউ আবেদনের শুনানি করবে তাদের প্রধান আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শুনানি করবেন।
গত ২০ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবকাশকালীন চেম্বার আদালতের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ২ নভেম্বর শুনানির দিন ধার্য করেন। ওই দিন রিভিউ আবেদনের শুনানির বিষয়ে খন্দকার মাহবুব হোসেন আদালতে বলেছিলেন, শত শত বিচারাধীন মামলা আপিল বিভাগে শুনানির জন্য অপেক্ষায় রয়েছে। এ অবস্থায় রিভিউ আবেদনের শুনানি হলে সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের আপিলের শুনানি বিলম্ব হবে। এ মামলা শুরু করলে নিয়মিত মামলার শুনানি করতে পারবেন না। এতে হাজার হাজার বিচারপ্রার্থী তিগ্রস্ত হবে। তাই আমরা সময় আবেদন করব।
গত ১৫ অক্টোবর অ্যাটর্নি জেনারেলের প থেকে আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) আবেদনের দ্রুত শুনানির তারিখ নির্ধারণের জন্য আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করা হয়।
অন্য দিকে ডিফেন্স সাী হিসেবে পাকিস্তানের পাঁচজন বিশিষ্ট নাগরিকসহ আটজনের স্যাগ্রহণ করতে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় একটি আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। এতে পাকিস্তানের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ মিঞা সুমরো এবং বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি শামীম হাসনাইনের নাম রয়েছে।
গত ১৪ অক্টোবর আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় প্রথমে মুজাহিদের পক্ষে আবেদনটি দায়ের করেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির। ৩৮ পৃষ্ঠার রিভিউ আবেদনে ৩২টি গ্রাউন্ডে আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনা করে মুজাহিদকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি ও মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস চাওয়া হয়।
একই দিনে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী পে মৃত্যুদণ্ড থেকে অব্যাহতি চেয়ে রিভিউ আবেদন দায়ের করা হয়। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন তুহিন আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন করেন। ১০৮ পৃষ্ঠার রিভিউ আবেদনে মোট ১০টি যুক্তি তুলে ধরে মোট ৩৫৭টি নথিপত্র যুক্ত করা হয়।
রিভিউ আবেদন দায়ের করার পর এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছিলেন, আল্লাহর বিচারের আগে সর্বোচ্চ আদালতের এটি শেষ বিচার, এ জন্য আমরা ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি। আশা করি আমরা যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাবো। সঠিকভাবে মূল্যায়ন হলে এই মৃত্যুদণ্ডাদেশ বাতিল হবে।
অপর দিকে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেছিলেন, রিভিউ আবেদন গ্রহণ করার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবে এটা সম্পূর্ণ আদালতের ব্যাপার। আমরা আশাবাদী ট্রাইব্যুনাল যে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আপিল বিভাগ তা বহাল রাখেন, রিভিউতেও তা বহাল থাকবে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এরপর ১ অক্টোবর আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং তা কারা কর্তৃপরে কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
এরপর গত ২ অক্টোবর আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের সাথে রিভিউ আবেদন দায়েরের বিষয়ে পরামর্শ করতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের তার পাঁচজন আইনজীবী সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতে তিনি আইনজীবীদের রিভিউ আবেদন দায়ের করার পরামর্শ দেন।
এরপর গত ৯ অক্টোবর আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের সাথে সাক্ষাৎ তরেন তার স্ত্রী তামান্না-ই-জাহানসহ পরিবারের পাঁচ সদস্য। সাক্ষাৎ শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আল্লাহকে হাজির নাজির জেনে তিনি বলেছেন, তার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ, নির্দোষ এবং নির্দোষ।
গত ৬ অক্টোবর হুজ্জাতুল ইসলাম খান আলফেসানী কাশিপুর কারাগারে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সাথে সাক্ষাৎ করেন।
গত ১৬ জুন আলী আহসান মুজাহিদ এবং ২৯ জুলাই সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আপিল মামলার সংপ্তি রায় দেন আপিল বিভাগ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বিভাগের বেঞ্চ আলী আহসান মুজাহিদ ও সালাহউদ্দিন কাদেরের এ রায় প্রদান করেন।
১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের লক্ষ্যে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই আলী আহসান মুজাহিদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুাল-১ ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
http://www.dailynayadiganta.com/detail/news/66235