২৯ নভেম্বর ২০২০, রবিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মুজাহিদের আপিলের চূড়ান্ত রায় ১৬ জুন
২৮ মে ২০১৫, বৃহস্পতিবার,
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক মন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের আপিলে দু’পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। আগামী ১৬ জুন চূড়ান্ত রায়ের দিন ধার্য করেছেন আপিল বিভাগ। মাত্র তিন কার্যদিবসে ডিফেন্স ও প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক শেষ হলো। এ নিয়ে মোট ৯ কার্যদিবসে নির্ধারিত হলো চূড়ান্ত রায়ের দিন ।
গতকাল বুধবার সকাল থেকে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চে যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে রায়ের দিন নির্ধারণ করা হয়। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন-বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।
মুজাহিদের পক্ষে এডভোকেট এস এম শাহজাহান যুক্তি উপস্থাপন করেন। তাদের সহায়তা করেন এডভোকেট মুহাম্মদ শিশির মনির। সরকারপক্ষে ছিলেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তাকে সহযোগিতা করেন অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল মো.মমতাজ উদ্দিন ফকির।
রায়ের দিন ধার্যের পর আদালত মুজাহিদের আইনজীবী এডভোকেট মুহাম্মদ শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, আপিল বিভাগ শুনানি শেষ করে আগামী ১৬ জুন রায়ের দিন ধার্য করেছেন। আমরা সাধ্যমত যুক্তি আদালতের সামনে তুলে ধরেছি। লিখিতভাবেও যুক্তি দাখিল করেছি। আশা করি আমাদের উপস্থাপিত যুক্তি বিবেচনায় নিয়ে আপিল বিভাগ মুজাহিদ সাহেবকে খালাস প্রদান করবেন। এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
তিনি (মুজাহিদ) আল বদর কমান্ডার ছিলেন এটা কিভাবে খ-ন করলেন সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে এডভোকেট মুহাম্মদ শিশির মনির বলেন, আমরা বলেছি মুজাহিদ সাহেব ১৯৭১ সালের অক্টোবর থেকে ইসলামী ছাত্র সংঘের সভাপতি ছিলেন। এটা স্বতসিদ্ধ। কিন্তু তিনি আল বদর কমান্ডার ছিলেন প্রসিকিউশন এমন কোন কিছু উপস্থাপন করতে পারেনি। এমনকি ট্রাইব্যুনালের সামনেও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন তদন্তকালে তিনি মুজাহিদ সাহেব আল বদর কমান্ডার ছিলেন এ ধরনের তথ্য-প্রমাণ খুঁজে পাননি। এ বিষয়টি আমরা আদালতে তুলে ধরেছি।
আগেরদিন ডিফেন্সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, আমরা বিস্তারিত সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে দেখিয়েছি যে মুজাহিদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষীরা যা বলেছে তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। এই সাক্ষ্য প্রমাণের উপর ভিত্তি করে কাউকে সাজা দেয়া যায় না। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলেছে-মুজাহিদ আল-বদরের কোন পদে ছিলেন না। তিনি ছাত্রসংঘের সভাপতি ছিলেন। এক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালের সাজা সঙ্গত ছিল না। তিনি বলেন, আদালত জানতে চেয়েছেন তিনি বেনিফিট অফ ডাউট পাবেন কি না? আমরা বলেছি- এক্ষেত্রে তিনি অবশ্যই বেনিফিট অফ ডাউট পাবেন। আমরা আশাকরি মুজাহিদ সাহেব আপিল বিভাগে ন্যায় বিচার পাবেন এবং খালাস পাবেন।
খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, দুটি অভিযোগে (চার্জে) মুজাহিদকে মৃত্যুদ- দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি ৭ নম্বর চার্জ। এই চার্জটি ফরমাল চার্জ বা অনুষ্ঠানিক অভিযোগে ছিল না এবং আদালত এই অভিযোটি আমলেও নেননি। অপর দিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাও বলেছে-মুজাহিদ আল-বদর কমান্ডার ছিল না। আমরা এ বিষয়ে মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের মামলার আপিল বিভাগের রায় দেখিয়েছি। কমান্ড বা সুপিরিয়র রেসপনসিভিলিটি হতে হলে যে পর্যায়ে আসামীর দায়িত্বে ঘটনা সংঘটিত হতে হবে। অন্যথায় তাকে সাজা দেয়া যাবে না। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী ’৭১ সালে রাজনৈতিক বিশ্বাসের কারণে পাকিস্তানের পক্ষে ছিল। কিন্তু বুদ্ধিজীবী হত্যা বা কোন ধরনের হত্যাকা- ও অপরাধমূলক কর্মকা-ের সাথে তাদের সংশ্লিষ্টতা ছিল না।
তিনি আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান আর্মিরা যখন কোনখানে যেত তারা স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনকে ছাড়া ঘটনাস্থলে যেত না। কিন্তু তখন যারা পুলিশে ছিলেন, প্রশাসনে ছিলেন, ডিসি ছিলেন তাদের কেউ অভিযুক্ত বা বিচারের মুখোমুখি হননি। 
বঙ্গবন্ধু কলাবরেটরদের মাফ করে দিয়েছিলেন। এখানে পাকিস্তানের যেসব সেনা কর্মকর্তা ঘৃণ্য মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে ১৯৭৩ সালে সেই ১৯৫ জন পাকিস্তান সেনা কর্মকর্তাকে বিচার না করে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। ওই অপরাধীদের বিচার না করে বঙ্গবন্ধু তাদের ক্ষমা করেছেন। প্রধান আসামীদের ছেড়ে দেয়ার পর এদের বিচার করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে মুজাহিদ ব্যক্তিগতভাবে ফিজিক্যালী কোন হত্যাকা- বা অপরাধের সাথে জড়িত ছিলেন না। তিনি তখন ছাত্রসংঘের সভাপতি ছিলেন। একারণে তাকে সাজা দেয়া যাবে না।  
শুনানিতে মুজাহিদের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, এডভোকেট গাজী এম এইচ তামিম প্রমুখ।
সকাল ৯টায় এটর্নি জেনারেল তার আগেরদিনের বক্তব্যের জের থেকে লিখিত যুক্তি উপস্থাপন পড়া শুরু করেন। বিরতির পর সাড়ে ১১ টা থেকে আবার শুনানি শুরু হলে ১২ টা ৪৬ মিনিট পর্যন্ত যুক্তি উপস্থাপন করেন এটর্নি জেনারেল। এরপর ১টা ২ মিনিট পর্যন্ত ১৬ মিনিটের মতো যুক্তি খ-নের সুযোগ পান ডিফেন্স আইনজীবী এস এম শাহজাহান।
ট্রাইব্যুনালের রায়ে প্রমানিত হিসেবে বলা ৫ টি অভিযোগের বিষয়ে ডিফেন্স পক্ষে গত মঙ্গলবার (২৫ মে) এবং বুধবার (২৬ মে) শুনানিতে এডভোকেট এস এম শাহজাহান যুক্তি উপস্থাপন করেন।
তার উপস্থাপিত যুক্তিগুলো হলো
