২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শুক্রবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
ডিপ্লোম্যাটের বিশ্লেষণ: চীনের মালা থেকে দানা খসিয়ে নিলো ভারত
৯ জুন ২০১৫, মঙ্গলবার,
চট্টগ্রাম ও মংলা মন্দরে ভারতের পণ্যবাহী জাহাজ প্রবেশে বাংলাদেশের অনুমতি প্রদানকে এ অঞ্চলে চীনের মোকাবেলায় ভারতের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছে দ্য ডিপ্লোম্যাট ম্যাগাজিন।
ম্যাগাজিনটির মতে নরেন্দ মোদির সফরের মাধ্যমে যে ২২ দফা চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরে ভারতের বেসমারিক জাহাজ প্রবেশের অনুমতি। কারণ এর সাথে সমুদ্র নিরাপত্তা ও কৌশলগত বিষয় জড়িত। এ চুক্তির ফলে বাংলাদেশের ওপর চীনের প্রভাব নিয়ে ভারতকে আর আগের মতো উদ্বিগ্ন থাকতে হবে না। তবে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরে ভারতের জাহাজ প্রবেশের অনুমতির ফলে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কে যদি ফাটল ধরে ও চীন যদি এতে নাখোস হয় তবে সেটাকেই এ চুক্তির সবচেয়ে খারাপ পরিণতি হিসেবে মন্তব্য করেছে ডিপ্লোম্যাট ম্যাগাজিন।
টোকিওভিত্তিক ম্যাগাজিনটির দৃষ্টিতে পাকিস্তানের গোয়াদার, শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা, মালদ্বীপের মারাও ও মিয়ানমারের কিয়াউকপিউ সমুদ্রবন্দরের ওপর রয়েছে চীনের প্রভাব। চীনের প্রভাবাধীন এসব বন্দরের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরও। এসব সমুদ্রবন্দরে নানা ধরনের বিনিয়োগ ছাড়াও বিভিন্ন উপায়ে চীন-ভারত মহাসাগরের ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে। তাই এ সমুদ্রবন্দরগুলোকে চীনের মুক্তার মালা হিসেবে তুলনা করা হয়। এখন চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরে ভারতের পণ্যবাহী জাহাজ প্রবেশের অনুমতির মাধ্যমে ভারত চীনের এ মালা থেকে একটি দানা খসিয়ে নিয়েছে বলেই ম্যাগাজিনটির পর্যবেক্ষণ।
পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, মিয়ানমার ও বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরের সহায়তায় ভারত মহাসাগারে চীনের প্রভাব বিস্তারকে অ্যালেন হ্যামিলটন ‘স্ট্রিং অব পার্লস’ বা মুক্তার মালা হিসেবে উল্লেখ করেন প্রায় এক দশক আগে। এর পর থেকে সমুদ্র নিরাপত্তা ও কৌশলগত বিশ্লেষণে সাগরে ভারত-চীনের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লড়াইকে বোঝানোর ক্ষেত্রে এ ‘মুক্তার মালা’ টার্ম ব্যবহার হয়ে আসছে।
ডিপ্লোম্যাট ম্যাগাজিনের মতে ভারত মহাসাগরে চীন-ভারতের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার যে লড়াই চলছে তার পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে ঢাকা দিল্লি সম্পর্কে আস্থাই শুধু জোরদারই হবে না বরং ঢাকার ওপর চীনের প্রভাব নিয়ে ভারতের যে ভীতি তাও প্রশমিত হবে। ভারতে ব্যাপকভাবে যে ধারণাটি প্রতিষ্ঠিত তা হলো চীন এসব সমুদ্রবন্দরের মাধ্যমে একটি নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করেছে এবং বেসামরিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে নানা সুবিধা নিচ্ছে। ভারত মহাসাগরে চীনের এ প্রভাব নিয়ে ভারত খুবই উদ্বিগ্ন দীর্ঘ দিন থেকে। ২০১৪ সালে চীনের একটি সাবমেরিন শ্রীলঙ্কায় ডকিং করা অবস্থায় শনাক্ত করে ভারত। তখন এর কড়া প্রতিবাদ জানায় ভারত। ভারতের আরো উদ্বেগের যে বিষয় তা হলো এসব বন্দর থেকে চীন যে সুবিধা নিচ্ছে তা এখন আরো বড় পরিসরে পিপল লিবারেশন আর্মি-নেভির অপারেশনের ক্ষেত্রে পরিণত হতে পারে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ গত বছর নিশ্চিত করেছে, ভারত মহাসাগরে চীনের সাবমেরিন চলাচল করছে। শুধু তাই নয় চীন এ বছর স্বীকার করেছে, আরো বৃহত্তর পরিসরে পিপল লিবারেশন আর্মি-নেভির কার্যক্রম বিস্তৃত করতে চায় তারা। তা ছাড়া সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে চীনের দীর্ঘ দিনের আগ্রহ ও চেষ্টার বিষয়ও ভারতের জন্য উদ্বেগের বিষয় যদিও এটি এখনো খুবই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
ডিপ্লোম্যাট ম্যাগাজিনের মতে এখন চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরে ভারতের বেসামরিক জাহাজ প্রবেশের অনুমতির পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের নৌবাহিনীর জাহাজও চট্টগ্রাম বন্দরে ডকিংয়ের জন্য অপেক্ষার তালিকায় দেখতে খুবই আগ্রহী হয়তো।
 - See more at: http://www.dailynayadiganta.com/detail/news/29008#sthash.aezXRWqS.dpuf