২২ অক্টোবর ২০১৯, মঙ্গলবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
কামারুজ্জামানের মৃত্যুদন্ড কার্যকর
১১ মে ২০১৫, সোমবার,
১২ এপ্রিল ২০১৫ : সামছুল আরেফীন, তোফাজ্জল হোসেন কামাল : স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী আদেশে জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বিশিষ্ট সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়েছে। গতকাল শনিবার রাত ১০টা ৩০ মিনিটে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপতি ফাঁসির মঞ্চে ঝুলিয়ে এ রায় কার্যকর করা হয়। ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন। ফাঁসি কার্যকরের পর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের মূল ফটকে রাত ১১টা ৪০ মিনিটে এ কথা জানিয়েছেন সিনিয়র জেল সুপার ফরমান আলী। এ সময় তিনি জানান, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান প্রাণভিক্ষার আবেদন করেননি। এর আগে পুলিশ ও র্যাবের ৭টি পিকআপ ভ্যানের কড়া নিরাপত্তায় ২টি এ্যাম্বুলেন্সে করে কামারুজ্জামানের লাশ নিয়ে গ্রামের বাড়ি শেরপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা। নিরাপত্তা বহরে থাকা রনক এ্যাম্বুলেন্সে তার লাশ বহন করে নিয়ে যাওয়া হয়। মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের শেষ ই্রছা অনুযায়ী শেরপুরের বাজিতখিলা এলাকার কুমড়িতে তার নিজ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এতিমখানার কবর স্থানে তাকে দাফন করা হবে। এর আগে জানাযার নামাযও অনুষ্ঠিত হবে তার নিজ হাতে গড়া এতিমখানায়।
গতকাল মৃত্যুদন্ডের রায় কার্যকরকে কেন্দ্র করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার সংলগ্ন এলাকায় নেয়া হয়েছে ৩ স্তরের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এ সময় আশেপাশের সড়কগুলোতে সকল প্রকার যানবাহন ও জনসাধারণের চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়ছে। বিকেলে মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের সাথে দেখা করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। এ সময় তিনি তাদের জানিয়েছেন, শুক্রবার কারাগারে তার সাথে কোন ম্যাজিস্ট্রেট সাক্ষাত করেননি। প্রাণভিক্ষা চাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, প্রাণের মালিক আল্লাহ। রাষ্ট্রপতি কে যে তার কাছে প্রাণভিক্ষা চাইবো?
মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার জন্য সর্বশেষ রাত ৯টার দিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশ করেন ঢাকা জেলা প্রশাসক তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, সিভিল সার্জন আবদুল মালেক মৃধা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শহীদুল হক ও ২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এর আগে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে কারাগারের সামনে জনসাধারণের চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। বন্ধ করে দেয়া হয় যানবাহন। কারাগারের সামনে প্রথমে পুলিশ, র্যাব, সর্বশেষ কারারক্ষী এই ৩ স্তরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। আশেপাশের উচু ভবনে অবস্থান নেয় পুলিশ। সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে পুলিশ কারাগারের সামনে ভীড় না করতে মাইকিং করে। কারাগার এলাকায় ১৫ প্লাটুন পুলিশ, ৮০ জন র্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় কারাগারে প্রবেশ করেন আইজি প্রিজন বিগ্রেডিয়ার জেনারেল ইফতেখারুজ্জামান। এর আগে লালবাগ জোনের পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা কারাগারের সামনে আসেন। ৬টা ৫৫ মিনিটে আসেন এডিশনাল আইজি (প্রিজন) কর্ণেল মো. ফজলুল কবির। এ সময় কারা ফটকের সামনে আর্চওয়ে বসায় র্যাব। ৭টা ৪৫ মিনিটে আসেন কারা হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আহসান হাবিব। ৭টা ৫০ মিনিটে র্যাব এর ইন্টিলিজেন্স উইং এর পরিচালক আবুল কালাম আজাদ আসে, এবং ৮টা ৪০ মিনিটে তিনি বের হয়ে যান। ৮টা ১৫ মিনিটে কারা ফটকের সামনে আসে র্যাবের