মুজাহিদের বিরুদ্ধে আনীত ১ম অভিযোগ সর্ম্পকে এডভোকেট এস এম শাহজাহান বলেন, ১৯৭১ সালে দৈনিক ইত্তেফাকে, পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদক সিরাজউদ্দিন হোসেনের ‘ঠগ বাছিতে গাঁ উজাড়’ নামক একটি প্রবন্ধের প্রতিক্রিয়ায় মুজাহিদ ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দৈনিক সংগ্রামে ‘অতএব ঠগ বাছিও না’ নামে একটি কলাম লিখেন। অভিযোগে বলা হয়, সিরাজউদ্দিন হোসেন মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষের মানুষ হওয়ায় তিনি বরাবরই পাকিস্তানী সেনাদের বর্বরতার সমালোচনা করতেন। তাই তিনি স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি রাজাকার, আল বদর ও শান্তি কমিটির লোকদের বিরাগভাজন হন। এমনই এক অবস্থায় ১৯৭১ এর ১০ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে মাংকি ক্যাপ পরিহিত ৭-৮ জন যুবক কাঁধে রাইফেল নিয়ে সিরাজউদ্দিন হোসেনের ৫ চামেলীবাগস্থ বাসায় আসে এবং তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এই চার্জের আলোকে মুজাহিদকে সিরাজউদ্দিন হোসেনের অপহরণ ও হত্যার পেছনে প্ররোচণা, সহায়তা ও অবদান রাখার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়।
এই অভিযোগটি প্রমাণের জন্য এই ট্রাইব্যুনালে একজন মাত্র সাক্ষী হাজির করে প্রসিকিউশন। তিনি হলেন, অপহৃত বুদ্ধিজীবী শহীদ সিরাজউদ্দিনের ছেলে শাহীন রেজা নূর। সাক্ষী  শাহীন রেজা নূর স্বীকার করেন দৈনিক সংগ্রামের তথাকথিত কাউন্টার কলাম ‘অতএব ঠগ বাছিও না’ এর লেখক কে তা তিনি জানেন না। ‘অতএব ঠগ বাছিওনা’ এই নিবন্ধের লেখক কে ছিলেন তা আমার জানা নেই। অথচ লেখার অভিযোগ মুজাহিদের বিরুদ্ধে: যা আদালতে প্রমাণ হয়নি।
ট্রাইব্যুনালে জেরার এক পর্যায়ে সাক্ষী শাহীন রেজা নূর স্বীকার করেন, তার পিতাকে অপহরণের পর পর তিনি ১৯৭২-১৯৭৩ রমনা থানায় দালাল আইনে একটি মামলা করেছিলেন। তিনি ঐ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। ঐ মামলায় একজন আসামী ছিল যার নাম ছিল খলিল। আদালতে আসামী খলিল স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছিল এবং বিচারে তার যাবজ্জীবন সাজা হয়। ঐ বিচারের রায় সম্পর্কিত সংবাদ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় তখন প্রকাশিত হয়েছিল। যদিও ট্রাইব্যুনাল মুজাহিদের বিরুদ্ধে সিরাজউদ্দিন হোসেনের অপহরণ ও হত্যার দায়ে অভিযোগ এনেছে। অথচ এই ব্যাপারটি বহু আগেই, একেবারে ঘটনার পরপরই আদালতে নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে।
তিনি বলেন, পরবর্তীতে সাক্ষী জেরায় আরও স্বীকার করেন যে, তিনি তার মা এবং তার ভাইদের কেউ কেউ শহীদ সাংবাদিক সিরাজউদ্দিন হোসেনের অপহরণ এবং তাকে হত্যা সংক্রান্ত স্মৃতিচারণমূলক লেখা লিখেছেন কিন্তু তার কোন লেখাতেই মুজাহিদকে এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত করেননি। শহীদ সাংবাদিক সিরাজুদ্দিন হোসেনের স্ত্রী নূরজাহান সিরাজী তার স্বামীর অপহরণের স্মৃতিচারণ করে ঢাকার মুক্তিযুদ্ধ বইতে প্রবন্ধ লিখেছেন সেখানে তিনি তার স্বামীর অপহরণ বা হত্যাকারী হিসাবে মুজাহিদের নাম উল্লেখ করেননি। সর্বশেষ সাক্ষী শাহীন রেজা নূর জেরায় স্বীকার করেন, এই ট্রাইব্যুনাল ছাড়া ইতিপূর্বে মুজাহিদ সাহেবের বিরুদ্ধে তিনি কোথাও কোন অভিযোগ করেননি এবং এই ট্রাইব্যুনাল ব্যতীত অন্য কোথাও মুজাহিদকে আলবদর বা তার কমান্ডার হিসেবে আখ্যায়িত করে কোন বক্তব্যও রাখেননি।