মোবাইল স্ক্যানারবাহী মার্সিডিজ ভ্যান। ৮টা ২২ মিনিটে ডিএমপি কমিশনারের প্রতিনিধি ডিসি ডিবি শেখ নাজমুল আলম, ৮টা ৩৯ মিনিটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি যুগ্ম সচিব আবুল খায়ের প্রবেশ করেন। ৮টা ৪৫ মিনিটে ডিএমপি মুখপাত্র যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম, এডিশনাল কমিশনার (ডিবি) শেখ মারুফ হাসান, ডিসি ডিবি কৃষ্ণপদ রায় কারাগার এলাকায় এসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তারা কর্তব্যরত আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদেরকে প্রয়োজনীয় নিদের্শনা প্রদান করেন। এরপর থেকেই কামারুজ্জামানের লাশ নিয়ে যাওয়ার জন্য নিরাপত্তা বহরটিকে সাজানো শুরু হয়। বহরটির মাঝখানে ২টি এ্যাম্বুলেন্সের জায়গা ফাঁকা রেখেই পুলিশ-র্যাবের ৭টি পিকআপ ভ্যানকে প্রস্তুত রাখা হয়। সন্ধ্যার পর থেকেই কারা কর্তৃপক্ষ ফাঁসি কার্যকরের জন্য রাজু, পল্টু, শামসুসহ ৬ সদস্যের জল্লাদের টিম প্রস্তুত রাখে।
এর আগে গতকাল বেলা সাড়ে ১০টার দিকে কারাগারের সামনে র্যাব ও কারা রক্ষীদের নিয়ে দুই স্তরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। দুপুর ২টা ৪১ মিনিটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে ২ জন কর্মকর্তা একটি মোটর সাইকেলযোগে এসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের  নির্বাহী আদেশের কপি কারা কর্তৃপক্ষের হাতে পৌছে দেন। তারা কারাভ্যন্তরে ২০ মিনিট অবস্থান করেন। এ সময় মুহাম্মদ কামারুজ্জামানকে নির্বাহী আদেশটি পড়ে শুনানো হয়। এর আগে কারা কর্তৃপক্ষ কামারুজ্জামানের পরিবারের সদস্যদেরকে বিকেল ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে সাক্ষাতের জন্য ডেকে পাঠান। পরবর্তীতে বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে কারাগারে আসেন পরিবারের সদস্যরা। সাক্ষাৎ শেষে ৫টা ২০ মিনিটে তারা বেড়িয়ে যান। 
পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎ
৪ টা ১০ মিনিটে পরিবারের সদস্যরা কারাগারে আসেন। তারা কারা কর্তৃপক্ষকে ২৩ জনের তালিকা দেয়। এর মধ্যে ২০ জনকে সাক্ষাতের অনুমতি দেয়া হয়। দুইটি মাইক্রোবাসে করে স্বজনরা কারাগারে আসেন। প্রথম মাইক্রোবাস (ঢাকা মেট্রো-চ-১৩-৭৯১৭) এ ছিলেন ৮জন ও দ্বিতীয় মাইক্রোবাসে (ঢাকা মেট্রো-চ-১৩-৮৩৭৪) ছিলেন ৭ জন। অন্যান্যরা আগে থেকেই কারাগারের সামনে উপস্থিত ছিলেন। তারা ২টা ৩০ মিনিটে মিরপুরের বাসা থেকে রওনা হন।
সাক্ষাৎ শেষে ৫টা ২০ মিনিটে তারা কারাগার থেকে বের হন। কামারুজ্জামানের সাথে সাক্ষাৎ করেন তার স্ত্রী নূরুন্নাহার, বড় ছেলে হাসান ইকবাল ওয়ামী, মেঝো ছেলে হাসান ইমাম ওয়াফি, মেয়ে আতিয়া নূর, বড় ভাই কফিল উদ্দিন, ভাতিজা, ভাতিজী, ভাগ্নে, ভাগ্নিসহ স্বজনরা।
এর আগে দুপুরে বিকেল চারটা থেকে পাঁচটার মধ্যে তাদের কারাগারে গিয়ে দেখা করতে বলেন কারা কর্তৃপক্ষ। হাসান ইকবাল জানান, দুপুর ১টা ২২ মিনিটে লাভলু নামের একজন ডেপুটি জেলার আমার আম্মাকে (কামারুজ্জামানের স্ত্রী) ফোন দিয়ে কারাগারে যেতে বলেন। মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের আইনজীবী শিশির মোহাম্মদ মনিরও জানান, কারাগারের পক্ষ থেকে নির্দেশনা এসেছে, বিকেল ৪টা থেকে ৫টার মধ্যেই যেন পরিবারের সদস্যরা কারাগারে পৌঁছান।
এর আগে গত ৬ এপ্রিল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের সঙ্গে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে দেখা করেন তার পরিবারের সদস্যরা।
সব প্রক্রিয়া শেষ, রায় দ্রুত কার্যকর: স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
দুপুরে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের রায় কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। অতি দ্রুত ফাঁসির রায় কার্যকর করা হবে। তিনি একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে এসব কথা বলেছেন।
আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, “তিনি প্রাণভিক্ষা চাইবেন না বলে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে জবানবন্দী দিয়েছেন। ম্যাজিস্ট্রেটের লিখিত কামারুজ্জামানের জবানবন্দীর কপিটি আমাদের হাতে এসেছে। এখন পরবর্তী প্রক্রিয়াগুলো চলছে।”