৩ নম্বর অভিযোগের বিষয়ে শুনানিতে আইনজীবী বলেন, এটি হলো ফরিদপুরের মুক্তিযোদ্ধা রঞ্জিত কুমার নাথ ওরফে বাবু নাথকে আটক ও নির্যাতনের অভিযোগ। সাক্ষী রঞ্জিত কুমার নাথ এই ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দী দেয়ার আগে এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক খানের কাছে কোন জবানবন্দী দেননি। মূলত তার জবানবন্দী রেকর্ড করে নূর হোসেন, যিনি আবুল কালাম আজাদের মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। তিনি ঐ মামলারও সাক্ষী। তিনি ঐ মামলায় দেয়া জবানবন্দীতে তার অপহরণের সাথে আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারকেই জড়িত করেছেন। তিনি এটাও স্বীকার করেন যে, মরহুম মাওলানা আব্দুল আলীকে (আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের পিতা) চিনলেও তার কোন ছেলেকে সে চিনতো না। সাক্ষী রঞ্জিত কুমার নাথ তার জেরায় স্বীকার করেন, তার উপর হওয়া অত্যাচারের কাহিনী মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রচনাকারী বা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস লিখেছেন এমন কাউকে কখনও বলিনি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিজেও সাক্ষ্য দিতে এসে স্বীকার করেছে, ফরিদপুরে মুক্তিযুদ্ধের উপর লেখা কোন বইতে তিনি এই ঘটনা পাননি। আর ডিসির কাছে যে আহত নির্যাতিত মুক্তিযোদ্ধার তালিকা আছে, তাতেও এই রঞ্জিত কুমার নাথের নাম পাননি। সাক্ষী রঞ্জিত কুমার নাথ অভিযোগ করেন যে, মুজাহিদ তাকে সরানোর নির্দেশ দিয়েছে অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি সে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে মোটেও উল্লেখ করেনি। সবচেয়ে বড় কথা, মুজাহিদের মামলায় সাক্ষ্য দেয়ার আগে এই সাক্ষী একই ট্রাইব্যুনালে মাওলানা আবুল কালাম আযাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়ে তাকেও এই অপহরণ ও নির্যাতনের জন্য দায়ী করে গেছেন। সেই অভিযোগে ট্রাইব্যুনাল মাওলানা আযাদকে দ-ও দিয়েছে। এরপরও শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে মুজাহিদকেও এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত করার অপপ্রয়াস হিসেবে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছে এই রঞ্জিত কুমার নাথ।
৫ম অভিযোগের বিষয়ে এডভোকেট এস এম শাহজাহান বলেন, সাক্ষী জহিরুদ্দিন জালাল তার জবানবন্দীতে বলেছেন, তিনি জাহানারা ইমামের ছেলে রুমির সাথে নাখালপাড়া এমপি হোস্টেলে আটক ছিলেন। এটা কি বাস্তব যে, তিনি বন্দীদশা থেকে মুক্ত হলেন অথচ রুমি নিহত হলো। কিন্তু রুমির মা’র সাথে ১৯৭১ সাল থেকে গণআদালতের গঠন না হওয়া পর্যন্ত তার দেখা হয়নি। এতে প্রমাণ হয় যে, জালাল আসলে সেখানে আটকই ছিলেন না।
২ নম্বর সেক্টরের মুক্তিযুদ্ধের যতগুলো স্মৃতি সংকলন বাজারে পাওয়া যায়, তাদের কোনটিতেই এই সাক্ষী জালালের নাম নাই। এমনকি নাখালপাড়ায় এমপি হোস্টেলে রুমির সাথে যারা আটক ছিলেন তাদের কারও লেখাতেও জালালের নাম পাওয়া যায়নি। হঠাৎ শূন্য থেকে এসে তিনি দাবি করছেন তিনি নাখালপাড়ায় আটক ছিলেন, ২নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন। এটা তথ্য জালিয়াতি ছাড়া আর কিছুই নয়। সাক্ষী তার জবানবন্দীতে বলেছেন, ‘১৯৭১ সালের ২৯ আগস্ট তিনি এবং তার চাচা এএসপি বাহাউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে রমনা থানায় গিয়েছিল সেদিন বিকালে কেননা ঐ দিন সকালে দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকায় বেশ কিছু মুক্তিযোদ্ধা আটকের খবর প্রকাশিত হয়। সেখানে গিয়ে তিনি বদি, রুমি, জুয়েল, আদা ও সুরকার আলতাফ মাহমুদসহ আরও ২০-২৫ জনকে দেখারও দাবি করেন।’
প্রকৃত বাস্তবতা হলো, (২৯ আগস্ট দিবাগত রাতে অর্থাৎ ৩০ আগস্ট মধ্যরাতে এলিফ্যান্ট রোডের নিজ বাসা থেকে আটক হয় রুমি। জাহানারা ইমামের লেখা একাত্তরের দিনগুলি, ঢাকায় মুক্তিযুদ্ধ বা এ জাতীয় বিভিন্ন বইতে এই আটক ও অত্যাচারের কথা বিবৃত আছে। প্রতিটি বর্ণনায় দেখা যায়, ২৯ আগস্ট দিবাগত রাতে সারা ঢাকা শহরে আর্মিরা একটি অপারেশন চালায়। এতে রুমি, জুয়েল, আজাদ, আলতাফ মাহমুদসহ অনেকেই আটক হয়। গ্রেফতার অভিযানটি গোটা রাত জুড়েই হয়। ২৯ আগস্ট রাত ১২টা থেকে শুরু করে ৩০ আগস্ট ভোর পর্যন্ত এই আটক অভিযান চলে। অথচ মজার ব্যাপার হলো, সাক্ষী জালাল এই ব্যক্তিদের রমনা থানায় আটক হওয়ার খবর দেখেছেন ২৯ আগস্টের পত্রিকায়। যেটা প্রকৃতার্থেই ইতিহাসের বিকৃতি। সাক্ষী নিজেকে জাহির করতে গিয়ে এই কথাগুলো বলেছে।
সাক্ষী জালাল আরও দাবি করে যে, ২৯ আগস্ট ১৯৭১ রমনা থানায় গিয়ে উল্লেখিত ব্যক্তিদেরকে দেখার বিষয়টি তিনি বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে বলেছেন এবং তা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ছাপা হতে পারে। কিন্তু এমন কোন পত্রিকা তদন্তকারী কর্মকর্তা বা এই সাক্ষী কেউই আদালতে দেখাতে পারেনি। যেহেতু এটা ঐ দিনের ঘটনাই নয়, তাই সেদিনের পত্রিকাতেও খবরটি প্রকাশিত হওয়ার কোন সুযোগ নেই।
সাক্ষী জালাল যখন নাখালপাড়ায় আটকই ছিলেন না, তখন তিনি কিভাবে জানবেন যে, কিভাবে রুমির উপর অত্যাচার চালিয়েছে? আর রুমির ভাই জামি ও পিতা শরীফও একই সাথে পাকিস্তানী বাহিনীর হাতে আটক হয়েছিল। তারা ফিরে এসে তাদের অভিজ্ঞতা ও রুমির উপরে চালানো অত্যাচারের কথা বিবৃত করেছে যা জাহানারা ইমাম তার একাত্তরের দিনগুলি নামক বইতে তুলে ধরেছেন। তিনি তো একবারের জন্যও সেখানে মুজাহিদকে সেই আটক ও নির্যাতনের দায়ে অভিযুক্ত করেননি। তাহলে ঘটনার ৪৪ বছর পরে হঠাৎ একজন সাক্ষী নিজেকে সেই ঘটনার ভিকটিম দাবি করে তার সাথে মুজাহিদকে সম্পৃক্ত করেছেন যা বিশ্বাসযোগ্য নয়। 
সাক্ষী জালাল ৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে ঢাকার চকবাজারে একটি সমাবেশে মুজাহিদকে বক্তব্য রাখতে দেখে তার উপর গ্রেনেড ছোঁড়ার দাবি করেন এমনকি সেই গ্রেনেডের শব্দ তিনি শুনেছেন বলেও দাবি করেন। যদি আসলেই তা করতেন তাহলে মুজাহিদ কিভাবে বেঁচে থাকলেন? আসলে নিজের বানোয়াট বীরত্বগাঁথা রচনার অংশ হিসেবেই তিনি এই মিথ্যা কাহিনীটি বর্ণনা করেছে।
সাক্ষী ১৯৭১ সালে নবম শ্রেণীতে পড়তেন উল্লেখ করে মুজাহিদের আইনজীবী শুনানিতে বলেন,তখন সাক্ষী জালালের বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর। কিন্তু তিনি তার ১০ পাতার জবানবন্দীতে ২ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর ঢাকা শহরের সব ঘটনা স্বচক্ষে দেখার যে দাবি করেছেন তা অবিশ্বাস্য এবং ঐ বয়সের কোন মানুষের পক্ষে একসাথে এত ঘটনা সরাসরি দেখার কোন সুযোগ নেই। সাক্ষী আসলে গোটা জবানবন্দী জুড়েই নিজেকে হিরো বানানোর প্রচেষ্টা চালিয়েছেন যা কোন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার আচরণ হতে পারে না। এখানে এটা উল্লেখ্য যে, সাক্ষী জেরায় স্বীকার করেছেন যে, সে ২০০৫ সালে সর্বপ্রথম মুক্তিযোদ্ধার তালিকাভুক্ত হয় এবং এর আগে সে কখনো মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য আবেদনই করেনি।