শুক্রবার হঠাৎ কারাগার এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার, পড়ে শিথিল
সন্ধ্যার পর থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার এলাকায় বাড়ানো হয় নিরাপত্তা। তবে রাত সাড়ে ৯টা দিকে নিরাপত্তা শিথিল করা হয়। সন্ধ্যার পর থেকে কারাগারের সামনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। উৎসুক মানুষকে সামনের রাস্তায় আসতে দেয়া হচ্ছিল না। এ ছাড়া মিডিয়াকর্মীদেরও গেটের সামনে থাকতে দেয়া হয়নি। নির্ধারিত গ্রাউন্ডের বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন তারা। রাত ৮টার দিকে রাজধানীর লালবাগ জোনের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ মফিজ উদ্দিন আহমেদ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশ করেন। ৮ টা ১০ মিনিটে কারাগারে প্রবেশ করেন ঢাকা জেলার সহকারী সিভিল সার্জন আহসান হাবিব  সাড়ে ৭টার দিকে একটি ট্রলিতে করে কারাগারে বাঁশ নিয়ে যেতে দেখা গেছে। এর আগে কারাগারে ঢোকেন সিনিয়র জেল সুপার ফরমান আলী। তবে রাত ৯টা ২০ মিনিটে তিনি বাসায় ফিরে যান। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও বেরিয়ে যান।
এর আগে সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে কামারুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করতে কারাগারে প্রবেশ করেন জ্যেষ্ঠ ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব জামিল ও তানভীর আজিম। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে তারা কারাগার থেকে বের হয়ে জিপ গাড়িতে উঠে চলে যান। এ সময় তারা সাংবাদিকদের কিছু জানায়নি।
দুইজন ম্যাজিস্ট্রেট চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর কারাফটকে সিনিয়র জেল সুপার ফরমান আলীর কাছে কামারুজ্জমানের প্রাণভিক্ষার বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনিও কোনো মন্তব্য না করে চলে যান।
এ দিকে গত বুধবার সন্ধ্যায় কামারুজ্জামানের রিভিউ আবেদন খারিজ আদেশের কপি কারাগারে পৌঁছায়। কারা কর্তৃপক্ষ তাকে (কামারুজ্জামান) রায় পড়ে শোনায়। এরপর তার কাছে জানতে চায় তিনি প্রাণভিক্ষার আবেদন করবেন কি না। কামারুজ্জামান এ ব্যাপারে আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলেন। সেই অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকালে তার আইনজীবীরা কারাগারে দেখা করেন। কামারুজ্জামানের সাথে দেখা করে বের হয়ে আসার পর তার আইনজীবী শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, ক্ষমা চাওয়ার ব্যাপারে তিনি ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি তার সিদ্ধান্তের কথা কারা কর্তৃপক্ষকে জানাবেন।
রিভিউ আবেদন খারিজ
৬ এপ্রিল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যুদন্ডের বিরুদ্ধে করা রিভিউ (পুনর্বিবেচনার) আবেদন খারিজ করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সংক্ষিপ্ত আদেশে আপিল বিভাগ বলেছেন ‘ডিসমিসড’। এর ফলে ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদন্ড বহাল রেখে আপিল বিভাগ আগে যে রায় দিয়েছিল তা বহাল থাকে। পাশাপাশি শেষ হয় মামলার বিচার কার্যক্রমও। সংবিধান অনুসারে প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য অন্তত সাত দিনের সুযোগ থাকলেও ওইদিনই আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানান ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়টি কয়েক ঘণ্টার মাত্র। অথচ অন্যান্য মৃত্যুদন্ডাদেশ কার্যকর করার ক্ষেত্রে কারা আইনে ‘৭ দিনের আগে না, আবার ২১ দিনের পরে না’-এমন বিধান আছে। এ মামলার ক্ষেত্রে ওই আইন প্রযোজ্য হবে না বলে মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী। আগেরদিন রিভিউ আবেদনের ওপর শুনানি গ্রহণ শেষে আদালত সোমবার (৬ এপ্রিল) আদেশের জন্য নির্ধারণ করেছিলেন।
গত সোমবার সকালে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার (এস কে সিনহা) নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ আদেশ দিয়ে বলেন, রিভিউ আবেদন ‘ডিসমিসড’।
মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের পক্ষে রিভিউ আবেদনের শুনানি করেন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি সিনিয়র এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। তাকে সহায়তা করেন এডভোকেট মুহাম্মদ শিশির মনির।
মৃত্যু পরোয়ানা জারি
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বর্তমান প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ কামারুজ্জামানের আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায়ে স্বাক্ষর করেন। পরদিন ১৯ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মুহম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যু পরোয়ানা কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠায়। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ফরমান আলীসহ চারজন কামারুজামানকে পরোয়ানা পড়ে শোনান। আপিল বিভাগে আবদুল কাদের মোল্লার রিভিউ আবেদনের রায় অনুযায়ী, দন্ডিতদের জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে রিভিউ আবেদন করার সুযোগ পান। এই রায়ের ভিত্তিতে গত ৫ মার্চ আপিল বিভাগের দেয়া মৃত্যুদন্ডের রায় পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করেন মুহাম্মদ কামারুজ্জামান। তার আইনজীবীরা ৪৪টি যুক্তি দেখিয়ে রিভিউ আবেদনটি দায়ের করেন। ৪৫ পৃষ্ঠার রিভিউ আবেদনে মোট ৭০৪ পৃষ্ঠার ডকুমেন্ট ছিল।
বিচারিক কার্যক্রম
২০১৩ সালের ৯ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে বিচারপতি মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারক মো. শাহিনুর ইসলাম মুহাম্মদ কামারুজ্জামানকে মৃত্যুদন্ডের রায় দেয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ৬ জুন আপিল করেন মুহাম্মদ কামারুজ্জামান। গত বছরের ৫ জুন এ বিষয়ে শুনানি শুরু হয়। ১৭ সেপ্টেম্বর মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের পক্ষে আপিলের যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন তার আইনজীবীরা। এরপর ৩ নবেম্বর আপিল বিভাগের তৎকালীন জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ও বর্তমান প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার বিচারপতির বেঞ্চ মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যুদন্ড বহাল রেখে সংক্ষিপ্ত আদেশে রায় ঘোষণা করেন।
২০১১ সালের ৫ ডিসেম্বর কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে প্রসিকিউশন। ২০১২ সালের ১২ জানুয়ারি প্রসিকিউশন কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে পুনরায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন। ৩১ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল-১। এরপর ১৬ এপ্রিল কামারুজ্জামানের মামলাটি ট্রাইব্যুনাল-১ থেকে ট্রাইব্যুনাল-২ এ স্থানান্তর করা হয়। ১৬ মে ডিফেন্সপক্ষ এবং ২০ মে প্রসিকিউশনের আইনজীবীরা কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ করেন। এরপর ২০১২ সালের ৪ জুন কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। তার বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে হত্যা, নির্যাতন, দেশত্যাগে বাধ্য করাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের সাতটি ঘটনায় অভিযোগ গঠন করা হয়। ২০১২ সালের ১৫ জুলাই থেকে এ বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) আব্দুর রাজ্জাক খানসহ প্রসিকিউশনের ১৮ জন সাক্ষ্য দেন। অন্যদিকে কামারুজ্জামানের পক্ষে ২০১৩ সালের ৬ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত ৫ জন ডিফেন্স সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। তারা হচ্ছেন মো. আরশেদ আলী, আশকর আলী, কামারুজ্জামানের বড় ছেলে হাসান ইকবাল, বড় ভাই কফিল উদ্দিন এবং আব্দুর রহিম।
২০১০ সালের ২৯ জুলাই কামারুজ্জামানকে গ্রেফতার করা হয় সুপ্রিম কোর্টের ফটক থেকে। ওই বছরের ২ আগস্ট তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার দেখানো হয়।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=183766