বুদ্ধিজীবী হত্যা সংক্রান্ত ৬ষ্ঠ অভিযোগের বিষয়ে শুনানিতে এডভোকেট এস এম শাহজাহান বলেন, এই অভিযোগটি সুনির্দিষ্ট নয়। মুজাহিদ কবে, কাকে, কিভাবে হত্যা বা অপহরণ করেছেন সুনির্দিষ্ট কোন দিন তারিখ উল্লেখ নাই। কোন আর্মি অফিসারের সঙ্গে কোথায় বসে এই পরামর্শ হয়েছে সে ব্যাপারেও কোন উল্লেখ নেই। এই পরামর্শের সময় আর কেউ উপস্থিত ছিলো কিনা এই মর্মে সুনির্দিষ্ট কোন তথ্যও দেয়া হয়নি। এইভাবে অভিযোগ গঠন ১৯৭৩ সালের আইনের পরিপন্থী। ১৯৭৩ সালের আইনের ১৬(গ) ধারায় সুম্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ সুনির্দিষ্টভাবে আনতে হবে। তাই এই অভিযোগটি ১৬(গ) ধারার সুম্পষ্ট লঙ্ঘন করে গঠন করা হয়েছে।
কোন বুদ্ধিজীবী পরিবারের কোন সদস্য, যারা এই ফিজিক্যাল ট্রেনিং ইন্সটিটিউটের কথিত ঘটনার ভিকটিম তাদের কারও স্ত্রী বা সন্তান-সন্ততি ট্রাইবুনালে এসে মুজাহিদের বিরুদ্ধে কোন সাক্ষ্য প্রদান করেননি।
এই মামলার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী রুস্তম আলী মোল্লা। ১৯৭১ সালে তার বয়স ছিল ১৪ বছর। তার বাবা রহম আলী মোল্লা ঐ ফিজিকাল ট্রেনিং ইন্সটিটিউটের সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করতেন। সে এখনও জীবিত আছে। কিন্তু প্রসিকিউশন তাকে সাক্ষী হিসেবে আদালতে হাজির করেনি। ঐ সময়কার প্রিন্সিপাল বা অধ্যক্ষ এখনও জীবিত আছেন। তাকেও এই মামলার সাক্ষী করা হয়নি। তদন্তকারী কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন যে, তৎকালীন কোয়ার্টারে থাকা কোন স্টাফ, অধ্যাপক বা অন্য কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে তিনি এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদ করেননি। প্রাপ্তবয়স্ক কাউকে এই ঘটনায় সাক্ষী না করে ১৪ বছরের একজন বালককে সাক্ষী করা আইনের দৃষ্টিতে গর্হিত কাজ। সে ছিল নাবালক। সে নিজেই স্বীকার করেছে তার বাবা সার্বক্ষণিক গার্ডের কাজ করতেন। সে তার জবানবন্দীতে বলেছে, এই ঘটনা সংক্রান্তে সে তার বাবার চেয়েও বেশী জানে। এমন পরিস্থিতিতে এই স্বাক্ষীর সাক্ষ্যের উপর নির্ভর করে ট্রাইবুনাল মুজাহিদকে বেআইনীভাবে মৃত্যুদ- প্রদান করেছেন। অধিকন্তু তার বাবা রহম আলী বিভিন্ন টিভি সাক্ষাৎকারে ঘটনার বর্ণনা করলেও মুজাহিদকে তার সাথে সম্পৃক্ত করেননি।
সাক্ষী রুস্তম আলী ট্রাইবুনালে জেরায় বলেছে, ১৯৭১ সালে ফিজিক্যাল ট্রেনিং কলেজের টর্চার সেন্টারে নির্যাতিত এমন কারো নাম আমি বলতে পারব না। যাদেরকে টর্চার সেলে নির্যাতন করা হত তারা বুদ্ধিজীবী ছিলো শুনেছি। এরকম মানের কোন স্বাক্ষ্য দিয়ে কোন ব্যক্তিকে আদৌ অভিযুক্ত করা বা এমন কোন সাক্ষ্যকে গুরুত্ব দিয়ে যদি কোন সিদ্ধান্তে আসা হয়, তা কি আদৌ গ্রহণযোগ্য হবে? সাক্ষী জেরায় স্বীকার করে যে, পূর্বে কোন সাক্ষাৎকারে সে বা তার পিতা ১৯৭১ সালে মুজাহিদকে চিনতো, তাকে দেখেছেন এবং মুজাহিদ ফিজিক্যাল কলেজে যাতায়াত করতেন মর্মে বিটিভি বা পত্রিকায় কোন বক্তব্য দেননি।
৭ নম্বর অভিযোগের বিষয়ে এডভোকেট এস এম শাহজাহান বলেন, বাকচরের এই ঘটনাটি মুজাহিদের বিরুদ্ধে আনীত প্রাথমিক অভিযোগে ছিল না। তার বিরুদ্ধে ৩ দফা অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি চূড়ান্ত যে ফরমাল চার্জটি প্রসিকিউশন দাখিল করে, তাতেও এই অভিযোগটি ছিল না। ট্রাইবুনাল-২ এই মামলাটি স্থানান্তরিত হওয়ার পর ডিসচার্জ আবেদনের শুনানি চলাকালে প্রসিকিউশন এই অভিযোগটি উত্থাপন করেন। ৪০০ বছরের প্রতিষ্ঠিত ফৌজদারী আইনের বিধি মোতাবেক মুজাহিদের বিরুদ্ধে আসা এই অভিযোগটি আমলে নেয়া হয়নি। আইনের বিধানমতে প্রথমত কোন অপরাধের ব্যপারে অভিযোগ আমলে নিতে হয় (cognizance)|।
তিনি বলেন, আর অভিযোগের ব্যাপারে বলতে গেলে শুরুতেই যেটা বলতে হয়, তা হলো ১০-১১ জন সংখ্যালঘু হত্যার মত এত বড় একটা অভিযোগের কোন বর্ণনা ফরিদপুরের মুক্তিযুদ্ধের কোন ইতিহাস গ্রন্থে পাওয়া যায়নি। এমনকি প্রসিকিউশন কর্তৃক সরবরাহকৃত বই ‘মুক্তিযুদ্ধে ফরিদপুরের’ কোথাও এই ঘটনার উল্লেখ নেই। ফরিদপুরের শহীদদের তালিকায় এই নিহতদের নাম নেই। এমনকি বাকচর গ্রামে গিয়েও এই ঘটনায় নিহতদের স্মরণে কোন স্মৃতিস্তম্ভ পাওয়া যায় না।
এস এম শাহজাহান সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যর বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, প্রসিকিউশনের ১২ তম সাক্ষী চিত্ত রঞ্জন সাহা ট্রাইবুনালে এসে বলেন, সে বাকচরে তার ভাইয়ের হত্যার ঘটনাটি সম্পর্কে তার বৌদির কাছ থেকে শুনেছে। অথচ এই বৌদিকে আদালতে সাক্ষী হিসেবে হাজির করা হয়নি। ১৩তম সাক্ষী শক্তি সাহার জবানবন্দী এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক রেকর্ড করেননি। রেকর্ড করেছেন মাওলানা আবুল কালাম আযাদের মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নূর হোসেন। তিনি মাওলানা আযাদের বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত করতে কলকাতায় গিয়ে শক্তি সাহার জবানবন্দী ও ভিডিও স্টেটমেন্ট রেকর্ড করেন। অথচ সেই ভিডিও বক্তব্যে সাক্ষী এই ঘটনার সাথে মুজাহিদকে সম্পৃক্ত করেনি, তিনি সম্পৃক্ত করেছেন ওহাব ও কালু বিহারী নামের ভিন্ন দুইজন ব্যক্তিকে। বেআইনীভাবে মাওলানা আবুল কালাম আযাদের মামলার এই সাক্ষীকে এই মামলায় ব্যবহার করা হয়েছে।
সাক্ষী শক্তি সাহা দাবি করেছে, ফরিদপুরে পাক আর্মি আসার পর সে বাকচরে তার বোনের বাড়ি এসে আশ্রয় নেয়। সেখানে ঘটনার দিন ক্ষুধার তাড়নায় গাব গাছে উঠলে তিনি সেখান থেকে তার পিতাসহ আরও বেশ কিছু লোকের হত্যার ঘটনাটি দেখেন। অথচ জেরায় তিনি বলেছেন, বর্ণিত গাব গাছটি ঘটনাস্থল থেকে অনেক দূরে। গাছটি ডালপালা বেষ্টিত এবং সে পাতার ফাঁক দিয়ে ঘটনাটি দেখেছে। একই সংগে এটাও স্বীকার করে, গাব গাছ থেকে ঘটনাস্থলের মাঝে বেশ কয়েকটি বাড়ি ও ঝোপঝাড়ও ছিল। তাই কোনভাবেই এত দূর থেকে এই ঘটনাটি কোন মানুষের পক্ষে দেখা সম্ভব না। সেখানে ১৪ বছরের একটি কিশোরের পক্ষে তো সেই ঘটনা দেখার বা অভিযুক্তকে চেনার কোন সুযোগই নেই।
সাক্ষী জেরায় স্বীকার করেছে তার কোন পাসপোর্ট নেই এবং পাসপোর্ট ছাড়াই সে ৩ বার ভারতে যাওয়া আসা করেছে। অতএব বোঝা যায় সে নিয়মিতভাবেই আইন লঙ্ঘন করতে অভ্যস্ত। সাক্ষী জেরায় একবার বলেছে সে ভারতে থাকা কালীন সময়ে কোন চাকরি করতো না। আবার একটু পরে এটাও স্বীকার করেছে যে, সে ভারতের দমদমের হলদিরামে তার কর্মস্থল রাজলক্ষী বেডিং স্টোরে বসে তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে সাক্ষাৎকার দেয়। একেক সময় একেক কথা বলা এবং সাংঘর্ষিক তথ্যে পরিপূর্ণ সাক্ষীর কথায় মুজাহিদকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, মুজাহিদকে চেনা সমন্ধে সাক্ষী শক্তি সাহার দাবি, মুজাহিদের ছোট ভাই তার মেঝ ভাই এর সহপাঠী। সাক্ষীর বর্তমান বয়স ৫৭। তার মেঝ ভাই তার থেকে ২০-২৫ বছরের বড়। তারমানে মেঝ ভাই এর বয়স ৭৭-৮২ বছর। মুজাহিদের বর্তমান বয়স ৬৭। তার ছোট ভাই এর বয়স ৬৫। তাহলে ৮০ বছরের সাক্ষীর মেঝভাই কিভাবে ৬৫ বছরের একজনের সহপাঠী হয়? মুজাহিদের চেয়ে কি তার ছোট ভাই বয়সে বড়?
সাক্ষী শক্তি সাহা ট্রাইবুনালে এসে স্বীকার করেন, তিনি বাংলাদেশে সুদীর্ঘকাল অবস্থান কালে তার বাবার হত্যার ব্যাপারে কোন থানায় বা আদালতে কোন অভিযোগ দায়ের করিনি। সাক্ষী শক্তি সাহা এই হত্যাকান্ডের একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হিসেবে নিজেকে দাবি করেন। অথচ তিনি হত্যাকারীকে চেনার পরও দীর্ঘ এত বছরে কোন অভিযোগ দায়ের করলেন না, এটা কি বিশ্বাসযোগ্য?
২০১৩ সালের ১১ আগস্ট ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদ- থেকে খালাস চেয়ে আপিল করেন আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ। মোট ৯৫ পৃষ্ঠার ১১৫ টি গ্রাউন্ডে আপিল আবেদন করা হয়। মূল আবেদনের সঙ্গে ৩ হাজার ৮শ পৃষ্ঠার নথিপত্র সংযুক্ত রয়েছে। এডভোকেট অন রেকর্ড জয়নুল আবেদিন তুহিন এ আপিল দাখিল করেন।
এর আগে গত বছরের ১৭ জুলাই বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের মামলায় রায় দেন। রায়ে মুজাহিদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা সাতটি অভিযোগের মধ্যে দুইটি অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেয়া হয়। অন্যদিকে একটি অভিযোগে যাবজ্জীবন, একটিতে পাঁচ বছরের জেল এবং দুইটি অভিযোগে মুজাহিদকে মৃত্যুদ-ের আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। রায়ে উল্লেখ করা হয় মুজাহিদের বিরুদ্ধে আনীত সাতটির মধ্যে পাঁচটি অভিযোগ তথা-প্রথম, তৃতীয়, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। দ্বিতীয় ও চতুর্থ অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এ দুই অভিযোগ থেকে অব্যাহতি বা খালাস দেয়া হয়েছে। এক নম্বর অভিযোগকে ৬ এর সঙ্গে সংযুক্ত করে এ দু’টি অভিযোগে সমন্বিতভাবে ও ৭ নম্বর অভিযোগে মুজাহিদকে মৃত্যুদ-, ৫ নম্বর অভিযোগে যাবজ্জীবন এবং ৩ নম্বর অভিযোগে ৫ বছরের কারাদ- দেয়া হয়।
২০১০ সালের ২৯ জুন আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার একটি মামলায় গ্রেফতার করে পুলিশ। পরবর্তীতে তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক দেখানো হয়। ২০১১ সালের ১১ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। এরপর ২০১২ সালের ২৬ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=190041